Skip to main content
Internet Archive's 25th Anniversary Logo

Full text of "Bharatbarsher Itihas"

See other formats




পরিবেষক 


অপর্ণ। বুক ডিস্্রিবিউটর্স 


৭৩, মহাত্মা গান্ধী রোড, কলিকা তা-৭০০ ০৭৩ 


প্রথণ প্রকাশ 
মে, ১৯৬০ 


মদন ভট্টাচার্য কর্তৃক পার্ল পাবালশার্স, ২০৬ বিধান সরণী, কলিকাতী-& 
হইতে প্রকাশিত ও অশোক চৌধুরী কর্তৃক তর প্রাপ্টং, ১৭৪ রমেশ দত্ত 
টুট, কালিকাতা-॥ হতে মাদিত। 


প্রাচীন ভারত 


অন্নৰাদ : ঙগলাচরশ চট্টোপাধ্যায় 


প্রস্তরযূগে ভারত 

হরপ্পর সভ্যতা + - 
মধ্য, রানির তি 
ইন্দো-আর্য গোম্ঠীসমূহ ও গঙ্গা-উপত্যকার সভ্যতা 


উত্তর ভারতের প্রাচীন রাজবংশ ও রাল্ট্রসমূহ 
বোৌদক যুগের ধর্ম ও সংস্কৃতি 


মগধ ও মৌর্যযগে ভারত . * * 
00৮ 
অশোকের রাজ্যশাসনকালে মৌর্য-সাম্রাজ্যের অবস্থ। 
মগধ ও মৌর্যবুগে দাক্ষিণাত্য ও দক্ষিণ ভারত 
অর্থনোতিক বিকাশ ও সমাজ-কাঠামো - 
প্রাচীন ভারতের প্রজাতল্লসমূহ 
মৌর্য-যৃগের সংস্কৃতি 
মোর্যযহগগের ধর্মমতসমূহ 

কুশান ও গন্গ-যগে ভারত - 
উদর লি লতা ও বারি লভািিতে রর পির 
প্চমদেশীয় ক্ষত্রপকুল ও সাতবাহন-সামাজ্য *. ০ 
অর্থনীতির বিকাশ ও সমাজ-কাঠামো * * 
মোড়া দিককার খা শন্দগনীলতে চলত বার চার ও 
কুশান ও গ্যপ্ত যুগের সংস্কৃতি - ক. 
টিভি রি রানি রত ভাতার 


ডে 


১৯ 
১৯ 
১ 
৩০ 


৫৭ 
৫৯১ 


৭৭ 
2৮ 
৮৮ 

১১১ 

১১৩ 

১৩২ 

১৩৬ 

১৪২ 


৯৫০৭ 
১৬৭ 
৯১৭০১ 
১৭৪ 


১৮৮ 
২৮ 
৩৮ 


মধ্যয্‌গীয় ভারত 
অন্যবাদ: মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায় 
খশস্টীয় ষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শতাব্দী . . 
55528 7ত নিভার 


ষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে সামন্ততান্নিক সমাজ-সম্পকের বিকাশ 
যম্ঠ ও দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে ভারতীয় সংস্কৃতির অবস্থা - 


দল্লশর সুলতানশাহনীর আমলে ভারত ভ্রেয়োদশ ও চতুর্দশ শতাব্দীর প্রারস্তকাল) 


দিলশর সুলতানশাহীর রাজনোৌতিক ইতিহাস . . 
লী লিভার আরজে ভামাজিক অধিক রা 


দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারত - * * 

রান তা ভিত না 
মোগল-সাম্রাজ্যের আমলে ভারত (ষোড়শ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দী) 

মোগল রাম্ট্রের প্রাতষ্ঠা 


শাহ্‌ জাহানের রাজত্বকাল 
আওরঙ্জেবের রাজত্বকাল - - 
নদ ৬ 


আধ্যনিক ভারত 


অন্যবাদ: 'দ্ধজেন শর্মা 
'ব্রাটশ কর্তৃক ভারতবর্ষ দখল (আঠারো শতক) 


“মোগল সাম্রাজোর পতন ৪:48 
ভারত দখলের জন্য 'ব্রাটশ-ফরাসন দ্বন্দ (১৭৪৬-১৭৬৩) 
'ব্রটিশের দক্ষিণ ভারত বিজয় . -. 

ভারতবর্ষে ওপাঁনবোশিক সরকারের নীতি: তিতির 
উনিশ শতকের প্রারস্তকাল . টু 
টস কর ভারত বিষয়ের অর্ক ফলাফল: শতকে 
প্রারভকাল | 
ভারতে জিডি উন: চান অরে ধন 

ভারত বিজয়ের শেষপর্বায় 

উপানবেশাবরোধী প্রাতিরোধ 


২৪৩ 
২৪৮ 
ডে 
২৩৪ 


২০৭২ 


৭২ 
৮৩ 
২৪১০ 
৩০৩ 


৩১১ 


৩১১ 
৩১৪ 
৩৩৪ 
৩৪৭ 
৩৪৭ 
৩৬০ 


৪১৩ 


৪১৯ 
৪২৫ 
৪২৮ 
৪৩০ 


সাম্রাজ্যবাদের জল্মলগ্নে ভারতবর্ষ ১৮৬০-১৮৯৭) 


ওপানবোশিক শাসন প্রণালনর পাঁরবর্তন . - 

ভারি নক জার টা ভর জের 
দশক) * 

ভরিডাডি নর জাতীর ভাল; চলি এক 
থেকে নব্বইয়ের দশক . -. 

রে জাতীরঠারারের উদর রত 


যৃদ্ধপূর্ব সাম্রাজ্যবাদের কালপর্বে ভারতবর্ষ । এঁশয়ার জাগরণ €১৮৯৭- 
১৯১১৭) . . 28515 2 


শব্রটেন ও ভারতের মধ্যে প্রকটতর দ্বন্দের উদ্ভব 
বৈপ্লাবক আন্দোলনের বিকাশ ১৯০৫-১৯০৮) 
প্রথম মহাযুদ্ধের প্রাক্কালীন এবং যদ্ধকালশন ভারতবর্ষ 


সাম্প্রাতিক ইাতহাস 


অন্যবাদ: দ্বিজেন শর্মা 


প্রথম বৈপ্লাবক উচ্ছ্য় এবং রাজনোতক গণসংগঠনের উন্মেষ ১৯১৮: 


১৯২৭) 


জাতীয় মুক্তি-আন্দোলনের জোয়ার 
ভারতে কামিউীনস্ট আন্দোলনের উর এবং শ্রামক ও কৃষকের 
রাজনোতিক সংস্থা গঠন ৮:22 22. 
সাম্রাজ্যবাদীবরোধশী আন্দোলন ও যুক্তক্রণ্ট গঠনের সংগ্রাম €(১৯২৮- 
১৯৩৯) চর 784 
জাতীয় মুক্ত-আন্দোলনের নতুন অধ্যায় ট 1 4 
জাতীয় আন্দোলনে বামপল্থীদের দূঢ়তর অবস্থানলাভ। নেতৃত্বলাভের 
সংগ্রামে তীব্রতা সন্টার . রর 
কার জাভা রতি তের অভির 
দ্বিতীয় 'বশ্ববুদ্ধে ভারতবর্ষ 


যুদ্ধের প্রারাশ্তক বছরগুলিতে ১৯৩৯-১৯৪১) রাজনোতিক দলগনলির 
অবস্থান এবং সাম্রাজ্যবাদাীবরোধী আন্দোলন . . * 
১৯৪২ খপস্টাব্দের “আগস্ট বিপ্লব ভাতা একলডন 


ণ 


৪৬৭ 


৪৫২ 


৪৬৭ 


৪৭40 
৪8৮০ 


৪৮০ 


৪৮৭ 
৪৯১ 
৬০৮ 


৫২৯১ 
৫২৯ 
৫৪৯০) 


৫৫৪ 


৫৬৫ 
৫৬৫ 
৫৮৪ 
৫৯১৯ 


৬০৭ 


৬০২ 
৬০৮ 


যুদ্ধের শেষপর্বে (১৯৪৩-১৯৪৫) ভারতের অর্থনৈতিক ও রাজনোতিক 
স্বাধীনতা সংগ্রামের তল (১৯৪৫-১৯৪৭) ও 
১৯৪৫-১৯৪৬ খ্শস্টাব্দের গণ-আন্দোলন এবং ব্রিটিশ রা 


রাজনোতক কৌশল 
স্বাধীনতার পথে 
ভারত ডোমিনয়ন 


স্বাধধনত পথে প্রথম পদক্ষেপ 
শ্রেণী-সংগ্রামের তীন্রতা বৃদ্ধি 


৬১১ 
৬১৮ 


৬১৮ 
৬২৯ 
৬৩৬ 


৬৩৬ 
৬৪৮ 





ভারত-সভ্যতার সূচনা 


প্রস্তরষগে ভারত 


প্রত্বপ্রস্তরষ্‌গণয় খননক্ষেন্ 


বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতাগ্ীলর একটির উৎপাত্ত ঘটে ভারতে । এখানেই 
গড়ে ওঠে অত্যন্ত উশ্চুম্তরের উন্নত এক সংস্কীত যা এই দেশের পরবতর্শ বিকাশের 
ক্ষেত্রে এবং সমগ্রভাবে গোটা প্রাচ্যের. মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ও দূর প্রাচ্যের 
বহু জাতির সংস্কৃতির অগ্রগতিতে বিপুল প্রভাব বিস্তার করে। প্রত্ততাত্ক 
আবিচ্কার, ইত্যাঁদর ফলে এখন প্রমাণ পাওয়া গেছে যে মানবসমাজের একেবারে 
আঁদতম কাল থেকেই ভারতে জনবসাত বর্তমান ছিল। 

এ-দেশের বহ্‌ অণ্চল থেকেই প্রত্বপ্রস্তরযুগের নিম্নতর ভূ-স্তরের আমলে তোর 
পাথরের হাতিয়ার, ইত্যাঁদ পাওয়া গেছে। পরস্পর-নরপেক্ষ ভাবে নিম্নতর 
্রত্তপ্রস্তরযুগীয় সংস্কৃতির দুটি কেন্দ্র উদ্ভুত হয়েছিল একদা: উত্তরে সোন- 
নদীতনরবতর্শ সংস্কৃতি বের্তমান পাকিস্তানের সোন নদীর তীর-বরাবর) এবং দাক্ষিণে 
দাক্ষিণাত্য-অণ্টলে তথাকথিত মাদ্রাজ সংস্কৃতি । এই দুটি প্রত্প্রস্তরযগীয় কেন্দ্রই 
মনূষ্যবাসের পক্ষে অধিকতর অন্কূল নদঈ-উপত্যকায় অবাস্থত 'ছিল। এদের মধ্যে 
প্রথম আবিজ্কৃত হয় ১৮৬৩ সালে মাদ্রাজ এলাকায় অবাস্থিত কেন্দ্রুটি। এ-কারণে 
দক্ষিণ ভারতে নিম্নতর প্রত্তপ্রস্তরয্গের বৈশিষ্ট্যস্চক কুঠার, ইত্যাদ যে-হাতিয়ার 
পাওয়া গেছে তাই-ই মাদ্রাজ কুঠার নামে পাঁরচিত হয়ে আসছে। দেশের 
উত্তরাণ্ুলের 1নম্নতর প্রত্প্রস্তরযগীয় খননক্ষেত্রগ্যালতে কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের 
হাতিয়ার পাওয়া গেছে, যেমন পাথরের ন্যাঁড় কাটার বড়-বড় গ্রুভার হাতয়ার। এই 
হাতিয়ার ইংরোজ “পার শব্দটি দিয়ে চিহত হয়ে আসছে। প্রত্পপ্রস্তর যুগের 
হাতিয়ার ইত্যাঁদ দেশের অন্যান্য অণুলেও, যেমন মধ্য ও পশ্চিম ভারতেও, অতঃপর 
আঁবম্কৃত হয়েছে। দেখা গেছে, সে-সমস্ত জায়গায় সোন ও মান্রাজের সাংস্কীতিক 
এীতহ্য যেন পরস্পর খাপে-খাপে জোড়া লেগে মিলেমিশে গেছে। নতুন গবেষণার 
ফলে দেখা গেছে যে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে মাদ্রাজ কুঠারেরই প্রাধান্য বর্তমান, আর 
যত উত্তর দিকে এগোচ্ছি আমরা, সোন-অণ্ুলীয় হাতিয়ারের সংখ্যা বেড়ে 
চলেছে ততই। 


৯১৯ 


হাঁতিয়ারের আকারপ্রকারে এই পার্থক্যের সবচেয়ে বড় কারণ অবশ্যই দুটি 
অণ্লের প্রাকৃতিক পাঁরবেশের 'বাভল্লতা এবং হাতিয়ার তৈরির উপযোগী পাথর 
পাওয়ার সম্ভাব্যতা । এই ধরনের সবচেয়ে বোঁশ সংখ্যক খননক্ষেত্র যে দাক্ষণাত্যের 
নদী-উপত্যকাগ্দালতে অবাস্থিত গৃহায় এবং উত্তর ভারতের পর্বতমালার পাদদেশে 
আবিম্কৃত হয়েছে এটা কোনো আকাস্মক ঘটনা নয়। উপরোক্ত এইসব অণ্চলের 
আবহাওয়া যেমন অপেক্ষাকৃত বেশি অনুকূল তেমনই িকারযোগ্য জাবজন্তুও 
এখানে অঢেল । আর ওই যুগের মানুষের প্রাণধারণের প্রধান উপায়ই ছিল পশদাশকার 
আর খাওয়ার উপযোগী গাছপালা, লতাপাতা সংগ্রহ । লোকে তখন বাস করত বড়- 
বড় দল বেধে । জবনযান্রা নির্বাহের পক্ষে ওই সময়কার অত্যন্ত কঠিন পাঁরবেশের 
বচারে এটা অপরিহার্য ছিল। 

মানবসমাজের ব্রমাঁবকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তর হল উচ্চতর ভূ-স্তরের 
্রত্তপ্রস্তর যুগে তার উন্নয়ন। আজ যাদের আমরা 'হোমোস্যাঁপআন্স' বা নৃগোষ্ঠী 
বলে জানি তাদের প্রথম উত্তব ঘটে এই যুগেই। 

সাম্প্রতিক কালে ভারতীয় প্রত্রতত্বীবিদরা এই উচ্চতর প্রত্বপ্রস্তরয্‌গের বেশাকছু 
নদর্শনক্ষেন্র খড়ে বের করেছেন। দেখা গেছে যে ওই যুগে গোম্ঠীবদ্ধ সম্প্রদায়ের 
উত্তবের ফলে মানবসমাজে বড় রকমের সব পারিবর্তন ঘটেছে। 

প্রত্ুতত্ববিদরা মনে করেন যে উচ্চতর প্রত্বপ্রস্তর যুগে ভারতে প্রাধান্য ছিল 
নগ্রো-গোন্রীয় জনগোষ্ঠীর, পরে মধ্যপ্রস্তর যুগে পশ্চিম ভারতে আবির্ভূত হয় 
ককেশনয় ও পূর্ব ভারতে মঙ্গোলীয় গোত্রের ন্‌গোম্ঠী। গৃহে পশদপালন প্রথার 
চল শুরু হয় এই মধ্যপ্রস্তর যুগেই আর এ-যগের অবসান সৃচিত হয় মৃৎশিল্পের 
উদ্তবের ও কৃষিকাজে ভ্রমশ ব্যাপৃত হওয়ার মধ্যে দিয়ে । 


মধ্য ও ননপ্রস্তরঘূগ 


ভারতে মধ্যপ্রস্তরষুগের সবচেয়ে সুপারাচিত নিদর্শনক্ষেত্র হল গুজরাটের 
লাঙ্ঘনাজ বসাঁত। এই বসাঁততে মাটি খড়ে উদ্ধার-করা দুব্যসামগ্রী থেকে জানা 
গেছে মধ্যপ্রস্তর এবং নবপ্রস্তরযূগের প্রাথামক পর্যায়ের আঁদকালের মানুষ 
কেমনভাবে জীবনযাপন করত। এখানে খননকার্য চালাবার ফলে দেখা গেছে ষে ওই 
সময়ে মানুষের ব্যবহৃত প্রধান হাতিয়ার ছিল পাথরের তোর অস্নফলক এবং তারের 
ফলা হিসেবে ব্যবহৃত নিয়মিত জ্যামীতক আকারের ছোট-ছোট টুকরো 
পাথর । 

প্রত্ণতত্ববিদরা লাঙ্ঘনাজের ইতিহাসে দুটি স্বতল্ল পর্যায়কে চাহত করেছেন। 
এর প্রথম পর্যায়টির শেষাঁদকে হাতে-গড়া মাটির বাসনের উন্তব ঘটে আর 'দ্বতীয় 


৯২ 


পর্যায়ে (নবপ্রস্তরযগের গোড়ার দিকে) আঁবর্ভৃত হয় কুমোরের চাকে-গড়া ও 
অলঙ্করণ-করা তৈজসপন্র। উপরোক্ত প্রথম পর্যায়ে পশুশিকার ও মাছধরা 'ছিল 
লক্ষণীয় হয়ে ওঠে। 

লাঙ্ঘনাজ এলাকায় পাওয়া গেছে হরিণ, কৃষসারম্, গন্ডার, বুনো শুয়োর 
ও ষাঁড়ের আস্। 

ভারতের অন্যান্য অণ্লেও -যেমন দাক্ষণাত্যে (তিনেভেল্লর কাছে) ও পূর্ব 
ভারতে (পশ্চিমবঙ্গের বীরভাবপুরে) -_ মধ্প্রস্তরযগের বসাঁতির চিহ পাওয়া গেছে। 
এই সমস্ত নিদর্শনস্থল থেকেও পাওয়া গেছে নানা আকারের টুকরো-পাথরের 
হাতিয়ারের নমুনা । টুকরো-পাথরে শান দিয়ে অস্ত বানানোর এই কৃৎকৌশল এর 
পরবতাঁ যুগে মানুষ যখন ধাতু দিয়ে হাতিয়ার বানানোর কৌশল আয়ত্ত করেছে 
তখনও প্রচলিত ছিল। 

এমন কি সেই সুদুর মধ্যপ্রস্তর যগ থেকেই ভারতের 'বাভন্ন অণ্গলে সভ্যতার 
বিকাশ ঘটে চলেছিল অসমান গাতিতে। খ্যাস্টপূর্ব চতুর্থ সহত্ত্রাব্দের সৃচনায় দক্ষিণ 
ভারতের মধ্যপ্রস্তরযুগীয় বসাতগ্ীলর আঁধবাসীরা যখন নিয়োজত ছিল পশ্দীশকারে 
আর মাছধরায়, তখনই উত্তরে সিন্ধদেশে স্থায়ী কাঁষাভন্তিক কাঁমউনগীলর 
সংখ্যবৃদ্ধি ঘটে চলেছিল দ্রুতগতিতে । মানবসমাজের এই একই ধরনের অসমান 
বিকাশ লক্ষ্য করা যায় এর পরবতরঁ নবপ্রস্তর ও তাম্মপ্রস্তর যুগগলিতেও। 

নবপ্রস্তর যুগে কৃষিকাজ ও পশুপালন আরও উন্নত হয়ে ওঠে এবং মানুষ ভ্রমশ 
যাযাবর-বৃত্তি ত্যাগ করে অপেক্ষাকৃত স্থায় বসবাস গড়ার দিকে ঝোঁকে । এই ধরনের 
সবচেয়ে উন্নত নবপ্রস্তরযুগনীয় সংস্কাঁতর সাক্ষাৎ মেলে বেলচিস্তানে ও 'সিন্ধযদেশে, 
মনে হয় যেন এগ্াাঁল িন্ধু-উপত্যকার আসন্ন নগর-সভ্যতারই উদ্ভবের ইঙ্গিত 
দিচ্ছিল। 

কালি গুল মহম্মদে (বর্তমান পাকিস্তান ভূভাগের অংশভূক্ত কোয়েটা উপত্যকায়) 
খননকার্ষের ফলাফল অনুসারে বলতে হয়, এমন কি খ্ীস্টপূর্ব চতুর্থ সহম্রাব্দের 
গোড়ার দিকেই উত্তর বেল্যাচস্তানে পশুপালন € দানাফসল চাষের কাজে ব্যাপৃত 
নবপ্রস্তরষূগীয় উপজাতিসমূহের অস্তিত্ব ছিল। এই সমস্ত উপজাতির মানুষেরা ঘর 
বানাত রোদে-পোড়ানো ইট দয়ে, জাীবজস্তুকেও (ভেড়া ও ছাগল) পোষ 
মানিয়োছল তারা । ধাতুর ব্যবহার অবশ্য তখনও অজ্ঞাত ছিল, এখানকার অধিবাসীরা 
হাতিয়ার বানাত প্রধানত পাথর "দিয়ে, তবে তার সঙ্গে মিশেল দিত দাম জ্যাস্পার 
ও ক্যাল্সেডান মাঁণর টুকরো আর চকমকি পাথর । পরবতাঁ যুগে এখানে মৃৎপান্রের 
উদ্ভব ঘটে এবং পরিশেষে ধাতু ব্যবহারেরও প্রথম লক্ষণ দেখা যায়। এখানে 
খননকার্ষের সময় স্থানীয় গৃহপালিত পশুদের যে-হাড় পাওয়া যায় তা থেকে এমন 


৯৩ 


একটা মতের সপক্ষে যুক্তির যোগান মেলে যে বেলচিন্তানে যে-সংস্কীতি তৎকালে 
বর্তমান ছল তার উৎপান্ত হয়োছল হ্ছানীয়ভাবে। এখানকার মতো এই একই 
ধরনের সংস্কীতির কেন্দ্র আবিষ্কৃত হয়েছে পূর্ব বেল্দচিস্তানের রানা ঘ্ডাইতেও। 
ইরানের নবপ্রস্তরযূগীয় সংস্কৃতির সঙ্গে এই শেষোক্ত সংস্কাতর স্ানার্দন্ট নানা 
ধরনের মিল চোখে পড়ে। 
উদ্ঘাটিত হয়েছে নবপ্রসম্তর ও গোড়ার দিককার তম্রপ্রস্তরযূগ্ের স্নীনার্দন্ট 
স্তরাবভক্ত পরিচয়। তেজস্ব্িয় কার্বন-আইসোটোপ পদ্ধাত প্রয়োগ করে প্রক্রতত্বীবদরা 
প্রমাণ করতে সমর্থ হয়েছেন যে এখানকার সবচেয়ে প্রাচীন স্তরটি খস্টপুর্ব 
সাতাশ কিংবা ছাব্বিশ শতকে উদ্ভূত হয়োছল। এর পরবতা কালপর্কের খ্যৌস্টপুর্ 
ছাব্বিশ থেকে তেইশ শতকের মধ্যেকার) স্তরটিকে চিহিত করা সম্ভব হয়েছে ওই 
স্তরে পাওয়া পোড়ামাঁটর ছোট-ছোট মুর্তি বার্নশ-করা মৃৎপান্র আর তামার 
তৈরি নানারকম দ্রব্যসামগ্রীর দৌলতে। 

ইতিমধ্যে ভারতের উত্তরাঞ্চলে কাশ্মীরের শ্রীনগরের কাছে উদ্ধার-করা বুর্জাহোম 
বসাঁতিতে অপেক্ষাকৃত আদম ধরনের কিছু-কিছ নবপ্রস্তরষুগনীয় সংস্কাঁতির নিদর্শন 
পাওয়া গেছে। এখানে আবিষ্কার করা হয়েছে কাদামাটির মধ্যে গর্ত-খড়ে-বানানো 
প্রাচীন বাসস্থানের নমুনা । এই সমস্ত গর্তের মুখে-বানানো কিছ-কিছ চুল্লিও পাওয়া 
গেছে আর পাওয়া গেছে হাতে-গড়া, জ্যাবড়া-জোবড়া কিছু মৃৎপান্রও। এছাড়া 
পাওয়া গেছে প্রচুরসংখ্যায় হাড়ের তৈরি মাছধরার ছোট বর্শা, কোঁচ, ছ+চ, ইত্যাদিও। 
বোঝা গেছে যে এখানকার অধিবাসীদের প্রধান জীবকা ছিল মাছধরা। এখানে জাঁমর 
চাষবাসের কাজে উত্তরণ ঘটেছে আরও কয়েক শতাব্দী পরে, খষ্টপূর্ব ডাঁনশ 
থেকে সতেরো শতকের মধ্যে। আর এই পরবতাঁ পর্যায়ে এখানেও মাটির কিংবা 
রোদে-পোড়ানো ইটের তোর ঘরবাড় কখনও-সখনও তৈরি হচ্ছে বলে দেখা 
গেছে। 

ভারতের দক্ষিণাংশে সবচেয়ে সুপরিচিত নবপ্রস্তরযুগীয় বসাঁতর চিহ পাওয়া 
গেছে সাঙ্গানাকাল্ল, (বেল্লার জেলায়) ও 'পিকৃলহালে খননকার্য চালাবার ফলে। 
এইসব বসাতিতে পাওয়া পাথরের পাঁলিশ-করা হাতিয়ার ও হাতে-গড়া মৃৎপান্র 
গোড়ার দিককার নবপ্রস্তর যুগের ও আনুমানিক খটস্টপূর্ব একুশ শতকের বলে 
সাব্যস্ত হয়েছে। উপরোক্ত ওই সময়ের মধ্যে ভেড়া ও ছাগল গৃহপালিত পশহতে 
পাহাড়ের মাথায় আর নয়তো পাহাড়ের মধ্যেকার সর্‌-সর্‌ খাদের মধ্যে। 

শিকৃ্লিহাল বসতির মানুষজনের পেশা ছিল পশুপালন ও জমির চাষবাস। 
এখানে গৃহপালিত পশু রাখার জন্যে বিশেষভাবে তোর খোঁয়াড় পাওয়া গেছে আর 


১৪ 


পাওয়া গেছে মাটি আর বাঁশ 'দয়ে তোর ঘরবাঁড়র চিহ্ন। কিছ:-কিছ্‌ পশ্ডিতের 
মত এই যে এইসব বসাঁতর পত্তন করেছিল সেই সমস্ত ইরানী উপজাতি যারা 
ভারতের অভ্যন্তরে এতদূর পর্যন্ত চলে এসৌছল। তবে এখানে উপস্থাপিত 
প্রমাণাঁদ এই মতের বিরোধী, বরং তা স্থানীয় এীতহ্যের সঙ্গেই এর যোগস[ন্রের 
ইাঙ্গত দেয়। 

পূর্ব ভারতের নবপ্রস্তরযুগের সংস্কৃতিগলির মধ্যে দুটি স্মানার্দন্ট আণালিক 
ধারা স্পম্ট: এদের একটি হল 'বিহার-গাঁড়ষ্যার, অপরটি আসামের ধারা। শেষোক্ত 
এই আসামের ধারাটিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নবপ্রস্তরযূগীয় সংস্কাতিগলর প্রভাব 
লক্ষ্য করা যায়, অপরপক্ষে বিহার-গাঁড়ধ্যার সাংস্কৃতিক ধারার গোড়ার কে প্রধান 
হয়ে উঠতে দেখা যায় স্থানীয় বোশিষ্ট্যগ্াীলকেই। 

উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতে যখন এই নবপ্রস্তর ও গোড়ার দিককার 
তাণ্রপ্রস্তরষগের সংস্কাতিগাীল বিকশিত হয়ে উঠাঁছল তখনই "সম্ব;-উপত্যকায় বর্তমান 
ছল ব্রোঞ্জষুগের এক উন্নত নগর-সভ্যতা। 


হরপ্পার পভ্যতা 


একটা সময় ছিল যখন পণশ্ডিতেরা সাধারণভাবে এই ধারণা পোষণ করতেন যে 
ভারতে সভ্যতার উদয় হয়োছিল অনেক পরে । বস্তুত, কিছ্‌-কিছু পশ্ডিত এমন মতও 
পোষণ করতেন যে ভারতে সভ্যতার আমদানি করেছিল বাইরে-থেকে-আসা আর্য 
উপজাতিগুলি। তখন প্রায়ই প্রাচীন ভারতয় সংস্কাঁতর 'বাচ্ছল্নতা এবং প্রাচীন 
প্রাচ্য পাথবীর অন্যান্য দেশের সংস্কৃতির তুলনায় ভারতীয় সংস্কৃতির পশ্চাৎপদতার 
কথা বলা হোত। 

“তবে হরস্পা-সভ্যতার আবিষ্কার ও তা নিয়ে গবেষণার ফলে এখন ভারতীয় 
সভ্যতার সমপ্রাচীনত্ব ও তার গভীর মৌল প্রকৃতি সম্বন্ধে লক্ষণীয় প্রমাণ 
[মীলেছে। ১৮৭৫ খুসস্টাব্দেই ইংরেজ প্রত্রতত্ববিৎ আলেকজান্ডার কানংহাম 
হরপ্পায় (বর্তমান পাকিস্তানের অন্তর্গত পশ্চিম পঞ্জাবের মুূলতান জেলায় 
অবাচ্ছত) অপাঁরচিত লিপি খোদাই-করা একখান পঞ্জা আবিচ্কার করেন, তবে 
সেখানে বৈজ্ঞাঁনক পদ্ধাতসম্মত খননকার্য শুরু হয় মান্র এ-শতাব্দীর তৃতীয় দশকে। 
/ সে-সময়ে দুই ভারতীয় প্রত্নতত্বীবৎ ডি. আর. সাহাঁন ও রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় 
খননকার্য চাঁলয়ে হরপ্পা ও মোহেনজো-দারোয় (বর্তমান পাকিস্তানের সিন্ধ, 
প্রদেশের লার্‌কানা জেলায় অবাস্থিত) দুটি প্রাচীন নগর আঁবজ্কার করেন। অতঃপর 
নব-আঁবিম্কৃত এই সভ্যতার নিদর্শন বিভিন্ন দেশের ইতিহাসবেত্তা ও প্রত্বতত্রাবদদের 
বিপুল আগ্রহের সণ্টার করে। 


হরস্পা-সভ্যতার উৎপাত্তি-বিষয়ে 'বাভন্ন তত 


হরপ্পা-সভ্যতার গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমস্যাগ্লির মধ্যে সবচেয়ে জটিল 
একটি সমস্যা হল এ-সভ্যতার উৎপাত্তর বিষয়াটি। এ-সম্বন্ধে নানাবিধ মত প্রচারিত 
আছে। তার মধ্যে একটি হল হরপ্পা-সংস্কৃতির 'ভাত্ত হচ্ছে সূমের-সংস্কৃতি। 
এছাড়া অপর একট মত হল ইন্দো-আর্ধ উপজাতিগ্ালই হরস্পা-সভ্যতার 
প্রাতষ্ঠাতা, অর্থাং এই মত অনূযায়ী হরপ্পা-সভ্যতা আসলে বোৌদক 
সভ্যতাই। বিশিষ্ট প্রত্রতত্ববিং আর. হাইনে-গেল্ডূনার এমন কি এরকম মতও ব্যক্ত 
করেছেন যে "সম্ধ--উপত্যকার এই সভাতা একদা আবির্ভূত হয়েছিল হঠাৎ, প্রায় শূন্য 
থেকে মাঁটতে পড়েছিল যেন-বা, কেননা খননকার্ধ চালিয়ে গোড়ার দিকে এ-সভ্যতার 
পূর্ববতর্শ বিকাশের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায় নি। সাম্প্রাতিক বছরগুিতে অবশ্য 
স্থানীয় ভিত্তিতে এই সংস্কৃতির উৎপাত্ত সম্বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ নতুন-নতুন উপাদান 
সংগৃহীত হয়েছে। তবে দুর্ভাগ্যবশত মাটির নিচে বহতা জলের ম্লোত থাকায় 
প্রত্ততত্ববিদদের পক্ষে আজও পর্যন্ত মোহেনজো-দারোর সর্বানম্ন স্তরটি অনুসন্ধান 
করে দেখা সম্ভব হয়ে ওঠে নি। 

বেলুচিন্তানে ও সম্ধ; প্রদেশের নানাস্থানে খননকার্য চালাবার ফলে দেখা গেছে 
যে খশস্টপূর্ব চতুর্থ ও তৃতীয় সহম্রাব্দে ওইসব অগ্চলে এমন সব সংস্কাতির আস্তত্ব 
ছিল যাদের অর্থনীতির 'ভান্ত ছিল কৃষিকাজ, গোড়ার দিককার হরস্পা-সভ্যতার 
সঙ্গে যাদের মিল ছিল অনেক দিক থেকে এবং যাদের সঙ্গে হরস্পার বসাতগুলি 
দীর্ঘাদন ধরে যোগাযোগ বজায় রেখে চলোছল ডের. এ. ফের়ারসৌভস, বি. দ্য 
কার্দ, জে. এম. কাসাল, প্রভৃতির গবেষণালন ফল এই তথ্যগ্রালি)। 'সন্ধ; প্রদেশে 
কৃষির উদ্ভব ঘটে পরে। এ-থেকে এই অনুমানের সপক্ষে সমর্থন পাওয়া যায় যে 
বেলচিন্তান ও দাক্ষণ আফগানিস্তান থেকে কিছ্ব-কিছ উপজাতির অনপ্রবেশ 
ঘটেছিল এই অঞ্চল পযন্ত । 

এটা স্পম্ট যে সন্ধূনদের উপত্যকায় হরস্পার বসাতগ্দাল হঠাৎ একদিন 
রাতারাতি আঁবভভত হয় নন এবং সবকশট বসাঁত একসঙ্গেও আঁবর্ভত হয় [ন। 
স্পম্টতই একাঁট বিশেষ কেন্দ্রে নগর-সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল প্রথমে, তারপর সেখান 
থেকে লোকজন ব্রমশ বাইরে ছাড়িয়ে পড়ে অন্যান্য বসাঁতি গড়ে তোলে একে-একে। 
এ-ব্যাপারে আমার-বসতি নিয়ে ফরাসি প্রত্ততত্ববিং জে. এম. কাসালের গবেষণাটি 
[বিশেষ আগ্রহোদ্দীপক। কাসাল আমার-বসাঁতির প্রাক-হরপ্পা যুগ থেকে 
হরপ্পার শেষ যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত স্তর-পরম্পরার একাট বিন্যাসের চন্র গড়ে তুলেছেন। 
এই স্তরবিন্যাস থেকে 'বাভন্ন সংস্কাতির স্থানীয় বিকাশের ধারা অনুধাবন করা খায়। 
যখন প্রায় সব মৃৎপান্ন কুমোরের চাক ছাড়া হাতে গড়া হোত, ঘরবাঁড় তোর করা 


১৬ 


ও ধাতুর ব্যবহার বিরল ছিল যখন, তখন থেকে শুরু করে অলঙ্কৃত মৃৎপান্ন ও না- 
পোড়ানো কাঁচা ইটে তোর অপেক্ষাকৃত পোক্ত বাঁড়ঘরের ফুগলক্ষণ-চাহুত 
অপেক্ষাকৃত উন্নত স্তরগুলি পর্যন্ত অনুধাবন করা সম্ভব হয়েছে এই স্তরবিন্যাসের 
ফলে। এখানকার প্রাক-হরপ্পা যৃগের নিম্নতর স্তরগীলর সঙ্গে বেলচিস্তানের গোড়ার 
দিককার কীঁষাঁভাত্তক সংস্কাতিগ্ীলর নানা ধরনের মিল লক্ষ্য করা গেছে, আর ওই 
প্রাক-হরগ্পা যুগের পরবতর্ঁ স্তরগ্যালতে যে-মৃৎপান্র পাওয়া গেছে, দেখা গেছে তা 
1সন্ধ_-উপত্যকার হর”্পা-বসাতিগ্ীলর গোড়ার আমলের সমকালে বানানো । পাঁরশেষে, 
এখানকার খননকার্যের ফলে প্রমাণিত হয়েছে যে আমূরি-সংস্কৃতির বশেষ 
লক্ষণাক্রান্ত এীতহ্যগ্ীল হরপ্পার এীতিহ্যসমূহের সঙ্গে পাশাপাশ সহ-অবস্থান 
করেছিল। 

হরপ্পার সংস্কাতি ও তার পূর্ববতর্ট আমার-সংস্কীতির মধ্যে পরস্পর- 
সংযোগের প্রশ্নাট প্রত্বতত্তের বৈজ্ঞানক সাহত্যে তীব্র বিতরকের বিষয় হয়ে আছে। 
একাদকে এ. ঘোষের প্রবণতা হল ওই দুই সংস্কৃতির মধ্যে সহজাত একটা সম্পর্ক 
স্বীকার করে নেয়া, অন্যাদকে জে. এম. কাসাল মনে করেন যে হরপ্পার সংস্কাতি 
আপনা থেকেই বা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমারতে মূর্ত হয়ে ওঠে নি, বরং তা ক্রুমে- 
ক্রমে আমৃরর ওপর "চাপিয়ে দেয়া" হয়েছিল। 

হরপ্পাতেই শহরের দু্গপ্রাকারের নিচে পাওয়া গেছে আমৃার-সংস্কাতির 
নিদর্শনস্বরূপ মৃৎপান্র আর মোহেনজো-দারোর নিম্নতর স্তরগুঁলতে পাওয়া গেছে 
বেলুচিস্তানের সংস্কৃতির নিদর্শন মৃৎপান্র। এই ঘটনা থেকে পারিম্কার বোঝা যায়, 
কেবল-যে িন্ধ-উপত্যকার বসাঁতগ্াল ও বেল.চিস্তান ও "সিদ্ধ; প্রদেশের কাঁষজীবী 
সংস্কাতিগ্ীলর মধ্যে ঘানষ্ঠ যোগাযোগ ছিল তা-ই নয়, হরস্পার সভ্যতার নিজস্ব 
স্থানীয় 'ভীত্তও 'ছিল। এই সভ্যতা গড়ে উঠোছল ওই অণ্লের এবং সবচেয়ে বোঁশ 
করে 'সহ্ধনদের উপত্যকার কৃঁষাঁভীত্তক এীতিহ্যের ওপর ভীত্ত করেই, যাঁদও 
সেইসঙ্গে এ ছিল এক নতুন পর্যায়ের প্রাতানধি, ব্রোঞ্জ যুগের এক আভনব 
নগর-সভাতা ছিল এ। 

পাকিস্তানের প্রত্রতত্ববিদরা আধুনিক হাইপুর শহরের অদূরবতাঁ কোট দিজিতে 
যে-খননকার্য চালান তা থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে ওই অণ্লে প্রাক-হর*্পা ষুগে 
কিছুটা উন্নত ধরনেরই এক সংস্কৃতির আস্তত্ব 'ছিল। পশ্ডিতেরা এখানে মাঁট 
খংড়ে উদ্ধার করেন এক নগরদূর্গ ও বসতবাঁড়র রীতিমতো কয়েকটি সার! কোট 
জর প্রথম আমলের মৃৎপান্রগ্ীলর সঙ্গে সিঙ্ধ- প্রদেশ ও বেলচিস্তানের কীষাভান্তক 
বসতিগীলর এবং 'সিন্ধু-উপত্যকার প্রাক-হরস্পা ষুগের মৃৎপান্রের মিল পাওয়া যায়, 
আর কোট 'দাজর পরের আমলের মৃৎপান্রের সঙ্গে সাদশ্য মেলে খোদ হরগ্পার 
মৃৎপান্রের। এর ফলে সেখানকার স্থানীয় এীতিহ্যের ভ্রমবিকাশের সূত্রটি খঃজে পাওয়া 


2---498 ৬০ 


সম্ভব হয়। এদিকে হরপ্পার সভ্যতার অব্যবাহত পূর্বের একটি যুগের সন্ধান পান 
ভারতী য় প্রত্ততত্বীবদরা। রাজস্থানের কাঁলবাঙ্গায় একাট জায়গায় খননকার্য চালিয়ে 
তাঁরা দুটি পির ওপর হরস্পার মানুষের পূর্ববতর্শদের দুটি বসাতি আঁবন্কার 
করেন এবং পরে এখানে যে-সব ঘরবাঁড় আবিন্কার করেন তাঁরা, দেখা যায়, 
সেগুলি স্পম্টতই হরপ্পা-সংস্কৃতির প্রাতিজ্ঞাতাদেরই কনীর্ত। এখানে প্রাক-হরপ্পা 
যুগের বসতিগুলি থেকে পাওয়া মৃৎপান্রগুলি আমৃূরি ও কোট দিজিতে পাওয়া 
মৃৎপান্রের সঙ্গে বহু দিক থেকে এক ধরনের। এই সমস্ত আবিচ্কারের ফলে 
পণ্ডিতদের পক্ষে হরপ্পার সংস্কৃতির উদ্ভব ও বিকাশের সূত্র এবং হরস্পার গোড়ার 
দিককার সংস্কাতি ও এীতিহ্যের সঙ্গে অপেক্ষাকৃত পাঁরণত হরপ্পা-যূগের সংস্কাতি 
ও এীতহ্যের সহ-অবস্থানের সূত্রটি খুজে পাওয়া সম্ভব হয়। 
সাম্প্রীতিক বছরগালতে ভারতনয় প্রত্রতত্ববদরা হরপ্পার ও গোড়ার দিককার 
হরপ্পা-সংস্কীতির আরও অনেক নতুন-নতৃন 'নদর্শন-স্মরাণিক আঁবিম্কারে সমর্থ 
হয়েছেন। এর ফলে হরপ্পা-সভ্যতার উৎপাঁন্ত সম্বন্ধে নতুন-নতুন তত্েরও 
উদ্ভব ঘটেছে। হরপ্পার সভ্যতা স্থানীয় প্রাকহরপ্পা ও আদ হরপ্পা- 
সংস্কীতগুঁল থেকেই ক্রমশ বকশিত হয়ে উঠেছে--এই তন্ঁটি ছাড়াও 
এমন মতও চালু হয়েছে যে আদ হরপ্পার অর্থাৎ গ্রামীণ ধরনের সংস্কৃতিগ্ীল এবং 
খোদ হরস্পা অর্থাৎ নগর-সভ্যতা সম্ভবত পাশাপাঁশিই আস্তত্ব বজায় রেখে এবং 
সমান্তরাল ধারায় বিকাশত হয়ে চলেছিল একদিন। বস্তুত, নগর-জীবনের উদ্ভব এবং 
বড়-বড় নগর-জনপদের আঁবভবই সোঁদন ঘোষণা করোছিল এক নতুন কালপর্কের, 
সকল স্বাতিল্ন্য ও নিজস্ব বৈশিষ্ট্য (যেমন, লিপিখোঁদত পঞ্জা, বর্ণালপি ও লেখার 
শিল্প, মৃৎপান্রে মৌল ধরনের অলঙ্করণ, ইত্যাদি) সহ পারণত হর্পা-সভাতার জন্ম । 
নগর-সভ্যতার দিকে পদক্ষেপের প্রবণতা অবশ্য আঁদ হরপ্পাযুগ থেকেই 
আফগ্যানস্তান, বেলচিন্তান ও সিন্ধ; প্রদেশের বহু নিদর্শন-ক্ষেত্রে লক্ষা করা যায়, 
তবু এ-ধরনের উন্নত নগর-সভ্যতার পত্তন ঘটেছিল একমাত্র সন্ধ্মনদের উপত্যকাতেই। 
এই শেষোক্ত সভ্যতার বিকাশের পক্ষে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল অবশ্যই 
অণুলাটর ভোৌগোঁলক পাঁরবেশ, অর্থাৎ িন্ধানদ ও তার শাখানদীগুলর 
জালবিস্তার। নদীমাতৃক এই অণ্লই বৈষাঁয়ক সংস্কৃতি ও অর্থনীতিক বিকাশের 
এবং নগর-জনপদের, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কার্শিল্পের কেন্দ্রুগ্াীল প্রাতষ্ঠার পক্ষে 
সবচেয়ে অনুকূল পটভূমির যোগান 'দিয়েছিল। হরস্পা-যুগের বসাঁতগ্দাল যে 
বিপুল সংখ্যায় সিন্ধমনদ ও তার শাখানদীগ্দীলর তীর-বরাবর গড়ে উঠোৌছল এটা 
কোনো আপাতিক ঘটনা নয়। এ-প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে গঙ্গা ও যমুনা নদীর ওপর- 
অগুলেও নদীতনীর-বরাবর অনেকগ্যাঁল হরস্পা-যুগের বসাঁত পরে আবিষ্কৃত হয়েছে । 
হরপ্পা-সংস্কৃতির উৎপত্তি-সম্পকিতি ব্যাপারটি এখনও বহুপরিমাণে স্পম্ট ও 


৬৬ 


বিশদ করে তোলার অপেক্ষা রাখে, তবে এ-ব্যাপারেও সন্দেহ নেই যে ওই সভ্যতার 
উৎপাত্তর সঙ্গে বাহার্বিশ্বের, যেমন আর্য ও সূমের-সভ্যতার, প্রভাবের সম্পর্ক-বিষয়ক 


তত্বগলি এখন নিছক পেশাদার ইতিহাসবেত্তাদের কৌতূহলের বিষয়ে পর্যবাঁসত 
হয়েছে। 


হরপ্পা-সভ্যতার সশমানা ও ব্যাপ্তি 


এই শতাব্দীর তৃতীয় দশকে হরস্পার সভ্যতা নিয়ে অনুসন্ধানের কাজ প্রথম 
শুরু হল যখন, তখন মনে করা হচ্ছিল যে এ-সংস্কতির ভৌগোলিক বিস্তারের সীমানা 
অপেক্ষাকৃত সংকীর্ণই। বস্তুত, গোড়ার দিকে হরস্পা-যুগের বসাতিগুলি কেবলমান্র 
সন্ধ-উপত্যকাতেই পাওয়া গিয়েছিল। তবে বর্তমানে প্রত্বতাত্ক গবেষণার ফলে 
জানা গেছে যে হরপ্পা-সভ্যতার আস্তত্ব ছিল বিশাল এক ভূখণ্ড জুড়ে, উত্তর-দক্ষিণে 
যার বিস্তার ছিল ১,১০০ কিলোমিটারের বৌশ ও পূর্বপশ্চমে ১,৬০০ 
কিলোমিটারের বেশি। 

কাথিয়াওয়াড় উপদ্বপে খননকার্য চালানোর ফলে জানা গেছে যে সিন্ধ--উপত্যকা 
থেকে জনগোম্ঠীর একেকাট দল ক্রমশ দক্ষিণে চলে গিয়ে নতুন-নতুন এলাকায় 
জনবসাঁত গড়ে তুলেছিল। বর্তমানে এই ধরনের হরস্পা-যুগের সবচেয়ে দক্ষিণের 
যে-সমস্ত বসাতি আ'বম্কৃত হয়েছে সেগ্যাল পাওয়া গেছে নর্মদানদীর মোহানার 
কাছে। তবে এ-ও সম্ভব যে হরপ্পার জনগোষ্ঠী এর চেয়ে আরও দক্ষিণাণ্চলে 
অন্যপ্রবেশ করেছিল। তারা দেশের পূরবাণুলেও ছড়িয়ে পড়েছিল, যাত্রাপথে নতুন- 
নতুন ভূখণ্ড 'আধকার, করতে-করতে। এর অর্থ, হরপ্পা-সংস্কাতির কিছ্-কিছু 
রকমফের গাঁজয়ে উঠেছিল এখানে-ওখানে, যাঁদও মোটের ওপর বলতে গেলে এগ্যাল 
সবই ছিল স্প্রাতাষ্ঠত এীতহ্যবাহী একটিই অখণ্ড সংস্কৃতির 'নদর্শন। 

সৌরান্ট্রে ও কাথয়াওয়াড় উপদ্বীপে সাম্প্রতিক খননকার্ষের ফলে আঁবম্কৃত 
হরপ্পা-যূগের বসাতিগ্ালি পণ্ডিতদের দৃষ্টি ফের এই প্রশ্নাটতে নিবদ্ধ করেছে যে 
এত দূর-দূর অণ্ুলে হরপ্পার জনগোম্ঠীর এইভাবে ছাঁড়য়ে পড়ার কারণ কী এবং 
তারা এত দূরে এসে পেশছলই-বা কী উপায়ে ? 

কিছু-কিছ পণ্ডিতের আগে ধারণা ছিল যে সন্ধ,-উপত্যকার সভ্যতার 
তথাকাঁথত শেষ পর্যায়ে যখন প্রধান নগর-কেন্দ্রগ্দালর গুরুত্ব হাস পেতে শুরু 
করেছিল একমান্র তখনই হরপ্পার জনগোম্ঠী দেশের দক্ষিণ ও পূর্ব অণুলে ছাঁড়য়ে 
পড়তে শুর করে। আবার অন্য অনেকে এই ধরনের ব্যাপকহারে স্থানান্তরে গমন'এর 
কারণ 'হসেবে অনুমান করতেন ভৌগোলিক অবস্থানের পাঁরবর্তন অথবা বাইরে থেকে 
আগ্রাসনকে। কিন্তু পরবতর্শকালে সৌরাম্ট্রে, গুজরাটে ও কাথিয়াওয়াড় উপদ্বীপে 


১৯ 


পূর্ণপরিণত হরস্পা-সভ্যতার নগর-কেন্দ্রসমূহ ধেমন, গুজরাটে সারকোতাদ নামে 
নগর-বসাতি) আবিষ্কৃত হওয়ার ফলে পশ্ডিতেরা এখন মনে করছেন যে 'সম্ধ- 
উপত্যকার নগরসমূহের আধিবাসীরা নিশ্চয়ই কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কারুশিল্পের 
অধিকতর বিকাশের জন্যে উপযুক্ত জমি-জায়গা ও বন্দর, ইত্যাঁদর সন্ধানেই 'বাভন্ন 
অণ্ুলে ছড়িয়ে পড়েছিল। অর্থাৎ এক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই হরপ্পা-সভ্যতার 
“সম্প্রসারণ'এরই স্বাভাঁবক একটি পদ্ধাত। 

ইতিহাসবেত্তারা মনে করেন যে হরপ্পার জনগোম্ঠী সাধারণত স্থলপথে ও 
নদীপথেই ইতস্তত চলে গিয়েছিল (তারা সমদদ্রপথেও স্থানান্তরে গিয়েছিল বলে 
এস. আর. রাও যে তত্ঁটি প্রচার করেছেন তা যথেষ্ট ধীক্তসহ নয়)। কাথিয়াওয়াড় 
উপদ্বীপে খননকার্ষের ফলে জানা গেছে যে সেখানে হরপ্পার সংস্কাতি ও তাগ্র- 
প্রস্তরযুগীয় স্থানীয় সংস্কৃতি পরস্পরকে নানাভাবে প্রভাবিত করেছিল। 

কাজেই আমরা ধরে নিতে পার যে এই বিপুলায়তন সভ্যতার মধ্যে যে-বহুতর 
রকমফের লক্ষ্য করা যায় তা বেশকিছু 'বাভন্ন নৃগোষ্ঠীর উপস্থিতির এবং হরপ্পা- 
সভ্যতার প্রাতচ্ঠাতারা যে-দমস্ত 'বাভন্ল অণ্ুচলে আ'বর্ভৃত হয়েছিল সেখানকার স্থানীয় 
বিকাশের অসমান স্তরেরই প্রাতিফলনমান্র। 


হর্পা-সভ্যতার কাল-নিরপণ 


প্রত্ুতত্ববিৎ পশ্ডিতেরা এখন নানা ধরনের সক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে হরপ্পা- 
সভ্যতার কাল-নরুপণে সমর্থ হয়েছেন। এ-কাজ করেছেন তাঁরা 'সন্ধ-উপত্যকা ও 
মেসোপটেমিয়ায় প্রাপ্ত পূরা-নিদর্শনগ্লির মধ্যে প্রতিতুলনার সাহায্যে (যেমন, 
সিন্ধ-উপত্যকার হরফে খোঁদত ীলীপ সহ পঞ্জা পাওয়া গেছে টাইগ্রিস ও 
ইউফ্লোটসের মধ্যেকার কয়েকটি শহরে), মৃৎপান্রগ্ীলর বর্ণাল-বিশ্লেষণ করে, 
সাম্প্রীতিক কালে ব্যবহৃত তেজস্ক্রিয় কার্বন-১৪ পদ্ধতির দ্বারা এবং প্রাচ্য পাঁথবীর 
সঙ্গে বাণিজ্য-সংক্রান্ত আক্কাডয় আকর দলিলের উল্লেখের ওপর নির্ভর করে। গোড়ার 
দিকে পণ্ডিতেরা হরস্পা-সংস্কৃতির আস্তত্ব আরও অনেক বেশি দূরকালের বলে 
অনূমান করেছিলেন। তাঁদের এই অনুমানের ভিত্তি ছিল সূমেরে ও ভারতে সভ্যতার 
শাবকাশের ক্ষেত্রে বীবধ মিল লক্ষ্য করে তা থেকে টানা সাধারণ 'সিদ্ধান্তগ্যলি। 
অগ্রণী ইংরেজ প্রত্বতত্ববিং ও 'ভারতী য় প্রত্রবিদ্যা'€র অন্যতম জনক স্যর জন মার্শাল 
খীস্টপূর্ব ৩২৫০ সাল থেকে ২৭৫০ সাল িন্ধ-সভ্যতার জীবনকাল বলে 
সময় িন্ধ;-উপত্যকার ধাঁচের কিছ পঞ্জা আঁবম্কৃত হওয়ায় এটা ধরা পড়ল যে এই 
পঞ্জাগৃলির মধ্যে বোৌশর ভাগই সারগনের রাজত্বকাল খেঃশস্টপূর্ব ২৩১৬ সাল 


২০ 


থেকে ২২৬১ সাল), ইীসন-যুগ খেস্টপূর্ব ২০১৭ সাল থেকে ১৭৯৪ সাল) 
এবং লার্সা-য্গ্র খেএস্টপূর্ব ২০২৫ সাল থেকে ১৭৬৩ সাল)-এর সঙ্গে স্পকিতি। 
এই সমস্ত আঁবচ্কারের ফলে পশ্ডিতেরা শেষপর্যন্ত এই "সিদ্ধান্তে আসেন যে 
মেসোপটেমিয়া ও ভারতের মধ্যে ঘানষ্ঠতম সম্পকেরি সময়কাল খশস্টপূর্ব চব্বিশ 
থেকে আঠারো শতকের মধ্যেই 'নার্দন্ট করা যেতে পারে। 

এটা বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে আক্কাডীয় যে-সমস্ত দলিলপত্রে প্রাচ্যদেশীয় 
অণ্ুলগযলির সঙ্গে, বিশেষ করে প্রত্বতত্ববিৎ পণ্ডিতেরা যে-অণ্লগ্ীলকে 'সিন্ধু- 
উপত্যকা ও তার পার্খ্বতর্শ এলাকা বলে সনাক্ত করেছেন সেই দিল্মূন ও 
মেলুহহার সঙ্গে, বাণিজ্য-সম্পর্কের সবচেয়ে বেশি উল্লেখ আছে সেগুলি সবই উর্‌- 
এর তৃতীয় রাজবংশের খেীস্টপূর্ব ২১১৮ সাল থেকে ২০০৭ সালের মধ্যেকার) 
এবং লার্সার রাজবংশের আমলের । লার্সার রাজা গুঙ্গুনুমার রাজত্বকালের দশম 
বর্ষের খ্রইস্টপূর্ব ১৯২৩ সালের) তাঁরখচিহিত কীলকাকার ফলকগুির একটিতে 
সন্ধ_-উপত্যকার ধাঁচের পঞ্জার একটি ছাপ পাওয়া গেলে পঁশ্ডিতসমাজে একদা গভশর 
আগ্রহের সৃষ্টি হয়। উপরোক্ত এই সমস্ত তথ্য এই ধারণার সপক্ষেই সাক্ষ্য দেয় 
যে 'সিন্ধ,-উপত্যকায় নগর-বসাঁতগুলর বাড়বাড়ন্ত ঘটে খুসস্টপূর্ব তৃতীয় সহম্রাব্দের 
শেষাঁদকে ও দ্বিতীয় সহত্রাব্দের সূচনায়। মেসোপটোমিয়ার প্রাচ্ন শহরগালর 
খননকার্য চালাবার সময় সেখানকার কাসসীয় যুগের সঙ্গে সম্পকিতি স্তরগ্যালতেও 
সিন্ধ_-উপত্যকার পঞ্জা পাওয়া যায়। এ-থেকে মনে হয় ওই পর্যায়েও এই অণ্চলের 
সঙ্গে ঁসন্ধ-সভ্যতার সংযোগ ছিল। হরস্পার খননক্ষেত্রগুলির উচ্চতর স্তরসমূহে যে- 
ফাইআঁস (বা অলঙ্করণ-করা পোড়ামাটির) গুটিকা পাওয়া গেছে, বর্ণাল-বিশ্লেষণের 
ফলে দেখা গেছে যে সেগ্যাল ক্রুঁট দ্বীপের নোসোস-এ (খ্যীস্টপূর্ব ষোল শতকের) 
প্রাপ্ত গুটকাগুলরই সমতুল্য। এর ফলে হরস্পার সভ্যতার শেষ কালপর্বাট 
খনস্টপূর্ব ষোল শতকের বলে চাহৃত করা সম্ভব হয়েছে। 

অবশ্য তেজাস্ক্িয় কার্বন-১৪ পদ্ধাতিতে কালানর্ণয় করতে গিয়ে উপরোক্ত এই 
সন-তারখের কিছুটা হেরফের ঘটাতে হয়েছে। বর্তমানে পাঁণ্ডতেরা কালিবাঙ্গায় 
অবস্থিত হরস্পা-ফুগ্ের সংস্কৃতির প্রাথামক স্তরগুি খঃস্টপূর্ব বাইশ শতকে উদ্ভূত 
হয়োছল বলে নির্ণয় করতে সমর্থ হয়েছেন এবং এখন বলা হচ্ছে যে হরপ্পা- 
সংস্কৃতির শেষ স্তরাট বর্তমান ছিল খ্স্টপূর্ক আঠারো ও সতেরো শতক জুড়ে। 
মোহেন্জো-দারোর খননক্ষেত্রে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণাদ থেকেও একই ধরনের 
সন-তারখের হীঙ্গত পাওয়া যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে যে এই সভ্যতার পূর্ণ 
পারণাঁতির ধদনগুি কেটেছে খ্াাস্টপূর্ব বাইশ থেকে উনিশ শতকের মধ্যে 
এবং মনে হচ্ছে সভ্যতাঁট সম্ভবত টিকে ছিল খনস্টপূর্ব আঠারো শতক পর্যন্ত 
(3১১৫ বছর)। 


২১ 


বেশিদিন আগেকার কথা নয় 'ডেন্ড্রোক্রোনলজি' (বা বৃক্ষবলয়ের সাহায্যে 
কালনির্যয়াবদ্যা) নামে পুরাকালের সন-তাঁরখ নির্য়ের নতুন একটি পদ্ধাত 
আবিল্কত হয়েছে। এই পদ্ধাতিপ্রয়োগে স্ছিরীকৃত হরস্পা-যুগের নগর-বসতিগ্দালর 
যে-বয়স জানা যাচ্ছে তা পণ্ডিতদের আবার সেই তত্তবের কাছাকাঁছ নিয়ে আসছে 
যে-তত্ব অন্যায়ী 'সন্ধ-উপত্যকার সভ্যতার বয়স সম্ভবত আরও কয়েক শতাব্দী 
পিছিয়ে দিতে হয়। 
রাখা বিশেষ দরকার যে ভারতের উপরোক্ত বিভিন্ন অণ্ুলে হরস্পা-যৃগের নগর ও 
বসাতিগলির আশ্তত্ব দীর্ঘ একটা সময় সীমা জুড়ে বর্তমান ছিল। যেমন, 
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কাথিয়াওয়াড় উপদ্বীপে খননকার্ের ফলে দেখা গেছে যে 
এমন কি সিন্ধ-উপত্যকার প্রধান নগর-কেন্দ্রগ্লির অবলা্তির পরেও হরস্পা-যূগের 
সংস্কৃতির বাহন নগর-জনপদ তখনও সেখানে আস্তত্ব বজায় রেখে চলেছে, তবে তা 
কিছুটা পাঁরবার্তত চেহারায়। ভারতীয় পণ্ডিতদের পঞ্জাব ও হাঁরিয়ানায় নতুন-নতুন 
প্রত্তাত্বক আ'বন্কারের ফলে এমন সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে যা থেকে জানা যায় 
যে হরপ্পা-সভ্যতার অন্তভূক্ত অণ্চলের পর্ব প্রত্ন্তসঈমায় পরেও বেশাকছু হরষ্পা- 
যুগের বসাতির আস্তত্ব ছিল। 


নগর ও তার গঠনবৈশিষ্ট্য 


সন্বু-উপত্যকায় বড়-বড় শহর এবং নগর-পরিকল্পনা ও নগর-স্থাপত্যের সযত্র 
ও স্বানার্দস্ট ব্যবস্থাদর আস্তত্ব প্রমাণ দেয় যে হবগ্পা-সভ্যতা একদা উন্নাতর এক 
উচ্চ স্তরে পেশছেছিল। 

প্রত্রতত্ববিদরা এই সভ্যতার অন্তুক্ত বেশ কয়েকটি প্রধান শহরের ধবংসাবশেষ 
আবিষ্কার করেছেন, তাদের মধ্যে বৃহত্তম হল হরপ্প। ও মোহেনজো-দারো। 

মোহেনজোন-্দারো শহরটি আনুমানিক আড়াই বর্গকলোমটার স্থান জুড়ে 
বিস্তৃত ছিল আর এর জনসংখ্যা ৩৫ হাজারের মতো ছিল বলে অনুমান করা হয় 
€যাঁদও িছু-ীকছু পশ্ডিতের অনুমান এই যে শহরের জনসংখ্যা আরও অনেক 
বোঁশ ছিল, এমন কি কেউ-কেউ এই জনসংখ্যা এক লক্ষ ছিল বলেও অনুমান করেন)। 

উপরোক্ত এইসব খননকার্যের ফলাফল 'দয়ে বচার করলে বলতে হয় হরস্পা- 
সভ্যতার নগর-কেন্দ্রগঁলর সবকশটই এক ধরনের একটি পাঁরকজ্পনার ওপর ভাত্ত 
করে গড়ে উঠেছিল। এখানকার বড়-বড় শহরের ছিল দুটি করে প্রধান অংশ । এদের 
একাঁট ছিল নগর-দুর্গ, যেখানে শহরের কর্তীব্যাক্তরা বাস করতেন, আর অপরাট 
ছিল তথাকাঁথত শনচের শহর" বসতবাড়িগ্াীলর অবস্থান ছিল যেখানে । শহরের এই 


৮৬ 


+দ্বতীয় অংশটি সাধারণত তৈরি হোত জ্যামিতিক আয়তক্ষেত্রের আকারে । অপরপক্ষে 
শহরের নগর-দু্গট তোর করা হোত শহরের বাকি অংশের চেয়ে উপ্চু করে, ইটের 
তোর বেশ উচু একটা মণ্সের ওপর । এই উশ্চু মণ্ট নগর-দুর্গকে বন্যার হাত থেকেও 
রক্ষা করত, আর এই বন্যা ছিল এখানকার সবচেয়ে ভয়ঙকর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের 
একাট যা থেকে-থেকেই িন্ধ_-উপত্যকার শহরগুলিকে গ্রাস করত । শহরের উপরোক্ত 
দুই অংশের মধ্যে যোগাযোগ স্পম্টতই সীমাবদ্ধ ছিল। যেমন, উদাহরণস্বরূপ, 
কািবাঙ্গায় খননকার্যের ফলে দেখা গেছে যে নগর-দুর্গের সঙ্গে ণনচের শহর'এর 
যোগাযোগ ঘটত মাত্র দুটি সংযোগ-ফটক দয়ে । বোঝা যায়, দরকার পড়লে এই দ্যাট 
যোগাযোগের পথ বন্ধ করে দেয়া যেত আর নগর-কর্তৃপক্ষ নিজেদের সাধারণ মানুষের 
থেকে বিচ্ছন্ন করে নিতে পারতেন। সার্কোতাদ বসাঁতিতে আবার নগর-দর্গাঁট 
শনচের শহর, থেকে পৃথক করা হয়েছিল একটি দর্গপ্রাকার 'দয়ে। 

হরপ্পায় নগর-দুর্গের সীমানায় শোভাযাত্রা চালনার উপযোগী একটি বিশেষ 
ধরনের রাজপথ 'ির্মিত হয়েছিল। স্পম্টতই বোঝা যায়, এই রাজপথ ধরে 
সৈন্যবাহনন কুচকাওয়াজ করে যেত 'িংবা নানা ধরনের শোভাযান্তরা চলাচল করত । 
মোটা-মোটা প্রাকার ও বুরজামনার দিয়ে এখানে সুরক্ষিত ছিল নগর-দুর্গট। 
কালিবাঙ্গায় খননকার্যের ফলে দেখা গেছে যে নগর-দুগ্গের বাহার্দকস্থ প্রাতিরক্ষার 
ব্যবস্থা হিসেবে প্রকান্ড চওড়া ইটের তোর একটি প্রাকার ছিল আর তার অভ্যন্তরে 
ছিল ধমঁয় 'ন্রয়াকলাপ চালানোর উপযোগী এবং আপাতদ্বীষ্টতৈ শাসনকার্য 
পাঁরচালনার উপযোগী দালানকোঠা ।মোহেন্জো-দারোর নগর-দুর্গে প্রকান্ড একটি 
জলাধারও পাওয়া গেছে ঞোঁটর প্রস্ছ ৭ মিটার, দৈর্ঘ্য ১২ মিটার এবং গ্রভীরতা প্রায় 
২.৫ মিটার), যা সম্ভবত ধমাঁয় অদ্রটালিকা বা মন্দিরের অংশ ছিল এবং বিশেষ 
আনুষ্ঠাঁনক পুণাক্মানের কাজে ব্যবহৃত হোত বলে মনে হয়। জল টেনে তোলার 
বিশেষ এক ব্যবস্থার সাহাষে; কুয়ো থেকে টাটকা জল সর্বদাই এই জলাশয়ে সরবরাহ 
করা হোত। জলাশয়াট থেকে অজ্প-একটু দূরেই ছিল জনগণের ব্যবহার্ষ 
শস্যগোলাগুলি আর একটি থাকওয়ালা ঢাকা মণ্ডপ, যা সম্ভবত জনসভার অনুষ্ঠানের 
জন্যে ব্যবহৃত হোত (শিংবা কিছ-কিছ্‌ পাঁণ্ডিতের মতে ব্যবহৃত হোত শহরের 
হাটখোলা িসেবে)। এখানে খননকার্য চাঁলয়ে এইসব থামের ভী্তপীচগ্ুলিই 
পাওয়া গেছে মান্্, যা থেকে অন্দমিত হয় থামগ্দলি কাঠের তৈরি ছিল আর এ-কারণে 
এগাল টিকে যায় ?ন। 

হরপ্পা নগরেও এই ধরনের গণগোলার সার পাওয়া গেছে আসল নগর-দুর্গের 
উত্তর দিকে, নদীর কাছে। এখানে গোলাগ্লোর কাছে পাওয়া গেছে পাথরের তৈরি 
বশেষ ধরনের কতগ্যাল মণ্ট। এ-থেকে অন্মিত হয় এইসব মণ্ে দানাফসল মাড়াই 
করা হোত। প্রত্বতত্ববিংরা এখানে পাথরের মেঝের ফাঁকে গম আর যবের দানাসদ্ধ 


৩ 


শিষও খুজে পেয়েছেন। সম্ভবত এই ফসল শহরে আনা হোত নদীপথে নৌকো 
করে, তারপরে তা মজুত করা হোত গোলায়। 

যে-সব সাধারণ বসতবাড়ি নিয়ে গড়ে উঠত “নিচের শহর" সেগুলিও তৈরি হোত 
কড়াকাঁড়ভাবে স্ানাদর্ট এক পাঁরকজ্পনা অনূযায়শী। শহরের এই অংশে কয়েকটি 
প্রধান রাস্তা থাকত, মোহেন্জো-দারোয় এইসব রাস্তা এমন কি দশ মিটার পযন্ত 
চওড়া হতে দেখা গেছে। ছোট-ছোট রাস্তা এইসব বড় রাস্তার সঙ্গে যুক্ত ছিল 
সমকোণ-বরাবর আর এই ছোট রাস্তাগুলো কখনও-কখনও এত সরু হোত যে এদের 
মধ্যে দিয়ে ঠেলাগাঁড় যাবার মতো জায়গাও থাকত না। 

বাঁড়গুলোর আকারপ্রকারও ছিল হরেক রকমের । কিছ্‌-কিছ্‌ এমন কি তিনতলা 
বাঁড় পর্যন্ত ছিল (বাঁড়গুলোর সিপড়র ভগ্নাবশেষ থেকে এটা অনুমান করা যায়) 
আর তাদের ছাদ ছিল সমতল, চ্যাপ্টা। এগাল স্পম্টতই ছিল সম্পন্ন নাগারকদের 
বাঁড়। এইসব বাঁড়তে এমানতে জানলা বলে কিছ ছিল না, বাঁড়র ভেতরে আলো- 
হাওয়া ঢুকত দেয়ালের মাথার দিকে তৈরি ছোট-ছোট ফোকর দিয়ে । বাঁড়গুলোর 
দরজা ছিল কাঠের তোর। কাঠ ছাড়াও 'পটিয়ে-জমানো কাদামাটির পাতও বাঁড়- 
তৈরিতে ব্যবহৃত হোত। প্রত্যেক বাঁড়র সঙ্গে থাকত বিশেষ ধরনের বারবাড় আর 
একটি করে উঠোন, আর সেই উঠোনেই তোর হোত রান্নার জায়গা । রান্নার জায়গায় 
বিশেষ ধরনের উন্ন থাকত আর থাকত দানাফসল ও তেল সয় করে রাখার জন্যে 
বড়-বড় জালা । 'বশেষ উনূনে সেকা হোত রুটি । ছোট-ছোট গৃহপালিত পশুকেও 
ওই উঠোনে থাকার জায়গা করে দেয়া হোত। 

শহরের গারব লোকেরা বাস করত কু'ড়েঘরে কিংবা ছোট-ছোট ছাউানর 'নচে। 
হরপ্পায় নগর-দুগ্গের প্রাকারগ্ুলোর আর ফসল-মাড়াইয়ের মণ্টের কাছাকাছ 
জায়গায় দৃ'সাঁর এমনই কুড়ে মাটি খতড়ে পাওয়া গেছে । দেখা গেছে এমন প্রতিটি 
কু'ড়েয় মান্র একখান করে ছোট্র ঘর আছে। এই ধরনের গাঁরব-বাঁন্তর সন্ধান পাওয়া 
গেছে মোহেন্জো-দারোতেও। দরিদ্র কাঁরগর, সাময়িকভাবে নিযুক্ত মজুর ও 
ব্লীতদাসরা এইসব বস্তবাঁড়তে থাকতেন বলে মনে হয়। শহরের বড় রাস্তার দূধারে 
ছোট-ছোট দোকান আর কারখানাও পাওয়া গেছে। 

“নচের শহরে'ও ধমর্বয় অন্দম্ঠান-পালনের উপযোগন বাঁড়ঘর ছিল বলে অনুমিত 
হয়। ইংরেজ প্রত্রতত্বীবং মামার হুইলর মোহেন্জো-দারোয় প্রকান্ড একটা মণ্ের 
ওপর স্থাপিত একখানা বাঁড় আঁবচ্কার করেছেন। বাড়িটিতে বতর্মানে-ল্‌প্ত 
ওপরতলায় ওঠার সশঁড় ও পাথরের ভাস্কর্যমুর্তর টুকরোটাকরা পাওয়া গেছে। এ 
থেকে তিনি এই "সিদ্ধান্তে এসেছেন যে গোটা বাঁড়খানাই এককালে একটি মান্দর 
ছিল। 

বাঁড়-তোরর প্রধান উপাদান ছিল পোড়া ইট, অবশ্য না-পোড়া কচাম।1টর ইটও 


২৪ 


ব্যবহার করতে দেখা গেছে। কালিবাঙ্গায় পোড়া ইট প্রধানত ব্যবহৃত হতে দেখা গেছে 
পাতকুয়ো আর প.ণ্যাভিষেক-কক্ষগ্ীলর নির্মাণকার্ষে। 

এইসব শহরের পানীয় জল-সরবরাহ ও আবর্জনা নিষ্কাশন ব্যবস্থার 'দিকে 
নগরকর্তাদের প্রচুর পরিমাণে মনোযোগ দিতে দেখা গেছে। শহরের প্রায় প্রাতিটি 
বাড়তেই একটি করে কুয়ো থাকত আর জনসাধারণের ব্যবহার্য পাতকুয়ো তৈরি করা 
ও দূষিত জল, ইত্যাদ 'নিজ্কাশনের যে-ব্যবস্থা দেখা যায় তা একদার প্রাচীন প্রাচ্যের 
দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে উন্নত একটি ব্যবস্থা বলা যায়। শহরের রাস্তাগ্ীলর মধ্যে 
জায়গায়-জায়গায় এমন সব বশেষ গর্ত 'ছিল, যার মধ্যে দয়ে তরল আবর্জনা চলে 
যেত বিশেষ ধরনের নালার মধ্যে আর সেই নালাগুলো নিয়মিত সময়ে পারম্কার করা 
হোত নিঃসন্দেহে । এই নালাগুলো তোর হোত ইট 'দয়ে আর তাদের ওপরকার 
ঢাকানও তৈরি হোত ইট কিংবা পাথরের ফলক 'দয়ে। স্থানীয় জলবায়ুর অবস্থা, 
শহরের জনবসাতর ঘনত্ব ও স্বাস্থ্যরক্ষা-ব্যবস্থার তৎকালীন নিচু মানের বিচারে পানীয় 
জল-সরবরাহ ও আবর্জনা-নিচ্কাশনের এই সদক্ষ ও উচু মানের ব্যবস্থা যে বিশেষ 
গুরুত্বপূর্ণ ছিল এশীবষয়ে কোনোই সন্দেহ নেই। 

সোরাম্ট্রের লোথালে এক আঁভনব নগর-পাঁরকজ্পনা সহ অপর একটি হরস্পা- 
যুগের শহরও আবিষ্কৃত হয়েছে। এই শহরাঁট এককালে শুধ্-যে বাণিজ্য-কেন্দ্রই 
ছিল তা-ই নয়, স্পম্টতই একটি বন্দরও ছিল এট। গ্রোটা শহরটি ঘেরা ছিল 
পাথরের পাঁচল 'দয়ে আর বসতবাঁড়গুলি বিশেষ ধরনে তৈরি এমন একটা উন্নত 
ভিত্তির ওপর স্তরে-স্তরে বিন্যস্ত ছিল যার ফলে বন্যার কবল থেকে শহরাট রক্ষা পেত। 
এই নগর-বসাতির পৃর্বদকে 'ছিল জাহাজ-ীনর্মাণ ও মেরামতের একাঁট কারখানা 
£কারখানাটর আয়তন ছিল ২১৮ মিটার ৩৭ 'িটার)। কয়েকটি কাটা খাল "দিয়ে 
কারখানাটি যুক্ত ছিল নদীর সঙ্গে ও তারপর নদী-মারফত সমুদ্রের সঙ্গে। খননকার্য 
চালাবার ফলে এখানে আড়াই িলোমিটারেরও বোঁশ লম্বা একটি খালের চিহও, 
পাওয়া গেছে। শহরের অবাঁশম্টাংশে ছিল কেবল বসতবাড়ি । শহরের প্রধান রাস্তাগদালি 
ছিল চার থেকে ছয় মিটার চওড়া আর পাশের সরদ রাস্তাগ্দলি দুই মিটারের চেয়ে 
বোঁশ চওড়া নয়। এখানকার প্রধান রাস্তাগ্দালর ধারে-ধারে হস্তশিজ্পী কারিগরদের 
কারখানা-ঘরও পাওয়া গেছে। 


আঁধবাসখদের জশবিকা 


ন্গর-ীনর্মাণের ক্ষেত্নে বিকাশের উন্নত স্তরে ওঠা সত্বেও “সিহ্ধ-উপত্যকার 
জনসংখ্যার আঁধকাংশই সেকালে বাস করত গ্রামের বসাঁতগ্যালতে এবং প্রধানত 
ব্যাপৃত থাকত চাষআবাদে। 'সিঙ্ক--উপত্যকা ছিল প্রাচী পৃথিবীতে চাষবাসের 


কে 


আঁদতম কেন্দ্রগীলর একটি । সভ্যতার একেবারে আঁদতম কাল থেকেই নানাধরনের 
ফসলের চাষ হয়ে আসছিল এখানে । প্রত্বতত্ববিদদের আঁবিজ্কারের ভাত্তিতে বিচার 
করলে বলতে হয় হরপ্পা-সভ্যতার মানুষ দু'ধরনের গম, যব, তিল ও বরবটির 
চাষের সঙ্গে পাঁরচিত ছিল । [সন্ধ-উপত্যকার বসাতিগ্যালতে কিন্তু ধানচাষের কোনো 
চিহ পাওয়া যায় নি, তবে লোথালে ও রঙ্‌পুরে (সৌরান্ট্রে) কাদামাঁটির স্তরে ও 
মৃৎপান্রের টুকরোয় ধানের তুষ পাওয়া গেছে।|এ-থেকে আমরা ধরে নিতে পাঁর যে 
এই সৌরাম্ট্র অণ্টলের লোকেরা ধানের চাষ করত। মোহেনজো-দারোতে খননকার্য 
চালাবার সময় ছোট্ট একটুকরো সতন কাপড় পাওয়া যায়, এ-থেকে স্পম্ট বোঝা যায় 
যে সে-সময়ে ওই অণ্চলে তুলোর চাষেরও চল ছিল। ফুলবাগান করারও প্রচলন ছিল 
সে-সময়ে। ওই যুগে কৃষকেরা সিন্ধনদের বন্যাকে কৌশলে কাজে লাগাতে জানতেন 
এবং সম্ভবত জাঁমতে জলসেচের ব্যবস্থাও করতেন। িছ্‌-কিছ্‌ পণ্ডিতের মতে 
€যেমন, ডি. ডি. কোশাম্বির), তখন লাঙলের ব্যবহার জানা ছিল না এবং কৃষকেরা 
জাঁম চাষ করতেন হালকা এক ধরনের মইয়ের মতো কাঁটা 'দয়ে। 

কিন্তু কালিবাঙ্গায় যখন প্রাক-হরগ্পা যুগের স্তরগুলির খননকার্য চলছিল তখন 
সেখানেই জামতে দেয়ার মইয়ের টুকরো পাওয়া যায়, আর এ-থেকে মনে করা যায় 
যে এমন ক প্রাক-হরপ্পা ষুগের মানুষেরাও লাঙল ব্যবহার করতেন। কাজেই 
হরপ্পার মানূষেরা যে অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ কৃষির এই যন্ত্রট ব্যবহার করতেন এ- 
সম্বন্ধে সন্দেহের অবকাশ আছে অল্পই। 

সিন্ধ-সভ্যতার আমলে গৃহপালিত পশুর রক্ষণাবেক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ 
ব্যাপার। ওই সময়কার গৃহপালিত পশুর মধ্যে ছিল ভেড়া, ছাগল, গোর ও কুকুর । 
মূরাঁগর চাষও হোত তখন। মনে হয়, হাতিও তখন পোষ মানানো হোত। ওখানকার 
লোকে যে তখন গৃহপালিত পশু হসেবে ঘোড়ার ব্যবহার জানত এখনও পর্যন্ত 
এর কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায় নি, তবে এই প্রশ্নটি নিয়ে বর্তমানে অন্সন্ধান 
চলেছে] 

তামা আর রোপঞ্জই ছিল তখন প্রধান ধাতু যা 'দয়ে যন্দ্পাতি, তৈজসপন্র, 
অস্ত্রশস্ত ও অন্যান্য 'জনিস বানানো হোত । ধাতু গাঁলয়ে আকরিক থেকে পৃথক করা, 
ধাতুকে ছাঁচে ঢালাই করা এবং আগুনে পুড়িয়ে ও পিটিয়ে ঢালাই করার কৃতৎকৌশল 
তখনই, ওই সময়েই প্রয়োগ করা হাচ্ছল। ওই সময়ের ধাতুনির্মিত নানা বস্তুর 
রাসায়নিক বিশ্লেষণের ফলে দেখা গেছে যে তামা বা ব্রোঞ্জের সঙ্গে স্বজ্প-পারমাণ 
নিকেল ও আর্সপোনকের মিশেলও দেয়া হোত তখন । ধাতুনী্মত ছোট-ছোট মূর্তিও 
তখন তোর করা হোত তথাকথিত ০175 7০০৮6 (মোম-ছাড়ানো) পদ্ধতিতে । 

তবে তাই বলে পাথরেরও গুর্দত্ব কমে নি ওই সময়ে এবং পাথর কেটেও 
তখন দৈনান্দনের ব্যবহার্য নানাবব জিনিসপত্র ও অলঙ্কার বানানো 


৬ 


হোত। তবে লোহার অস্তিত্বের কোনো চিহৃ কিন্তু পাওয়া যায় নি সিন্ধৃ-উপত্যকার 
বসাতিগুলোয়। ধাতু হিসেবে লোহা ভারতশঁয় ইতিহাসের এক পরব স্তরে 
আঁবভূত হয়। 

সিন্ধু-সভ্যতার যুগের মাণকাররা রুপোর এবং সোনার অলঙকারও বানাতেন। 
স্থানীয় অভিজাত সম্প্রদায়ের নাগরিকদের মধ্যে দামি অলঙ্কারের যথেজ্টই 
জনাপ্রয়তা ছল। 

সুতোকাটা এবং কাপড় বোনার মতো কুটিরাশল্পের ব্যাপক প্রচলন ঘটোছিল 
হরপ্পা-সভ্যতার আমলে, তেমনই বহুল-প্রচলিত ছিল হাড়ের ওপর ও ধাতুর ওপর 
খোদাইয়ের কাজ এবং মাটির পান্র তৈরির শিজ্প। সিন্ধু-উপত্যকায় খননকার্য 
চালাবার সময় বহ7 বাঁড়তে সুতোকাটার চরকা পাওয়া গিয়েছিল। ওই আমলের 
মৃৎপান্রগ্ালও ছিল চিন্রাবাঁচত্র করা, অলঙ্করণে-ভরা, তবে প্রধানত তাতে আঁকা হোত 
জ্যামাতক নকশা ও গাছপালার শবমূর্ত ঁিন্র। কৃুমোরের চাকে গড়া হোত হাঁড় এবং 
থালা আর তারপর তা পোড়ানো হোত বিশেষ ধরনের উনুনে বা ভাঁটিতে। প্রলেপ- 
দেয়া জেল্লাধরানো মৃৎপান্্রও তৈরি হোত তখন। 


রাজনোতক সংগঠন ও সমাজ-কাঠামো 


পণ্ডিতদের মধ্যে সিন্বদ-উপত্যকার সভ্যতার রাজনৈতিক সংগঠনের প্রকাতি- 
সম্পাঁকত বিষয়টি এখনও বিতর্কের ব্যাপার । মোহেন্জো-দারো, হরস্পা, কালিবাঙ্গা 
ও অন্যান্য নগর-বসাতিতে নগর-দুর্গের আস্তত্ব আবিম্কৃত হওয়ায় ওই সমাজে শ্রেণী- 
বিন্যাসের অস্তিত্ব-বিষয়ক ধারণাটি সমার্থতই হয়। এখনও পর্যন্ত মাটি খড়ে যে- 
সমস্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে তার ভা্ততে বলা চলে যে 'সিহ্কু-উপত্যকার সভ্যতা 
শ্রেণী-সমাজ উদ্তবের আগের যুগের এইমর্মে কিছ-কছ্‌ পণ্ডিত যে মত পোষণ 
করে আসছেন তার সমর্থনে উপযুক্ত 'ভীত্ত নেই। ্‌ 

উপরোক্ত ওই সমস্ত শহরে অবাস্থত নগর-দুগ্গগ্াীলতে খুব সম্ভব নগর-শাসকের 
(কিংবা শাসকদের) সদরদপ্তর ও তাঁর প্রাসাদ অবস্থিত ছিল। মনে হয় শহরগলির 
প্রধান শাসনকেন্দ্রও অবাশ্থিত_ ছিল এই নগর-দুর্গে এবং এইসব কেন্দ্র থেকেই 
শহরগুলির জল সরবরাহ ও আবনা-নিম্কাশনের জটিল ব্যবস্থাগ্যাল 'নয়ান্মিত 
হোত। আবার পৌরশাসনের এই প্রাতিজ্ঞানগ্লিই-যে গণ-খাদ্যগোলাসমূহের ভারপ্রাপ্ত 
ছিল এ-বষয়েও সন্দেহের অবকাশ স্বজ্প। স্পম্টতই প্রাতাঁট শহরে একাটি করে 
বিশেষ নগর-পারিষদের আস্তত্ব ছিল। আর এইসব পরিষদের সদস্যরা-যে মোহেন্জো- 
দারোর খননক্ষেত্রে যেমনটি পাওয়া গেছে তেমনই এক ধরনের সম্মেলন-মণ্ডপে মাঝে- 
মাঝে মালত হতেন সৌঁটও সম্ভব বলে মনে হয়। 


চি 


ভারতীয় প্রত্রতত্ববিদরা কালিবাঙ্গায় যে-খননকার্য চালান তার ফলে বহু 
কোতূহলোদ্দীপক তথ্য উদ্ঘাঁটিত হয়েছে । যেমন, জানা গেছে যে এখানে শুধু 
ন্গর-দদর্গাটই নয়, ণনচের শহর'ও ঘেরা ছিল সুরক্ষিত বুরুূজ সহ প্রাকার দিয়ে। 
কালিবাঙ্গায় নগর-দর্গের দুটি অংশ ছিল--উত্তর ও দাক্ষণের অংশ। এই উত্তরের 
অংশে ছিল বসতবাঁড়গ্যাল, কিন্তু নগর-দুগ্গের দক্ষিণাংশে এরকম কোনো বাঁড় ছিল 
না। এই শেষোক্ত অংশে আবিচ্কৃত হয়েছে রোদে-পোড়ানো ইটে-তোর কয়েকটি 
প্রকান্ড-প্রকাণ্ড ভিত্তিমণ্ট। এরকম একটি ভিত্তিমণ্ের 'শীর্ষদেশ'এ কয়েকটি বেদীর 
ভগ্মাবশেষ পাওয়া গেছে। এই ব্যাপারটা িছ-কিছু ভারতাঁয় পণ্ডিতের (যেমন, 
বব, বব. লালের) এই অনুমানের সপক্ষে যুক্তির যোগান দিয়েছে যে নগর-দর্গের 
দক্ষিণাংশে নগরকর্তার বাসভবন ছিল না, এখানে ছিল ধর্মীনুষ্ঠান উদযাপনের জন্যে 
বিশেষ ধরনের মন্দিরাদ। এই বিশেষ শহরের ক্ষেত্রে নগর-দুর্গের উত্তরাংশে অবাস্থত 
বসতবাড়গ্ীল পুরোহিতদের বসবাসের বাড়িও হতে পারে। 

আগেই বলা হয়েছে যে 'সিন্ধ-সভ্যতার বৃহত্তম দুই নগর-কেন্দ্র ছিল মোহেন্জো- 
দারো ও হরপ্পা। কিছু-কিছ্‌ পণ্ডিত এ-দাটি শহরকে হয় একাট অখণ্ড রাজনৈতিক 
ইউাঁনটের আর নয়তো দুটি পৃথক ইডীনটের দুই রাজধানী ছিল বলে মনে করেন। 
তবে এখানকার সং্লন্ট বিশাল এলাকা জনুড়ে ছাড়িয়ে ছিল যে-বহনতর বসাঁত তাদের 
শাসনকার্য পরিচালনার মূল কেন্দ্র ও সেই কেন্দ্রের শাসনপদ্ধাতগ্যালর ধরনধারণ 
কেমন ছিল এ-প্রম্নের উত্তর কিন্তু এখনও পাওয়া যায় নি। এ-প্রসঙ্গে এটা বিশেষ 
তাৎপর্যপূর্ণ যে একদার এই এলাকায় ওজন করার ও মাপজোকের একটিই অখণ্ড 
রীতি, একটিই িখনপদ্ধাতি, শহরগ্ালর 'বন্যাসের ও বাঁড়-তৈরির কৃৎকৌশলের 
মধ্যে আত ঘাঁনচ্ঠ মল, ইত্যাঁদ লক্ষ্য করা গেছে। 

হরপ্পা-যুগের শহুরগ্ালতে রাজনোতিক শাসন-ব্যবস্থার প্রকৃতি এবং এই 
সভ্যতার আমলে গোটা সমাজের শ্রেণীগত কাঠামোর চেহারা-সম্পাক্তি বিষয়াট 
এখনও তুমুল বিতকেরি ঝড় তুলে চলেছে। কিছ-কিছ পাঁণ্ডিত (যেমন, সোভিয়েত 
ইউনিয়নের ভ. ভ. স্তুূভে ও জার্মান গণতাল্ত্িক প্রজাতন্বের ডব্রদ্য, রূবেন) এই মত 
প্রচার করেছেন যে হরপ্পা-সভাতা গড়ে উঠোছল এক ধরনের ক্রীতদাস-মালিকানা 
প্রথার ওপর 'ভাত্ত করে। তবে এই তত্তের সপক্ষে তথ্য-প্রমাণ এখনও পর্যন্ত পর্ষাপ্ত 
নয়। অন্যান্য কিছ পণ্ডিত আবার এই সভ্যতার রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে প্রাচীন 
মেসোপটোময়ার রাজনৈতিক সংগঠনের তুলনা করেছেন এই অন্মমানের 'ভান্ততে যে 
সন্ধ-উপত্যকাতেও শাসন-ক্ষমতার আসল পাঁরচালক ছিলেন পুর্োহত-সম্প্রদায়, 
এই সম্প্রদায়ই দিলেন সকল জাঁমর মালক। তবে এটাও সম্ভব যে হরপ্পা-যূগের 
শহরগুলিতে রাম্ট্রশাসনের প্রকৃতি ছিল ক্ষমতাপন্ন অল্পসংখ্যক ব্যাক্ত-পরিচাঁলত 
প্রজাতন্লীয় রাজ্য। 


৫ 


সিন্ধ-উপত্যকায় খননকার্য চালানোর ফলে জানা গেছে যে সমাজে বিষয়সম্পাত্তির 
ব্যাপারে লক্ষণীয় রকমের অসাম্য বর্তমান ছিল। বড়-বড় বাঁড়তে সম্পন্ন নাগরিকরা, 
অর্থৎ বাঁণক ও অবস্থাপন্ন কারূশিজ্পীরা যে বাস করতেন এটা স্পম্ট, আর দাঁরদ্রুরা 
মাথা গুজে থাকত অতি ছোট সব ঘরবাড়িতে। মৃত্যুর পর কবর দেয়ার প্রচলিত রশীত 
থেকেও অর্থ-সম্পীন্তর ব্যাপারে লক্ষণণয় পার্থক্য চোখে পড়ে । ধনী নাগারকদের 
কবর দেয়া হোত নানাবিধ রত্বালঙ্কার ও অলঙগ্করণ-করা পান্রাদ সহ। দরিদ্রের কবরের 
সাজসজ্জা ও উপকরণ ছিল অনেকগুণে বোশ শাদামাটা ধরনের । পাণ্ডিতেরা অনুমান 
করেন যে হর্পা-যুগের শহরগীলতে ক্রতদাসরাও ছিল। তারা বাস করত দীনহান 
কুটিরে, আর ফসল মাড়াইয়ের কাজ করত, ভার বোঝা বইত এবং সম্ভবত ভূর্গভস্থ 
নদ্মার আবর্জনাঁদ পরিল্কারের কাজে হাত লাশাত। হরপ্পায় নগর-দুর্গের প্রাকারের 
ওধারে, গণ-খাদ্যগোলাগ্লির কাছাকাছি ও ফসল-মাড়াইয়ের মণ্চগুঁলির একেবারে 
পাশেই এমন সমস্ত দীনহীন কুটির পাওয়া গেছে যেগ্দাল দেখে স্পম্টতই মনে হয় 
যে সেখানে ছিল মুচলেকাবদ্ধ মজুর কিংবা ক্রীতদাসদের বাস। কালবাঙ্গায় ?িংবা 
লোথালে এমন কোনো কুটির পাওয়া না-যাওয়ায় পণ্ডিতেরা (যেমন, ফরাঁস 
প্রত্রতত্বীবং জে. এম. কাসাল) এই সিদ্ধান্তে এসেছেন যে শেষোক্ত এইসব শহরের 
শাসন-কাঠামো হরপ্পায় ক্ষমতায় আধচ্ঠিত প্রভূত্বপরায়ণ শাসন-ব্যবস্থার চেয়ে 
অপেক্ষাকৃত উদারপল্থী ছিল। যাঁদও এ-সম্পার্কত সাক্ষ্য-প্রমাণ "স্ছরাঁসদ্ধান্তে আসার 
পক্ষে যথেষ্ট নয়. তবু এটা সম্ভব বলেই মনে হয় যে হরস্পা-যুগের 
একটি শহর থেকে অপর একটি শহরে রাজনোতিক সংগঠনের ততেও 
তারতম্য ছিল৷ 'সন্ধ_-সভ্যতায় ক্রীতদাসদের আস্তিত্বের ব্যাপারে ইংরেজ প্রত্ততত্ববিৎ 
পান্ডত ডি. এচ. গর্ডন একটি ভার কৌতূহলোদ্দীপক বক্তব্য উপস্থাপিত করেছেন। 
তান বলছেন যে এখানে পাওয়া পোড়ামাটর কিছ মূর্ত অসলে ব্রু'তদাসদের 
মৃর্তি ছাড়া কছ; নয় (এগুীল হল উপবেশনরত নারী-পরূষের মুর্ত। এদের 
প্রত্যেকে দুই হাতে নিজের দুই হাঁটু জাঁড়য়ে রয়েছে আর মাথায় পরে আছে গোল 
বাঁটটুর্পি)। এছাড়া কাসালও খুব সরল ও সবক্ষপ্ত 'লখন' সহ একপ্রস্থ আত ক্ষুদ্র 
আকারের পঞ্জাকে শ্রামক ও ব্লীতদাসদের 'পাঁরচয় পন্র' বলে সনাক্ত করেছেন। 

» যাই হোক, সবাঁকছ্ মালয়ে বিচার করলে বলতে হয় যে খননকার্ষের ফলাফল 
সন্ধ--সভ্যতায় বেশ কয়েকাট সামাঁজক সম্প্রদায়ের আস্তত্বের ইঙ্গিত দেয়, যেমন, 
পুরোহিত, বাঁণক, কারাীশজ্পী ও মুচলেকাবদ্ধ মজুর-সম্প্রদায়। স্বানা্দস্ট একটি 
সামারক গোম্ঠঈর আস্তত্বও-যে এখানে ছিল সে-বিষয়েও কোনো সন্দেহ নেই। 
এই সামাজিক স্তরাবন্যাসের আস্তত্ব দেখে কিছু-কিছ পন্ডিত হরপ্পা-সভ্যতার 
আমলেই ভ্রুণাকারে পরবতার্ঁ বর্ণাশ্রয়ী সমাজ-কাঠামোর আস্তত্ব ছিল বলে মনে 
করছেন। 


২৯ 


ব্যবসা-বাণিজ্য ও বৈদেশিক সম্পর্ক 


হরপ্পা-সভ্যতার আমলের শহরগ্ীল ছিল অভ্যন্তরীণ ও বাহর্বাণিজ্যের কেন্দ্র 
বিদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য চলত তখন সমদ্রপথে ও স্ছলপথে ৷ মোহেন্জো-দারোয় 
খননকার্য চালাবার সময় দুই চাকাওয়ালা গাঁড়র একটি খেলনা মডেল পাওয়া যায়। 
মনে হয় এই ধরনের বড় আকারের গাঁড় সিন্ধ-উপত্যকার সীমানার মধ্যে তখন 
ব্যবহার করা হোত মালপন্র আনা-নেয়ার জন্যে। তখন হরপ্পা-সভ্যতার শহরগযাল ও 
দক্ষিণ ভারতের িছু-কিছু অংশের মধ্যে বাঁণিজ্য-সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত ছিল, দক্ষিণ 
ভারত থেকেই মূল্যবান ধাতুসমূহের চালান আসত হরস্পা-অণ্চলে। আরও 
সম্প্রাতকালে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে হর্পা-সভ্যতার শহরগ্দালর সঙ্গে দক্ষিণ 
তুকর্মেনিয়ার তদানীন্তন বসাতগুঁলরও বাঁণিজ্য-সম্পর্ক বর্তমান ছিল (আলতিন- 
তিপিতে 'ভ. এম. ম্যাসনের আঁবজ্কার অনুযায়ণী)। 

পঞ্জা, মালার গুটিকা, কাঁড় ও হরপ্পা-সভ্যতার বোৌশল্ট্যসৃচক অন্যান্য দ্রব্যাদি 
মেসোপটোমিয়ার শহরগ্াীলতে এবং মেসোপটেমীয় ধাঁচের পঞ্জা সন্ধু-উপত্যকার 
শহরগুিতে আবিষ্কৃত হওয়ায় একথার প্রমাণ মিলছে যে 'সন্ধু-উপত্যকা ও সূমের- 
সভ্যতার মধ্যে একদা ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য-সম্পর্ক বর্তমান ছিল। সমের-অণ্ুলে খননকার্য 
চালাবার সময় হরপ্পার পঞ্জার ছাপ-দেয়া এক-টুকরো কাপড়ও আবিচ্কৃত হয়েছে । মনে 
হয় সুমেরের সঙ্গে বাঁণাজ্যক যোগাযোগ রাখা হোত সমুদ্রপথে, বাহ্‌রেন হয়ে, কারণ 
বাহ্‌রেনে হরপ্পা-যূগের তৈজসপন্রের স্মারক পান্রাদ আবিন্কৃত হয়েছে। লোথালেও 
নানা প্রত্বতাত্ক আবিজ্কার বিদেশের সঙ্গে সমদ্রপথে ব্যাপক হারে ব্যবসা-বাণজ্যের 
সাক্ষ্য দেয়। খননকার্য চালাবার ফলে সেখানে প্রকাণ্ড একটি জাহাজঘাটা, আগন্তুক 
জাহাজ ভিড়িয়ে রাখার উপযোগী ডক এবং পাথরের তৈরি বহু? নোঙর পাওয়া গেছে। 
মোহেন্জো-দারো ও হরপ্পায় প্রাপ্ত কিছু-কিছু পঞ্জা ও পোড়ামাটির ফলকের গায়ে 
জাহাজের ছবি খোদাই করা আছে বলে দেখা গেছে আর লোথালে প্রত্রতত্ব বদদের 
ভাগ্য আরও একটু বোঁশ প্রসন্ন হওয়াতে তাঁরা সেখানে জাহাজের একাট পোড়ামাটির 
তৈরি মডেল আর সেই মডেল-জাহাজের মাঝখানে আপাতদৃম্টিতে মাস্ভুলের ডাণ্ডা 
আটকানোর জন্যেই একটি খাঁজের চিহ্ন পর্যন্ত পেয়ে যান। 

বাহরেনে ও মেসোপটেমিয়ার শহরগ্যালিতে যেরকম গোলাকার পঞ্জা পাওয়া 
গেছে প্রায় সেই একই ধরনের পঞ্জা পাওয়া গেছে লোথালেও। 

আক্কাড দেশের পাাথতে উল্লীখত আছে যে সেখানকার বণিকরা সমুদ্র পেরিয়ে 
দিল্মুূন, মাগান ও মেলুহহ্া প্রভৃতি দেশে যেতেন। 

কিছু-কিছ: প্রত্ততত্বীবৎ পাণডত এই 'দল্মূনকে উপরোক্ত বাহ্‌রেন বলে. সনাক্ত 
করেছেন, আবার অন্যরা এই নামটি ব্যাখ্যা করেছেন হর্পা-সভাতার অন্তর্গত 


৩০ 


কয়েকটি অণ্চলের পরিচয়ের সূচক বলে। এছাড়া মাগানকে অনেকে বেলূচিন্তানের 
অন্তর্গত একটি জায়গা বলে আর মেলুহহাকে অনেকে খোদ মোহেন্জো-দারো 
অথবা ভারতের পশ্চিম উপকূলের কোনো বসতি বলেই সনাক্ত করেন। যদিও 
উপরোক্ত এই সমস্ত জায়গাকে যথাযথভাবে সনাক্ত করার সমস্যাঁট এখনও পযন্ত 
অসমাধিত রয়ে গেছে, তব হরস্পা-সভ্যতার শহরগালর সঙ্গে একদা-যে 
মেসোপটোময়ার বাণিজ্যক ও সাংস্কীতিক সম্পর্ক বর্তমান ছিল সে-সম্বন্ধে সন্দেহের 
অবকাশ নেই। 


ধর্মীবশ্বাস 


প্রত্ততাত্রক নানা আঁবন্কারের ফলে হরপ্পা-সভ্যতার আমলে জনসাধারণের 
ধর্মীবশ্বাসের স্বরূপ কী ছিল সে-সম্বন্ধে আমরা ছটা ধারণা পাই। ওই যুগের 
শহরগ্যলির নগর-দুর্গ ও বসত-এলাকা উভয় অংশেই এমন সমস্ত অট্রালিকা, ইত্যাঁদ 
পাওয়া গেছে যেগ্যালিকে পাঁণ্ডতেরা যথেম্ট যুক্তির ভীত্ততেই মান্দর বলে সনাক্ত 
করেছেন। স্পম্টতই এই সমস্ত মন্দির ও আনুষ্ঠানিক পণ্যক্নানের সরোবরগদালির মধ্যে 
এবং এসবের সঙ্গে মোহেন্‌জো-দারো ও হরপ্পায় পাওয়া পাথরের মুতিগি2ীলর কিছু 
একটা যোগসূত্র আছে। বিপ্‌লসংখ্যক পণ্ডিতের মতে এইসব মন্দির ও কিছু-কিছু 
পাথরের মৃর্তি কোনো এক পুরুষ-দেবতার নামে উৎসগর্ঁকৃত ছিল, যে-দেবতা নাকি 
শিবের আঁদরূপের সঙ্গে তুলনীয়। এখানে পাওয়া পঞ্জাগ্ীলর মধ্যে একটিতে খোদাই 
করা আছে 'নচু একটি পাদপটঠে 1বাঁশম্ট এক ধরনের 'যোগাসন'এ আসান ন্রি-আনন 
এক দেবমর্তর ভাস্কর্ষ ও তাঁর সঙ্গে যেন যক্ত-হয়ে-থাকা কয়েকটি কৃষ্সারমৃ্গের 
ছোট-ছোট মৃর্ত। এই দেবমৃর্তির কেশদাম দুাট শঙ্গের আকারে বিন্যপ্ত। মুর্তীটর 
দুশদকে দাঁড়য়ে আছে বন্; জীবজন্তু । স্যর জন মার্শাল যখন এখানকার খননকাধের 
তদারক করছিলেন, তখন তিনি এই সিদ্ধান্তে আসেন যে এই দেবমার্তীট হল 
পশুপাঁত শিবের, অর্থাং গবাঁদ পশুর পৃঙ্ঞপোষক ও রক্ষক শিবের মৃর্তি এটি ॥ 
প্রসঙ্গত স্মর্তব্য যে আদি হিন্দুশাস্ত্ে শিবকে বলা হয়েছে যোগন্‌ এবং শঙ্গের 
আকারে বিন্যস্ত কেশদাম সহ দেবতা । এই ব্যাখ্যা এখন অপরাপর বহহ প্রত্বতত্বীবিং 
পণ্ডিতের দ্বারাও সমার্থত। মনে হয় এর ফলে হরস্পা-সভ্যতার আমলে জনসাধারণের 
মধ্যে প্রচালত ধর্মগত ধ্যানধারণার সঙ্গে পরবতাঁ হিন্দুধর্মের একটা যোগসত্র যেন৷ 
খ*জে পাওয়া যায়। অপর একটি সাক্ষ্যও যেন এই তত্বের সমর্থন যোগাচ্ছে বলে মনে 
হয়। তা হল, পঞ্জার ওপর ষণ্ড, ব্যান, প্রভতি জীবজন্তুর খোঁদত মূর্তি। 'হন্দুর 
ধর্মীবশ্বাস অনুযায়ী বাশেষ-বশেষ দেবতা বিশেষ-বিশেষ জীবজস্তুর সঙ্গে সম্পকিতি : 
যেমন, শিব ষণ্ড বো নন্দিন)-এর সঙ্গে, আর তাঁর পত্বী দেবী পার্বতী ব্যাঘ্রের সঙ্গে ॥ 


৩৯ 


সম্ভবত উপাস্য দেবদেবীর সঙ্গে জীবজন্তুর এই সম্পক স্থাপনের ব্যাপারটি ছিল 
পূর্বতন 'টোটেম'গত ধর্মাবশ্বাসের জের এবং এই ধরনের কিছদ-কিছ প্রাণীই ছিল 
পৃর্ববতর্শ নানা উপজাতি-গোম্ঠীর যতসব 'টোটেম” বা প্রতীক । 

হর*্পা-সভ্যতার ধ্যানধারণা ও এীতহ্য যে প্রাচীন ভারতের পরবতর্ট যুগের 
এীতিহাসিক ও সাংস্কতিক বিকাশকে কোনো-না-কোনো ভাবে প্রভাঁবত করেছিল 
এই ধারণাঁটির ব্যাপারে অবশ্য সম্প্রতিকালে (এ. ঘোষ সহ) কিছ-কিছ্‌ পণ্ডিত 
সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ন্রি-আনন দেবমূর্তিট-যে পহন্দ?” দেবতার আদির্প এই 
মতটিও প্রত্যাখ্যান করেছেন তাঁরা । 

কালের গ্রাস থেকে রাক্ষিত পঞ্জাগ্যালর বিচারে বলতে হয় যে 'সন্ধু-সভ্যতার 
আমলে আগ্ম, জল ও ব্ক্ষপৃূজার অন্ম্ঞানও উদযাপিত হোত। লোথাল ও 
কাঁলবাঙ্গায় এই পূজাবেদীর ধবংসাবশেষও পাওয়া গেছে। 

হরপ্পা-আমলের পঞ্জাগুলি নিয়ে পুত্খানুপুজ্থ বিচার-বিশ্লেষণের ফলে 
ইতিহাসবেত্তারা ওই আমলের জনসাধারণের বিশ্বসৃন্টির গঠনতত্ব-বিষয়ক ধ্যানধারণার 
কিছদীকছ, শদকের সঙ্গে পারাচত হতে পেরেছেন। দেখা গেছে ওইসব 
ধ্যানধারণার অনেকগাালই প্রত্যক্ষত "হিন্দুধর্মের ধমঁয় মতাদর্শগীলির সমান্তরাল 
ধারণা । 

এক্ষেত্রে বশেষ কোতৃহলোদ্দীপক ব্যাপার হল এই যে হরপ্পা-যুগের উপরোক্ত 
কছু-কিছ7 ?ংবদন্তীর সঙ্গে কয়েকটি সমেরীয় কিংবদক্তর সাদৃশ্য, বিশেষ করে 
সূমেরীয় বীর গ্িলগামেশের সূপাঁরচিত িংবদন্তীটর কিছু-কিছ ঘটনার 
সঙ্গে প্রথমোক্ত কিংবদন্তঁর আশ্চর্য মিল। তবে হরপ্পা-ষূগের আলেচ্য 
পঞ্জাটতে বীর নায়ককে সিংহের বদলে ব্যাঘ্য্থকে পরিচালনা করতে দেখা 
যাচ্ছে। 

এছাড়া 'সিন্ধ-উপত্যকায় পাওয়া গেছে প্রচুর সংখ্যক পোড়ামাটির স্রীমার্ত। 
এগ্যাল সেখানে মাতৃ-দেবতার উপাসনারই সাক্ষ্য দেয়। 

হরপ্পা-যুগের মানুষের ধর্মীবশ্বাস ও তাদের সাংস্কাতিক বকাশ-সম্পকিতি 
এপর্যন্ত-প্রচলিত বহুবিধ ধ্যানধারণাই অনেকখানি পরিমাণে নিছক অনমানমান্র। 
এগযীলর সত্যাসত্য যাচাই হবে তখন, যখন প্রত্রতত্ীবং পাঁণ্ডিতেরা সন্ধু-সভ্যতার 
বর্ণালপির পাঠোদ্ধারে সমর্থ হবেন। তবে ইতিমধ্যে যা সাক্ষ্য-প্রমাণ মিলেছে এমন 'ক 
তার 'ভীত্ততেও একথা অস্বীকার করা প্রায় অসম্ভব যে হরস্পা-সভ্যতার এরীতহ্যসমূহ 
পরবতর্ঁ বৈদিক যুগের উপজাতিগদলির বিকাশে একদা স্নির্দিস্ট প্রভাব বিস্তার 
করেছিল। 


ভাষা ও বর্ণালাঁপ 


হরপ্পা-সভ্যতার বর্ণালপির পাঠোদ্ধার যে এখনও পর্যন্ত সম্ভব হয় নি এটা 
দুভণগ্যের বিষয়, তবে এই লিপির আস্তত্বই প্রমাণ দিচ্ছে, ওই সভ্যতা 'বকাশের 
কতটা-যে উচ্চ স্তরে উঠোছিল। এ-পর্যন্ত খোদাই-করা বলাঁপ সহ এক হাজারেরও 
বোশ পঞ্জা আবিল্কৃত হয়েছে আর এছাড়া পাওয়া গেছে মৃৎপান্র ও ধাতুর-তৈরি 
জিনিসপত্রের ওপরও খোদাই-করা বেশ-কিছ িপি। পশ্ডিতেরা মনে করেন যে 
উপরোক্ত এই সমস্ত পঞ্জা পণ্যদ্রব্যের জন্যে রসিদও হতে পারে, আবার এদের মধ্যে 
কছু-কিছ পঞ্জায় ছোট-ছোঠ ছিদ্র থাকায় সেগুলি মল্তপূত কবচও হতে পারে। 
খুব সন্তভব এই ধরনের 'লপি কেবল পঞ্জার ওপরই উৎকর্ণ করা হয় নি, যে-সমস্ত 
বস্তুর ওপর লেখা অপেক্ষাকৃত সহজ ফেমন তল বা খেজুর-পাতা) তাতেও লেখা 
হয়োছিল বহু লাঁপি। তবে এই শেষোক্ত উপাদান খুবই সহজে নম্ট হয়ে যায় বলে 
এধরনের লিপি এতকাল ?িকে থাকে নি ও খননকার্যের সময় পাওয়া যায় ?ন, মনে 
হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে এখানে মাটির-তোরি একাঁটি দোয়াত আঁবম্কৃত হওয়ায় 
বিশেষ আগ্রহের উদ্রেক ঘটে। 

এ-অণ্চলে পাওয়া পঞ্জায় উৎকীর্ণ বর্ণ বা অক্ষরের সংখ্যা প্রায় ৪০০*র মতো । 
পণণ্ডিতেরা নিদ্ধান্ত করেছেন যে এর মধ্যে বোৌশর ভাগই হল ধৰানানর্দেশক চিহ্‌, 
তবে কিছুীকছ আবার ভাবনির্দেশক চিহ্ন বা ভাবলেখও আছে । খোঁদত লাপগুলি 
সবই অপেক্ষাকৃত সংক্ষিপ্ত আকারের । শেষ ধরনে আঁচড় কেটে সংখ্যা নিরশি করা 
হয়েছে। কাঁলিবাঙ্গায় এমন একটা ভাঙা মাটির পান্র পাওয়া গেছে যা থেকে এটা 
স্পম্ট বোঝা গেছে যে তখন লেখার চল ছিল ডানদিক থেকে বাঁয়ে । 

গত কয়েক দশক ধরে প্রত্রতত্ববিং পন্ডিতেরা এই লিপির পাঠোদ্ধারের চেষ্টা 
করে আসছেন। এ-সম্পর্কে কয়েকটি 'বাভন্ন তত্বও প্রচারিত হয়েছে। সুপরিচিত 
পাণ্ডত বেডরচ হতৃ্সাঁন হরস্পাশীলাঁপকে হিভ্রাইট. চিন্রালাপর জ্ঞাতি বলে বর্ণনা 
করেছেন, তবে এই আত্মীয়-সম্বন্ধ অনুসন্ধানে কোনো ফল হয় নি। উৎকীর্ণ লিখনের 
পাঠোদ্ধার করতে হলে প্রথমেই অপরিহার্য হল িন্ধ-উপত্যকার অধিবাসীরা ঠিক 
কোন ভাষায় কথা বলতেন ও 'িলখতেন তা নির্ণয় করা। বহু সুপরিচিত পণ্ডিত 
(টি. বারো ও এম. বাব. এমেনো সহ) মনে করেন যে ওই আঁধবাসাীদের ভাষা দ্রাঁবড় 
(আপদি-দ্রাবিড়) ভাষাগোম্ঠীর অন্তভূর্ত। 

যে-সমস্ত প্রত্রতত্ুবিৎ পণ্ডিত হরপ্পা-সভ্যতার ণলখিত পাঠ কম্পিউটর যল্তের 
সাহায্যে বিশ্লেষণ করেছেন (সোভিয়েত এবং ফিনল্যান্ডের গবেষকরা পরস্পর-নিরপেক্ষ 
ভাবে এই বিশ্লেষণের কাজটি করেছেন) তাঁরাও উপরোক্ত ওই একই সিদ্ধান্তে 
পেশছেছেন। তাঁদের মতে, এই আঁদি-ভারতীয় ভাষাকে (অর্থাৎ হরপ্পা-সভ্যতার 


৩498 ৩৩ 


ণলাঁখত পাঠ'এর ভাষাকে) দ্রাবিড় ভাষাগোম্ঠীর অন্যতম বলে গণ্য করা চলে, তবে 
এ-প্রসঙ্গে মনে রাখা দরকার যে এটি ভারতের বর্তমানে-প্রচলিত দ্রাবিড় ভাষাগ্যালর 
একটি নয়, এ হল এক আপদি-দ্রাবিড় ভাষা । এই ভাষা পুনগ্ঠনের কাজ এই 'বিশেষ 
ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা সাফল্যের সঙ্গে করে চলেছেন। হরগ্পাশলাপর পাঠোদ্ধার সম্ভব 
হোত যাঁদ 'দ্বিভাষার একটি পাঠ, অর্থাৎ দুশট 'বাভন্ন ভাষায় 'লাপবদ্ধ, একই 
পাঠযুক্ত একখানি লিখন, পাওয়া যেত। প্রক্ততাত্িক খননকার্ষের ফলে প্রাপ্ত হরপ্পা- 
সভ্যতার ও মেসোপটেমিয়ার শহরগ্ীলর মধ্যেকার ঘাঁনষ্ঠ যোগস[ন্রের ইঙ্গিতবহ তথ্য- 
প্রমাণসমূহের কথা বাঁদ আমরা মনে রাখি, তাহলে এমন আশা পোষণ করা আমাদের 
পক্ষে অসমীচশন হবে না যে এমন একটি 'দ্বিভাষিক পাঠযুক্ত লিখন হয়তো পাওয়া 
যাবে। 


1সিন্ধদর নগর-সভ্যতার অবক্ষয় ও পতন 


সাম্প্রতিক কালে খননকার্য চালাবার ফলে হরপ্পা-সভ্যতার ওপর যে-নতুন 
আলোকপাত ঘটেছে তাতে এই সভ্যতাকে আর অপাঁরবর্তনশীল ও অনড় বলে 
গণ্য করা চলে না। হরপ্পা-সংস্কীতির অভ্যন্তরীণ বিকাশের ব্যাপারটি নিয়ে অন্সন্ধান 
চালানোর ফলে এই সংস্কীতির অন্তভূক্ত শহরগ্দলির জীবনে কয়েকটি স্মানার্দম্ট 
পর্যায়ের হদিশ মিলেছে। জানা গেছে, বাড়বাড়ন্ত ও সমৃদ্ধির একটা পর্যায়ের পর 
তাদের জীবনে এসৌঁছল অবক্ষয়ের একটা যুগ। এই যুগের ছবাটি বিশেষ 
পারহ্কারভাবে ফুটে ওঠে মোহেন্জো-দারো, হরপ্পা, কালিবাঙ্গা, প্রভৃতি শহরে 
খননকার্যের ফলে আঁবন্কৃত তথ্য-প্রমাণ থেকে । দেখা যায়, তথাকাঁথত এই পরবতঁ 
যুগে মোহেনজো-দারোয় নির্মাণকার্য ধরাবাঁধা কোনো পাঁরিকল্পনা ছাড়াই চলতে 
থাকে। আরও দেখা যায়, ওই সময়ের মধ্যে আগেকার বড়-বড় সরকার 
অদ্রালিকাগ্ালর কিছু-কিছু ভেঙে পড়েছে, আর ৩।দের জায়গায় দেখা দিয়েছে 
ছোট্র-ছোট্ট বাঁড়। জল-সরবরাহের ব্যবস্থাও ওই সময়ে মেরামতির অভাবে অকেজো 
হয়ে পড়ছে । হরস্পাতেও অনেক দালানকোঠা এ-সময়ে পারণত হয়েছে ধ্বংসন্তূপে । 
আগেকার যুগের তেজীয়ান ব্যবসা-বাণিজ্যেও ভাঁটা পড়েছে তখন। মৃৎপান্ন 
উৎপাদনের কায়দাকান্ূনও তখন বদলেছে, পান্লের গায়ে নকশা অলঙ্করণের 
কাজ আগের চেয়ে কম করা হচ্ছে আর অবনাতি ঘটেছে মৃতীশল্পের গুণগত 
মানেরও। 

বস্তু হরপ্পা-সভ্যতার শহরগ্দালর অধঃপতন ঘটল কেন? এটি বিশেষজ্ঞদের 
মধ্যে তুমূল বিতকেরে একটি বিষয়।/ দীর্ঘকাল ধরে এ-ব্যাপারে সবচেয়ে 
জনাপ্রয় ব্যাখ্যা ছিল এই ' যে হরষ্পা-আমলের শহরগ্যালর এবং গোটা হরস্পা- 


৩৪8 


যতারই ধৰংসের অব্যবহিত কারণ হল আর্ধ উপজাতিদের আব্রমণ-আভিষান। কিন্তু 
আরও সাম্প্রতিক অন্দসন্ধানের ফলে এখন জানা গেছে যে এখানকার বেশাকছু 
শহরই ধারেকাছে কোনো বিদেশী উপজাতি-শক্ুর আ'বর্ভাবের আগেই অভ্যন্তরীণ 
নানা বিপর্যয়ের কারণে হানবল হয়ে ধৰংসপ্রাপ্ত হয়েছিল পণ্ডিতেরা মনে করেন 
যে চাষের জাঁমতে লবণতাবাদ্ধি, বন্যা, রাজপুতানার মরুভূমির সম্প্রসারণ 
ও সন্ধনদের গাঁতিপথ পারবর্তন উপরোক্ত ওই অভ্যন্তরীণ বিপর্যয়ের 
কয়েকটি । 

মোহেন্জো-দারো এলাকায় জলানুসন্ধান-বিদ্যাগত গবেষণা চালিয়ে পণ্ডিতেরা 
এই "সিদ্ধান্তে আসেন যে বহাদন আগে ওই শহর থেকে স্বল্পদূরবতর্শ একটি এলাকা 
ভূ-স্তরের বিন্যাসের ক্রুটজাঁনত এক আলোড়নের কেন্দ্রে পরিণত হওয়ায় তারই 
ধাক্কায় শহরাঁট ধংস হয়ে যায়। অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা আবার মনে করেন যে 
মোহেন্জো-দারো ধ্বংসের প্রধান কারণ হচ্ছে উপয্পার কয়েকবারের বন্যা । 
কয়েকবার এইভাবে শহরটি জলে ডুবে যাওয়ায় অবশেষে অধিবাসীরা অন্যত্র চলে 
যেতে বাধ্য হয় শহর ছেড়ে। এ-ও সম্ভব যে মোহেনজো-দারো ছাড়া আরও কয়েকঁট 
শহর এইভাবে বন্যার ফলে উৎসন্বে যায়। মোহেন্জো-দারো ধ্বংসের কারণ ব্যাখ্যা 
করতে গিয়ে সম্প্রতি আরও একটি তত্ব প্রচারিত হয়েছে। সোঁট হল এই যে 
সন্ধ নদের গতিপথ পারবার্তিত হয়ে যাওয়ার ফলে একদা যে-প্রচণ্ড খরা দেখা দেয় 
তাতে শহরটি দীন ও হখীনবল হয়ে পড়ে এবং এর ফলে বিদেশী আন্রমণকারাঁদের 
পক্ষে শহর দখল করে নেয়া সহজতর হয়। 
[. তবে উপরোক্ত এই সমস্ত তত্বকথাই বিশেষবশেষ জনপদ বা শহরের অবক্ষয় 
ও পতনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, খখস্টপূর্ব আঠারো ও সতেরো শতকে গোটা হরস্পা- 
সভ্যতাই কেন ধ্বংস হয়ে গেল তার ব্যাখ্যা কিন্তু এসবের মধ্যে মেলে না। তবে মনে 
হয় এর সম্ভাব্য একটি ব্যাখ্যা এই হতে পারে যে হরপ্পা-ষুগের সমাজে প্রধান-প্রধান 
পরিবর্তন সংঘটনের মূলে ছিল বিশাল ভূথণ্ড জুড়ে এই সভ্যতার দূত সম্প্রসারণ 
ও সভ্যতা-বিকাশের দিক থেকে পশ্চাৎপদ অণ্চলগদালিকে এর অন্তভূক্তকরণের ফলে 
এই সংস্কৃতির লক্ষণীয় বর্বরতা-্প্রাপ্তি ও দৃূষণ। এই শেষোক্ত মতাঁট অবশ্য আরও 
অনুসন্ধান ও গবেষণার অপেক্ষা রাখে, তবে ইতিমধ্যেই এ-ব্যাপারটি 'কিস্তু পরিষ্কার 
যে অভ্যন্তরীণ ঘটনাবলণই 'ছিল হরস্পা-সভ্যতার পতনের ও এই সভ্যতার অন্তরভূক্ত 
শহরগ্যালর অবক্ষয়ের প্রধান কারণ। 

কাখয়াওয়াড় উপদ্বীপের মতো "সন্ধৃ-সভ্যতার প্রত্যন্ত এলাকাগদাঁলতেও সে- 
সভ্যতার এই একই ধরনের অবক্ষয় ও পতনের ধারা লক্ষ্য করা যায়। এ-ব্যাপারাটও 
কম কৌতূহলোদ্দীপক নয়। লোথালে এই অবক্ষয়ের প্রথম লক্ষণগদল ধরা পড়ে 
সুদূর খ্বীস্টপূর্ব উনিশ শতকে, আর তারপর পরবতাঁ দুই শতাব্দীর মধ্যে এই 


৪ ৩৫ 


বৃহৎ বন্দর-নগরী এবং ততদিনে অভ্যন্তরীণ নানা সংকটে জ্জারত 'সিঙ্ধু-উপত্যকার 
প্রধান-প্রধান নগরের যোগসূত্র ক্রমে ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হতে-হতে শেষপর্যন্ত যায় 
বিলপ্ত হয়ে। কাথিয়াওয়াড় উপদ্বীপে তথাকথিত হর্পা-যুগের পর দেখা দেয় নতুন 
এক হরপ্পা-উত্তর যুগ, আর সেই যুগে স্থানীয় সংস্কৃতি কিছু-পরিমাণে পারবার্তিত 
হয়ে যায়, যাঁদও তার বিকাশের অবিচ্ছিন্নতায় কোনো বিরাতি ঘটে না। খননকার্ষের 
ফলে দেখা গেছে যে এই অঞ্চলে হরস্পা-যুগের সভ্যতার পড়ন্ত অবস্থা কোনোক্রমেই 
বাহঃশন্লুর আক্রমণের সঙ্গে জাঁড়ত নয়। সন্ধ-উপত্যকার ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা এই: 
রকমই হওয়া সন্তব। সেখানে কয়েকটি শহরের ক্ষেত্রে বিকাশের অপেক্ষাকৃত পরবতাঁ 
পর্যায় অবশ্য ওই অগ্চলে বিদেশশ উপজাতিগদলির অনুপ্রবেশের সমকালীন বলে 
জানা গেছে। তবে এ-প্রসঙ্গে লক্ষণীয় যে ওই পর্যায়ে হরপ্পা-শহরটিকে বিদেশীদের 
আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্যে শহরের প্রাতিরোধন দুর্গ-ব্যবস্থাও মজব্ত করে গড়ে 
তোলা হয়। হরস্পায় ও উপরোক্ত ওই সমস্ত শহরে আ'বচ্কৃত ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের 
চিহ্ন এবং রাস্তার ওপর পড়ে-থাকা মানুষের আস্ছি-কঙ্কাল (স্পম্টতই আক্রমণকারী 
শন্লুর সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে নিহত হয়োছল যে-সমস্ত শহরবাসী তাদের 
দেহাবশেষ) ইঙ্গিত দেয় যে একদা শহরবাসী ও বাহরাগত শন্রু উপজাতিদের মধ্যে 
ঘোর লড়াই চলোছল। 

খননকার্যের ফলাফল দিয়ে বিচার করলে বলতে হয় যে-সমস্ত উপজাতি 'সিন্ক্‌- 
উপত্যকায় প্রবেশ করোছিল তারা ছিল একাধিক জাতিগোম্ঠীর অন্তর্গত। এদের মধ্যে 
ছিল বেলুচস্তানের কয়েকটি উপজাতি এবং অপর কয়েকটি, যাদের সঙ্গে ইরানের 
উপজাতিগ্যালর ঘানম্ঠ মিল লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া ছিল আরও কিছু 
উপজাতিগোম্ঠী, হরগ্পা-সভ্যতার মানুষজনের সঙ্গে জাঁতিবিচারে যারা পৃথক ছিল 
না। এরা হরস্পা-সভ্যতার শহরগ্যালির ধারেকাছেই বসবাস করত । বিদেশী যে-সমস্ত 
উপজাতি 'সন্ধ_-উপত্যকার শহরগ্দালি আক্রমণ করেছিল, জনসংখ্যার দিক থেকে বেশি 
ছিল না তারা । কখনও-কখনও এই রকম একেকটি উপজাতির উপাস্ছিতির চিহ মান্ন 
একটিই হরস্পা-যুগ্জের জনবসাতিতে সামাবদ্ধ থাকতে দেখা গেছে। তব্য একথাও 
কবুল না-করে উপায় নেই যে এই সমস্ত হানাদার উপজাতি হরস্পা-সভ্যতার প্রধান 
নগরকেন্দ্রগ্ীলর পড়াতি অবস্থাকে তার চূড়ান্ত পারপণাঁততে টেনে নিয়ে গিয়েছিল। 
এই সমস্ত হানাদার উপজাতির িছ7-কিছ?কে ইন্দো-আর্ধ গ্োষ্ঠীভুক্ত বলেও আখ্যাত 
করা সম্ভব। তবে সমগ্রভাবে বিচার করলে বলতে হয়, হরস্পা-সভ্যতার অবক্ষয়ের সঙ্গে 
ভারতে আর্যদের অন্প্রবেশকে সরাসাঁর সম্পার্কত করার যে-প্রথাসিদ্ধ তত্বটি প্রচালত 
আছে তার মৌল প.নার্বচার প্রয়োজন। অবশ্য ভারতে-যে একদা ইন্দো-আর্ধ 
উপজাতিগ্লির অনুপ্রবেশ ঘটোছিল এই বাস্তব সত্যটি কিন্তু এর ফলে খাণ্ডিত 
হচ্ছে না। 


৩৬ 


মধ্য, পশ্চিম ও পর্ব ভারতে তান্নপ্রস্তরযগণয় 
সংস্কৃত 


সন্ধদ-উপত্যকার সভ্যতার বাড়বাড়ন্তের ষূগে ওই সভ্যতার সাঁমানার বাইরে 
ধাতুর ব্যবহার ছিল একেবারে আদম স্তরে। তামপ্রস্তরযূগে ভারতের 'বাঁভন্ন অণুলের 
এই ধরনের অসমবিকাশ আরও বোঁশ করে স্পন্ট হয়ে ওঠে। 

মধ্য ও পশ্চিম ভারতে ওই যুগের প্রত্রতাত্তুক আবিচ্কারগীল তৎকালে বিকাঁশত 
হরস্পা-সংস্কাতির প্রভাবের প্রমাণ দেয়, তবে দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাণুলে তখন ওই 
প্রভাব ছিল অনেক কম। 

কাথিয়াওয়াড় উপদ্ীপের ওই সময়কার জনবসাতিগ্ীলর বৈশিষ্ট্য ছিল উন্নত 
হর্পা-যুগের এীতিহ্যের সঙ্গে অপেক্ষাকৃত প্রাচঈন স্থানীয় নবপ্রস্তরযুগীয় সংস্কতির 
নানা উপাদানের এক ধরনের মিশ্রণ। আবার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উপরোক্ত হরপ্পা- 
যুগীয় এরীতহ্যগ্দীলও ক্রমশ এই অণ্চল থেকে ল্গ্ত হয়ে যায়। 

কাথিয়াওয়াড়ের উত্তর-পূর্বে তথাকথিত বানাস সংস্কৃতিভুক্ত (আণ লিক বানাস 
নদীর নামানুসারে) কিছু জনবসাতি আবিম্কৃত হয়েছে । বৌশল্ট্যপূর্ণ এই বসাতিগনুলির 
মধ্যে প্রাচীনতমটি খুনস্টপূর্ব ২ হাজার (কিংবা ১৮০০) বছরের পুরনো । উপরোক্ত 
এই জনবসাতিগ্দলি ওই সময়ের অন্যান্য জনপদ থেকে বিশিষ্ট ও স্বতন্ত্র পাথরের 
হাঁতয়ারের অনুপস্থিতি (প্রস্তরফলক-ানর্মাণ শিক্প' সিঙ্ধ_ প্রদেশের হরপ্পা-যুগাঁয় 
সংস্কীতির ও কািয়াওয়াড়ের উত্তর হরপ্পাফুগয় সংস্কীতির এক স্ানাদর্চ 
বৈশিষ্ট্য) এবং প্রচুর সংখ্যক তামার 'জানিসপন্রের উপাঁস্থিতির কারণে । জনপদগ্ালির 
আঁধবাসীরা বাস করত 'কিছ;টা সেকেলে ধরনের পাথরের ও মাটির তৈরি বাড়িতে । 
এখানে যে মৃৎশিল্পের নমূনা পাওয়া গেছে তা কাথিয়াওয়াড়ের তৎকাল প্রচলিত 
[শল্পের থেকে আলাদা । এখানকার এই 'বাঁশস্ট সংস্কৃতির ধারক একাটি জনপদে 
হরপ্পা-যুগীয় বসাতিগীলর বৌশিষ্ট্যস্চক একটি ভিত্তিমণ্টের ভগ্নাবশেষ পাওয়া 
গেছে। 

নভ্দাতাঁল, নেভাসা, নাঁসক ও যোরবেতে ভারতীয় প্রত্রতত্বীবদরা যে-গবেষণা 
চাঁলয়েছেন তার ফলে মালব ও মহারাস্ট্রের প্রাচনকালের আধিবাসীরা কন ধরনের 
জীবন যাপন করতেন তার ছটা আভাস পাই আমরা । তাম্র-প্রস্তর য্‌গে এই 
অণ্চলের মানুষের পেশা ছিল কৃষকাজ ও পশুপালন, তাঁরা গম, ধান ও কিছ-কিছ7 
ধরনের শিমের চাষ করতেন। ভেড়া আর ছাগল পুষতেন তাঁরা । এখানে খটীস্টপূর্ব 
তেরো শতকের পুরনো এক ভূস্তরে মোটাজাতের রেশম আর তুলোর সুতোর মিশেল- 
দেয়া এক-টুকরো সুতো পাওয়া গেছে। এ-থেকে জানা যাচ্ছে ষে ওই ষগ্েও 


৩৭ 


এখানকার মান্দষ তাঁতাশজ্পের কাজ জানতেন। সিন্ধম-উপত্যকার জনপদগ্ালর মতো 
নানা কাজে প্রচুর পাঁরমাণ পাথরের ফলক ব্যবহৃত হোত এখানেও, এবং তামার তোর 
হাতিয়ার ব্যবহৃত হোত যৎসামান্য। এই অণ্চলের সকল তাম্প্রস্তরষুগীয় সংস্কৃতির 
যা বৈশিষ্ট্য সেই কুমোরের চাকে তৈরি কালো এবং লাল রঙের মৃৎপান্রও পাওয়া গেছে 
এসব জায়গায়। ঘরবাঁড় তৈরি হোত স্থিতিশীল উপাদান দিয়ে আর ঘরের দেয়ালে 
ভেতরে ও বাইরে কাদামাটর প্রলেপ লাগানো হোত। কখনও-কখনও কংড়েঘর তৈরি 
হোত কাঠ 'দিয়েও। নভ্দাতাঁলতে খননকার্ষের ফলে তিন ধরনের বাসগৃহ পাওয়া 
গেছে: গোল, চৌকো ও আয়তক্ষেত্রাকার। এইসব বাসগৃহ ছিল ক্ষুদ্রুকার, সবচেয়ে 
বড় আকারের ঘরও লম্বা-চওড়ায় সাড়ে চার মিটার * তিন মিটারের চেয়ে বোশ ছিল 
না। তেজাস্কুয় কার্বন-১৪ পদ্ধাততে 'বশ্লেষণের ফলে দেখা গেছে যে 
এই অণুলে তাম্রপ্রস্তর যুগের সূচনা ঘটোছিল খনস্টপূর্ব সতেরো কিংবা ষোল 
শতকে। 

এ-থেকে আরও দাক্ষণাণ্চলে_-নাঁসক এবং যোরবেতে _হরস্পা-যৃগীয় 
সংস্কাতির িছু-কিছহ প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। একই ধরনের মৃৎপান্ন ও ধাতুর তৈরি 
হাতিয়ারও পাওয়া গেছে এখানে, তবে সাধারণভাবে বলতে গেলে যত বোশ দক্ষিণের 
দিকে যাওয়া যায় হরস্পা-সভ্যতার প্রভাব তত ক্ষীণ থেকে ক্ষণতর হতে দেখা যায়। 
পূর্ব ভারতের তাম্প্রস্তরযুগীয় সংস্কৃতির সঙ্গে কিছুটা যোগসূত্র লক্ষ্য করা যায় 
এসব জায়গায় । যোরবে-র তাম্প্রস্তরযুগীয় স্তরগযাল খুসস্টপূর্ব চৌদ্দ থেকে এগারো 
শতকের মধ্যে সমৃদ্ধি লাভ করেছিল । 

্ধ্য-ভারতে ও দাক্ষিণাত্যে তামপ্রস্তরযূগনীয় সংস্কৃতির উদ্ভব বিশেষজ্ঞদের মধ্যে 
এখনও একটি বিতাঁক্তি বিষয়। এই সংস্কৃতির ইরানঈয় উৎস কিংবা এর ওপর 
ইন্দো-আর্য সংস্কাতির প্রভাব প্রমাণের উদ্দেশ্যে বহুবিধ তত্ব প্রচারত আছে। তবে 
এসবের চেয়ে বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় এই মত যে মধ্য-ভারতের তন্মপ্রস্তরযগীয় 
সংস্কৃতি বিদেশী নানা সংস্কৃতির প্রভাব সত্তেও এই অণ্টলেরই পার্ববতঁ 
নবপ্রস্তরযুগয় সংস্কাতগ্াীল থেকে একদা বিকশিত হয়ে উঠোছল। সম্ভবত এই 
অণুলের বাঁসন্দা জাতিগোম্ঠীগুীল জাতাবচারে ছিল হরস্পাবাসীদেরই সগোন্ন। 
তবে এ-প্রসঙ্গে অবশ্যই মনে রাখা দরকার যে তাম-প্রস্তর যুগে ভারতের 
একটা বিশাল অংশে তখনও জনবসাঁতির সূত্রপাত ঘটে নি এবং অন্যানা বহু 
এলাকায় একমান্র যে-সমস্ত উপজাতি বাস করত তাদের বিকাশের স্তর ছিল খুবই 
ন্চু। 

ভারতনয় প্রত্রতত্বীবদরা পূর্ব ভারতে এক 'বাঁশম্ট তাম্রপ্রস্তরযুগীয় সংস্কাত 
আবিচ্কার করেছেন। এটি হল তথাকথিত 'মজূত তাম্রভাশ্ডার ও 'গোরমাটি-রঙের 
মৃৎপান্র'এর সংস্কীতি। এই সংস্কৃতির প্রাতষ্ঠাতা ?ছলেন কৃষকরা, তবে শিকার করা 


৩৬ 


ও মাছধরার পেশাও তখনও পর্যন্ত তাঁদের জীবনে গর্ুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে ছিল। 
তামার তৈরি বহু বাচত্র ধরনের হাতিয়ার বানাতেন তাঁরা, যেমন, চ্যাপ্টা ধরনের 
কুঠার, ছোট-বড় নানা আকারের বাটালি, মাছমারার কোঁচ, ইত্যাদি । এই সংস্কাঁতির 
প্রতিষ্ঠাতাদের উদ্ভব সম্বন্ধে নানা মতবাদ প্রচারিত আছে। মধ্য-ভারত থেকে কিছ্‌- 
কিছু উপজাতি পূর্বাচলে চলে এসে এই সংস্কৃতির প্রাতিষ্ঠা করেছিল এমন একটি 
মতকে সমর্থন করেন কিছু-কিছ্‌ পণ্ডিত, অন্য কেউ-কেউ মনে করেন এই সংস্কীতির 
শিকড় প্রোথিত ছিল হরপ্পা-সংস্কৃতিতে, আবার সুপরিচিত প্রত্ততত্বীবৎ আর হাইনে- 
গেল্ডনার মনে করেন মত তাম্রভান্ডার'এর সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠাতা ছিল কয়েকটি 
আর্ধ উপজাতি। 

তবে সম্প্রাতিকালে ভারতে যে-সমস্ত অনসন্ধান-কার্য চলেছে তা থেকে “মজুত 
তাম্রভান্ডারএর সংস্কৃতিতে ভ্রমশ বোৌশ-বোশ নিশ্চিতভাবে মুন্ডা উপজাতিগুলর 
অণ্ুলের 'মজুত তাম্রভান্ডার'এর এই সংস্কৃত খুসস্টপূর্ব বারো ও এগারো শতকে 
এ-অণ্চলের অনেক জন্পদেই “রঙ-করা ধূসর মৃৎপান্র'এর সংস্কৃতিকে জায়গা ছেড়ে 
দেয়। অপর কয়েকটি অণ্চলে আবার “মজুত তাম্রভাশ্ডার'এর সংস্কীতি অনেক 
দর্ঘাদন টিকে থাকে এবং বহ পরে হারস্বীকার করে একমান্র উন্নত সংস্কাতিগ্যাঁলর 
সংস্পর্শে আসার পরেই। 

সাম্প্রতিক বছরগ্যালিতে পূর্ব ভারতে এমন সব নতুন তামপ্রস্তরযগয় বসাতি 
পাওয়া গেছে যাদের সঙ্গে 'মজ্‌ত তাম্ভাপ্ডারএর সংস্কৃতির িছুমান্ন মিল নেই। 
যেমন, উত্তর বিহারের চিরান্দে দেখা গেছে যে সেখানকার তাম্নপ্রস্তরষুগণীয় সংস্কৃতি 
€কালো ও লালরঙের মৃৎপান্রের বৈশিষ্ট্য চিহ্ত) সরাসার স্থানীয় নবপ্রস্তরযুগীয় 
স্ংস্কত থেকে বিকাশত হয়ে উঠেছে। চিরান্দের কালো ও লালরঙে রাঞ্জত মৃৎপান্রের 
সঙ্গে পশ্চিম ও মধ্য-ভারতের তামপ্রস্তরয্গীয় মৃৎপান্রের 'মিলও বেশ 
কৌতূহলোদ্দীপক। তেজাস্কুয় কার্বন-১৪ পদ্ধীততে আবিচ্কৃত হয়েছে যে 
চরান্দের পরবতর্শ তাণ্নপ্রস্তরয্গণয় স্তরগুলি খনস্টপূর্ব আট শতকে উদ্ভূত 
হয়েছিল। এর অল্প কিছুকাল পরেই লোহার এবং তথাকথিত উত্তরাণুলায় কালো 
রঙপাঁলশ-করা মৃৎপান্রের আবির্ভাব ঘটে এই অণ্লে। 

সবাকছ্‌ হিসেবের মধ্যে ধরলে বলতে হয়, নবপ্রস্তর ও তাম্রপ্রস্তর যুগগদলিতে 

আধবাসী জাতিগোম্ঠগুলির মধ্যে যেবৌচন্য ও বিকাশের অসমতা 
হয় তা দেশের এীতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও সামাঁজক বিকাশের পরবতাঁ 

গাঁতিপথকে লক্ষণীয়রকমে প্রভাবিত করে। 


৩৯ 


ইন্দো-আর্য গোচ্ঠীসমূহ ও গঙ্গা-উপত্যকার সভ্যতা 
“আর্ধ-আগমনের প্রশ্ন 


এ-শতাব্দীর বেশ কয়েকটি দশক ধরে প্রত্রতত্বীবিং পশ্ডিতেরা ভারতে 'আর্য- 
আগমনের প্রশ্নণট নিয়ে বিতর্ক চালিয়ে আসছেন। তাঁরা নির্ধারণ করার চেষ্টা 
করছেন, কোথা থেকে এবং কঈভাবেই-বা ইন্দো-আর্য উপজাতিগ্ীলি একদা ভারতে 
এসোছল। আর্ধদের আদ বাসভূমি কোথায় ছিল, এ-প্রশনটিও বিতার্কত বিষয়ের 
অন্তভূর্ত। 

িছদকছু পণ্ডিত আর্যদের ভারতে অন্প্রবেশকে দেখেছেন আত উন্নত 
আর্যদের দ্বারা পশ্চাৎপদ আদিবাসীদের পদানত করা হিসেবে । আর্ধরাই নাকি ভারতে 
সভ্যতার আমদানি ঘটায় এবং উন্নত এক সমাজ-ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠা করে এদেশে । এই 
জাতিতত্বের ওপর 'ভীত্ত করে গড়ে-ওঠা 'বাভন্ন ব্যাখ্যা-অন্ুযায়শ জোর 'দয়ে বলা 
হয় যে 'জাতিগতভাবে বিশদদ্ধ' আর্যরা ও ভারতের তৎকালীন জনসাধারণের মধ্যে 
নাকি স্পম্ট এক জাতি-বৈষম্য বর্তমান ছিল। স্থানীয় জনসাধারণের পক্ষে স্বানভ'র 
বিকাশ ও অগ্রগাঁতর যে-কোনো সম্ভাবনাকেই সম্পূর্ণ নাকচ করে দেয় এই সমস্ত 
ব্যাখ্যা। 'বজ্ঞানীবরোধন এইসব তত্তকথা-অন্যায়শ বলতে হয় যে একমাত্র আর্যদের 
আ'বভভাবের পরেই ভারতে আত উন্নত এক সমাজ-ব্যবস্থা প্রাতীষ্তত হয়, মানব- 


সভ্যতা স্মানার্ঘন্ট এক চেহারা নেয়। 
পরবতর্কালে িন্ধ-উপত্যকায় উন্নত এক সভ্যতা হওয়ায় বহু 


প্রত্ততত্ববিং পাণ্ডিত তাঁদের পৃর্ববতর্শ মত পরিবর্তনে বাধ্য হন, তবে উপরোক্ত ওই 
অবৈজ্ঞানক 'তত্তকথাগ্দাঁল'র প্রাতিধনি থেকে-থেকে শোনা যায় এখনও । একমাত্র যে- 
সমস্ত জনগোম্ঠীকে আর্য নামে আভহিত করা চলে তারা হল প্রাচীন ইরানীয় ও 
প্রাচীন ইন্দো-আর্য জনগোম্ঠী। এরাই একদা নিজেদের আর্য আখ্যা দিয়েছিল এবং 
যে-সব অণ্চলে এদের বাস ছিল তাদের আখ্যা 'দিয়োছিল “আর্যভূমি'। আসলে 'আর্য 
শব্দটির উৎপাত্ত ঘটেছে “আর শব্দ থেকে, বোদক যুগে আর অর্থে বোঝাত 'সাহসা, 
কিংবা ণবদেশন”, আর “আর্য অর্থে 'নবাগত” কিংবা 'নবাগতের প্রাতি পক্ষপাতী, । 
পরবতাঁ কালে অবশ্য “আর্য শব্দের অর্থ দাঁড়য়ে যায় মহৎ বংশোদ্ভূত ব্যক্তি?। 

তুলনামূলক ভাষাতত্ব ও অন্যান্য সংশ্লম্ট বিজ্ঞান-বিষয়ে গবেষণার ফলে জানা 
গেছে যে একদা এমন একটা সময় ছিল যখন প্রাচীন ইরানীয় ও প্রাচীন ভারতীয়রা 
একন্র বসবাস করতেন, তাঁরা ছিলেন তথাকাথত ইন্দো-ইরানীয় সম্প্রদায়ভূক্ত। এর 
প্রমাণ মেলে এই দুই জাতির ভাষার মধ্যে ঘানস্ট সাদৃশ্য ও তাদের শাস্ত্-সাহিত্যের 
এীতহ্য থেকে প্রোচীন ইরানীয়দের “আবেস্তা” ও প্রাচীন ভারতীয়দের 'ধগ্বেদ' থেকে)। 


৪8০ 


তাছাড়া এই দুই জাতির ধর্মবিশ্বাস এবং তাদের বহ প্রাচীন সামাজিক রশতিনীতি, 
আচারবিচারের মিল থেকেও এর প্রমাণ মেলে। আর্যদের আদি বাসভূমি, অর্থাৎ 
ইরানীয় ও ভারতীয়দের পূর্বপুরুষের বাসভূমি, কিছু-কিছু পণ্ডিতের মতে ছিল 
মধ্য এশিয়ায়, আবার অপর কিছ পশ্ডিতের মতে ছিল দক্ষিণ রাশিয়ার 
স্তেপভূমিতে। তদুপাঁর ঠিক কোন-কোন পথ ধরে ইরানীয়দের পূর্বপুর্ষরা ইরানে 
ও ভারতীয়দের পদর্বপদুরূষরা ভারতে পেশছে ছিলেন সে-ব্যাপারেও কোনো এঁকমত্য 
নেই। এটা খযবই সম্ভব যে এই দীরঘন্ছায়ী জন-স্ছানাম্তরণের ব্যাপারটা চলেছিল দুই 
বা ততোধিক যান্নাপথ ধরে এবং বেশ কয়েকাঁট তরঙ্গের দমকে। 

দুঃখের বিষয়, অপর একটি প্রশ্ন যার এখনও পর্যস্ত কোনো সদুত্তর মেলে নিন 
তা হল ইন্দো-আর্ধরা ভারতের কোন অণ্লে প্রথম অনুপ্রবেশ করেন। প্রাচীন ইন্দো- 
আর্যদের লিখিত পাুঁথ যা এ-পর্যস্ত পাওয়া গেছে তা থেকে এটা স্পন্ট জানা গেছে 
যে তাঁরা পূর্ব পঞ্জাবে এবং যম্দনা ও গঙ্গা নদীর ধারাদটর উত্তরাংশ-বরাবর বসাঁত 
স্থাপন করেছিলেন। এ-থেকে বোঝা যায় যে ইন্দো-আর্য উপজাতগ্াল হরপ্পা- 
সভ্যতার প্রধান নগরকেন্দ্রগ্যাল যে-অণ্লে অবাস্থত ছিল সে-অণ্ুলে বসাঁতি স্থাপন 
করে নি। বস্তুত, প্রত্বতার্তীক আবিচ্কারাদির ফলে যে কাল-পরম্পরার হাদশ পাওয়া 
গেছে তা থেকে দেখা যায় যে 'সিন্ধু-সভ্যতার নগরকেন্দ্রুগ্ালর অবক্ষয় ও ইন্দো- 
আর্ধঙের ভারত-আগমনের মধ্যে সময়ের বেশকিছু ফাঁক রয়ে গেছে। 'সন্ধ-প্রদেশে 
হরস্পা-সভ্যতার পতন ঘটে ইন্দো-আর্দের ভারতে অনুপ্রবেশের কয়েক শতাব্দী 
আগেই । 


ধখ্বেদ ও পত্রতাত্ক সাক্ষ্য-প্রমাণ 


আদিতম ইন্দো-আর্যদের আকর সাহিত্য হল খগ্বেদ। বেশির ভাগ আধুনিক 
বিশেষজ্ঞই এই আদ বেদ খীস্টপূর্ব এগারো কি দশ শতকে 'লাখত বলে নিদেশি 
করেছেন। এটা হল সেই সময় যখন খগ্বেদের প্রাচীন স্তোব্গুলি প্রথম সংগৃহীত 
ও 'লাঁপবদ্ধ করা হয়। 

বোদক সাহিত্যের পরবতর্শ পাঁথগ্রাল-_ অর্থাৎ পরবতর্ম সংহতা, আরণ্যক 
ও ব্রাহ্মণসমূহ-__-লিখিত হয় খখস্টপূর্ব আট থেকে ছয় শতকের মধ্যে। 
বোদিক যুগের ইন্দো-আর্য গোল্ঠীগ্ল সম্বন্ধে স্মানা্দন্ট নানা সাক্ষ্য-প্রমাণ হস্তগত 
হয়েছে আমাদের। ভারতীয় প্রত্বতত্বাবদরা ধেমন, সর্বশ্রী বি. বি. লাল, 
ব. কে. থাপর, আর. এস. গোর ও জে. পি. যোশী) এক 'রঙ-করা ধূসর মৃৎপান্র'এর 
সংস্কীতির আস্তত্ব আবজ্কার করেছেন এবং গবেষণার ফলে দেখা গেছে যে এই 


৪১৯ 


সংস্কাঁত একদা বিস্তার লাভ করোছিল সমগ্র পঞ্জাব, যমুনা ও গঙ্গা নদশর ধারাদ্‌টির 
উত্তরাংশ-বরাবর ও নদীদ্যাটর উপত্যকাগলতে (আধুনিক এলাহাবাদ শহরের 
চতুষ্পার্খন্ছ এলাকা সহ) এবং উত্তর-পূর্ব রাজস্থান জুড়ে। অর্থাং আদি বৈদিক 
যুগে ইন্দোআর্য উপজাতিগ্াঁল যে-সব অণ্ুলে বসতি স্থাপন করেছিল সেই গোটা 
তল্লাট জুড়েই ছাঁড়য়ে ছিল উপরোক্ত সংস্কৃতি। উপরোক্ত প্রত্রতত্ববিদদের লাখত 
প্রবন্ধ-সংকলনে ভৌগোলিক তথ্যসমূহের যে-বিশ্লেষণ পাওয়া গেছে তার ফলে যে- 
অণ্ুলের সামানার মধ্যে খগ্বেদের নানা সুক্ত একদা রচিত হয়েছিল সেই অণুলাটকেও 
নির্দেশ করা সম্ভব হয়েছে। জানা গেছে যে এই অঞ্চলটি হল একালের উত্তর-পূর্ব 
পঞ্জাব। কিছদশাকছ পাঁণডিত আবার খগ্বেদ রচনার আরও স্বানীর্দন্ট একাট জায়গা 
ানদেশ করেছেন--তা হল পঞ্জাবের আম্বালা জেলা । 

অন্রাঞ্জিখেরায় প্রাপ্ত প্রত্নতার্তীক আবিজ্কারাদর ভিত্তিতে বলতে গেলে, 'রঙ-করা 
ধূসর মৃৎপান্র'এর সংস্কৃতি খখস্টপূর্ব বারো কিংবা এগারো শতকের চেয়ে বোশ 
পুরনো নয়। এই সময়কাল আবার খ্বেদের রচনাকালের সঙ্গে খাপ খেয়ে যায়। 
এই সাক্ষ্যের 'ভীন্ততেই পণশ্ডিতেরা অনুমান করছেন যে খগ্বেদের সুক্তগুলি যখন 
রচনা করা হচ্ছে সেই যুগের ইন্দো-আর্য উপজাতিগুলি 'রঙ-করা ধূসর মৃৎপান্র'এর 
সংস্কৃতির সঙ্গে জাঁড়ত 'ছিল। 

সাম্প্রতিক বছরগ্রলিতে অন্যান্য খননক্ষেত্রে যেমন, হস্তিনাপূর ও নোহৃতে) 
তেজস্ত্রিয় কার্বন-১৪ পদ্ধীত প্রয়োগের ফলে জানা গেছে যে 'রঙ-করা ধূসর 
মৃৎপান্র'এর সংস্কৃতি খুটস্টপূর্ব নয় বা আট শতকের সঙ্গে সম্পাক্ত রীতিমতো 
পুরাকালের একট ব্যাপার "শ্রী ডি. পি. আগরওয়ালের রচনা দ্রস্টব্য)। এর অর্থ, 
গঙ্গা ও যমুনা নদীর উত্তরাংশের এলাকায় উপরোক্ত এই সংস্কীতর আঁবর্ভাবকে 
সংশ্লন্ট অন্য নানা ব্যাপারের সঙ্গে সমকালের আধারে ধরা দরকার । 'ছু-কিছু 
পণ্ডিত চেম্টা করেছেন 'রউ-করা ধূসর মৃৎপান্র'এর যুগের বৈষয়িক সংস্কাতির নানা 
উপাদানের সঙ্গে পরবতাঁ বেদসমৃহ থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণের সাদশ্য 
উপস্থাপনের ৷ অর্থাৎ তাঁরা চাইছেন এই 1বশেষ সংস্কাীতকে পরবতর্দ ষুগের বোঁদক 
আর্য উপজাতিগ্াীলর _খ্7াস্টপূর্ব প্রথম সহম্রাব্দের প্রথমার্ধের ইন্দো-আর্ধদের _ 
সঙ্গে যুক্ত করে দেখাতে (সবশ্রীঁ আর. এস. শর্মা ও এ. ঘোষের রচনাবলী  দ্রম্টব্য)। 

বর্তমানে এটুকু বলা চলে যে 'রঙ-করা ধূসর মৃৎপান'এর সংস্কৃতি বিভক্ত ছিল 
কয়েক স্তরে এবং সেগ্াঁল যুক্ত ছল প্রথমে পূর্বপঞ্জাব এবং গঙ্গা ও যমুনা নদীর 
উত্তরাংশ-বরাবর বসাত স্থাপন করা ও পরে: দক্ষিণের দিকে অগ্রসরমান নানা বোদক 
আর্য উপজাতি-গোম্ঠর সঙ্গে। 

এ-প্রসঙ্গে বিশেষ আগ্রহোদ্দীপক ব্যাপার হল, সোয়াট-এলাকায় ইতালীয় ও 
পাকিস্তানণ প্রত্রতত্বীবদদের সাম্প্রীতক খননকার্ষের ফলাফল । সোয়াটে খশস্টপূর্ব 


৪৭ 


আনুমানিক নয় বা আট শতকের পুরনো কিছু সমাধিক্ষেত্র পাওয়া গেছে। এই 
সমাধিক্ষেত্রগলিতে পাওয়া ধূসর ও লালরঙের মৃৎপান্রের সঙ্গে 'রঙ-করা ধূসর 
মৃৎপাব্র'এর কিছ সাদৃশ্য পাওয়া গেছে বলে কোনো-কোনো পাশ্ডিত মনে করছেন। 
লোহার তোর অজ্প-কিছ্‌ হাতিয়ার, ইত্যাদও পাওয়া গেছে এখানে । ধরে নেয়া ষেতে 
পারে যে খস্টপূর্ব দ্বিতীয় সহম্রাব্দের শেষাঁদকে ভারতে প্রবেশকারী একটি আর্য 
উপজাতি-গোষ্ঠীই ছিল সোয়াটের এই সমাধিক্ষেত্রগলর মালিক। 

সাম্প্রতিক বছরগুলতে পঞ্জাব ও হরিয়ানায় এমন সমস্ত জনবসাঁতি আঁবিজ্কৃত 
হয়েছে যেখানে দেখা গেছে যে 'রঙ-করা ধূসর মৃৎপান্র'এর সংস্কৃতি শেষষ্গের 
হরপ্পা-সংস্কাতির স্তরগালির ওপর আরো'িত। অতএব এমন ধারণা পোষণ করার 
কারণ আছে যে এই বিশেষ অণ্চলে ইন্দো-আর্ধ উপজাতিগ্রাীলির আঁবরভাব পর্যস্ত 
হরস্পা-যুগীয় সংস্কৃতির আস্তত্ব ছিল। 

নতুন-নতুন খননকার্ষের ফলে এখন আরও বোশ সমনিশ্চিতভাবে 'রঙ-করা ধূসর 
মৃৎপান্র'এর সংস্কৃতির শ্রম্টাদের বৈষয়িক সংস্কীতির স্বরূপ সম্বন্ধে কথা বলা সম্ভব 
হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে পেঞ্জাবে ও উত্তর হরিয়ানায়) বৌদক আর্য উপজাতিগুলি 
ব্যবহার করত তামার তৈরি হাতিয়ার এবং একমান্র এর পরেই, দেশের দক্ষিণ ও 
পূর্বাগলে সরে আসার পর, তাদের মধ্যে লোহার ব্যবহার শুরু হয় (খস্টপূর্ব 
নয় কিংবা আট শতকের কাছাকাছ কোনো সময়ে)। 


ইন্দো-আঘঁদের সম্প্রসারণ ও স্থানীয় সংস্কৃতিসমূহ 


বেদসমূহ ও অন্য নানা প্রত্ততাত্ীক আকর উপাদান থেকে তথ্য সংগ্রহের ফলে 
আর্য উপজাতিগ্লির পূর্বাণুলের দিকে আভষান এবং গঙ্গা-উপত্যকার 'বাভন্ন 
অণ্চলে তাদের অন্প্রবেশের একটি সাধারণ "ন্র আমরা প্াাচ্ছ। অবশ্য এটা ছিল 
কয়েক শতাব্দীব্যাপী এক দীঘস্ায়ী ব্যাপার । এই যুগপর্বে একাঁদকে যেমন ওইসব 
অণ্ুলের স্থানীয় উপজাতিদের সঙ্গে তেমনই 'বাঁভন্ন আর্য উপজাতিদের 'নজেদের 
মধ্যেই বহতর সশস্ত্র সংগ্রাম এবং সংঘর্ষ উপাস্থিত হয়েছে। 

খগ্বেদের সূক্তগ্লির বক্তব্য থেকেও আমরা নিধারণ করতে পারি প্রাচীন 
ইন্দো-আর্য উপজাতিগ্লি ঠিক কোন এলাকা জুড়ে বসতি স্থাপন করেছিল। 
তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং পাবত্র নদী ছিল সরস্বতী । এছাড়া 'সিন্ধ_, 
গোমল এবং পঞ্জাবের অপর কয়েকাট নদীর নামও উল্লিখিত আছে ওইসব সংক্তে। 
তবে গঙ্গানদীর নাম খগ্বেদে পাওয়া যায় মাত্র একবার, তার দশম মণ্ডলে। 
খগ্বেদীয় আর্য উপজাতিদের ভৌগোলিক জ্ঞান সম্বন্ধেও কৌত্‌হলোদ্দপক তথ্য 
পাওয়া যায় ওই গ্রল্থে। দেখা যায় তৎকালীন আর্যরা সকলেই 'হমালয় পর্বতের সঙ্গে 


৪৩ 


সুপরিচিত, কিন্তু বিদ্ধ্য পর্বতমালার সঙ্গে তাঁরা তখন পাঁরাঁচত ছিলেন বলে মনে হয় 
না, কেননা ওই পর্বতের কথা সক্তগীলর কোথাও উাল্লখিত নেই। বোদক সাহত্যের 
পরবতা সংগ্রহগ্দালতে পূর্ব ভারতের 'বাভন্ন অণ্চলের নানা উল্লেখ আছে। 

ঘন জঙ্গলে-ঢাকা অণ্ুলের মধ্যে দিয়ে ইন্দো-আর্য উপজাতিগ্লির পূর্ব ও দাক্ষিণ 
দিকে অগ্রসরণ মোটেই সহজ ব্যাপার ছিল না। প্রকাণ্ড-প্রকাণ্ড জঙ্গল কেটে সাফ 
করে এবং পথের বাধা গাছপালা, বনজঙ্গল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে এগোতে হচ্ছিল 
তাদের। "শতপথ র্রাহ্গণ'্ঞ এ-সম্বন্ধে এক কোতূহলোদ্দপক উপাখ্যানের সাক্ষাৎ 
পাই আমরা। এই উপাখ্যানটিতে বলা হয়েছে যে আগ্রদেবতা সরস্বতী নদী (পুর্ব 
পঞ্জাবে) এবং সদানীর নদের (স্পম্টতই পশ্চিম 'বহারের গণ্ডক নদের কথা বলা 
হচ্ছে এখানে) মধ্যবতর্দশ ভূখণ্ড দগ্ধ করে 'দচ্ছেন এবং রাজা মাধব 'বদেঘ এই 
প্রাণকর্তা আগ্কে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন পূর্বদেশে। এই উপাখ্যান অনুযায়ী 
উপরোক্ত রাজা ও তাঁর প্রজাকুল এমন কি সদানীর নদেরও পূরাঁদকে মনুষ্যবাসের 
উপযুক্ত জাম-জায়গা দখল করে নিতে সমর্থ হচ্ছেন। এই বেদোক্ত উপাখ্যান থেকে 
আমরা ইন্দো-আর্যদের অগ্রগমনের সম্ভাব্য পথের নরেশ পাচ্ছি এবং জানতে পারাছ 
যে ব্রাহ্মণগ্দলি রচনার কালে বোদক আর্য উপজাতিগ্দ্ল ভারতের সবচেয়ে 
পূরাঁদকের যে-অণুলে বসাঁত স্থাপন করেছিল তা হল 'বিদেহ (বো বর্তমান বিহারের 
উত্তরাণ্ণলীয়) এলাকা । 

স্বভাবতই ভারতের 'বাভন্ন এলাকায় ইন্দো-আর্যদের বসাতি স্থাপন সবসময়ে 
একই ধরনে সাধিত হয় 'নি এবং এ-উপলক্ষে স্থানীয় অধিবাসী উপজাতিদের সঙ্গে 
তাদের সংযোগসাধনের ব্রিয়া-প্রতিক্রিয়া একেক জায়গায় একেক ভাবে সমাধিত 
হয়েছে। ভাষাতাত্িক ও প্রত্রতাত্তক নানা সাক্ষ্য-প্রমাণ থেকে মনে হয় যে পঞ্জাবে 
আর্যদের বোঝাপড়া করতে হয়েছে প্রধানত দ্রাবিড় উপজাতিগ্লির সঙ্গে । এককালের 
শেষোক্ত এই উন্নত সংস্কৃতির 'কছু-কিছ প্রথা ও আচারগত এীতিহ্য এখনও পর্যন্ত 
পঞ্জাবের কোনো-কোনো অণ্চলে টিকে থাকায় মনে হয় আর্য গোম্ঠীগুলি ও স্থানীয় 
জনসাধারণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে ওঠা একদা সম্ভব হয়েছিল । পূর্ব পঞ্জাবের 
কিছু-কিছ7 অংশে আর্রা স্থানীয় উপজাতিদের তরফ থেকে তেমন কোনো গুরুতর 
প্রাতরোধের সম্মুখীন হন নি, ফলে তাঁরা নতুন-নতুন ভূখণ্ডে বসতি স্থাপন করতে- 
করতে দ্রুত এখান থেকে দাঁক্ষণ ও পনর্বাণলের দিকে এগিয়ে যান। আর এর ফলে 
বোদক আর্য উপজাতিগ্যীলর ভাষা দ্রাবিড় ভাষার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ওঠে । খাণ্বেদ 
ও অন্যান্য সংহতার ভাষাতাত্ত্ুক বিশ্লেষণের ফলে ধরা পড়ে যে দ্রাবিড় ভাষাসমূহ 
ইন্দো-আর্য ভাষাগ্লকে লক্ষণীয়ভাবে একদা প্রভাবিত করোছল, যাঁদও তাদের 
মধ্যে পরস্পর সংশিশ্রণের কাজটা চলেছিল অল্প সময়ের জন্যে । 

ইন্দো-আর্য উপজাতিসমূহ এবং তৎকালে দেশের পূর্বাণুলের অধিবাসী মুণ্ডা 


উপজাতিগদলির মধ্যে পরস্পর ক্রিয়া-বিক্লিয়ার কাজটা ঘটোছল সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনে। 
গঙ্গা-উপত্যকায় এই পরস্পর-অঙ্গীকরণের ব্যাপারটা পঞ্জাবের মতো অত দ্লুত ঘটে 
নি। বোদক আর্য উপজাতিগুলি এই সময়ের মধ্যে বিকাশের অপেক্ষাকৃত এক উন্নত 
(ইতিমধ্যে তারা স্থানীয় ভারতাঁয় জনসাধারণের এীতিহ্য ও সংস্কাতির সঙ্গে ঘানম্ঠভাবে 
পাঁরচিত হয়ে উঠোছল এবং তার অনেকখানিই আত্মস্থ করে নিয়োছিল)। বোঁদক 
আর্য উপজাতিরা বহ মুন্ডা উপজাতি-গোষ্ঠীকে গভনর জঙ্গলে তাড়িয়ে দিয়েছিল 
তখন এবং বেশ দীর্ঘ সময় ধরে শেষোক্তদের সংস্পর্শে থাকা সত্তেও ইন্দো-আর্যরা 
মুণ্ডাঙ্গের সঙ্গে ঘানষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপন করে নি। এ-কারণে বোঁদক সংস্কৃতের ওপর 
মুণ্ডা ভাষাগ্লির (মুন্ডা উপজাতিগ্ালর অন্তঃস্তরের) প্রভাব লক্ষণীয়রকম কম 
দেখা যায়। 

ওই যুগের প্রত্রতাত্বক সাক্ষ্য-প্রমাণ থেকেও এই একই চিত্র ফুটে ওঠে। কিছ 
কিছু জনবসাঁতিতে বহু পন্ডিত যাকে বোদক আর্য উপজাতিগুলির সঙ্গে যুক্ত করে 
দেখেন সেই 'রঙ-করা ধূসর মৃংপান্রঁ পাওয়া গেছে মধ্য ও পশ্চিম ভারতের 
উপজাতিগীলর (এরা আপাতদাম্টিতে 'বাভন্ন দ্রাবিড় ভাষায় কথা বলত) 
তগ্পপ্রস্তরষুগীয় সংস্কৃতির বৈশিম্ট্যসৃচক কালো ও লাল মৃৎপান্রের স্তরের ওপরের 
স্তরে। অথচ, আগেই বলেছি, পঞ্জাব ও হরিয়ানায় সম্প্রতিকালে খননকার্য চালিয়ে 
'রঙ-করা ধূসর মৃৎপান্র'এর সংস্কীতি ও শেষষূগের হরস্পা-সংস্কাতির (যে-সংস্কৃতির 
প্রমাণ ধরা পড়েছে । অন্যান্য কিছু-কিছ্‌ জনবসাঁতিতে “রঙ-করা ধূসর মৃৎপান্র'এর 
সংস্কাত 'মজ্‌ত তাম্রভান্ডার'এর সংস্কীতিকে উত্তরাধিকার-সূল্ে পেয়েছে বলে দেখা 
গেছে, অথচ এই শেষোক্ত সংস্কৃতি ছিল খুব সম্ভব পূর্ব ভারতের প্রাচীন মুণ্ডা 
উপজাতিগ্ালরই সংস্কাতি। এছাড়া প্রত্তত্বীবিদরা এমন আরও বহ?সংখ্যক জনবসাতির 
সন্ধান পেয়েছেন যেখানে “রঙ-করা ধূসর মৃৎপান্র'এর সংস্কৃতির সঙ্গে পূর্বতন 
সংস্কাতিগুঁলর কোনোরকম যোগসূত্র খুজে পাওয়া যায় 'নি। 

যে-সমস্ত এলাকায় আর্য উপজাতিরা এককালে উন্নত সংস্কৃতি ছিল এমন সব 
এীতহ্যের অবশেষের সংস্পর্শে এসেছিল সেখানে আর্ধদের নিজেদের সাংস্কীঁতক 
“বকাশও ঘটোছল অপেক্ষাকৃত দ্রুততালে, যেমন দ্রুত ঘটেছিল স্ছানীয় 
উপজাতিগুলির সঙ্গে তাদের সংমিশ্রণ ও তাদের পূর্বাণুল আভমুখে যান্না। কিন্তু, 
অপরপক্ষে, যে-সমস্ত এলাকায় আর্যরাই ছিল কার্যত প্রথম বসতকার+' সেখানে বসাঁত 
স্থাপন করতে যেমন তাদের অপেক্ষাকৃত বোঁশ সময় লেগোঁছল, তেমনই এর ফলে 
এই নব আগস্তৃকদের সংস্কীতির মোটামুটি বিকাশও ঘটেছিল ধারেস-স্ছে। 

ইন্দো-আর্য উপজাছিগ্লি উত্তর ভারতের পশ্চিম থেকে পূূর্বপ্রান্তে অগ্রসর 


৪ 


হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেরবতাঁকালে একইরকম ভাবে তারা দক্ষিণ ভারতেও 
অন্প্রবেশ করেছিল) বৈদিক আর্যদের সামাজিক ও রাজনোতিক সংগঠনও ক্লুমশ 
উন্নত হয়ে চলল। বেদের পাঁথগলিতেও দেখা গেল এর প্রাতফলন : এক্ষে্নে বিশেষ 
কোৌতূহলোদ্দপক হল গোড়ার দিককার বোদিক সংহিতাগ্লির সঙ্গে বৈদিক যুগের 
পরবতাঁ পর্যায়ে রচিত পরথগ্যলির তুলনামূলক আলোচনা । এছাড়া বোদক আর্য 
সমাজের কাঠামোয় উপরোক্ত সব পারবর্তন প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবাবস্তার করোছল 
ইন্দো-আর্য গোজ্ঠীগ্ীল ও স্থানীয় উপজাতিদের মধ্যে পারস্পারিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার 
প্রকীতিকেও। 

ফলে ক্রমশ দেখা দিল এক নতুন সংস্কৃতি যা নিজের অঙ্গীভূত করে নিল আর্ধ 
ও স্ছানীয় উপজাতিগ্যালর মিলিত সাংস্কৃতিক সাফল্যানচয় এবং শিগৃগিরই তা 
হয়ে দাঁড়াল উত্তর ও পূর্ব ভারতের বিপুল সংখ্যক জনসমান্টর এক সর্বজনীন 
সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতিকে বিদেশ থেকে আমদানি-করা নিছক ইন্দো-আর্ধ সংস্কৃতি 
তো বলা চলেই না, এমন ক খগ্বেদের যুগের বৌদক আর্য উপজাতিসমূহের 
সংস্কৃতি অখ্যাও একে দিতে হয় শর্তসাপেক্ষে, কারণ এ-সংস্কাত ইতিমধ্যেই হয়ে 
উঠেছিল খঃসস্টপূর্ব প্রথম সহতম্রাব্দের স্মীনার্দন্ট ভারতীয় সংস্কৃতি। 

প্রত্নতার্ত্বক সাক্ষ্য-প্রমাণ থেকে স্পম্টই দেখা যায় যে 'রঙ-করা ধূসর মৃৎপান্র'এর 
সংস্কৃতি 'উত্তরাণুলীয় কালো রঙপালিশ-করা মৃৎপান্র'এর সংস্কৃতিকে জায়গা ছেড়ে 
দয়েছিল প্রধানত খখস্টপূর্ব প্রথম সহম্রাব্দের "দ্বিতীয়ার্ধে 'খ্খস্টপূর্ব ছয় থেকে 
দুই শতকের মধ্যে)। যাঁদও এই শেষোক্ত সংস্কৃতি বহ্াদক থেকেই পূর্ববতাঁ যুগের 
সাংস্কতিক এতহ্য, ইত্যাঁদর কাছে খণী, তবু ওই সময়ের মধ্যে এটি আর বোদক 
ইন্দো-আর্যদের সংস্কাতি ছিল না, এটি হয়ে দাঁড়িয়েছিল উত্তর ভারতের ভারতীয় 
উপজাতসমূহের সংস্কাতি। তৎকালীন যে-সমস্ত জনবসাতিতে এই সংস্কৃতির চিহ 
পাওয়া গেছে সেগযাল ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে পঞ্জাব থেকে গঙ্গার দক্ষিণাংশের 
তাঁর-বরাবর। খ্্ীস্টপূর্ব প্রথম সহম্রাব্দের মাঝামাঁঝ সময়ের মধ্যেই ইন্দো-আষ' 
উপজাতিগ্ীল গঙ্গা-উপত্যকার প্রধান অণগ্লগদলিতে অনুপ্রবেশ করেছিল, বলতে 
গেলে প্রায় গোটা উত্তর ভারত জুড়েই ছড়িয়ে পড়েছিল তারা । উপরোক্ত ওই 
সময়াটকেই আবার যথার্থ বোদক যুগের শেষ ও পরবতর্ঁ মগধ-মৌর্য যুগের সূচনার 
সীমারেখা বলে গণ্য করা চলে। 


বোদক আর্য উপজাতিসমূহের প্রধান-প্রধান জীবিকা 


বোদক যুগের মানুষের প্রধান দুটি জীবিকা 'ছল কীষকাজ ও পশনপালন। 
কৃষির অগ্রগাতি এবং জনসমান্টর আঁধকাংশের পক্ষে জমি আবাদ করার ভিত্তিতে 
স্াস্থত জীবনযান্রায় উত্তরণ তখন সম্ভব হয় লোহার-তৈর হাতিয়ার আবর্ভাবের 


ফলে। উৎপাদনের নানা ধরনের কাজে তখন লোহার ব্যবহার ছিল। প্রত্রতাধত্তক 
সাক্ষ্য-প্রমাণের ভীত্ততে বিচার করলে বলতে হয়, খুশস্টপূর্ব এগারো শতকেও 
উত্তর ভারতে স্ব্প পরিমাণে লোহা ব্যবহৃত হোত, তবে এই ধাতুর ব্যবহার 
বহলপ্রচলিত হয় তারও বেশ কয়েক শতাব্দী পরে (পণৃণ্ডতেরা মনে করেন যে গঙ্গা- 
উপত্যকার মধ্যাণ্চলে লোহার ব্যাপক ব্যবহার প্রচালত হয় খঃশস্টপূর্ব সাত শতকে)। 
সম্ভবত খগ্বেদের রচয়িতারা লোহার ব্যবহার সম্বন্ধে অবগত ছিলেন, তবে ওই 
সময়ে লোহাকে যে ঠিক কোন নামে আখ্যাত করা হোত তা নিয়ে পাশ্ডতদের মধ্যে 
এখনও মতভেদ রয়ে গেছে (সম্ভবত তখনই “অয়স” শব্দে লোহা বোঝাত), পরবতর্শ 
বেদগযালিতে অবশ্য ব্যবহৃত হয়েছে 'শ্যাম' (বা কৃফবর্ণ) 'অয়স্‌” শব্দ দুটি। 
উপত্যকার অরণ্য-অণ্চলে বসাঁত স্থাপন করা, জামির চাষ-আবাদ করা এবং যেখানে 
প্রয়োজন সেখানে জমিতে জলসেচের ব্যবস্থা করা সহজ হয়ে দাঁড়াল। লোহার ব্যবহার 
জল্ম দিল আরও উন্নত ধরনের কা'রগাঁর বিদ্যার । এর আগে জাম চাষ করা হোত 
কাঠের লাঙল ও 'নড়ানি 'দয়ে এবং ফসল কাটা হোত পাথরের ফলা-লাগানো কাস্তে 
দয়ে। কিন্তু অতঃপর আদিম ধরনের কাঠের লাঙলের পারিবর্তে প্রচলন ঘটল লোহার 
ফাল-লাগানো লাঙলের। হাতিয়ারের এই উন্নাতির ফলে পাথরে মাটিতে আবাদ 
করার সম্পূর্ণ নতুন ধরনের সম্ভাবনা দেখা 'দিল। বোঁদক সাহিত্যে জমিতে লাঙল 
দেয়া, বীজ বোনা, ফসলকাটা ও ফসল মাড়াই করা সহ নানা ধরনের কৃষি-সংক্রান্ত 
কাজের উল্লেখ আছে। এমন কি খশ্বেদেই আমরা পাই “অর্গলবদ্ধ' জল ও জলচক্রের 
উল্লেখ, যা নাকি জমিতে সেচের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। বোদিক সংহতাগ্দালতেও 
বশেষ ধরনের জলসেচের উপযোগী খালের উল্লেখ দেখা যায়। 

ওই যুগের মান্দষ যব, ধান, গম ও শিম সহ বহুসংখ্যক খাদ্যশস্যের সঙ্গে 
পরিচিত ছিল। (খ্াস্টপূর্ব এগারো থেকে নয় শতকের মধ্যেকার “রঙ-করা ধূসর 
মৃৎপান্র'এর সংস্কীতির অন্তভূক্ত জনবসাতিগ্ালতে খননকার্ষের ফলে ধান এবং গমের 
দানা পাওয়া গেছে ।) ব্যাপকহারে ধানের চাষ দেখা দেয় প্রায় সারা গঙ্গাউপত্যকা 
জুড়ে ইন্দো-আর্য উপজাতিদের বসাঁত স্থাপনের ফলে। বেশাকছ সংখ্যক প্রত্রতত্বীবৎ 
পাণ্ডিত এই মত পোষণ করেন যে ভারতে আসার আগে আর্ধরা ধানের চাষ করত 
না, একমান্র ভারতের স্ছানীয় উপজাঁতদের কাছ থেকেই ধানচাষের কায়দাকানুন 
রস্ত করে তারা । 

কৃষিকাজ ছাড়াও পশুপালন ছিল বোদক আর্য উপজাতিদের জীবনে অন্যতম 
গুরুত্বপূর্ণ একাঁট জাীবকা। বেদগ্রজ্থগনীলতে বারে-বারে একথার উল্লেখ রয়েছে 
যে গৃহপালিত পশপালের মধ্যেই নিহিত মান্ষের সকল এশ্বর্ষের প্রধান উৎস) 
বোঁদক সক্তগযলির রচয়িতারা বারে-বারে দেবতাদের সমাঁপে এই প্রার্থনাই জানাচ্ছেন 


৪৭ 


যে মানুষের ওপর অজন্র গোধন দানের করুণা বর্ষণ করা হোক; আরও আঁধক 
সংখ্যক গোধন সংগ্রহের একটা উপায় যে য্দ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হওয়া তা-ও বলছেন 
তাঁরা। বোদক আর্য উপজাতিগুলির নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ-বিগ্রহের প্রধান কারণই 
1ছল এই পরস্পরের গৃহপালিত পশুহরণ। বেদসমূহে “অঘন্্য' অর্থাৎ বধের অযোগ্য 
বা অবধ্য) বলতে প্রায়ই বোঝানো হোত গোরুকে। সন্ভবত বৌদক আর্য সমাজের ওই 
পর্যায়ে গোরুকে পাবিভ্র প্রাণী হিসেবে গণ্য করারই প্রাতিফলন এট । ওই সময়ে 
গৃহপালিত প্রাণকুল ও মাঠের ফসল নানা বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে বিশেষ 
ধরনের যাগযজ্ঞের অনূজ্ঠান করা হোত। হাস্তনাপংরে 'রঙ-করা ধূসর মৃৎপান্র'এর 
ভূস্তরে খননকার্য চালিয়ে গ্হপ।লিত যাঁড়, ছাগল, ভেড়া, শুয়োর ও ঘোড়ার হাড় 
পাওয়া গেছে। 

ওই যুগে যানবাহন বলতে ছিল বলদে-্টানা গাড় ও ঘোড়ায়-টানা রথ । 

বৈদিক আর্য উপজাতিগ্ীল বাস করত ছোট-ছোট প্রাকারবেম্টিত জনবসাতিতে। 
গঙ্গা-উপত্যকায় প্রত্বতাত্বক খননকার্ষের ফলে দেখা গেছে যে এই বসাতিগ্লির 
সঙ্গে হরস্পা-সভ্যতার অন্তর্গত বড়-বড় শহরগ্ীলর মিল ছিল সামান্যই । খগ্বেদের 
সৃক্তগ্ালতে যে-সব শহরের (বা 'পুর'এর) উল্লেখ আছে সেগ্াল বড় ধরনের গ্রামের 
সঙ্গেই বৌশ তুলনীয়। এই পুরগ্দাল তোর হোত কাঠ কিংবা খড়মেশানো 
কার্দামাট-াদয়ে-গড়া ছোট-ছোট বসতবাড় ও কালেভদ্রে পাথরের তোর বাঁড় 
দিয়ে, আর মাটির তৈরি প্রাকার দিয়ে ঘেরা থাকত শহরগাাঁল। স্পম্টতই এই ধরনের 
প্রাকার একেবারেই স্থায়ী বা ঘাতসহ ছিল না, বেদের সক্তগ্যাীলতে প্রায়ই উল্লেখ 
পাওয়া যায় যে 'পর'গুঁল শন্র-কবাঁলত হচ্ছে ও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কৌশাম্বীতে 
ভারতীয় প্রত্বতত্ববদদের খননকার্ষের ফলে যা জানা গেছে তা থেকে মনে হয় যে 
হরপ্পা-যগের গৃহনির্মাণ-শিল্পের কংকৌশল, ইত্যাদির কিছ-কিছ পূর্ব ভারতের 
বোদক আর্য উপজাতিদের জানা থাকা সম্ভব, তবে ওই কৃতৎকৌশল এই শেষোক্ত 
উপজাতিদের গৃহনির্মাণাঁশজ্পের ওপর নির্ধারক প্রভাব বস্তার করতে পারে 'ি। 
(সাম্প্রীতক বছরগ্লিতে শ্রী এ. ঘোষের মতো £কছা-কিছ্‌ ভারতীয় প্রত্রতত্বীবং 
বোদক আর্য উপজাতিদের মধ্যে হরপ্পা-যূগের গৃহনির্মাণের কৃৎকোশল সম্বন্ধে 
অবগ্গাতির ব্যাপারটি একেবারে উড়িয়ে দিয়েছেন। কারণ 'হসেবে তাঁরা বলেছেন যে 
কৌশাম্বীর দূর্গপ্রাকার বহু শতাব্দী পরে তৈরি হয়েছিল।) 

প্রত্ততাত্বক খননকার্ষের ফলে আরও জানা গ্রেছে যে গঙ্গা-উপত্যকার 
নগরকেন্দ্রগীল গড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে নানাবিধ কারুশিল্পেরও অগ্রগতি 
ঘটেছিল। বেদগ্রম্থগ্ীলতেও নানাবিধ কারুশিজ্পীর উল্লেখ পাওয়া যায়, যেমন, 
কামার, কুমোর, ছতোর, মাণিকার, অস্ত্র-নির্মাতা, ইত্যাদ। এদের মধ্যে সবচেয়ে 
সম্মানজনক পেশা ছিল ছুতোর এবং কামারের, কারণ তাঁরা চাষের যন্ত্রপাতি ও 


৪৮ 


অস্ত্রশস্্ বানাতেন এবং বাঁড় তৈরি করতেন । ব্যবসা-বাণিজ্য ওই সময়ে কেবল যে 
বিভিন্ন উপজাতি ও তাদের নগর-জনপদের মধ্যেই গড়ে উঠোছিল্‌ তা-ই নয়, বিদেশের 
সঙ্গেও গড়ে উঠোছল বাণিজ্য । সম্ভবত সমদ্রপথেই গড়ে উঠোছল তা। বোদক 
সক্তগ্যালতে এক শো-দাঁড়ওয়ালা সমুদ্রগামী জাহাজের উল্লেখ আছে আর উল্লেখ 
আছে সমদদ্রে নিহত অতুল এশ্বর্ষের। নদীপথে যাতায়াতের জন্যেও তখন বড়-বড় 
নৌকোর চলন থাকা সম্ভব। ক্রমশ এইসব নগর-বসাঁততে দেখা দেয় পেশাদার 
ব্যবসায়ীদের 'বাশন্ট একেকাঁট গোম্ঠ। 


সম্পাত্তর মালিকানা ও সামাজিক 
পদমর্যাদার পার্থক্যজাত অসান্য 


বোদক আর্য সমাজে ইতিমধ্যেই সম্পাত্তর মালিকানার ওপর ভিত্তি করে অসাম্য 
দেখা দিয়েছিল। সমাজে প্রচুর গৃহপাঁলত পশুর মালিক ধনী উচ্চ সম্প্রদায়ের 
পাশাপাশি দেখা দিয়োছল অত্যন্ত দারিদ্র জনসমন্টির স্তরগ্যাল। বেদগ্রল্থগুলিতেও 
থেকে-থেকে ধনী এবং দাঁরদ্র মানুষের উল্লেখ পাওয়া যায়, দেখা যায় ধনীরা 
বাঁলদানের জন্যে চমৎকার সব প্রাণী উৎসর্গ করছেন আর মুক্তহস্তে দান করছেন 
পুজোর নানাবিধ উপচার-উপহারাঁদ, অন্যপক্ষে সাধারণ গ্রামবাসঈরা দিচ্ছেন দীন 
নানা উপচার। ধগ্বেদে গবাঁদ পশুর গায়ে ছাপ দেয়ার উল্লেখ আছে, স্পম্টতই বোঝা 
যায় কোন গৃহপালিত পশু কার মাকানাধধন এটা বোঝানোর জন্যেই এই ছাপ 
দেয়ার ব্যবস্থা প্রচালত হয়োছল। 

বৈদিক রচনায় (বিশেষত অপেক্ষাকৃত পরবতর্শ বোদক যুগের রচনাগ্ীলতে) 
ভূমিদান ও ভূমিক্রয় সম্বন্ধে বিস্তৃত বিবরণাঁদ পাওয়া যায়, যাঁদও তখন সম্পান্তর 
আঁধকার ছল বহপাঁরমাণে 'গোম্ঠীর ইচ্ছা, সাপেক্ষ। চাষের অধীন ভূখন্ড 
উপজাত-গোম্ঠর ব্যাক্তগত সদস্যদের মধ্যে বাল করা হোত তখন, আর এর ফলে 
সম্পান্তর আধকার ও সামাঁজক পদমর্যাদার পার্থক্যের ভীন্ততে সামাঁজক অসাম্য 
আরও বৃদ্ধি পাওয়ার পথ সুগম হয়ে উঠেছিল। আবার এ-কারণেই গদরত্বপূর্ণ হয়ে 
উঠল সম্পাত্ততে উত্তরাধিকারের প্রশ্নাদও, জমির ওপর আঁধকারের দাবি নিয়ে 
ৰবরোধ ঘাঁনয়ে উঠতে লাগল ব্যাক্তিবিশেষদের মধ্যে, এমন কি গোটা গোম্ঠনর মধ্যেই। 
এইভাবে ক্রমশ উপজাতি-গোম্ঠীর কিছু-কিছ্‌ সদস্য ধনী হয়ে উঠলেন এবং 
এককালে যা ছিল এক্যবদ্ধ সমাজ তার মধ্যে দেখা দিতে লাগল বিশেষ স্নাবধাপ্রাপ্ত 
একেকটি সম্প্রদায়। এইসব সদস্য এমন কি বহু দাসের (বা ক্রীতদাসের) মাঁলিকও 
হয়ে উঠলেন, অথচ ওই একই সঙ্গে দারিদ্যুদশায় পাঁতিত সমাজের অন্যান্য সদস্য 


47498 ৪১৯ 


ব্যক্তদ্বাধীনতা হারিয়ে নিজেদেরই উপজাতি-গোম্ঠী ও গ্রামীণ সমাজের মধ্যে 
অপরের অধীন হয়ে পড়লেন। 

বোদিক আর্ঘ সমাজে এই ক্লীতদাস-প্রথার আবির্ভাব স্পম্টতই ইঙ্গত দিচ্ছে 
অর্থনৌতিক ও সামাজিক অসাম্যের আবির্ভাবের । প্রথম দিকে যুদ্ধে পরাজিত 
শলুপক্ষের বল্দীরাই ব্লীতদাসে পাঁরণত হতেন তেখন ক্রীতদাস বলতে “দন বা 
'দাসঃ, অর্থাৎ শত্রুকেই বোঝাত মাল), কিন্তু পরে একই উপজাতি-গোষ্ঠীর শকছু- 
কিছু সদস্য নিজেদের উপজাতির মধ্যেই অন্যের অধীন বা প্রায় ক্রীঁতদাসের সামিল 
হয়ে পড়লেন। কিছকছ পাণ্ডিত ভ্রান্তবশত ধরে নিয়েছেন যে 'দাস' বলতে বোঝায় 
আর্ধদের থেকে নৃকুলের বিচারে পৃথক শুধুই অন্যান্য উপজাতির মানুষকে । অর্থাৎ 
তাঁরা বোঝাতে চান যে আর্যদের সমাজে ন্লীতদাস-প্রথার উদ্ভব সামাজিক অসাম্যের 
কারণে ঘটে নি, ঘটেছে নৃকুলগত পার্থক্যের কারণেই । অবশ্য দাস'দের মধ্যে ভারতের 
স্থানীয় উপজাতিদের লোকজন থাকাও যে যথেম্ট সম্ভব সে-বিষয়ে সন্দেহ নেই। 
অথর্ববেদে দানাফসল চূর্ণ করার জন্যে মেয়ে ব্লীতদাসী নিয়োগের মতো 
কৌতূহলোদ্দীপক খবরও পাওয়া যায়। বেদগ্রন্থগ্যীলতে, এমন কি খণ্বেদেও, পাওয়া 
যায় প্রচুর সংখ্যক ব্রশতদাস নিয়োগের নানা উল্লেখ কেখনও-কখাও এমন কথাও বলা 
হয়েছে যে কারও-কারও শ'য়ে-শ'য়ে, এমন কি হাজারে-হাজারে ল্রু'তদাস 'ছিল)। তবে 
এই সংখ্যাগীল কতদূর বাস্তবসম্মত তা বলা কঠিন। এটা ধরে নেয়াই বোধহয় বোশ 
যুক্তসম্মত যে এসব ক্ষেত্রে ক্রীতদাসের সংখ্যা স্পম্টতই বাঁড়য়ে বলা হয়েছে, যাঁদও 
বোদক যুগে যে ল্লীতদাস-প্রথার আঁবর্ভাব ঘটেছিল এতেও কোনো সন্দেহ 
নেই। 

উপজা'ত-গোষ্ঠী সমাজের স্তর ছাড়িয়ে তখনও উত্তীর্ণ হয় 'নি এমন-যে বোদক 
আর্ধ সমাজ তার তৎকালীন বিকাশের মান 'বচার করে বলতে হয় যে ওই সময়ে 
(বিশেষ করে খাশ্বেদের ষুগে) সে-সমাজে যে ক্রীতদাস-প্রথার আস্তত্ব 'ছিল তাকে 
মোটামূটি অপরিণত, িতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থাই বলা উচিত। 


রাজনৈতিক সংগঠন 


বৈদিক আর্য উপজাতিগুলির রাজনোতিক সংগঠনের বর্ণনা দেয়া বেশ জটিল 
একটা ব্যাপার । এর কারণ শুধ্‌ এই নয় যে এ-ব্যাপারে উল্লেখ করার মতো সাক্ষ্য- 
প্রমাণ পণ্ডিতদের জানা আছে অজ্পই। খণ্বেদের যুগের উপজাতিগীল ও পরবত্ণ 
কালের বৌদক আর্য উপজাতিসমূহের রাজনোতিক সংগঠনের বিভিন্ন ধরন ও 
সমগ্রভাবে তাদের অজরত এীতহাঁসিক বিকাশের 'বাভন্ন স্তরের মধ্যে পার্থক্য এতই 
বিপুল যে সোটও এক্ষে্ে জটিলতার এক প্রধান কারক। 


৫০ 


এক্ষেত্রে তাই গরত্বপূর্ণ ব্যাপার হল, এই প্রশ্নাটকে বোদক আর্ধ 
উপজাতিগুির সামগ্রিক 'বকাশের পটভূমিতে বিচার করা । অর্থাৎ, এর বিচার 
করা সেই বিকাশের পটে যা সম্পন্ন হয়েছিল বেশ কয়েক শতাব্দী সময় নিয়ে এবং 
যা চাহত হয়ে আছে বৌদক আর্য সমাজের অর্থনৌতক জীবন ও সামাঁজক- 

একথা স্মরণ রাখা দরকার যে গোড়ার দিককার বোদক যুগে আর্যরা ছিলেন 
উপজাতিগত সংগঠনের একটি স্তরে, কিন্তু পরবতর্ণ বোদক যৃগে এবং বিশেষ করে 
মহাকাব্যায় পৌরাণিক যুগে আর্যদের মধ্যে দেখা 'দয়েছিল শ্রেণবীবিভক্ত সমাজ ও 
উৎপণ্তি ঘটোছল রাম্দ্র-ব্যবস্থার। 

বোদক আর্য উপজাতির বাস করত গণ'এ বিভক্ত হয়ে। গোড়ার দিকে এই 
'গণ' বলতে বোঝাত ছোট-ছোট ক্ল্যান বা উপজাতি-গোম্ঠীকে। তবে পরে এই 
গোম্ঠীর মধ্যে দেখা দেয় শ্রেণী-বিভক্ত সমাজের কাঠামো । খস্বেদের কতগ্দাল 
সূক্তে আমরা তৎকালে-অতশত এমন একটি যঘ্‌গের নানা উপাখ্যান পাই ষখন নাকি 
আর্ধরা এঁক্যবদ্ধ, সুসমান্বিত নানা গোম্ঠীতে বিভক্ত হয়ে বাস করতেন, কাজকর্ম 
করতেন একসঙ্গে মিলৌমশে ও দেবতাদের কাছে বাঁলদানের প্রাণ উৎসর্গ করতেন 
মালতভাবে এবং পাঁরশ্রমলন্ধ ফল গোম্তীর সবার মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে 
ানতেন। আর্যদের এই গণ্গ্যাল শাসন করতেন গণপাতি'রা । 

বেদগ্রল্থগলিতে সরাসাঁর উল্লেখ করা আছে যে স্ীলোকদের গণ'এর সভায় 
যোগদানের আঁধকার 'ছিল না। সব রকমের রাজনোতিক আঁধকার থেকেই তাঁরা বণ্সিত 
ছিলেন বলে মনে হয়। সমাজের অভ্যন্তরণণ ব্যাপারস্যাপার ও শাসন-সংশ্লান্ত সকল 
প্রশ্নেরই মীমাংসা করতেন সমাজের পূর্ণাঁধকারশ্রাপ্ত সদস্যরা ণবদথ”, “সভা, ও 
'সামাত'র মতো সমাবেশে জমায়েত হয়ে। 

উপরোক্ত এইসব শব্দের সঠিক অর্থ নিয়ে পশ্ডিতেরা অবশ্য দারুণ মূশকিলে 
পড়ে থাকেন, কাবণ এইসব উপজাতীয় সমাবেশগ্দলির চরিন্র-সম্পর্কিত আকর 
উল্লেখগুণল প্রায়ই অত্যন্ত পরস্পরাবরোধী হতে দেখা যায়। সম্ভবত পবদ্থই ছিল 
এগ্লর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন সংগঠন এবং এটি দিয়ে তখন উপজাতীয় 
প্রবীণদের সমাবেশকেই বোঝাত। “সামাত'র থেকে এঁটর পার্থক্য ছিল এই 
দক থেকে যে এই সমাবেশে সবচেয়ে বোশি আলোচিত হোত রাজনৈতিক 
ব্যাপারস্যাপার। 'সমাত' বলতে “সভার চেয়ে আরও ব্যাপক ধরনের এক সমাবেশকে 
বোঝানো হোত বলে মনে হয়, তবে 'সামাত'র সাঁঠক কাজ যে কী ছল তা বলা 
কঠিন। 

এই সমস্ত আর্য উপজাতির লোক বাস করতেন গ্রাম'এ, আর গ্রামগ্যাল গঠিত 
হোত বড়-বড় িতৃশাঁদত পাঁরবার বা “কুল নিয়ে । গোষ্ঠীর বন্ধন তখনও প্স্ত 


ধু [৫7৭ 


অত্যন্ত প্রবল ছিল এবং জীবনের সর্কক্ষেত্রে অনুভূত হোত 'গোন্র'এর প্রভাব। 
গ্রামগালিতে নিজস্ব শাসনব্যবস্থা চালু 'ছিল। ভ্রুমশ সম্পাত্ত ও সামাজক পদমর্যাদার 
ওপর 'ভাত্ত করে গড়ে-ওঠা অসাম্য যত পাকাপোক্তভাবে শিকড় গাড়তে লাগল, 
উপজাত-গোষ্ঠীগলিও তত স্তরে-স্তরে বিন্যস্ত হয়ে পড়তে লাগল এবং উপজাত"৭য় 
শাসন-ব্যবস্থার কেন্দ্রগ্যাল বিকশিত হয়ে উঠতে লাগল রান্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে। ফলে 
'গাণপতি' পদেরও পরিবর্তন ঘটতে লাগল, উপজাতীয় নেতার বদলে তিনি ভ্রমশ 
হয়ে উঠলেন সঙ্ঘবন্ধ রান্ট্রের শাসনকর্তা । 

রাজশীক্তর প্রথম আঁবর্ভাব নিয়ে প্রাচীন ভারতীয় উপাখ্যানগ্যালর আলোচনা 
এখানে অপ্রাসাঙ্গক হবে না। এমনই একটি উপাখ্যান অনুসারে দেখা যাচ্ছে যে 
গোড়ায় দেশে কোনো রাজা ছিল না, সকল মানুষই ছিল সমান এবং তারা 
সর্বজনগ্রাহ্য নৈতিক নিয়মকানুন কড়াকঁড়ভাবে মেনে চলত । কিন্তু কাদক্রমে 
অনেকে আতারক্ত আমোদপ্রমোদে গা ঢেলে দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে লাগল 
এবং সবল-প্রবল গ্রাস করতে লাগল দুর্বলকে। দেশের এই অরাজক অবস্থা দেখে 
অবশেষে দেবাঁদদেব ব্র্দা রাজশাক্তর সাঁষ্ট করলেন ও প্রণয়ন করলেন দশ্ডবিধানের 
বিজ্ঞান। 

অপর একটি বোদক উপাখ্যানে বলা হয়েছে কীভাবে সমাজের একজন রক্ষক 
নিযুক্ত করার জন্যে লোকে রাজা নির্বাচন করল তার কাহিনী। রাজা এবং 
রাষ্ট্রশাক্তর আঁবর্ভাবের কারণ বর্ণনায় যে-যাক্তরই অবতারণা করা হোক-না কেন, 
প্রাচীন ভারতীয়রা ষে রাম্ট্রশাক্তর আবভবের প্রয়োজন স্বীকার করে নিয়েছিলেন 
এটাই এ-প্রসঙ্গে ভার আগ্রহোদ্দীপক ব্যাপার । 

গোড়ার যুগের বোদিক ভাষ্য অন্ষায়ী, প্রথম-প্রথম জনমন্ডলটীর দ্বারা রাজা 
নর্বাচিত হতেন এবং এ-উদ্দেশ্যে স্পম্টতই এক বিশেষ সমাবেশে সমবেত হোত 
জনসাধারণ। খগ্বেদে এবং অথর্ববেদে রাজাশীনর্বাচন সম্বন্ধে কয়েকাট সুক্তও 
লিপিবদ্ধ আছে। অথর্ববেদের এই ধরনের একটি সুক্তের একটি পধাক্ত হল 
নিম্নরূপ : শবশ-নির্বাচিত তুমি শাসনের তরে । এখানে এবং খশ্বেদেরও অনুরূপ 
শ্লোকে ণবশ' শব্দে জনসাধারণকে বোঝানো হয়েছে । এই নির্বাচিত রাজার অন্যতম 
প্রধান দায়িত্ব ছিল নিজ প্রজাবর্গকে রক্ষা করা৷ রাজাকে জনসাধারণের রক্ষক বলে 
ধাণ্য করাই ছিল রীতি। 

রাষ্ট্রগঠনের এই প্রক্রিয্নাঁট ছিল এক দীর্ঘাবলম্বিত ব্যাপার, আর সেই অন্তর্বতর 
কালে পর্ববতর্শ রাজনোৌতিক সংগঠনগুলির জেরই টিকে গ্রিয়োছিল দঈর্ঘাদন ধরে। 
এ-সময়ে উপজাতীয় সমাবেশগ্যীল -ৰিশেষ করে “সভা” এবং 'সাঁমাত”--সমাজ- 
জীবনে গর্ত্বপূর্ণ ঘূঁমিকা পালন করে চলোছিল এবং রাজা নিয়োগের ব্যাপারাটকেও 
প্রভাবিত করোছিল। উপজাতীয় এই সমাবেশগ্যালর জায়গায় ক্রুমে-্ত্রমে স্থান করে 


ই 


নেয় অভিজাত সম্প্রদায়ের কিংবা রাজার পোষ্যবর্গের সমাবেশগ্ীল। (পেরবতপৃকালে 
'সভা' শব্দটি 1দয়ে যেখানে সমাবেশ, বিতর্ক এমন কি খেলাধুূলোর অনূজ্তান হোত 
সেই কক্ষকে বোঝানো হোত। একসময়ে এক বিশেষ ধরনের আইনগত প্রাতিষ্ঠানকেও 
বোঝানো হোত এই শব্দাট 'দিয়ে।) রাজার ক্ষমতাবাদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে “সভা” এবং 
'সমিতি'র ভূমিকার গুরুত্ব হাস পেতে থাকল। ক্রমে-ত্রমে আবিভশব ঘটল রাষ্ট্রক্ষমতা 
পারচালনার প্রাতিষ্ঞানসমূহ ও স্থায়ী রাষ্দ্রীয় পদগীলির। জনসাধারণকে কর দেয়া 
শুরু করতে হল। এর আগে দেবতার কাছে কিংবা উপজাতির প্রধানের কাছে 
স্বেচ্ছাপ্রণোঁদত ষে-পুজোর উপচার অথবা উপহার দেয়া হোত তাকে বলা হোত 
'বলি'। এখন সেই 'বালি' হয়ে দাঁড়াল বাধ্যতামূলক রাজকর, বিশেষভাবে নিযুক্ত 
রাজকর্মচাঁরদের মারফত রাজাকে এই কর দেয়ার নিয়মকানুন কড়াকড়িভাবে প্রবর্তন 
করা হল। 

ইতিপূর্বের উপজাতীয় যোদ্ধাদল ভ্রমশ বিকশিত হয়ে উঠল বিশেষ ধরনের 
এক পাঁরচালকের ('সেনানী” অথবা 'সেনাপাতি'র) নেতৃত্বাধীন স্থায়ী এক 
বাহনীর্পে । রাজা এবং পেশাদার যোদ্ধারা লড়াই করতেন রথে চড়ে আর গ্রামীণ 
কৃষক কারগর, ইত্যাঁদ স্বেচ্ছাসৌনকরা পদাতিক 1হসেবে। 
অনূম্ঠানের ('রাজসং্র" যজ্ঞের) বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়, সে-অনুষ্ঠানে রাজার 
ব্যক্তত্বে আরোপিত হোত দেবত্ব। রাজার প্রধান 'পুরোহিত'এর ভূমিকা এই সময় 
থেকে ক্রমশ বোশ-বোশ গুরুত্ব পেতে থাকে, পুরোহত রাজার জ্যোতিষী ও 
উপদেষ্টার ভূমকাতেও আঁধচ্ঠিত হন। রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানে সাহায্যকারী 
ব্যক্তিদের নামের কিছু-কিছু তালিকা এখনও পর্যস্ত টিকে আছে, এগৃলিও বেশ 
আগ্রহোদ্দীপক। এই ব্যক্তিদের অখ্যা দেয়া হয়েছে 'রাজনির্বাচক'। রাজার 
নির্বাচকদের এই তালিকায় 'গ্রামণ" বা গ্রামের মোড়লেরও নাম উল্লেখ করা হয়েছে। 
এ-থেকে বোঝা যায় যে তখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শাসনকার্যের ব্যাপারে গ্রামের স্থানীয় 
শাসন-কর্তপক্ষের কিছুটা হাত ছিল। তবে ভ্রুমশ নির্বাচত রাজার স্থান নিলেন 
বংশানক্রমক রাজা আর তখন রাজশক্তি নিয়মিতভাবেই পিতা থেকে পদ্নে 
হস্তান্তারত হয়ে চলল। অতএব দেখা যাচ্ছে, গোড়ার যুগের বোদক গণ” থেকেই 
ক্রমশ সমাজ-বিবর্তনের ফলে রাম্ট্রের উৎপান্ত ঘটেছে এবং পরে বহ্যাবধ সামাঁজক 
অবস্থাস্তরের মধ্যে দিয়ে এইসব রাম্ট্র রুপ নিয়েছে বংশান্দক্রামক রাজ্যের কিংবা 
প্রজাতন্দের। এই সমস্ত রাজ্যের অন্তভূক্ত ভূখন্ডের আয়তন তখনও পযন্ত স্বল্পই 
শছল। অচাঁলত অনুষ্ঠানাদি এবং আঁদম সম-সমাজের সংগঠনগ্যালর কছু-কিছু 
দকও দর্ঘাদন পর্যস্ত টিকে ছিল এইসব বোদক আর্ধ রাজ্যে, বিশেষ করে এদের 
প্রত্যন্ত এলাকাগদলিতে। 


6৩ 


বর্ণের উৎপাত্ত। জাতিভেদ-প্রথা 


বর্ণ-বিভাগ ও জাতিভেদ-প্রথার আস্তত্বকে সাধারণত কেবলমাত্র ভারতের সমাজ- 
ব্যবস্থার সঙ্গেই যুক্ত করে দেখানো হয় বটে, তবে এীতিহাসক ও নূকুল-বদ্যাগত 
সাক্ষ্য-প্রমাণাঁদর সঙ্গে এই ধারণাটি কিন্তু পুরোপুরি সঠিকভাবে খাপ খায় না। বর্ণ- 
বিভাগের কিছ -কিছু দিক এবং জাতিভেদ-প্রথার নানা উপাদান বহু জাতির সমাজ- 
ব্যবস্থায় খজে পাওয়া যায়। তবে এটা ঠিক ষে জাতিভেদ-প্রথার বিকাশের সবচেয়ে 
লক্ষণীয় দ্টাম্ত মেলে ভারতেই এবং ভাবতীয় সমাজের সানা্'স্ট পাঁরবেশেই এই 
প্রথাঁট অত্যন্ত অনমনীয় একটা চেহারা পায়। 

পোর্তুণগজ ভাষায় 'কাস্তা' শব্দের অর্থ হল “জাতি অথবা 'বংশ' বা 'কুল'। গত 
ষোড়শ শতকে ভারতে অন:প্রবেশ করে পোর্তৃগিজরা ভারতীয় সমাজ-কাঠামোর সঙ্গে 
পরিচিত হবার পর তাদের কাছ থেকে পাওয়া এই 'কান্তা শব্দের নানা রকমফের 
বাভল্লন ইউরোপীয় ভাষায় চারিয়ে যায় (যেমন, ইংরোজতে এট হয়ে ওঠে 'কাস্টন) 
এবং এ দিয়ে ভারতীয় সমাজের মধ্যেকার কড়াকাঁড়ভাবে স্মানর্দিন্ট জনগোষ্ঠীগিকে 
বোঝানো হতে থাকে । খোদ ভারতে এই জনগ্োচ্ঠীগ্রাল সংস্কৃত 'জাতি” শব্দাটর 
দ্বারা 'চীহৃত। 

ভারতে এই বর্ণ বা জাতিভেদের (অর্থাৎ, কড়াকাঁড়ভাবে একই জনগোষ্ঠীর মধ্যে 
বিবাহ-সম্পর্ক সীমাবদ্ধ রাখা এবং সীমাবদ্ধ কয়েকটি ও বংশান্ক্রামক বৃত্তি বা 
এই ব্যবস্থাটির) উৎপাত্তর প্রন নিয়ে পণ্ডিতমহলের রচনায় তুমুল বিতকের ঝড় 
উঠতে দেখা গেছে। এই সমস্যাটি 'নয়ে আলোচনা করার সময় বহাবধ সামাজিক, 
অর্থনৌতক ও মতাদর্শগত ব্যাপার এবং প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাসের 'বকাশের 
স্ানা্দন্ট ধারাঁটকে বিবেচনার মধ্যে ধরা একান্ত অপারিহার্। 

বেশ কয়েকটি আলোচনা উপলক্ষে কার্ল মার্স বলেছেন যে জাতিভেদ হল 
পূর্ববতাঁ উপজাতীয় সমাজ-সংগঠনেরই একটি স্মারক-চিহ। জাতিভেদের মধ্যেই 
পূর্ববতাঁ গোষ্ঠী বা উপজাতীয় সমাজ-বন্ধন চরম ও সবচেয়ে কঠোর 
চেহারা নিয়েছে। 

জাতির পাশাপাঁশ প্রাচীন ভারতীয় সমাজে আরও একটি স্প্রাচীন বিধানের, 
অর্থাং সামাজিক গোম্ঠাী বা “বর্ণ'এর, আস্তত্ব ছিল। এই “বর্ণএর উৎপাত্ত ঘটেছিল 
প্রাক-শ্রেণীবিভক্ত সমাজে, যা পরে শ্রেণী-সমাজে দ্‌ঢ়মূল ও পাবশ্লীকৃত হয়ে ওতঠে। 
ক্রমশ এই 'বাঁভল্ন সামাঁজক গোম্ঠী বা 'বর্ণগুল (যথা, রাল্গণ, ক্ষান্রিয়, বৈশ্য ও 
শুদ) বেশি-বোশ স্ছিরনীর্দস্ট ও অনমনীয় হয়ে ওঠে এবং 'জাত'র রূপ নেয়। 
-কারণেই ভারতঈয় সমাজে 'বর্ণকে অনেক সময়ে 'জাতি' বলে বর্ণনা করা হয়েছে। 


6৪ 


'ব্ণএর উৎপাত্তর প্র*্নাট আতি জাঁটল একটি ব্যাপার। তবে সামাজক গোজ্ঠী 
বা 'বণএর আবভ্বের সঙ্গে আদম সমসমাজ-সম্পকেরি ভাঙন এবং সম্পাস্তর 
মালিকানা ও সামাঁজক পদমর্ষাদায় পার্থক্যের ভিত্তিতে গড়ে-ওঠা অসাম্যের বিকাশকে 
যুক্ত করে দেখাটা যুঁক্তসঙ্গত বলেই মনে হয়। 

প্রাচীন ভারতে সামাজিক গোম্ঠী গঠনের এই স্যানার্দন্ট ধরনাটির আবির্ভাবেব 
ব্যাপারে এরকম ধারণা পোষণ করা বোধহয় অসমীচীন হবে না ষে ইন্দো-আর্ষ 
উপজাতিগ্াীল উত্তর ভারতে অনুপ্রবেশের সময় যাদের সম্মুখীন হয়েছিল সেই 
স্থানীয় উপজাতিগুলির নিজস্ব বৈশিল্ট্যের বাহন তাদের সামাজিক সংগঠনসমূহের 
স্যনার্দন্ট প্রকৃতি খুব সম্ভব এ-ব্যাপারে বিশেষই এক ভূমিকা পালন করেছিল। 

সমাজের উচ্চতর বর্গের যোদ্ধ-সম্প্রদায়কে নিয়ে গঠিত হয় ক্ষান্রীয় বর্ণ, 
পৃরোহিত বা যাজক-সম্প্রদায়কে নিয়ে ব্রাহ্মণ বর্ণ, স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রাম-সমাজগলির 
কৃষক, কারিগর, ইত্যাঁদকে 'নয়ে বৈশ্য বর্ণ এবং পাঁরশেষে সামাজিক স্তর-বিন্যাসের 
সর্বানম্ন স্তরের অন্তভূক্ত হয় শূদ্রু বর্ণ। প্রাক-বোদক যুগেই এই বর্ণ-বিভাগের 
আ'বর্ভাব ঘটে । এখন প্রমাণ পাওয়া গেছে যে প্রাচীন ইরানেও কিছু-কিছু সামাজিক 
গোম্ঠী ছিল (ইরানীয় ভাষায় এই গোলম্ঠীগ্ীলকে বলা হোত ণপশূত্রা, বোদক 
“বর্ণএর মতো যার অর্থ হল রঙ) যেগ্ীলর সঙ্গে উপরোক্ত প্রথম তিনাঁট ভারতীয় 
সামাঁজক স্তরের মিল আছে। এজন্যে আপাতদম্টিতে মনে হয় যে সমাজকে তিনটি 
এমন কি কিছু-কিছ্‌ তথ্য এরকম ধারণা পোষণেরও অন্দকূল ষে সমাজ-ীবন্যাসের 
এই পদ্ধাতট সম্ভবত প্রচলিত ছিল এরও আগে থেকে। 

খগ্বেদে উপরোক্ত প্রথম তিনাট (ব্রাহ্মণ, ক্ষান্িয় ও বৈশ্য) বর্ণের বহুবিধ উল্লেখ 
পাওয়া যায়, তবে একমান্র খগ্বেদের দশম মণ্ডলেই বিবৃত হয়েছে এই উপাখ্যানাঁট 
যাতে বলা হয়েছে যে এই চতুর্বেরই উৎপাত্ত হয়েছে 'পরুূষ' থেকে। এই “পদরদষ- 
সুক্ত'এ লেখা আছে যে ব্রাহ্মণরা উৎপন্ন হয়েছিলেন “পদরদষ'এর মুখগহবর থেকে, 
ক্ষান্নয়রা বাহদ্বয় থেকে, বৈশ্যরা উর্দদ্ধয় থেকে এবং শুদ্ররা পদদ্বয় থেকে। 

পরবতর্শ বোদক সাহিত্যেও এই বিষয়টি বারবার বিবৃত হয়েছে, তবে সেখানে 
বলা হয়েছে যে বর্ণসমূহের আবির্ভাব ঘটেছে দেবাদিদেব ব্রহ্মা থেকে । এই চতুর্বর্পের 
আবির্ভাব ও তাদের পদমর্যাদাকে আশীর্বাদপৃত করেন বাজক ব্রাক্মণেরা। 
রাহ্মণ-সমাজগোম্ঠীর শ্রেম্ঠত্ব প্রাতপাদন ও তাঁদের সামাজিক পদে দেবভাব আরোপের 
জন্যে সর্বশাক্ত [নিয়োগ করেন ওই যাজক-সম্প্রদায়। কাজেই প্রান সকল বৌদক 
সাহত্যে অপর তিন বর্ণের নামোল্পেখের আগে গোড়াতেই ষে ব্রাহ্মণের নাম উচ্চাঁরত 
হবে এর কারণ বোঝা মোটেই তেমন শক্ত নয়। শুধু তা-ই নয়, পুজা-অর্চনা, 
যাগযজ্ঞে পৌরোহত্য ও ধর্মশ।স্ পাঠের ব্যাপারে তাঁদের বশেষ অধিকারকে প্রবল 


&& 


উৎসাহে সমর্থন ও রক্ষা করে চলেছিলেন ব্রাহ্মণ-সম্প্রদায়। তবে বাস্তবক্ষেত্রে সাত্যকার 
ক্ষমতা ছিল তখন যোদ্ধ্‌-সম্প্রদায় বা ক্ষত্রিয়দের হাতে। 

প্রথাগতভাবেই ক্ষত্রিয়-সম্প্রদায়ের প্রাতিনীধরা রাজপদে আঁধন্ঠিত হতেন। যেমন 
হাতিয়ার সেনাবাহিনীকেও তাঁরা নিয়ন্্ণ করতেন এবং প্রধান-প্রধান সামরিক পদে 
আধিজ্ঠিত থাকতেন। পরবতা বোদক সাহিত্যেই আমরা ক্ষত্রিয় ও ব্রাক্মণ-সম্প্রদায়ের 
মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দের উল্লেখ দেখতে পাই, আর পৌরাণিক মহাকাব্যগ্ীলতে তো 
এই ক্ষমতার দ্বন্ঘের রীতিমতো বিস্তারিত কাহিনীই পাওয়া যায়। 

গদমর্যাদায় পার্থক্য সর্তবেও ব্রাহ্মণ এবং ক্ষত্রিয়রাই ছিলেন সমাজের সবচেয়ে 
সুবিধাভোগী ও ধনী সম্প্রদায় । শ্রমজীবী জনসাধারণ ও ক্রুতদাসদের ওপরে প্রভূত্ব 
করতেন তাঁরা! 

জনসংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে গুরৃত্বপূর্ণ ছিল অবশ্য বৈশা-সম্প্রদায়। এই 
সম্প্রদায়ের অন্তভূক্ত ছিলেন স্বয়ংশাঁসিত গ্রাম-সমাজের কৃষক, কারগর, অপেক্ষাকৃত 
বড় খামারের মালিক এবং বাঁণকরা । রাজকরের বেশির ভাগ অংশই দিতেন বৈশ্যরা । 
বোদিক যুগে বৈশ্যরা তখনও পর্যন্ত কিছুপাঁরমাণে রাজনৈতিক অধিকারের অংশীদার 
ছিলেন এবং এমন ক রাম্ট্রের কোনো-কোনো ব্যাপার নির্ধারণেও তাঁদের হাত থাকত। 

এই তিনটি উচ্চতর বর্ণকেই তখন গণ্য করা হোত পদ্বজ' বলে এবং এই 'তিনাঁট 
বর্ণের মানুষের আঁধকার ছিল উপনয়ন হওয়ার, অর্থাৎ বোদক আচারে দীক্ষত 
হওয়ার। শদ্ররা কিন্তু “দ্বিজ' ছিলেন না, কাজেই তাঁরা বণ্চিত ছিলেন বোঁদক ব্রিয়া- 
কলাপে, যাগযজ্ঞে অংশ নেয়া থেকে কিংবা পাবন্র ধমগ্রল্থ পাঠের অধিকার থেকে। 
শূদ্ররা স্বভাবতই হতেন দরিদ্র, তাঁদের চেয়ে যাঁরা ধনী তাঁদের ওপর অর্থনৌতিক 
দিক থেকে নিভ'রশীল। সবচেয়ে নিচু স্তরগুঁলির কারিগর এবং গৃহভূত্য প7ওয়া 
যেত এই সম্প্রদায়ের মানুষের ভেতর থেকে । যাঁদও শদ্বরা ঠিক ব্লীতদাস 'ছলেন 
না, তবু যে-কোনো মৃহূর্তে ভ্রীতদামের মতোই অন্যের অধাঁন হয়ে পড়ার 
সম্ভাবনা 1ছল তাঁদের পক্ষে । উচ্চতর বর্ণগলির প্রাতানিধিরা এই বর্ণ-বভাগ্ধকে 
দূভেদ্য বংশানু্রামক এক প্রথায় সংহত করে তোলার চেষ্টায় ছিলেন, শুদ্রুদের সঙ্গে 
সামাজিক মেলামেশা বন্ধ করতে ও যাতে শদ্ররা পদ্বজ' বর্ণগ্চলতে অন্প্রবেশ না 
করতে পারেন তার ব্যবস্থা করতেও সচেম্ট ছিলেন তাঁরা । 

খগ্বেদের গোড়ার 'দককার মণ্ডলগযীলতে শদ্রদের কোনো উল্লেখ না-থাকায় 
কিছ্‌-কিছ পণ্ডিত এই মত পোষণ করেছেন যে শূদ্ররা আসলে ছিলেন আর্যদের 
হাতে পরাভূত ও বশীভূত স্থানীয় আঁধবাসী। এই পণ্ডিতেরা বলেন যে এ-ধরনের 
বর্ণভেদের সাহায্যেই আর্যদের শ্রেম্ঠত্ব প্রাতপাদন, তাঁদের জাতিগত বিশদ্ধতা 
সংরক্ষণ এবং কৃষ্ণকাঘ স্থানীয় অধিবাসীদের শ্দদ্রবর্ণের স্তরে অধঃপাতিত করে রেখে 


৫০ 


তাঁদের দমন করার উপায় ঠাউরোছলেন আর্যরা। এই তত্বের পাঁরপোষকরা বিশেষ 
করে জোর 'দয়েছেন "বর্ণ কথাটির ওপর এবং বলেছেন মে 'বর্ণএর একাঁট অর্থ 
হল রঙ্‌। কিন্তু এ-প্রসঙ্গে মনে রাখা দরকার যে বর্ণ, শব্দটি বর্ণ-বিভাগের সময় 
মান্ষের গায়ের চামড়ার রঙ্‌ বোঝাতে ব্যবহৃত হয় নি। কেননা, প্রাচীন ইরানের 
মতো প্রাচীন ভারতেও উপাসনা-প্রথায় প্রতীক বর্ণ স্মরণ করার একটি এীতহ্য 
চালদ ছিল, প্রতিটি 'বর্ণ বা গোম্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিল তখন সুনির্দিষ্ট একেকটি 
প্রতীকী রঙ। 

বোদিক যুগ্গের শেষাংশে 'বর্ণগালির মধ্যেই আবার পেশাভাত্তক আরও ছোট- 
ছোট নানা ভেদ ও বিভাগ দেখা দিল। বৃহত্তর 'বর্ণগ্রীল সহ এই সমস্ত ক্ষ 
বিভাগও পরে দেখা দিল অনড় ও অনমনীয় নানা 'জাতি” রূপে। 


উত্তর ভারতের প্রাচীন রাজবংশ ও রাচ্টীসমূহ 


বোৌদক সাহিত্যে ও পৌরাণিক মহাকাব্যগনীলতে গঙ্গা-উপত্যকার বহুবিধ প্রাচীন 
রাজবংশ ও রান্ট্রের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে ওই সমস্ত তথ্যের এ্রীতহাসিক 
নিভরষোগ্যতা বহুপরিমাণেই সন্দেহাতীত নয় এবং তার বোশর ভাগ ক্ষেন্রে 
প্রত্ততাত্ক সাক্ষ্যপ্রমাণের সমর্থন মেলে না। মহাকাব্যগুঁলিতে যে-সমস্ত রাজবংশের 
নামের তালিকা পাওয়া যায়, দেখা যায় সেগ্ালি একেকটি গ্রন্থে একেক রকমের এবং 
সেগুলিতে ঘটনার যে-বিবরণ পাওয়া যায় তা-ও 1ভল্ম-ভিন্ন ধরনের । ফলত, এইসব 
ব্যাপার ভারততত্বীবদের পক্ষে ওই যুগের ইতিহাসের পনানমাণের কাজ 
বহুপাঁরমাণে জটিল করে তুলেছে । বোদিক ও পৌরাণিক যুগগ্ালতে তৎকাল- 
প্রচালত ধর্মীয় ধ্যানধারণা প্রাচীন রাজাদের ও রাজবংশগলির উৎপাত্তর ব্যাপারটিকে 
ব্যাখ্যা করেছে বিভিন্ন দেবদেবীর ইচ্ছাপ্রণোদিত বলে। এ-ব্যাপারে সবচেয়ে 
বহুলপ্রচালিত এীতিহ্য অন্মসারে জানা যায় যে গঙ্গা-উপত্যকায় প্রধান দুটি রাজবংশের 
নাম ছিল সূর্য ও চন্দ্রবংশ এবং এই দুই রাজবংশের প্রাতম্ঠাতার। ছিলেন সূর্য ও 
চন্দ্রদেবতা থেকে উদ্ভৃত। রামায়ণের প্রধান চরিন্ন রামচন্দ্রকে দেখানো হয়েছে সর্ষ- 
বংশোদ্ভুত বলে আর মহাভারতের কুরুবংশকে চন্দ্র-বংশোদ্ভূত হিসেবে । খগ্বেদে যাঁর 
নাম টীল্লাখত আছে সেই রাজা ভরত এীতিহ্য অনুসারে এই চন্দ্রবংশেরই প্রতিষ্ঠাতা । 

ধগ্বেদে তৎকালীন রাজনোতিক ইতিহাসের কিছদ-কিছ? তথ্য পাওয়া যায়, কিন্তু 
সেইসব তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা কিছু-পরিমাণে সন্দেহজনক । যেমন, উদাহরণস্বরূপ, 
খধগ্বেদের সূক্তে টীল্লাখত আছে দশজন রাজার মধ্যে যুদ্ধের ঘটনার, কিংবা রাজা 
সুদাসের নেতৃত্বে ন্রিংস উপজাতি (ভরত-বংশেরই একটি শাখা) এবং সম্ভবত 
স্থানীয় অনার্য একটি উপজাতির (কারণ এই শেষোক্ত উপজাতির লোকজন সম্পর্কে 


৬৪ 


বলা হয়েছে যে তারা দেবতার কাছে পূ্‌জা-বালদান, ইত্যাদি দেয় না) মধ্যে সংগ্রামের 
কাহিনী । ওই যুগে বোদক আর্য ও স্থানীয় উপজাতিদের মধ্যে যুদ্ধ-বিগ্রহ যে 
অনবরত লেগে ছিল এই শেষোক্ত কাহনী স্পষ্টতই তারই এক প্রমাণ। খধগ্বেদের 
যুগে ভরত-বংশীয় রাজবংশ খুব সম্ভব সরস্বতাঁ (িন্ধুনদের প্রাচীন একটি শাখা) 
€ যমুনা নদীর মধ্যবতাঁ এলাকা টিতে রাজত্ব করতেন। 

বোৌদক আর্য উপজাতিগ্দলির মধ্যে পুর-বংশীয় উপজাতির প্রাধান্য ছিল 
াশেষরকম। খগ্বেদে এই বংশের এক রাজার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এই বলে 
যে তান 'ম্লেচ্ছ' বা স্থানীয় অনার্য উপজাতিগ্লিকে যুদ্ধে পরান্ত করে বিজয়শ 
হয়েছিলেন। পরবতাঁ কালে এই পুর্রা কুরু বো কৌরব) উপজাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে 
সংযুক্ত হয়োছল। খগ্বেদে অন্যান্য বহুতর উপজাতির কথাও ভীল্লাখত আছে, 
যারা পরবতাঁকালে প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ 
হয়েছিল। এই সমস্ত উপজাতির মধ্যে পড়ে চেদী, গ্রান্ধার ও কিরাত নামের (মগধ 
উপজাতির প্রাচীন নাম) উপজাতিগ্যাল। 

এসবের মধ্যে রাজা ভরতের নামটি বিশেষ গৌরবে দীপ্যমান। এই স্বনামধন্য 
রাজার সম্মানে এমন কি সেই সুদূর প্রাচীনকালেও গোটা উত্তর ভারত আভহিত 
হয়েছিল “ভারতবর্ষ বা 'ভরতের উত্তরপ্ুরূষের দেশ' নামে (বর্তমানে ভারতীয় 
প্রজাতল্মও সরকারভাবে “ভারত' নামে পারচিত)। মহাভারতের কিছু-কিছ বীর 
নায়কও ছিলেন ভরত-বংশীয়। এই মহাকাব্যে উল্লিখিত আছে যে ভরতের উত্তরপুরুূষ 
ওই মহায্দ্ধে যোগ 'দিয়েছিলেন। 

কুরুর প্রান্তরে বা কুরুক্ষেত্রে কোরব ও পান্ডবদের মধ্যে সংগ্রাম এই যুগের 
পোরাণিক মহাকাব্গীলির একটি প্রধান আলোচ্য বিষয়। এই ষ্দদ্ধ-কাহিননর সঙ্গে 
জড়িত এতিহাঁসক বিবরণের খটিনাটি কতথখা'ন প্রমাণসাপেক্ষ তা ভারততত্বিদদের 
মধ্যে প্রচন্ড বিতকেরি বিষয়। এই দ্ধের বিবরণকে বহু পশ্ডিত সত্য ঘটনা বলেই 
মনে করেন এবং বলেন যে এ-ঘটনা ঘটেছিল খ্ীস্টপূর্ব চতুর্থ কিংবা তৃতীয় 
সহম্রাব্দের কোনো সময়ে । সমকালীন ভারততত্বীবিৎরা অবশ্য এই যুদ্ধের সময়াটকে 
খীস্টপূর্ব এগারো থেকে নয় শতকের মধ্যে নার্দন্ট করতেই বোশ আগ্রহাঁ। 
ভারতীয় প্রত্বতত্রাীবতরা "শ্রী বি. বি. লালের নেতৃত্বে) হান্তনাপুরে এই বিতর সঙ্গে 
সংশ্লিন্ট কিছু-কিছ; গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদিও সংগ্রহ করেছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে 
মহাভারত কাব্যে হাস্তনাপুরকেই কৌরবদের রাজধানী বলে বর্ণনা করা হয়েছে। 

খননকার্ষের ফলাফল "দিয়ে বিচার করলে বলতে হয় ষে আঁধবাসারা হাস্তনাপুর 
নগর বন্যার প্লাবনের জন্যে পারত্যাগ করে যায় খঃস্টপূর্ব এগ্রারো থেকে নয় শতকের 
মধ্যে। এইসব তথ্য কিন্তু মহাভারতে বর্ণিত তথ্যাঁদর সঙ্গে খাপ খেয়ে বায়। 

কুরুক্ষেত্রের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সাতিসাত্যই কোনোকালে ঘটেছিল নাকি তা কাল্পাঁনক 


ঙ৮ 


একটি জনপ্রবাদমান্র এ-প্রশ্নের আলোচনা বাদ দিলেও, কিছু-ীকছ পণ্ডিত মনে 
করেন যে ঘটনাটি সম্ভবত সদর ইন্দো-ইরানীয় ষুগের সঙ্গে সধা্লন্ট, বখন উত্তর 
ভারতের উপজাতিগ্দালির মধ্যে দীর্ঘন্ছায়ী এক প্রাতিদ্বন্দিতার ফলে 'কছ-কিছু 
উপজাতি অন্যান্য উপজাতর ওপর 'নঃসন্দেহে. আধিপত্যাবস্তারে সমর্থ হয়। 
এ-প্রসঙ্গে এটি লক্ষণীয় যে প্রাচীন ভারতীয় শাস্্-সাহত্যে সর্বই কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ 
নতুন একটি ঘুগের সূচক হিসেবে গ্রাহ্য । মহাকাব্যাটির বিবরণ অন্যায়ী সে-যূগের 
সবচেয়ে পরান্রান্ত ও প্রভাবশালী যে-পণ্টাল ও কুরু উপজাত-দুটি, তারা অতঃপর 
তাদের রাজনোতিক প্রভাব হারায় এবং রাজনোতিক মণ্ে দেখা দেয় পূর্ব ভারতের 
ছোট-ছোট রাম্ট্র- বিশেষ করে কোশল (অযোধ্যা ও শ্রাবস্তীতে রাজধানী সহ), 
কাশী (বোরাণসীতে রাজধানী) ও 'বিদেহ (মাথলায় রাজধানী) রাস্দ্র। এছাড়া 
আধ্দানক বিহারের মধ্য ও দক্ষিণ অগুলে দেখা দেয় মগধ (গ্ারব্রজ ও পরে 
রাজগৃহতে রাজধানী সহ) এবং পশ্চিম ভারতে অবস্তী (উজ্জয়িনীতে রাজধানী) 
নামের রাম্দ্রদুটি। 

পরবতর্শ বৌদক সাহিত্যে গোটা দেশে তিনটি বিভাগের উল্লেখ পাওয়া যায়। 
যথা, আর্ধাবর্ত বো আর্ধদের বাসভূঁমি) অর্থাৎ উত্তর ভারতরাজ্য, মধ্যদেশ অর্থাৎ 
মধ্যাণ্ুলীয় রাজ্য এবং দক্ষিণাপথ অর্থাৎ দক্ষিণ ভারতরাজ্য। গোটা দেশটি পচি 
ভাগে, অর্থাং মধ্য, পূর্ব পশ্চিম, দক্ষিণ ও উত্তর দেশে, বিভক্ত ছিল এমন উল্লেখও 
পাওয়া যায় কোথাও-কোথাও। 

দেখা যাচ্ছে পরবতাঁ বোৌদক যুগের সংঁহতা ও উপাঁনষদগদলির রচয্িতারা গোটা 
উত্তর ভারত, মধ্য-ভারতের (অর্থাং নর্মদা নদীর উত্তর দিকস্থ) ঝহ7 অংশ এবং পূর্ব 
ভারতের সঙ্গে ভালোরকম পরিচিত ছিলেন। ওই সময়ের মধ্যে পরবতর্শ মগধ-মৌোর্য 
যুগের উৎপান্তির পটভূমি হিসেবে ভারতের রাজনোতিক মানাচন্রখানি দৃঢ়ভাবে 
প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল। 


বৈদিক যূগের ধর্ম ও সংস্কাতি 
বোদক ধম” পরাণ-কথা ও আচারবিধি 


বেদগ্রন্থগ্যাীল বোঁদক ষগের ভারতীয় মানুষের ধর্ম-বিষয়ক মতামত ও তাঁদের 
পুরাণ-কথাগ্যালর সঙ্গে পরিচিত হতে ও সেগ্াল আয়ত্ত করতে আমাদের সহারক 


হয়েছে। 
বোদক আর্য উপজাতিগ্যালির ধর্মীবশ্বাস, ইত্যাঁদ পারণত হয়ে উঠতে ও 'বাঁশষ্ট 


৫৯ 


চেহারা নিতে অত্যন্ত দীর্ঘ এক সময় নেয় আর এই পারণাঁতির দীর্ঘ পর্বের একেকটি 
বিশিষ্ট স্তর ভিন্ব-ভিন্ন বোদিক সাহিত্যে প্রাতফলিত। অবশ্য বোদিক ধর্ম বা 
বেদবাদকে কিছ-কিছ শর্তসাপেক্ষে গণ্য করা চলে একাঁট স্টানার্দন্ট ধর্মব্যবস্থা 
[হসেবে, সধাশ্লম্ট সুসমঞ্জস প্রথা, আচার ও পূজাপার্বণ সহ ধমাঁয় (এবং অংশত 
ধমাঁয় ও দার্শীনক) বিশ্বাসসমূহের সামগ্রিক এক সমাহার রূপে । তবে এই গোটা 
ধর্মব্যবস্থার মধ্যে স্যানার্দন্ট কয়েকটি ধর্মবিশ্বাসকে আলাদা করেও চিনে নেয়া চলে। 
এইসব ধর্মাবশ্বাস হল আদিম সমাজ-সম্পকেরর প্রাতফলন 'হসেবে টিকে-থাকা অত্যন্ত 
সেকেলে কিছু-কিছ ধ্যানধারণা, কিংবা ইন্দো ইউয়োপায় বা ইন্দো-ইরানীয় যুগের 
প্রাচীন সংস্কীতির অবশিষ্ট কিছ নিদর্শন এবং পাঁরিশেষে যে-ষূগে প্রথম ভারতায় 
রাম্দ্রগ্ীল ক্লুমশ গড়ে উঠছে বোদক আর্য সমাজের বিকাশের সেই বিশেষ স্তরের 
পারণাতস্বরৃ্প উদ্ভুত ধমীঁয় ধ্যানধারণার সমন্টি। 

বেদবাদ হল ভারতে জাত ধর্মীবশ্বাসসমূহের সবচেয়ে প্রাচীন একাঁট সমন্বিত 
রৃূপ। এই ব্যবস্থা উপমহাদেশের পরবতর্শ কালের ধমাঁয় মত-প্রবণতা ও দার্শীনক 
চিন্তা-ভাবনার ওপর বপুল প্রভাব বিস্তার করে। তবে বৌদ্ধধর্মের মতো এই ধর্মমত 
ভারতের বাইরে ছাঁড়য়ে পড়ে 'ন। 

বোৌঁদক ধর্মের এক অপারহার্য অঙ্গ হল বহ-ঈশ্বরবাদ, অর্থাৎ নরত্ব-আরোপ-করা 
বহুসংখ্যক দেবদেবী ও অবতারের পৃজা-আরাধনা। 

বোঁদক যৃগের ভারতীয়রা নানা প্রাকৃতিক ব্যাপার ও দেবদেবীদের ওপর মানবিক 
গুণাবলী আরোপ করতেন, তাঁদের ভূষিত করতেন মানাঁবক দোষন্রট ও গুণ 'দয়ে। 
খগ্বেদে আরও কিছু দেবতার দেখা পাওয়া যায় যাঁদের ওপর আরোপিত হয়েছে 
পার্থিব অন্যান্য প্রাণীর আকারপ্রকার। এপ্রা দেখা দিয়েছেন মানবেতর প্রাণীর রূপ 
ধরে এবং প্রাকৃতিক নানা ব্যাপারের সঙ্গে মৌল সম্পর্কে যুক্ত হয়ে আছেন (যেমন, 
দেবতা ইন্দ্র কখনও-কখনও উপাস্ছিত হয়েছেন ষন্ডের মূর্তিতে এবং আগ্ন দেবতা 
অশ্বের রূপ ধরে)। দেবতাদের উদ্দেশে বোৌদক আর্ধরা 'নবেদন করেছেন প্রার্থনা- 
স্তোত্র, তাঁদের উদ্দেশেই উৎসর্গ করেছেন পূজার উপচার ও বাঁল। এইসব স্তোন্রে 
বোদক যুগের মানুষ দেবতাদের কাছে প্রার্থনা করেছেন আরও বহুসংখ্যক 
গৃহপালিত পশু, যুদ্ধে বিজয়, ভালো ফসল কিংবা বিপর্যয় ও 'বিনাম্টর হাত 
থেকে নিম্কৃতি। খগ্বেদে আরাধ্য দেবতাদের শ্রেণীবিন্যস্ত করার একটা প্রয়াসও লক্ষ্য 
করা যায়। বোদক ভারতীয়দের বিশ্বরহ্মাণ্ডকে স্বর্গ মর্ত্য ও অন্তরীক্ষ (স্বর্গ ও 
মতের মাঝামাঝি শূন্য অংশ) এই তিন অংশে 'বিভক্ত করে দেখার যে-সাধারণ তত্ব 
ছিল, উপাস্য দেবতাদেরও সেই অন্যায়ী মোটামুটি 'তনাট গোষ্ঠীতে ভাগ করে 
নেয়া হয়েছিল। ব্ক্মান্ডের ওই তিনটি অংশের প্রত্যেকটির নিজস্ব অধিবাসশ 
দেবদেবী ছিলেন। স্বগ্গের দেবতাদের মধ্যে ছিলেন সূর্য দেবতা, উষার দেবী 


৬০ 


উষস্‌ এবং নন্যায়ননীতির নির্ধারক" দেবতা বরুণ। মতোর্৮র দেবতাদের মধ্যে সবোচ্চ 
শ্রদ্ধার আসনে আধান্ঠত ছিলেন আগুনের দেবতা আগ্ন এবং পাঁবন্র মাদক রসের 
দেবতা সোম। এছাড়া অন্তরীক্ষের দেবতাদের মধ্যে ছলেন ঝড়ঝঞ্জার দেবতা রুদ্র 
বাতাসের দেবতা বায়ু এবং মহা-পরাক্রাস্ত ইন্দ্র। একথা মনে করার যথেম্ট কারণ 
রয়েছে যে বোঁদক আর্য উপজাতিগ্দলির এই সমস্ত ধ্যানধারণার সঙ্গে বিশ্ববহ্মাণ্ডের 
ন্রিবধ ভাগ্-বাঁটোয়ারা সম্পাক্তি পূর্ববতর্শ ষ্গের পৌরাণিক তত্ুকথার ঘানিষ্ঠ 
সম্পর্ক রয়েছে। অপর কয়েকটি ইন্দো-ইউরোপীয় জাতির ইাঁতহাসে এই তত্বকথার 
সাক্ষাৎ মেলে। 

এই সমস্ত আত-প্রাচটীন দেবদেবী যাঁদের সঙ্গে ইন্দো-ইউরোপনয় ও ইন্দো-ইরানীয় 
পৌরাণিক দেব-কল্পনার তুলনা চলে (েমন, উদাহরণস্বর্প, কিছু-কিছু বোদক 
দেবদেবী তো স্পম্টতই কয়েকটি ক্শীক দেবদেবীর সদশ*), তাঁদের পাশাপাশি 
বৈদিক দেবদেবীদের মধ্যে বিশেষভাবে ভারতীয়, দেবদেবীও আছেন। বোদক 
আর্যরা ভারতের ভূখণ্ড জুড়ে ছাড়িয়ে পড়ার সময়েই এই শেষোক্ত দেবদেবাঁদের 
পৃজা-আরাধনার সতত্রপাত হয়। 

সবচেয়ে জনীপ্রয় দেবতাদের একজন যাঁর নামের সঙ্গে অনেক বড়-বড় প্রাকীতিক 
ঘটনার যোগাযোগ আছে তিনি হলেন ইন্দ্র। খগ্বেদে দু'শো পণ্াশটি সুক্ত অর্থাৎ 
ওই গ্রন্থে সংকলিত সংক্তের প্রায় এক-চতুর্থাংশই) ইন্দ্র-দেবতার নামে নিবোদিত। 

ইন্দ্রকে বর্ণনা করা হয়েছে 'বিরাটকায়, অসাম শাক্তধর এক পুরুষ হিসেবে, 
যান বজ্রধর, সহম্র-সহম্ত্র শব্লুকে যান অবহেলায় নিধন করতে পারেন বিদযদৃগর্ভ 
বজজশেল হেনে। এই পরান্রাস্ত যোদ্ধদেবতা পাাঁথবীর জলশোষক নাগরাজ বৃত্রকে 
নিধন করেন। বেশ কয়েকাট বোঁদক উপাখ্যানে ইন্দ্রকে নানাবিধ ক্রিয়াকলাপে লিপ্ত 
থাকতে দেখা যায় এবং এগদলিতে তাঁর ওপর আরোপ করা হয় মানবোচিত বৈশিষ্ট্য । 

প্রাচীন ভারতীয়রা মনে করতেন যে দেবতা বরুণ গোটা আকাশের ওপর 
আধিপত্য করে থাকেন এবং রথে চড়ে আকাশ পারন্রমা করে বেড়ান ?তাঁন। 'তাঁন 
হচ্ছেন জগৎ-সংসারের শৃঙ্খলা (ধাত)-রক্ষক, আর তাই 'তাঁনই 'নয়ন্্রণ করেন 
গ্রহনক্ষত্রের চলাচল ও মানুষের ন্রিম্বাকলাপ। তান পাঁথবী, মহাশুন্য ও 
বায়ূমন্ডলের রক্ষক, খতুর পারম্পর্যের নিয়ন্তা তানই। পাপীর শাস্তাবধানে বরুণ 
সূকঠোর, কিস্তু নিরাপরাধ ও অন্তপ্তের প্রতি তান করুণাময়। এমন কি 
দেবতাদেরও নৌতিক আদর্শের বিধিবিধান বেধে দেন তিনি। তাঁর এই রূপ-কল্পনার 


* আকাশ-দেবতা দযঃ-এর সঙ্গে তুলনা চলে গ্রীক দেবতা জিউস ও রোমান দেবতা 
জাপটরের, সূর্য-দেবতার সঙ্গে গ্রীক দেবতা হেলিওসের, বরূণের সঙ্গে ইউরেনসের, উষার দেব 
উষসের সঙ্গে গ্রীক দেবী ইয়াসের, ইত্যাদি। -- লেখক 


৬১৯ 


মধ্যে কিছ-কিছু নোৌতক দক আছে যা গ্রাচীন ভারতের পরবতর্শ ধমায় ও 
দার্শানক মতাদর্শগুলিতে বিশেষভাবে বিশদ করা হয়েছে। 

দেবতাদের মধ্যে এক কৌত্‌হলোদ্দীপক, অনন্য চার হলেন ঝড়ঝঞ্জার দেবতা 
রুদ্র। তিনি অন্যান্য দেবতার মতো নন, শুধুই নঙর্থক গণের আধিকারাী 'তান। 
ধগ্বেদে তাঁকে গুরুত্বের বিচারে গৌণ স্থান দেয়া হয়েছে। যে-সমস্ত প্‌জা-উপচার 
ও বাল অন্যান্য দেবতারা গ্রহণ করেন না রূদ্র-দেবতা একমাত্র তাই-ই গ্রহণে সমর্থ । 
ছু-কিছু পা্ডত মনে করেন যে রদ্র-দেবতাকে আর্ধরা স্থানীয় অনার্ধ 
উপজাতিদের কাছ থেকে গ্রহণ করোছলেন। বোদক দেবদেবীদের মধ্যে রুদ্র 
বিশেষ অবস্থানকে তাঁরা এইভাবে ব্যাখ্যা করতে চান। পরে অবশ্য স্বর্গলোকের 
দুঃখহর রুদ্র অন্যতম জনাপ্রয় দেবতা শিবরূপে দেখা দেন। 

বোদিক উপজাতিরা দেবতা বিষধর সঙ্গেও পাঁরচিত 'ছিলেন। খগ্বেদে মান ছশট 
সুক্ত তাঁর উদ্দেশে নিবোদত, সেগ্ীলতে স্তুতি করে বলা হয়েছে কীভাবে মান 
1তনটি পদক্ষেপে বিষ বিশ্বরদ্ধান্ড পারন্রমণ করে থাকেন। হিন্দুধর্মে এই উপাখ্যান 
দেবতা । 

বোদক দেবদেবী-মহলে বাঁশষ্ট স্থান আধিকার করে আছেন আম্মি ও সোম- 
দেবতা । ধমাঁয় অনুষ্ঠান ও পজাপার্বণে অগ্নি-দেবতা এক মৌল গুরুত্বের 
আঁধকার, কারণ একমান্র তাঁরই দাক্ষিণ্যে মানুষ দেবতাদের সমীপে তার উপহার- 
উপচারাঁদ 'নবেদন করতে সমর্থ। যজ্ঞের আগ্রকে দেবতাদের অমরত্বের উৎস বলে 
বোদিক য্গে গণ্য করা হোত। বোদক সক্তগুলিতেও বলা হয়েছে যে আগ্নর 
আন্দুকূল্যেই দেবতারা অমরত্ব অর্জন করেছেন। একারণেই দেবকুল ও মানবকুলের 
মধ্যে আগ্ন যেন এক ধরনের যোগসূত্র কাজ করে থাকেন। তাই যুক্তিসঙ্গতভাবেই 
অগ্মকে তখন গণ্য করা হোত সংবাদবাহক বা দূত হিসেবে । আগুন পাঁরবারের 
মঙ্গলের কারক এই আত প্রাচীন বোধ থেকেই যে আগ্মিপূজার এই পদ্ধাতির উৎপন্তি 
ঘটেছিল এটা স্পন্ট। খগ্বেদেও আগ্রকে গৃহের রক্ষাকর্তা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

ধন্বেদে এক শো কুঁড়িটি খকমল্ত উৎসর্গ করা হয়েছে পৃত মাদক পানীয়ের 
দেবতা সোমের উদ্দেশে । আগ্মির মতো সোমকেও দেবতাদের অমরত্ব অর্জনের অন্যতম 
কারক বলে দেশ করা হয়েছে । দেবতারা এই অমরত্ব-বিধায়ক পানীয় পাবার জন্যে 
ব্যাকুল। মানুষও এই পানায়ের জন্যে ব্যাকুল, কারণ তারা মনে করে যে এট পান 
করতে পেলে তারা দেবতাদের সগ্গোত্রে পাঁরণত হবে। 

মানুষের হিতকামণ দেবতারা ছাড়াও বোদক যুগের ভারতীয়রা আনম্টকারী 
অপদেবতা ও দৈত্য-_রাক্ষস ও অসরদের _ তিনি নি রা হারাবার 
করতেন এরা দেবতাদের শত্রু ৷ 


ডং 


পরবতর্শ বোদক যুগে একদল শবমূর্ত দেবদেবীরও আবির্ভাব ঘটে। এইসব 
দেবদেবীর ক্িয়াকলাপের ক্ষেত্র ছিল অস্পম্ট এবং এরা কোনো 'দিক থেকেই 
বিশ্ব্রহ্মাণ্ডের শ্রিবিধ বিভাগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এদের মধ্যে একজম হলেন 
বাক্স্ফকৃর্তর দেবতা বাক, অপরজন 'বশ্বাসের দেবী শ্রদ্ধা, ইত্যাদ। এই নতুনতর 
দেবকুলের আবির্ভাব সম্ভব হয়োছল সবেশ্বরবাদশী ধ্যানধারণার ক্রমাবকাশের ফলে। 
সর্বেশ্বরবাদের এই 'বকাশ এমন 'ি খগ্বেদেও লক্ষ্য করা যায়, তবে পরবতর্শ বোদক 
সাহত্যে ও পৌরাণিক মহাকাব্যগুলিতে এই ধারণা বিশেষ গ্‌র্ত্ব লাভ করে। 
খম্বেদের সামাগ্রক পৌরাণিক উপাখ্যানাদর রূপরেখার মধ্যে ন্রিধা-বিভক্ত 
'বশ্বব্রহ্মাণ্ডের ধারণাটিই একমান্র বিশ্ব বোধের ছক নয়, যাঁদও বোদক উপাখ্যানাদর 
আওতার মধ্যে এই ছক দেবতাদের শ্রেণীবিন্যাসে কিছ7-পাঁরমাণে সহায়ক হয়েছে । 

বৈদিক ধর্মীবশ্বাসের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দেবতাদের সংস্পম্ট ব্যক্তস্বরূপ- 
নিরূপণের চেষ্টার কিংবা তাঁদের নিয়াকলাপে সূনির্দিষ্ট ভাগ-বাঁটোয়ারার 
অভাব। 

বোদক সূক্তসমূহে প্রাকীতিক শাক্তগুঁলর ওপর দেবত্ব-আরোপ আঁধকাংশ 
ক্ষেত্রেই তাদের ওপর মানাঁবক গুণাবলী আরোপের আকার নিয়েছিল। এর ফলে 
বাভন্ন দেবতার বর্ণনায় দেখা 'দয়োছিল কিছ: পাঁরমাণে সাদশ্য। তদপাঁর একই 
ধরনের প্রাকীতিক ঘটনা বিভিন্ন দেবতার ক্রিয়াকলাপের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে গিয়োছল। 
ফলে দেবতাদের মধ্যে কোনো দঢ়ুবিন্স্ত পদ-পরম্পরা গড়ে ওঠে নি, বরং যা গড়ে 
উঠোছল তা হল একেক দল দেবতার মধ্যে এক ধরনের সর্বব্যাপী 'কিছু-কিছ 
গুণাগণের অন্তঃসার। একেকটি মুহূর্তে অবশ্য একেক দেবতার স্ত্াতিগান করতে 
গিয়ে তাঁকে এক অনন্য, একমান্্র দেবতা বলে বর্ণনা করা হয়েছে; তাঁর ওপর তখন 
আরোপিত হয়েছে এমন সব ক্রিয়াকলাপ ও ক্ষমতা, যা নাক অন্য পাঁরাচ্ছীতিতে 
অন্য দেবতার ওপরও সমভাবে আরোপ করা হয়েছে । এইভাবে “এক এবং আদ্বতীয় 
পরমেশ্বর'এর পূজার পাঁরবর্তে একেক সময়ে একেক দেবতার প্রীত শ্রদ্ধাীনবেদন 
“এক জাতীয় দেবতায় বিশ্বাস নামে আভাহত হয়ে আসছে (এই আখ্যাট প্রথম 
ব্যবহার করেন প্রখ্যাত ভারততত্বিৎ ম্যাক্স মিউলর)। এক জাতীয় দেবতায় এই 
বিশ্বাসের মধ্যে প্রাতফাঁলিত হয়েছে এক অত্যন্ত বিশিষ্ট ধরনের একেশ্বরবাদের প্রাত 
এক ধরনের প্রবণতা, যে-বাঁশম্ট একেশ্বরবাদ অত্যন্ত বিশদভাবে বার্ণিত হয়েছে 
পরবতরঁ উপনিষদসমূহে প্রচারত তত্বকথার মধ্যে 'দয়ে। 

পরবতর্শ বৈদিক যুগে 'জীবজগতের প্রভু" দেব প্রজাপাত দেবতাদের মধ্যে এক 
বাঁশস্ট স্থান আঁধকার করেছেন, তবে 1তাঁনও এক এবং আদ্িতীয় পরমেশ্বরের মর্ধাদা 
পান নি। পরে এই প্রজাপতি-পৃজার স্হান নিয়েছে দেবাদিদেব ব্রহ্মার আরাধনা । 

নদবজোন্দর গাণবর্ণনাষ উপরোক্ত এই সাদৃশ্যের মধ্যে সম্ভবত প্রাতিফলন মেলে 


বিভিন্ন বোদক আর্য উপজাতির 'ভিন্ন-ভিল্ন পৌরাণিক ভাব-কল্পনা মিলোমশে 
ন্রমশ এক হয়ে ওঠার লক্ষণের । 

বেদবাদ ব্রুমশ বিকশিত হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বেদোক্ত দেবদেবী এবং বোদক 
উপাখ্যানাদ ও আচার-অনুজ্ঠানের সাধারণ ছকের মধ্যে তাঁদের স্থান-মাহাত্যের 
তাৎপর্যেও পাঁরবর্তন ঘটতে লাগল । ক্রমশ প্রায় বিস্মাত হলেন প্রাচঈন দেবতারা; 
বরূণের মতো 'কিছু-কিছ্‌ 'জ্যেন্ত' দেবতা তাঁদের গুর্ত্ব ও প্রাধান্য হারালেন আর 
তাঁদের স্থান আধকার করে নিলেন দেবতা 'িষ্ুর মতো অন্য এমন সব দেবদেবী 
আগের আমলে যাঁদের দেবকুলে তেমন বিশেষ কোনো ভূমিকা ছিল না। 

ইন্দো-আর্য উপজাতিরা ভারতের নতুন-নতুন অণ্লে যত ছাড়িয়ে পড়তে লাগল 
ততই স্থানীয় অনার্য উপজাতিদের ধ্যানধারণা ও আচার-অনুষ্ঠানের িছ--কিছ 
আত্মসাৎ করে নিল বেদবাদ। উদাহরণস্বরূপ, এর প্রমাণ মেলে অথর্ব বেদের 
এন্দ্রজালক আচার-অনুজ্ঠান উদ্যাপন ও জাদুমন্ত্র উচ্চারণের মধ্যে । 

পরবতর্শ বোদক সাহিত্যে এক সমস্পম্ট ধারা লক্ষ্য করা যায়। দেখা যায়, ব্রঙ্গা, 
বিফ ও শিব (মহেশ্বর) এই “একীভূত ব্রিমৃতি” ক্রমশ প্রধান তিন দেবতা হিসেবে 
আবিভভ্তি হচ্ছেন। 

বোদক যৃগের ভারতীয়রা বহাবধ অপদেবতা এবং দেবত্ব আরোপ-করা নানা 
বৃক্ষলতা, পর্বত ও নদীর পৃজাও করতেন। 

দেবপৃজার একটি অপাঁরহার্য অঙ্গ ছিল যজ্ঞের অনুজ্ঠান। দেবতাদের উদ্দেশ্যে 
উচ্চারত মল্ত্রপাঠ ও প্রার্থনাও ধর্মান্‌ষ্ঠানের পক্ষে অপারিহার্য ছিল, যাঁদও এইসব 
স্তবগানের অনেকগ্দালই প্রথাঁসদ্ধ আচার-অন্[ম্ঠানের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তবে বিশেষ 
করে আগ্ন ও সোমের পূজায় আচার-অনুম্ঠান ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ । 

যজ্ঞের নিয়মকানুন ক্রমশ এতই জটিল হয়ে উঠল যে এর ফলে গড়ে উঠল 'বাভন্ন 
ধরনের কয়েকটি পুরোহিতগোম্ঠী। এই গোষ্ঠীগুলি নানা ধরনের ধমাঁয় ও 
আচারগত অনুষ্ঠান পরিচালনা করত। 

নানা ধরনের বিশেষ-বিশেষ পৃজাপার্বণ উপলক্ষে বিশদভাবে আচার-অন.ম্ঠান 
উদযাপন ছাড়াও বোদক বুগের ভারতীয়কে তাঁর প্রাত্যহক জীবনেও বেশ 
কয়েকাট আচার-অনষ্ঠান মেনে চলতে হোত, এটা ছিল তাঁর ধর্ম দৈনন্দিন আচার- 
আচরণ ও নিয়ম-নীতির 'বাধাঁবধান)-পালনের অঙ্গ। 

সন্তানের জন্ম, বিবাহ ও আত্মীয়স্বজনের মৃত্যুশোক পালনের জন্যেও বিশেষ- 
িশেষ আচার-অনুষ্ঠানের রীতি ছিল। পিতৃাপতামহের স্মাতিতর্পণ উপলক্ষে পূজার 
অনন্ঠানও ছিল জীবনে একটা গুরত্বপূর্ণ ব্যাপার । 

পরবতর্শ বোদক সাহিত্যে বা ব্রাহ্মণগীলতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে যজ্ঞের 
আচার-অনুষ্ঠানের ওপর । বৈদিক দেবতা প্রজাপাতকে এক্ষেত্রে নির্বাচন করা হয়েছে 


৬৪ 


যজ্জের অধিচ্ঠাতা দেবতা হিসেবে । যজ্ঞের অনুজ্ঞান উদ্যাপন এই সময়ে মানৃষের 
প্রধান গুণ, তার ধার্মকতার পাঁরমাপ 'হসেবে গণ্য হয়। একে দেখা হতে থাকে 
দেবতাদের ও মানুষের আস্তত্বের সঙ্ঘটক জাঁবনের মূলাভীত্ত হিসেবে। বলা হয় 
যে যজ্ঞ-অনজ্ঠান ও উপযুক্ত মন্দ্োচ্চারণ কেবলমান্র দেবতাদেরই নয়, মানুষেরও 
অমরত্বলাভ সম্ভব করে তোলে: এর ফলে দেবতারা সন্তুষ্ট হয়ে মানুষের বংশধারা 
বজায় রাখেন, সন্তানসম্তভাতি ও সুখস্বাচ্ছন্দ্য দেন তাদের। 

ব্রাহ্মণ পুরোহিতরা এই ধারণাকে আরও বদ্ধমূল করে তুলতে সাহায্য করেন। 
এমন ধারণার সণ্টার করেন তাঁরা যে লোকে মনে করতে থাকে আচার-অনচ্ঠান 
উদযাপনের সময় বিশেষ এক মুহর্তে তাঁরা দেবতাদের সঙ্গে পুরোপ্ার একাত্ম 
হয়ে যান এবং একমান্র তাঁরাই দেবতাদের মধ্যে পূজার উৎসগরকৃত উপচার সাঠিকভাবে 
বিতরণ করে দিতে সমর্থ। 

খান্বেদে বার্ণত বিবরণ অন্যায়শ যজ্ঞের অন্ুম্ঠান পালিত হোত এইভাবে : 
প্রথমে বিশেষভাবে নির্মিত এক বেদীর ওপর মল্লপৃত খড় 'বাছয়ে দেবতাদের 
আঁধজ্ঠানের স্থান তোর করা হোত। অতঃপর যজ্ঞের আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হোত 
এবং িছ--পাঁরমাণে সোমরস বা দুধ ঢেলে দেয়া হোত সেই যজ্ঞাপ্নিতে। এরপর 
ফসলের দানা ছাঁড়য়ে দেয়া হোত কিংবা পশুবলি অনুষ্ঠিত হোত। 

গোড়ার দিকে বৌদক আর্য উপজাতগ্যালর দেবপূজার জন্যে কোনো মান্দির 
থাকত না। পরে, সম্ভবত স্থানীয় উপজাতিদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদর প্রভাবে, 
দেবপৃজার জন্যে বিশেষ ধরনের বাঁড় বা মন্দির তোর করা হতে থাকে। 

বৈদিক যুগে দেবপূজার জন্যে দেবতাদের প্রাতকাত বা কজ্পনাভান্তিক ছাঁবি 
ব্যবহৃত হোত কিনা, এ 'নয়ে পণ্ডিতেরা একমত হতে পারেন নি। তবে 
বেদগ্রম্থগ্াীলর কিছু-কিছু শ্লোক থেকে এরকম ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে এই সময়ে 
দেবতাদের মানাঁবক রূপকলজ্পনার ছবি সম্ভবত প্রচাঁলত ছিল। 


মহাকাব্যায় পোরাণিক উপাখ্যান 


ভারতায় মহাকাব্যগ্বালতে যে-পৌরাণিক উপাখ্যানসমান্ট পাওয়া যায় তা 
সাধারণভাবে বেদের পৌরাণক ভানত্ত থেকে পৃথক, যাঁদও মহাকাব্যগলির িছু- 
কিছু উপাখ্যান ও ধ্যানধারণার মধ্যে পূর্ববর্তাঁ যুগেরও প্রতিধধনি শোনা যায়। 
যেমন বেদগ্রল্থগ্মীলতে তেমনই মহাকাব্যীয় পুরাণেও 'কিছু-কিছ্‌ দেবদেবীর 
ভাবরূপ-কল্পনায় বহ-ঈশ্বরবাদের ও দেবতায় নরত্ব-আরোপের নানাবিধ লক্ষণ স্প্ট; 
এক বিশেষ ধরনের সর্বেশ্বরবাদেরও 'কিছু-কিছ্‌ লক্ষণ সেখানে বর্তমান। অন্যাদকে 


5498 ৬৫ 


মহাকাব্যগুলতে সামাগ্রকভাবে যে-পৌরাণিক উপাখ্যানসমন্টি পাওয়া যায় তার কিছব- 
কিছু অংশে নতুন প্রবণতা ও 'বষয়বন্তুরও সন্ধান মেলে। 

মহাকাব্যগুঁলর পৌরাণিক উপাখ্যানসমন্টি থেকে দ্যাট এীতহ্যের ধারা স্পন্ট 
হয়ে ওঠে। এর একটি হল প্রাচনতর এীতহ্য, বার মধ্যে দিয়ে বোদিক কিংবা প্রাক- 
বোদিক (ইন্দো-ইরানীয়) যুগের তৎকাল-প্রচলিত ধ্যানধারণা প্রাতফলিত; আর 
বিফ ও শিব এই তিন দেবতার ক্রমবর্ধমান প্রাধান্যের সঙ্গে জাঁড়ত নতুন 
প্রবণতাগুলি। এই "দ্বিতীয় এীতিহ্যটিই পরবতর্শকালে বিকশিত হিন্দুধর্মের সঙ্গে 
মহাকাব্যয় পুপনাণের যোগসত্র স্্পন করেছে। 

বেদগ্রল্থসমূহের মতো মহাকাব্যগ্লিতেও বিষ ইন্দ্র-দেবতার সঙ্গে সংযুক্ত, 
[তিনিও 'বশ্বব্রক্মান্ড পরিক্রমণ করেন ণতনটি পদক্ষেপ'এ। তবে মহাকাব্যগুঁিতে 
বিষুর ভামিকা এই দুই দেবতার মৈন্রী'র ক্ষেত্রে প্রধান। মহাকাব্যগুলিতে 'চান্রত 
িষ্ণু-দেবতা বিরল নানা ক্ষমতার আঁধকারী : 'িশ্বরুল্মাণ্ডে যা-কিছ্‌র আস্তত্ব আছে 
সেই সবই তিনি একাধারে সূম্টি, রক্ষা ও ধৰংস করছেন। অর্থাৎ, পরবতখ 
হিন্দুধর্মের এীতিহ্যে যে-কাজগুল বহ্ধা, বিষ ও শিব এই তিন দেবতা বা 
ন্রিমূর্তির মধ্যে বশ্টিত হয়েছে, ওই স্তরে সেই সব কর্ম একাই সাধন করছেন 
স্বয়ং বু 

প্রসঙ্গত এটা উল্লেখ্য যে মহাকাব্যগুলিতে ব্রহ্মাও বিষ্ুর মতো একই কাজ নিম্পন্ন 
করছেন। প্রধান-প্রধান দেবতার গুণাগ্ণের মধ্যে এই সাদৃশ্যের উপস্থিত হীঙ্গত 
দিচ্ছে যে মহাকাব্গলিতে তখনও পর্যন্ত দেবতাদের ক্রিয়াকলাপের মধ্যে সস্পম্ট 
কোনো পার্থক্যের সীমারেখা নার্দ্ট হয় নি এবং দেবতাদের “একীভূত ন্রিমৃতি“র 
ধারণাও গড়ে ওঠে নি তখনও । 

মহাকাব্যগ্ীলতেই আমরা প্রথম রণদেবতা স্কন্দের সাক্ষাৎ পাই। এক্ষেত্রে 
অপর একটি কৌতূহলোদ্দীপক ব্যাপার হচ্ছে ইন্দ্র ও বরুণের ভাবরুপ-কল্পনায় 
র্‌পান্তরসাধন। বেদগ্রন্থগ্লিতে ইন্দ্র দেবসমাজে প্রধান স্ান অধিকার করে ছিলেন। 
কিন্তু মহাকাব্যগিতে যোদ্ধ-প্রধান দেবতা স্কন্দ ইন্দ্রতুল্য শক্তির আঁধকারী। বরুণ- 
দেবতাও এখানে আর বিশ্বের শৃঙ্খলা (খেত) নিয়ন্ত্রণ করেন না, তিনিও এখন গৌণ 
গুরুত্বের অধিকার এক দেবতামান্র। 

মহাকাব্গ্ালতে পৌরাণিক উপাখ্যানাদির যে-জটিলতা লক্ষ্য করা যায় খুব সম্ভব 
তার কারণ হল মহাকাব্যগুলির বিষয়বন্তুই ভিন্ন-ভিন্ন যুগপর্যায়ের সঙ্গে সম্পরকিতি । 
যুগের নানা পাঠ। রাম-চরিত্র বর্ণনার ক্ষেত্রে এটা বিশেষ করে চোখে পড়ে। 
রামায়ণের গোড়ার অংশগুলিতে রাম উপচ্থ্যাপত হয়েছেন সব রকম দৈবী ক্ষমতা- 


৬৬ 


বাঁজত সাধারণ এক মানুষ হিসেবে, কিন্তু কাব্যাটির পরবতর্শ অংশে তিনি আঁবর্ভূত 
হয়েছেন বিষ্ুর মন্ুষ্যর্পধারী অবতাররূপে। 

এইরকম অপর একটি কৌতূহলোদ্দীপক চারন্র হলেন কৃষ্ণ। মহাভারতে তিনি 
চন্রিত হয়েছেন যাদব উপজাতির নেতা ও পাশ্ডবদের বন্ধ হিসেবেই শুধ্‌ নন, 
বষ্দর অন্যতম এক অবতার, এক "পরম পুরুষ এবং পাঁরশেষে “সমগ্র জগতের 
কার্যকারণ-ভভীত্তস্বর্প” এক দেবতারূপে । অবশ্য মহাকাব্যায় চরিন্রগ্ীলির চিত্রণের 
ক্ষেত্রে এই রপাস্তরসাধন তৎকালীন মানুষের দর্শন ও ধর্মাবশ্বাসের ক্ষেত্রে নব- 
সংযোজিত নানা বৈশিল্ট্যেরই প্রাতিফলনমান্ন। প্রসঙ্গত স্ম্তব্য যে খুশস্টপূর্ব প্রথম 
সহম্্রাব্দের "দ্বিতীয়ার্ধে ভারতে তখন বৈষণব-ধর্মমতের আবির্ভাব ও তার দ্ুত বিস্তার 
ঘটে চলেছে। 


বোদক সাহিত্য 


বেদগ্রল্থগ্যীল ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন 'লাখত সাহিত্য। অবশ্য সেগুঁলর 
বিষয়বস্তু যেমন বহনাবাঁচত্র, তেমনই একাধিক এীতহাসক কালপর্বের 'লাখত পাঠ 
তার অন্তভূরক্ত। প্রাচীন এতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গাতি রেখে বেদগ্রল্থগাঁলকে কয়েকাঁট 
অংশে 1বভক্ত করে দেখাটাই রীতি । এদের মধ্যে প্রথম অংশ অন্তভক্ত হল স্তোত্র বা 
সূক্ত অথবা সংাহতাসমূহ। খগ্বেদ (সৃক্তের সমন্টি), সামবেদ (ভ্তবগানের সমান্টি), 
যজুবেদি প্রোর্থনা ও যজ্ঞের সত্রবদ্ধের সমাম্টি) এবং অথর্ববেদ (এন্দ্রজালিক 
মন্ত্রোচ্চারণ ও জাদ:বিদ্যা-অন:ম্ঠানের নিয়মাবলীর সমন্টি) মিলিতভাবে ওই সংহিতা 
নামে পারচিত। অতঃপর দ্বিতীয় অংশ হল ব্রাহ্ণসমূহ। সংহিতাসমূহের আচার- 
অনুষ্ঠান সম্পকিত স্তোত্র ও মন্ত্রাদর ব্যাখ্যা এগুলি । তৃতীয় অংশ আরণ্যকসমূহ্‌ 
রচিত হয় বনবাসী তপস্বীদের জন্যে, আর চতুর্থ অংশ উপনিষদসমূহ হল একন্র- 
গ্রীথত ধর্ম ও দর্শন-শাস্তের আলোচনা-গ্রল্থ। 

এগুলির মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন গ্রন্থ হল খগ্বেদ। খ্স্টপূর্ব দ্বিতীয় 
সহম্্াব্দের শেষাংশে ও প্রথম সহম্্রাব্দের সূচনায় এই গ্রন্থটি সংকালত হয়। 
সৃন্টতত্ত ও 'বিবাহ-সম্বন্ধীয় স্তোত্রাদি সহ বহনীবচিন্র বিষয় সম্বন্ধে রচিত এক 
হাজার আটাশাঁট সুক্ত এই গ্রন্থের অন্তভূক্ত। এর 'কিছদ পরবতাঁ যূগে 
অথববেদ লাখত হয়। গোড়ায় পূর্ব ভারতের বোদিক আর্য উপজাতিরাই-যে এর 
সূক্তগীল রচনা করে এটা স্পম্ট। তবে কয়েকটি খ্দব প্রাচীন সুক্তও এর অন্তভূক্ত। 
অথর্ববেদের বেশাকছ সূক্তে অনার্য স্থানীয় উপজাতিদের ধর্মীবশ্বাসের প্রাতিফলন 
মেলে। 

সংহিতাগ্যীলতে সংকাঁলত পাঠের অধিকাংশই অত্যন্ত বোশরকম অসম মানের, 


৬৭ 


তবু এই প্রাচীন লিখিত রচনার সংকলনগূলিকে মুখে-মুখে প্রচলিত লোক- 
সাহত্যের দীর্ঘকালীন এক এতহ্যের প্রাতফলন সাহতাকর্ম হিসেবে গণ্য করা 
চলে। সংহিতাগ্ীলর রচয়িতাদের বলা হয় খাঁষ। তাঁদের শ্লোকগ্লি কণ্ঠস্ছ করে 
প্রাচীন কালের চারণ-গায়করা গাইতেন। খগ্বেদের এমন কি সবচেয়ে প্রাচীন 
সূক্তগ্যালও ছন্দোবন্ধের স্ানার্দন্ট নিয়ম মেনে রচনা করা হয়েছে এবং পরে অন্যান্য 
কাব্যরচনায়ও ব্যবহৃত হয়েছে এই সব ছন্দ। এগ্ীলির মধ্যে একটি ছন্দোবন্ধ অনুস্ুপ 
পরবতর্শ যুগে শ্লোক বা বিশেষ এক ধরনের ছন্দোবদ্ধ পদ-রচনার ভীত্তি হয়ে 
দাঁড়ায়। প্রাচীন ভারতীয় কাব্য-সাহিত্যে আবার এই বিশেষ পদ-রচনার ধরনই হয়ে 
দাঁড়ায় কাবও।র প্রধান বাহন। 

বেদসমূহের বহু সূক্তেই প্রকৃতির ও মানাীবক আবেগ-অনৃভূঁতির এমন কাব্যময় 
বর্ণনা আছে এবং এমন সমৃদ্ধ উপমা ও চিন্রকল্পে সেগুলি পূর্ণ যে তাদের আদর্শ 
কবিতা বলা যেতে পারে। উষার দেবী উষসের উদ্দেশে রচিত স্তবগ্ঁলি তো 
াবশেষভাবেই অনূপ্রাণনায় পূর্ণ। সমগ্রভাবে দেখলে এই স্তোত্রগল সবই মূলত 
ধর্মশাস্ত্রের অঙ্গ, তব্দ প্রাত্যহক জীবনে ও লোক-এঁতিহ্যে তাদের মূল নিহিত বলে 
প্রায়শই স্তোন্রগীলকে ধর্মীনরপেক্ষ কাব্য বলে মনে হয়। বহ্‌ বোদক রচনার এই 
বোৌশম্ট্য সাধারণভাবে বেদবাদের স্বানা্দস্ট প্রকৃতি ও বহ্‌ বোঁদক ধ্যানধারণায় 
মানবত্ব-আরোপণ গুণেরই প্রাতফলন। বেদসমূহে দেবতাদের গণ্য করা হয়েছে 
মানুষের ঘাঁনম্ঠ সদৃশ হিসেবে এবং তাঁদের উদ্দেশে নিবোদত স্তোব্রগীলতে 
খাঁষকবিরা নিজেদেরই জাগতিক অভিজ্ঞতা ও আবেগ-অনুভূতির বর্ণনা 'দয়েছেন, 
নিজেদের আনন্দ-বেদনার কথাই ব্যক্ত করেছেন। 

বৈদিক সাহত্যে, এমন কি ধগ্বেদেও, নাটকীয় উপস্থাপনার নানা লক্ষণ নজরে 
পড়ে। পরবতর্ন সাহিত্যে এই লক্ষণগলিই পুরোদস্তুর নাটকের আকারে বিকশিত 
হয়ে ওঠে। এর একাঁট আগ্রহোদ্দীপক উদাহরণ হল খগ্বেদের তথাকাথত 'স্তোত্রে 
কথোপকথন” অংশগ্চালি। মনে হয় এগুলি নিছক ধর্মীয় মল্মমান্র ছিল না, নাটকীয় 
উপস্থাপনার জন্যেও লাখিত হয়োছিল। খগ্বেদের কিছু-কিছ্‌ উপাখ্যান পরবতর্ঁ 
কালে ভারতীয় কবি-নাট্যকারদের নাটক রচনার িষয়বস্তুও যুগিয়েছে। যেমন, 
মহাকবি কালিদাস তাঁর বক্রমোবশশী* বৌরত্ববলে জয়-করা উরবশন) নাটকের 'ভান্ত 
হিসেবে গ্রহণ করেছেন স্বর্গের অপ্সরা উর্বশীর প্রাতি রাজা পুরুরবার প্রেমের 
বৈদিক উপাখ্যানটি। 

বোদিক সাহিত্যের বেশকিছ সক্তে বার্ণত হয়েছে শুভ ও অশুভ শাক্তর মধ্যে, 
দেবতা ও দানবদের মধ্যে, বাভন্ন উপজাতির মধ্যে দ্বন্ব ও সংগ্রামের কাহিনী । 
এক্ষেত্রে দশ নরপাঁতর মধ্যে সংগ্রামের কাহিনীট 'বিশেষরকম চিত্তাকর্ষক, যাতে 
বলা হয়েছে কীভাবে একমান্ন ইন্দ্র-দেবতার সহায়তায় পরান্লাণ্ড রাঞ। স:দাস উত্তাল 


৬৮ 


ঢেউ ভেঙে পরূষনী নদী পার হয়ে পরাজয় এড়াতে সমর্থ হয়েছিলেন। পণ্ডিতেরা 
সাঠিকভাবেই খগ্বেদকে মহাকাব্যগ্ঁলর প্রধান বৌশম্ট/সূচক যে-সমস্ত বারকথা, 
তাদের মূল উৎস বলে গণ্য করেন। সাহত্য-ইতিহাসবেন্তার দৃম্টকোণ থেকে বিচার 
করলে ব্রাহ্মণগুলিকে সংহিতাসমূহের চেয়ে কম আগ্রহোদ্দীপক ঠেকে, যাঁদও 
ব্রাহ্ষণগ্লিতেও ধমাঁয় যজ্ঞ ইত্যাদি আচার-অনুষ্তানের গদ্যময় টীকা-ভাষ্যের 
পাশাপাশি আমরা সাক্ষাৎ পাই মহাপ্রলয়ের কাহিনী নিয়ে এক ধরনের ভারতীয় 
ভাষ্যের। 

বেদাঙ্গগ্ীলও বোদক সাহিত্যের অন্তর্গত। এগ্যালর মধ্যে দিয়ে বৈজ্ঞানক 
জ্ঞানের বিকাশের তৎকালীন নতুন এক স্তরের পাঁরচয় মেলে। বেদাঙ্গগ্যাল ছ"ট 
শাখায় বিভক্ত: শিক্ষা (শব্দাবদ্যা), ব্যাকরণ, নিরুক্ত (শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় ও মূল 
ব্যৎপান্ত সংক্রান্ত বদ্যা), কল্প (ধমাঁয় ভজনপূজন-পদ্ধাত সংক্রান্ত শাস্ত্র) ছান্দস্‌ 
(ছন্দোবদ্যা) এবং জ্যোতিষ (জ্যোতার্বদ্যা)। পরবতণ যুগের লাখত শাস্তসমূহের 
পাঁরচয়সূচক 'স্মৃতি'র পাঁরবর্তে উপরোক্ত এই সমস্ত শাস্তই সাধারণভাবে 'শ্রাত' 
নামে পারচিত। 


মহাকাব্য-সাহিত্য 


প্রান ভারতের মহাকাব্যগ্লির মধ্যে সবচেয়ে বিশিম্ট হল মহাভারত ও 
রামায়ণ । গ্রল্থাকারে এই দাটি কাব্য 'লাপবদ্ধ হয় বহ7 পরে, খুঈস্টপূর্ব চর্তুর্থ 
শতাব্দী থেকে খনীস্টীয় চতুর্থ শতাব্দীর মধ্যে। তবে কাব্যদুটির মূল কাঁহন? 
এবং গ্রন্থদাটর অন্তরভক্ত বহু উপাখ্যান নিঃসন্দেহে খুস্টপূর্ব প্রথম সহম্রাব্দের 
প্রথমাধের সময়কার 

মহাভারতের মুল বিষয়বস্তু হল পাণ্ডব ও কৌরবদের মধ্যে এক দ্বন্দ-সংঘাতের 
কাহিনী, যার পরিণতি ঘটে আঠারো দিনব্যাপী কুরুক্ষেত্রের মহাসমরে । 

অপরপক্ষে রামায়ণে বর্নিত হয়েছে দ:স্ট রাক্ষস রাবণ কর্তৃক অপহৃতা "প্রয়তম্য 
সীতার উদ্ধারের জন্যে রাজা রামের লঙ্কা-আভযান। কিছু-কিছু পণ্ডিত মহাভারতের 
কাহনীকে সত্য ঘটনার প্রাতিচিন্রণ হিসেবে গ্রহণ করার পক্ষপাতাঁ। তাঁরা মনে করেন 
ঘটনাগুীল ঘটেছিল সম্ভবত খুস্টপূর্ব দ্বিতীয় সহত্রাব্দের শেষ ও প্রথম সহম্রাব্দের 
সৃচনাকালে। অপরপক্ষে রামায়ণের কাহননকে প্রায়শই আর্য উপজাতিগ্দাল ও 
দক্ষিণ ভারতের জনসাধারণের মধ্যে সংগ্রামের স্মারক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে । 
তবে কাব্যদুটিতে বার্ণত ঘটনাবলী এঁতিহাঁসক বিচারে স্মনীর্দন্ট সত্য হোক 
বা না-ই হোক, দুটি কাব্যই তর্কাতীতিভাবে বহু শতাব্দী জুড়ে জনমানসে ও 
এঁতিহ্যে প্রোথিত হয়ে আছে। 


৬৯ 


গকছু-কছু পাঁণ্ডিত রামায়ণকে গণ্য করে থাকেন উত্তর ভারত থেকে ইন্দো- 
আর্যদের দক্ষিণে সুদূর লঙুকাদ্বীপ (বর্তমানের শ্রীলঙকা) পর্যস্ত অনুপ্রবেশের এক 
সাহাত্যিক দলিল হিসেবে। 

দুট মহাকাব্যই প্রকাণ্ড-কলেবর দুই সংকলন । মহাভারতে আছে প্রায় এক লক্ষ 
শদ্ব-পর্াক্তীবাশিস্ট পদ বা শ্লোক, আর রামায়ণে চব্বশ হাজার শ্লোক। 

এই দু কাব্যে মূল কাহিনী ছাড়াও অসংখ্য পার্থ কিংবা প্রক্ষিপ্ত উপাখ্যানের 
দেখা মেলে । মহাভারতে এই পার উপাখ্যানগাল গ্রন্থের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জুড়ে 
আছে। এর 'কছীকছ্‌ উপাখ্যান হয় মূল কাহনীর সঙ্গে সম্পূর্ণ সম্পক্শন্য 
ধক্ষপ্ত গুড আতিকথা, আর নয়তো 'নল-দময়ন্তঈ'র উপাখ্যানের মতো গোটা একেকাঁট 
গল্পকথা কিংবা ধর্মমআলোচনা। তবু, এ-সমস্ত সত্বেও, মহাভারত ও রামায়ণকে 
চমতকার সু-সংহত রচনা বলে গণ্য না-করে উপায় নেই। কাব্যদ্াট বাভল্ন কাহনী 
ও রচনারীতির জোড়াতাড়া-দেয়া মোজাইক প্যাটার্ন নয়, এঁক্যবদ্ধ দুটি রচনা এবং 
এর প্রতভোকটি রচনা হিসেবে এক ও অখণ্ড । এঁতিহ্যগতভাবে ব্যাসদেবকে মহাভারতের 
দুই কাব বা খাঁষ সম্বন্ধে স্মানার্ট কিছুই জানা যায় না। মনে হয় ব্যাস ও 
বাহমীক দুজনেই ছিলেন লোককাঁবি, তবে তাঁরা অন্যদের চেয়ে এত বোঁশ 'বখ্যাত 
হয়োছলেন যে তাঁদের নাম বংশ-পরম্পরায় প্রচালত হয়ে এসেছে। এই কাব্যদুট 
কয়েক শতাব্দী ধরে লোকের মৃুখে-মখে চলে আসায় এদের রচনারীতি ও ভাষার 
ওপর তার প্রভাব পড়েছে। 

উত্তরপুরূষের কাছে বংশ-পরম্পরায় এই দুই মহাকাব্য প্রাচীন ভারতের দুটি 
খাঁটি বশ্বকোষ হয়ে থেকেছে। প্রাচীন ভারতীয়দের সামাজিক ও সাংস্কাতিক জীবন, 
রাজনোতিক সংগঠন ও প্রাত্যহক জীবনযান্রার বহ্াবিচিন্র দিকের কৌতূহলোদ্দীপক 
নানা উপাদানের সংগ্রহ-ভান্ডার হয়ে আছে কাব্যদুটি। কথাটা বললে বোধহয় 
অত্যুক্তি হয় না যে ভারতে এখনও পর্যন্ত এই কাব্যদুটি জনাপ্রয়তায় অপ্রাতিদ্বন্দবী। 
প্রাচীন কালে এবং মধ্য যুগে গ্রন্থদ্যাটর খ্যাতি ভারতের চতুঃসীমার বাইরে বহন্দূর 
পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল, তা বিস্তৃত হয়েছিল পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ায়, দূর এবং 
মধ্য প্রাচেও। এয্‌গে বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় ভাষাতেও মহাভারত ও রামায়ণের 
অন্দবাদ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে । বীটোফেন, হাইনে, রোঁদ্যা, বোৌলন(স্ক, 
গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ ও জওহরলাল নেহরু সহ পাশ্চাত্য ও প্রাচ্য সংস্কাতির বহ বিশিষ্ট 
প্রবক্তা মহাকাব্যদযাটির দ্বারা অনপ্রাণিত হয়েছেন। এই দুই মহাকাব্যের 
উপাখ্যানাদ ভারতের সবচেয়ে 'প্রয় কাব্য-কাহিনীগুলির অন্তর্ভুক্ত থেকে 
গেছে। 


৭০9 


বিজ্ঞানের প্রথম অন্কুরোদগম 


বোঁদক সাহিত্য থেকে যে-সব তথ্য পাওয়া যায় তা পাঠককে যে কেবল প্রাচীন 
যুগে সাঁহত্যের বিকাশ সম্বন্ধে একটা ধারণা দেয় তা-ই নয়, এ-সম্পাঁকতি তথ্য- 
প্রমাণ কিছুটা খণ্ডিত ও অসম্পূর্ণ ধরনের হলেও তা থেকে ওই বিশেষ যুগে 
আর্জত বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের স্তরেরও একটা আভাস মেলে। 
সঙ্গে কছু-পাঁরমাণে পরিচাতি। বোদিক যুগের ভারতীয়রা শুধুষে সূর্য ও চন্দ্রের 
সঙ্গে পারচিত ছিলেন তা-ই নয়, অন্যান্য গ্রহের অস্তিত্বের কথাও জানতেন তাঁরা, 
বন্তৃুত গোটা একেকটা নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গেই পরিচিতি ছিল তাঁদের । তাঁদের বর্ষপা্জ 
ও কাল গণনার পদ্ধাতি 'ছল বিস্তারিত ও যথাযথভাবে তা লাঁপিবদ্ধও ছিল। বছরটিকে 
তাঁরা ভাগ করেছিলেন বারো মাসে এবং প্রাত মাসের জন্যে ধার্য করোছলেন 'তিরিশাট 
করে 'দন। 

সেই সুদূর অতীত যুগে আঁজঁত গাঁণতের জ্ঞানের কথাও জানতে পার 
আমরা বৈদিক সাহিত্য থেকে। এক্ষেত্রে বিশেষ কৌতৃহলোদ্দীপক ব্যাপার ছিল 
শুজ্পসূত্রসমূহ বা সুতোর মাপের নিয়মসমূহ। এই পদ্ধাতিতে মাপজোকের 'বাঁভন্ন 
রীতি প্রচলিত ছিল। সংশ্লিন্ট বোদক পাঠে বেদীর মাপ জোক, নানা ধরনের 
জ্যামিতিক ছাদের অবয়ব নির্মাণ ও হিসাবানকাশের বিশদ নিয়মকানূনের পদ্ধাতি 
লাপবদ্ধ আছে। 

বোদক সমাজের ওই পর্যায়ে চিকিৎসা-বিজ্ঞান অপেক্ষাকৃত উচ্চ স্তরে 
পেশছেছিল। মানুষের বহু অসখাঁবসখ ও (লতাপাতা-শকড়বাকড়, বিশেষ ধরনের 
মলম ও জল-ঁচাকংসা, ইত্যাঁদর সাহায্যে) তার চিকিৎসার নানা ধরনের সঙ্গে তখন 
পাঁরচিত ছিলেন ভারতীয়রা। গোড়ার দিককার বোদক রচনাগ্যাল অনুযায়ী 
সেকালেই সমাজে পেশাদার চিকিৎসক (বো ভিষক্‌) ছিলেন। বিশেষ করে অথর্ববেদে 
ওষুধপন্র সম্বন্ধে বিশদ বিবরণাঁদ পাওয়া যায়, রোগ-দুরীকরণের নানা মল্ত্রতল্মও 
লাঁপবদ্ধ আছে সেখানে । পৌরাণিক সংস্কারাচ্ছন্ন ধ্যানধারণার পাশাপাঁশ আছে 
মোটামুটি যুক্তীসিদ্ধ মন্তব্য ও "সিদ্ধান্তাদি। 

বৈদিক য্‌গের ভারতীয়রা মানুষের অসঃখাঁবসুখকে দেবদেবীদের ক্রোধ আর 
রোগ-নিরাময়কে তাঁদের প্রসন্ন হওয়ার লক্ষণ বলে মনে করতেন। বেদে স্বর্গের 
চাকৎসক আশ্বনীকুমারদ্বয় এবং ণভষক্‌-রাজদ্বয়' বলে গণ্য বরুণ ও সোম-দেবতার 
প্রাত নিবোদত বিশেষ কতগুলি স্তোন্র আছে। ওই সময়ে রোগ-চিকিৎসায় গ্রুত্বপূর্ণ 
একটা ভূমিকা ছিল জাদ্দবিদ্যার, তবে লতাপাতা-শিকড়বাকড়ের গুণাবলী এবং 
ওষুধ হিসেবে সেগুলির প্রয়োগ-পন্ধতি জানা ছিল তখনই । সংহতাগ্দাল থেকে 


৭১ 


দেখা যায় যে ওই সময়কার চিকিৎসকরা চোখ, হৃদষন্ত্র, পাকস্থলী, ফুসফুস ও চর্মের 
নানা রোগের সঙ্গে পারচিত ছিলেন৷ বৈদিক সাহিত্যে মানবদেহের প্রায় তিন শো'র 
মতো 'বাভন্ন অঙ্গ ও অংশের নাম পাওয়া যায়। 

প্রত্ততাত্বক খননকার্য ও লিখিত রচনার সূত্র থেকে ওই যুগের বৈষাঁয়ক 
সংস্কাঁত এবং বোদক যুগের প্রাচীন ভারতীয়দের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা সম্বন্ধেও 
খানিক-খানিক ধারণা করা সম্ভব৷ 


উপনিষদসমূহ ও তাদের শিক্ষা 


ভারতে উপনিষদগ্যালকে বোদিক সাহিত্যের চূড়ান্ত অংশ হিসেবে গণ্য করাই 
সাধারণ রীতি। উপনিষদ হল বেশ বড় একগুচ্ছ গ্রন্থ, বৈদিক আতিকথামূলক 
উপাখ্যান ও আচার-অনুষ্ঠানসমৃহের নানা ধায় ও দার্শনিক ব্যাখ্যা যার অন্তভূর্তি। 
উপাঁনষদগ্ীল বেদান্ত বা বেদের চূড়ান্ত অংশ নামেও গণ্য। পরে এই নাম 
ষড়্‌দর্শনের মধ্যে একটি দার্শানক ভাবধারার নাম হিসেবে বিশেষভাবে গৃহীত হয়। 
এই দার্শানক মতের প্রবক্তা-গোষ্ঠী দাবি করতেন যে তাঁরা অন্যদের চেয়ে আরও 
কড়াকাঁড়ভাবে প্রাচীন ধর্ম ও দার্শানক মত অনুসারী । বোদক ধর্মের অনুশাসনাদ 
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভ্রমশ বোশ-বোশ মূর্ত ও স্ানার্দস্ট আকারে বিশদ হয়ে ওঠে। 
আবার এর সমান্তরাল রেখায় সমগ্র ধর্মব্বস্থার মধ্যে থেকে িছুীকছ্‌ স্বানভর 
চিন্তা-ভাবনাকে পৃথক করার কাজও চলতে থাকে । যে-সমস্ত গ্রন্থে এইসব চিন্তা- 
ভাবনাকে বিশদ করে তোলা হয় পরবতাঁ কালের বৈজ্ঞানিক তত্ব ইত্যাঁদর সেগুলি 
হয়ে ওঠে পাঁথকৎ। 

উপানষদ-গ্রম্থগুলি মূলত ভারতীয় সংস্কৃতিতে বোদক যুগের বিকাশের 
সর্বোচ্চ পর্যায় এবং ওই একই সঙ্গে তার স্বাভাঁবক সীমারও পরিচয়বাহাঁ। 
উপনিষদসমূহ রচনার আগে যে-সমস্ত ধ্যানধারণার উত্তব ও বিকাশ ঘটেছিল গোটা 
একটা যুগপর্ধায় ধরে উপাঁনষদগদাীলিতে সমগ্রভাবে সেগ্যালর এক মৌল ধরনের 
আগ্রহোদ্দীপক পনার্বচার নিষ্পন্ন হয়েছে। মূলত এীতহ্যাঁসদ্ধ এক দৃম্টকোণ 
থেকে বিচার শুরু করে এই গ্রল্থগ্দলির রচয়িতারা বৌদক বিষয়সমূহের এক্তিয়ার 
বহহদূর আতন্রম করে গিয়ে সমস্যাদির সমাধানে উপনীত হতে সমর্থ হয়েছেন। 
এই অন:প্রোরত 'সাদ্ধর ফলাফল লক্ষ্য করা যেতে পারে ভারতের পরবতর্শ সাংস্কৃতিক 
শিববর্তনের যুগ-পরম্পরায় আগাগোড়া উপাঁনষদসমূহের উভবল ভাঁমকা পালনের 
মধ্যে। পরবতাঁ পুরুষ-পরম্পরার কাছে এই গ্রন্থগ্ীল একদিকে যেমন অত্যন্ত প্রাচীন 
এবং ফলত একান্ত শ্রদ্ধা্য পবিল্র সংস্কৃতির আকর হয়ে থেকেছে, তেমনই অন্যদিকে 
তা হয়ে উঠেছে বেদবাদ থেকে হীতিমধ্যেই বহুদূরে অপসৃত এক নবীন ধারার 


৭২ 


ধমাঁয় ও দার্শনিক ধ্যানধারণার অপারিহার্য অংশ। এইভাবে ভারতের ইতিহাসে 
এই গ্রন্থগ্যীল ইতিহাসের দুটি কালপর্বের মধ্যে জীবন্ত যোগসূত্র হয়ে দাঁড়য়েছে 
এবং বৃহত্তর তাৎপর্ষে হয়ে দাঁড়য়েছে ভারতের সমগ্র সাংস্কৃতিক এীতিহ্যের 
ধারাবাহিকতার প্রতীক । উপনিষৎ শব্দের মূল ব্যৎপান্ত কী, এর মীমাংসা এখনও 
পর্যন্ত পুরোপার নিম্পন্ন হয় নি। খুব সম্ভব শব্দটি ইঙ্গত দিচ্ছে শাস্ত্রীয় পাঠ 
প্রচারের ধরনটির, অর্থাৎ গুরু তাঁর পদপ্রান্তে উপাবন্ট শিষ্যবর্গের কাছে শাস্্বব্যাখ্যা 
করছেন (উপ-নি+সদ_নিকটে উপবেশন) এই ব্যাপারটির। পরে অবশ্য 'উপনিষং 
শব্দাটর অর্থ করা হয় 'যাহা হইতে গুঢ়বিষয়ে জ্ঞানলাভ হয়”। উপনিষদসমূহের 
সাধারণভাবে স্বীকৃত মোট সংখ্যা হল ১০৮, তবে এদের মধ্যে মান্ত ১৩ খাঁন 
সবচেয়ে প্রাচীন গ্রন্থ হিসেবে গণ্য। এই ১৩ খান গ্রন্থকেই মূল উপাঁনষদ বলা 
হয় এবং এগাঁল খ্ডীস্টপূর্ব সাত থেকে চার শতকের মধ্যে রাচত হয়োছিল বলে 
মনে করা হয়। এদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি গ্রল্থ 'বৃহদারণ্যক' ও “ছান্দোগ্য, 
সবচেয়ে প্রাচীন দুখাঁন উপাঁনষদও বটে। এই সমস্ত গ্রন্থের ভাষ্যকার কথক সাধারণত 
কোনো-না-কোনো শ্রদ্ধাভাজন গুরু বা খাব (এবং এই গুরুরা খুব সম্ভবত বাস্তব 
এীতহাঁসক নানা ব্যক্তি)। গ্রন্থগুলিতে 'লাপবদ্ধ উপদেশ ও আলোচনাসমূহের 
প্রধান বক্তব্য বিষয় হল বেদসমূহের সাঠিক পাঠোদ্ধার। বেদসমূহের আংক্ষাণক 
অর্থ ইতিমধ্যেই অন্যদের কাছে পাঁরহ্কার এটা ধরে 'নয়ে এবং বেদগ্রল্থগুীলকে 
রূপ্ক-বর্ণনা 'িংবা সাঁত্যকার গিট” অর্থের পরোক্ষ উল্লেখমান্র গণ্য করে উপনিষদের 
গ্রল্থের-পর-গ্রন্থে বোদক পাঠের ব্যাখ্যা ও ভাষ্য দেয়া হয়েছে। 

মূলত উপাঁনষদসমূহ হল একটিমান্র দার্শনক মতের কাঠামোর মধ্যে 
বিশ্বব্রন্মান্ডের রহস্যকে ব্যাখ্যা করার প্রথম এক প্রয়াস। উপনিষদগলির মধ্যে স্পম্টভাবে 
'নার্দন্ট একটি ধারণার প্রবহমানতা লক্ষ্য করা যায়। প্রতিটি ক্ষেত্রে উপনিষদকার 
ভিন্নভাবে ধারণাকে প্রকাশ করলেও ধারণাটি মূলত অপরিবর্তিতই থেকে গেছে। 
অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ভাষায় সূন্রাকারে ধারণাটিকে প্রকাশ করা চলে মাত্র চারটি শব্দে: 
'আতন্‌ই ব্ঙ্গন, রক্ষনই আত্মন্।' অনেকগ্লি উপাঁনষদই এই সন্রটির ব্যাখ্যায় 
নিয়োজিত। ব্যাখ্যা ও আলোচনার ধারাটি সাধারণত নিম্নরূপ: বিশ্বসৃম্টি রয়েছে 
মূলত অব্যাহত পরিবর্তনের ধারার মধ্যে, আর এই পরিবর্তনের রূপ প্রকাশ পাচ্ছে 
কেবলমান্র বাইরের স্ৃল বস্থুনিচয়ের রূপান্তরের মধ্যে দিয়েই নয়, 'আত্মক জগৎএর 
ওপর সমপাঁরমাণে তার প্রভাববিস্তারের মধ্যে 'দিয়েও। 

সপ্রাচীন সর্বপ্রাণবাদের ধ্যানধারণা থেকে যান্লা শুরু করে উপানিষদসমূহ 
তথাকথিত কর্মবাদের সনত্র উল্তাবন করেছে। এই কর্মবাদ পরে কেবলমান্র নিষ্ঠাবান 
ধর্মমতগ্যলিকেই নয়, জৈন ও বোদ্ধধর্মমতগুলিকেও প্রভাবিত করেছে, চারিয়ে গেছে 
তাদের মধ্যে। কর্মবাদ অনুসারে প্রাতাঁট বস্তুই নৌতক নিয়মের অধীন, সবাকছুই 


৭৩ 


নৌতিক নিয়মে স্থিরীকৃত; প্রাতিট বস্তুই আত্মা আছে, সেই আত্মার আবার জল্ম 
ও মৃত্যু আছে এবং মৃত্যুর পর সেই আত্মার পুন্ম ঘটে; মানুষ পূর্বজল্মে যে-কাজ 
করে সেই অনুসারে তার আত্মার পুনজরন্ম নির্ধারত হয়; যে-মানুষ নীতিবিরুদ্ধ 
কাজ করে নিজেকে হেয় ও অশ্রদ্ধেয় করে তোলে, সে আবার জল্ম নেয় কোনো 
মানবেতর প্রাণী, গাছপালা বা পাথরের রুপ নিয়ে, তবে সং ও ন্যায় আচরণের 
মধ্যে দিয়ে সে ফের নিজেকে মানুষের স্তরে উন্নত করতে পারে, এমন 'কি জীবাশ্মের 
স্তর থেকেও। 

প্রত্যক্ষ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগৎ ছাড়াও এই মতবাদ (কিছুটা কম্টকল্পনার সাহায্যেই) 
বেদবাদ থেকে জাত দেবতা ও দানবদের গোটা জগৎকেও আত্মসাং করে নিয়েছে। 
স্বর্গের সখভোগেরও আঁধকারী হতে পারে সে, কিংবা নরকে নিজেকে অবনামত 
করতে পারে । তবে আত্মার এই কোনো অবস্থাই চিরস্থায়শ নয় (এখানেই উপনিষদগ্াল 
বোদক এঁতিহ্য থেকে লক্ষণীয়ভাবে সরে আসার প্রমাণ 'দিয়েছে)। এমন কি যে- 
সমস্ত দেবতার উদ্দেশে যজ্ঞের উপচার নিবেদন করা হয় সেইসব দেবতাও 'বিশেষ- 
বিশেষ আত্মার বিশেষ অবস্থা ও অবম্থানের নামমাত্র ছাড়া কিছ; নন। এক্ষেত্রে 
কর্ম হয়ে দাঁড়াচ্ছে সেই কারক-শক্তি, যা মানুষের হীন্দ্রিয়গোচর বিশ্বব্যাপারের গোটা 
বৈচিন্রযকে বেধে ফেলছে স্যানার্দন্ট একটি এক্যাবধায়ক নীতির সূন্রে। 

উপানিষদগুলতে কর্মবাদ সংগতি খুজে পেয়েছে িরস্তন প্রবহমান জীবন 
বা সংসারের তত্বের সঙ্গে। এই দুটি তত্ব একত্রে পরে ভারতের বহু ধর্ম ও 
দার্শানক মতের অঙ্গীভূত হয়ে গেছে এবং এই দুটি তত্বকে সেখানে অনেক বোঁশ 
বিস্তারিতভাবে বিশদ করা হয়েছে। তবে উপনিষদগ্লি কেবল বিশ্বব্যাপারের অনস্ত 
প্রবহমানতা ও পরস্পর-সংযোগের বর্ণনাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং গ্রন্থগ্ল এই সমস্ত 
তত্বকথার ছককে তাদের মতাদর্শের কেন্দ্রীয় অংশে অগ্রগ্াতির পথে খানিকটা 
প্রস্তাবনা হিসেবেই ব্যবহার করেছে যেন। আর উপানবাঁদক এই কেন্দ্রীয় তত্র হল 
আত্মন বা প্রাতাঁট ব্যাক্ত বা বস্তুর আন্তর সত্তার সঙ্গে ব্রহ্মন, বা বিশ্বব্ল্মাণ্ডের 
নৈর্যক্তিক, সর্বব্যাপী দৈবী অন্তঃসারের আভল্লতাসাধন। তবে এই মতবাদ 
বিশ্বসৃম্টর বহনাবাচন্র সকল রূপের মধ্যে এক ধরনের আদ কারণসম্ভৃত এঁক্যাবিধানের 
নিছক একট প্রয়াসের চেয়ে আরও কিছু বেশি, এ হল আচার-আচরণের 
সুক্ষাতিসূক্ষমভাবে বিশদীকৃত এক নিয়মাবলীর ভিত্তিস্বর্প যায় প্রকাতি ও 
উদ্দেশ্যের মধ্যে নিঃসন্দেহে ধমাঁয় তাৎপর্য নিহিত। 

এটা স্পম্ট যে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে উপানষদগ্যাল লক্ষণীয়ভাবে বোঁদক 
ধ্যানধারণা থেকে পৃথক মত পোষণ করেছে, কারণ উপনিষদের খাঁষরা বেদের 
ধ্যানধারণাকে ধমাঁয়ি বিচারে ষথেম্ট গ্রভীর ধলে মনে করতে পরেন 'নি। বোদক 


৭৪ 


এীতিহ্যসিদ্ধ বহু ধারণাকে উপনিষদগ্াীলতে নতুন দৃল্টিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, 
অবতারণা করা হয়েছে নতুন যুক্তিতর্কের 'ভীত্তর। বোদিক ভারতীয় যজ্ঞের পূজা- 
উপচার নিবেদনের বিনিময়ে সৌভাগ্যলাভের কারণে বহুতর পার্থিব দোষগণের 
আকর এীতহ্যসিদ্ধ তাঁর দেবতাদের শ্রদ্ধাভক্তি জানিয়েছেন। িস্তু উপনিষদসমূহ 
উপস্থাপিত করেছে এক সম্পূর্ণ 'বাভন্ন মতাদর্শ। তারা বলছে যে কোনো 'বাশম্ট 
বা না্ন্ট দেবতা নেই, যেমন নেই স্থান ঠিংবা কালের গণ্ডিতে বাঁধা কোনো নাদিস্ট 
ব্যাক্তমান্ষ। আসলে মানুষ অন্য সকল জাবের সমান, বিশ্বসৃম্টির আবীাচ্ছন্ন ও 
অশেষ চক্রের অংশবিশেষ সে, প্রতিটি অণু-পরমাণ্তে যার ধৰংসাতীত সংহাতি 
বিদ্যমান। জীবনের প্রবাহ চিরন্তন এবং বিশ্বরক্ষান্ডে সকল জীবই তার অংশভূত। 
মান্ষই হল এই সমস্ত “অণু-পরমাণুর মধ্যে একমান্র, যে এই জীব-প্রবাহের 
অন্তঃসারটি উপলান্ধ করতে সমর্থ এবং পাঁরশেষে জীবনের সকল বন্ধন থেকে আত্মিক 
মুক্তি অজর্নে সক্ষম। তবু, এই সবাঁকছ্‌ সত্তেও, মানুষকে িরে-ফিরে আসতে হয় 
জড় আস্তত্বের জগতে এবং ফের স্থান করে নিতে হয় অন্তহীন জন্মচন্রের নোমিতে। 

উপনিষদসমূহের আদর্শ মানূষ হলেন সেই ভবিষ্যৎ-দুষ্টা 'যাঁন জাগাঁতিক 
কোনো ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করেন না, সকল উগ্থান-পতন ও আবেগ-অন্ভাঁতর 
ব্যাপারে, এমন কি ধর্মের ব্যাপারেও, থাকেন ননার্বকার হয়ে। নিজেকে চারপাশের 
সবাঁকছুর অংশ বিবেচনা করে এবং বলতে গেলে বিশ্বস্ঁম্টর সঙ্গে নিজেকে একাত্ম 
করে জেলার পর তাঁর পক্ষে আর বোঁশ কী কামনা করার থাকতে পারে ? প্রাকীতিক 
ব্যাপারসমূহ ও দেবতাদেরও উধ্স্তরে উঠে যান তান, একমান্র তিনিই এমন এক 
আস্তত্বের আঁধকারী হতে পারেন যা বিশ্বসৃন্টির মতোই, কিংবা উপানিষদসমূহ 
যাকে বিশ্বসৃম্টির নিয়ত-বর্তমান প্রতীক বলেছেন সেই ব্রক্গন্‌ বা ব্রক্মের মতোই, 
চিরন্তন ও আবনাশী। 

এই সমস্ত এবং আরও বহ্‌তর মতাদর্শ ও ধ্যানধারণা মিলিয়ে গড়ে উঠেছে 
উপনিষদসমূহের বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছন্ন ও কঠোরভাবে নিয়ন্দিত 
দূরকম্পনামূলক দার্শীনক মতবাদ। অথচ ওই একই সঙ্গে উপনিষদসমূহে কেবল 
যে ভাববাদন দৃষ্টিভাঙ্গ ও মতাদর্শের সাক্ষাৎ পাওয়া যায় তা-ই নয়, বস্তুবাদী মতামতও 
মেলে সেখানে । শুধু তা-ই নয়, উপনিষদগুীলতে উপরোক্ত দুই ধ্যানধারণার জটিল 
সহাবস্থানের সাক্ষাৎ তো মেলেই, উপরজ্তু তাদের মধ্যে দ্বন্-বিরোধেরও দেখা পাওয়া 
যায়। ব্লা্ষণ ও আরণ্যকসমূহে বা পূর্ববতাঁ রচনাগ্দলিতে কিন্তু এই বিরোধ উপাঁরতলের 
নিচে চাপা ছিল। উপানষদসমূহে সবচেয়ে বোশি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়েছে শাশ্ডিল্য, 
যাজ্ঞবল্ক ও উদ্দালক নামের তিন ভাবিষ্যৎ-্দ্রম্টা খাঁষকে। এদের প্রথম দুজনকে 
দেখানো হয়েছে মূল ভাববাদী দর্শনের প্রবক্তা হিসেবে, অর্থাৎ আত্মন্‌ ও ব্রহ্ধনের 
সাযূজ্য-বিষয়ক তত্বের সমর্থক বলে (ঞ*দের প্রচারিত মতাদর্শের সঙ্গে রক্ষণশীল 


2৬ 


এঁতিহ্যকে যুক্ত করে বারবার যে উল্লেখ করা হয়েছে এটা অহেতুক নয়)। অন্যপক্ষে 
খাঁষ উদ্দালক এমন সমস্ত বাস্তববাদী ধ্যানধারণা ব্যক্ত করেছেন ঘা বস্তুবাদী দর্শনের 
বিশেষ একটি স্বতঃস্ফূর্ত ধরনের খুব কাছাকাছ এসে পেশছেছে। উদ্দালক সম্পূর্ণ 
নিজের মতো করে সাহসের সঙ্গে বেদসমূহের সৃষ্টিরহস্যমূলক সক্তগলির ব্যাখ্যা 
দিয়েছেন এবং প্রসঙ্গত বিশ্বরক্গান্ড সৃম্টির ব্যাপারে দেবতাদের বিশেষ ভূমিকাকে 
একেবারেই অস্বীকার করেছেন। প্রকীতিকেই সৃষ্টশাক্তর প্রধান উৎস বলে গণ্য 
করেছেন উদ্দালক; তাঁর মতে 'িশ্বরক্মাণ্ডে যা-কছুর আস্তত্ব আছে (আর এর অর্থ 
বাহা পদার্থজগৎ ও সচেতনা সহ মানাসিক ক্রিয়াকলাপ উভয়ই) সে-সবই 
জড়পদার্থসমূহ থেকে উৎপন্ন । এমন কি আত্মনের ধারণাটকেও তানি অন্য দাঁ্টতে 
বিচার করেছেন। তাঁর মতে আত্মন্‌ হল প্রাথমিক বস্তুগত মানাঁবক 'ভাত্ত। 

এটা খুবই স্বাভাবিক যে প্রাচীন ভারতীয়দের মধ্যে প্রকীতিবিজ্ঞান সম্বন্ধীয় 
জ্ঞানের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে এবং বড় রকমের সামাজিক পাঁরবর্তনের ফলে উপরোক্ত 
ওই সমস্ত ধ্যানধারণা দেখা দেবে। 

সমগ্রভাবে বিচার করলে বলতে হয়, উপনিষদসমূহ থেকে উদ্ভূত মতাদর্শ ও 
ধ্যানধারণাগূলি ভারতের পরবতাঁ সামীগ্রক সাংস্কীতিক বিকাশকে গভীর ও 
বিপুলভাবে প্রভাবিত করে। 

উপনিষদগদীলতে যে-কর্মবাদের সাক্ষাং পাওয়া যায় তা পরবতাঁ ভারতীয় 
ধর্মসমূহের অন্যতম মূল 'ভাত্ত হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া এই বিশেষ মতবাদটির 
সানার্স্ট সামাজিক তাংপর্যও বড় কম নয়, কেননা মানুষের সকল দুঃখকম্ট ও 
দুর্দশার পেছনে নিহিত কারণের মতো গর্ত্বপূর্ণ একটি প্রশ্নের উত্তর যাাগয়েছে 
এ। এই মতবাদ অনুসারে দেবতারা নন মানুষ নিজেই তার কাজকর্মের বিচারক 
এবং মানুষের দুঃখকম্টও চিরন্তন নয়। উপানষদগ্যালতে 'বাধবদ্ধ নীতিগ্‌লি পরে 
বৌদ্ধ এবং জৈন-ধর্মসমূহেও নীতি হিসেবে ব্যবহৃত হয় (এ-সম্পকিতি আলোচনা 
পরে দেখুন)। পরবতাঁকালে বস্তুবাদী দার্শানক ধারা লে।কর়৩ও উপানযদসমূহের 
সামাগ্রক শিক্ষার মধ্যে “বস্তুবাদী ভাবধারা" থেকে পুম্ট হয়। উপানষদসমৃহে প্রাপ্তব্য 
বহ, ধ্যানধারণা বড় রকমের প্রভাব বিস্তার করে ভারতের মধ্য যুগের দার্শীনক পণ্ডিত 
ও লেখকদের ওপর এবং কেবলমান্র ভারতের মধ্যেই নয় তার সীমানা ছাড়িয়ে 
বহ্দূর পর্যন্ত তা প্রভাবিত করে আধুনিক ও সমকালীন ইতিহাসের সাংস্কীতিক 
বিকাশের ধারাগ্‌লিকে। 


মগধ ও মোর্য-যগে ভারত 


খস্টপূর্ব প্রথম সহম্্রাব্দের মাঝামাঝ সময়াটকে প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের 
পরবতাঁ ষুগের সূচনাকাল বলে ইতিহাসবেত্তারা সাধারণত গণ্য করে থাকেন। এঁট 
হল মগধ ও মোর্য-যুগের প্রারন্ত, যে-যুগঁটি টিকে ছিল পরবতঁ প্রায় চার শতাব্দী 
ধরে (বিশাল মৌর্য-সাম্রাজ্য ও পরবতর্ন শৃঙ্গ ও কাহ রাজবংশ-দটির পতনের কাল 
পর্যস্ত)। মৌর্যরাজবংশের নিজস্ব আস্তত্বকাল ছাঁড়য়ে আরও বহ্ দীর্ঘ সময় 
ব্যেপে এই যুগটির অধিজ্ঞান এবং ভারতের এীতিহাঁসক ও সাংস্কীতিক বিকাশের 
সবচেয়ে গুরুত্বপৃণ অধ্যায়ের একটি এঁটি। মৌর্যযুগ চিহৃত হয়ে আছে (ভারতের 
ইতিহাসে সেই প্রথম) এক্যবদ্ধ একটি রান্ট্রের প্রাতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক ও সাংস্কাতক 
অগ্রগ্াত এবং 'লাখত লিপির বিস্তারের মধ্যে দিয়ে । বৌদ্ধধর্মের সংহতি ও প্রসার 
এবং বৈষ্ণব ও শৈবধর্মের উদ্তবের কারণেও মৌর্য যুগ বাশিম্ট হয়ে আছে। বর্তমান 
ভারতে এই যুগাটকে কেন-যে দেশের সংস্কৃতির অগ্রগতি ও প্রাচীন ভারতের রাম্ট্র- 
1বকাশের ক্ষেত্রে সা্ধক্ষণ গণ্য করা হয় তা বোঝা শক্ত নয়। 

এই যুগাট এর পূর্ববতাঁ ষুগের মতো নয়, এ-সময়কার তারিখ-সাল সমন্বিত 
ববরণাদি পাওয়া যায়। যেমন, পাওয়া যায় পাথরে উৎকীর্ণ লিপিসমূহ (মৌর্য 
সম্রাট অশোকের প্রচারিত অনুশাসনসমূহ) এবং 'লাখত গ্রন্থাদ (রাজা চন্দ্রগুপ্তের 
রাজসভায় নিযুক্ত সেল্যকাস-প্রাতিষ্ঠত রাজ্যের গ্রীক রাষ্ট্রদূত মেগাস্ছেনিসের 
বিবরণ)। চন্দ্রগুপ্তের উপদেষ্টা কৌটিল্যের রচনা বলে পরিচিত কুটননীতি-বিষয়ক 
গ্রন্থ অর্থশাস্ত্র বহু; শতাব্দী ধরে মোর্য যুগের গোড়ার আমলের রচনা বলে কথত 
হয়ে আসছে। নতুন গবেষণার ফলে অবশ্য জানা গেছে যে বর্তমানে যে-চেহারায় 
অর্থশাস্ত্র বইখানিকে আমরা পেয়েছি তা লেখা হয়েছিল খঃঈস্টজন্মের পরবতাঁ 
কোনো সময়ে, তবে বইটির অনেক খঃটনাঁটি তথ্য যে আরও পূর্ববতর্শ যুগের, 
বশেষ করে মৌর্য যৃগের রাষ্ট্র-কাঠামোর পাঁরচয় বহন করছে সে-বিষয়ে সন্দেহ 
নেই। এক্ষেত্রে শিলালাপতে উৎকীর্ণ ও গ্রন্থে লিপিবদ্ধ তথ্যাঁদর মধ্যে তুলনামূলক 
আলোচনা বিশেষ কৌতূহলপ্রদ। 

এই যুগ নিয়ে গবেষণারত ইতিহাসবেত্তাদের উপকারে লেগেছে পালিভাষায় 
ীলিখত বৌদ্ধ ধর্মশাস্ত্গীল। এইসব শাস্তগ্রন্থে বৌদ্ধ ধর্মমত ও নীতশাস্রের 


৭ 


ব্যাখ্যার পাশাপাশি আছে প্রাচীন ভারতের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক 
জীবনের পাঁরচয়সূচক বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য । অশোকের কিছদ-কিছ্‌ িলালাঁপতে 
পালি ধর্মশাস্তের বেশ কয়েকটি সূত্রের নাম ভীল্লখত আছে, তা থেকে বোঝা যায় 
যে ওই যৃগে এই সমস্ত শাম্গ্রল্থের আস্তত্ব ছিল। এছাড়া প্রত্বতত্বীবিদরাও এযুগের 
বেশাকছু আগ্রহোদ্দীপক উপাদান আঁবজ্কার করেছেন। 


রাজনৌতিক বিকাশের নতুন ভ্তরসমূহ 


মগধের উদ্ভব 


খস্টপূর্ব ষ্ঠ, পণ্চম ও চতুর্থ শতাব্দীতে উত্তর ভারতের রাজনৈতিক 
ইতিহাস চমকপ্রদ নানা ঘটনায় পূর্ণ। এটা হচ্ছে সেই যুগ যখন ভারতে প্রথম বড়- 
বড় রান্ট্র গঠিত হয়েছে, শক্ত সংগ্রহ করেছে ও তারপর প্রাধান্যলাভের জন্যে 
পরস্পরের মধ্যে প্রতিদ্বান্দিতা চাঁলয়েছে। 

লাখত 'ববরণাঁদর নাঁজর থেকে এটা স্পম্ট যে ওই সময়ে রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে 
প্রচুর যুদ্ধ-বিগ্রহ ও সামারক সংঘর্ষ ঘটোছল, রাজবংশগ্যীলর মধ্যে পারিবারিক 
দ্বন্ব-সংঘাত এবং বংশানন্রীমক রাজ্য ও প্রজাতন্ত্রীয় রাষ্ট্রগ্যীলর মধ্যে বিরোধ- 
িসংবাদের তো কথাই নেই। 

প্রথম যুগের বৌদ্ধ শাস্মগ্রল্থাঁদর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে একথা বলা চলে 
যে খস্টপূর্ব ষ্ঠ শতাব্দীর মাঝামাঝি উত্তর ভারতে ষোলটি বা ষোড়শ মহাজনপদ 
(বা "বৃহৎ রান্ট্র')-এর আস্তত্ব ছিল। অবশ্য এগুলির মধ্যে উত্তর ভারতের তৎকালীন 
সকল রাস্ট্রই অন্তভূক্তি নয়। বস্তুত ওই অণ্চলে তখন মোট রান্ট্রের সংখ্যা ছিল ষোল'র 
চেয়ে অনেক বোঁশ। ষোল সংখ্যাটি দিয়ে কেবল তাদের মধ্যে বৃহত্তম ও সবচেয়ে 
শীক্তশাল'ী রাষ্ট্রগীলকেই বোঝানো হয়েছে। 

এ-প্রসঙ্গে লক্ষণীয় যে ওই ষোলাট 'বৃহৎ রাষ্ট্র'এর মধ্যে চোদ্দ রাম্ট্রকেই 'মধ্য 
দেশ'এর অন্তভূুক্তি করাটা ভারতে স্বীকৃত এীতহ্যের মধ্যে পড়ে । অর্থাৎ এর মধ্যে 
দিয়ে স্পম্ট হয়ে উঠছে যে খশস্টপূর্ব ষ্ঠ ও পণ্ম শতাব্দীতে ভারতের রাজনোতিক 
মানচন্রে গঙ্গা-উপত্যকায় অবচ্ছিত রাম্ট্রগ্ীলর ভূমিকাই ছিল সবচেয়ে গর্ত্বপূর্ণ। 
এই ব্যাপারটি ভারতের ওই অণ্ণলে রাম্ট্র-কাঠামোর অপেক্ষাকৃত দ্রুত বিকাশেরও 
সাক্ষ্য দেয়। 

ওই সময়ে উত্তর ভারতের রাজনৈোতিক রঙ্গমণ্টে সর্বপ্রধান রান্ট্রশাক্ত বা কেন্দ্ 
ছিল মগধ, যাকে ঘিরে উত্তর ভারতের রাষ্ট্রগুল একান্ত হয়োছল। মগধ রাম্ট্রের 


৭৮ 


নামটি প্রথম উল্লিখিত হয়েছে অথর্ববেদে, পরে এই নামটি প্রাচীন ভারতের অন্যান্য 
বহু বাচত্র প্দাথপন্রেও দেখা গেছে। 

প্রাচীন রাষ্ট্র মগধ (বর্তমান মধ্য ও দক্ষিণ বিহার জুড়ে একদা যার অবস্থান 
ছিল) এমন এক অত্যন্ত সুবিধাজনক ভৌগোলিক স্থান দখল করে ছিল যার ফলে 
তার রণনৈতিক ও বাঁণাঁজ্যক বিকাশের সম্ভাবনা ঘটেছিল অফুরম্ত। লাখত পাাঁথপন্রে 
মগধ-রাজ্যে জাঁমর উর্বরতার কথা উীল্লাখত হয়েছে, স্পষ্টতই যা ছিল পারশ্রমসাধ্য 
চাষবাসের ফল । এই রাষ্ট্র ভারতের অন্যান্য বহদ অণ্চলের সঙ্গে ফলাও ব্যবসা-বাণিজ্য 
চালাত, এর জমি সমৃদ্ধ ছিল নানা ধাতু সহ 'বাচত্র খাঁনজ সম্পদে । এর প্রাচীন 
রাজধানী অবস্থিত ছিল রাজগৃহে (পোলিভাষায় 'রাজগৃহ' নামটি পরিণত হয়েছে 
'রাজগেহ'এ। বতমানে এ-জায়গাঁটি রাজাগর নামে পারাচিত)। 

মগধের রাজবংশের ইতিহাস জানা যায় অল্পই। তবে হক রাজবংশের 
প্রাতিজ্ঞাতা "বাম্বসার (৫8৫/৫৪৪-৪৯৩ খ্যীস্টপর্বোব্দ) সম্বন্ধে কিছ্দ-কিছু 
এীতিহাসক উল্লেখ পাওয়া যায়। বৌদ্ধ গ্রল্খগ্ীল থেকে জানা যায় যে তান 
প্রাতিবেশন রাম্ট্র অঙ্গ আধকার করেছিলেন। এর ফলে মগধ-রাম্ত্র আরও শক্তিশাল' 
হয়ে ওঠে এবং তার পরবতর্শ রাজ্যবিস্তার-নীতির ভাঁত্ত রাচত হয়। মগধের সঙ্গে 
পাঁশচম ও উত্তর ভারতের অন্যান্য রাষ্ট্রের যোগ্াযোগেরও নানা উল্লেখ পাওয়া যায় 
এতহাঁসক নজরগ্যালতে । 

বাম্বিসার তাঁর রাজ্যের অভ্যন্তরীণ সংহাতি গড়ে তোলার ব্যাপারে যথেম্ট 
মনোযোগ 'দিতেন। রাষ্ট্রের কর্মচারিদের কাজকর্ম কড়া হাতে নিয়ন্ত্রণ করতেন 
তিনি । 'বম্বিসারের পুন্ধ অজাতশন্রুর (৪৯৩-৪৬১ খীস্টপূর্বাব্দ) আমলে গঙ্গা- 
উপত্যকার সবচেয়ে শাঁক্তশালী রাষ্ট্রগ্লির একটি কোশলের রাজা প্রসেনাঁজং (পাল 
নাম-পসেনাদ)-এর বিরুদ্ধে মগধ প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরূ করে। দীর্ঘাদন এই য্দ্ধ-বিগ্রহ 
চলার পর শেষপর্যন্ত বিজয়ী হয় মগধ। 

মগধের সঙ্গে আরেকবার প্রচণ্ড যুদ্ধ চলে মগধ-রাজ্যের উত্তরাদকস্থ প্রাতবেশী 
িচ্ছাবদের প্রজাতল্মীয় জোটবদ্ধ রাম্ট্রের সঙ্গে। গঙ্গানদীর ওপর 'বশেষ একটি 
বন্দর দখল করার জন্যে মগধ খুব উদগ্রীব ছিল, কিন্তু তার আগেই 'িচ্ছবিরা ওই 
বন্দরট দখল করে নেয়ায় এই সংঘর্ষ বাধে। লিচ্ছাবদের আব্রমণের জন্যে প্রস্তুতি 
ও অপেক্ষার সময় রাজা অজাতশন্রু পাটালগ্রাম নামে বিশেষ একটি দুর্গ-নগর 
নির্মাণের আদেশ দেন। এছাড়া তিনি কোঁশলের আশ্রয় নিয়ে লিচ্ছবিদের রাজধানী 
শিবিরে অনৈক্য সৃষ্টিতে সফল হল। একাধিক এীতহাঁসক নজির অনুসারে মগধ 
এবং লিচ্ছাবদের মধ্যে যুদ্ধ চলোছিল ষোল বছর ধরে এবং এবারও শেষপর্যস্ত 
বিজয়ী হল মগধ। 


৭৯) 


জৈন শাস্রগ্রন্থগুলির মতে রাজা অজাতশব্রুর এই সমস্ত সাফল্যের মূলে ছিল 
অবরোধ ভাঙবার জন্যে তাঁর সৈন্যদলের বড়-বড় বাঁটুলের মতো এক ধরনের অস্ত্র- 
ব্যবহার । এইসব বাঁটুল বা গুল্‌তি 'দিয়ে শন্রসৈন্যের ওপর তাঁর ও পাথর নিক্ষেপ 
করা হোত। 

ওই সময়ে মগধের আরেক প্রধান প্রাতপক্ষ ছিল পশ্চিম ভারতের এক শাক্তশালী 
রাষ্ট্র অবস্তী। 

মগধের প্রধান প্রাতিপক্ষসমূহ -- কোশল, অবস্তী ও িচ্ছবিদের মৈব্রীজোট -__ 
মগধের বিরুদ্ধে তখন সংগ্রাম চালাচ্ছিল কেবলমান্ত রাজনোতিক প্রাধান্য অরনের 
জন্যেই নয়, অর্থনৈতিক প্রাধান্য অর্জনের জন্যেও । এ-কারণেই প্রয়োজনীয় বাঁপজ্য- 
পথ হিসেবে গঙ্গা ও তার শাখানদীগুঁলর ওপর নিয়ন্ত্রণ-বিস্তারকে তখন অত্যন্ত 
গুরূত্বপূর্ণ বলে গণ্য করা হোত। 

মগধের রম্ট্রশীক্তকে আরও দৃঢ়মূল করে তোলার জন্যে অজাতশনুর প্র 
উদয়ন (৪৬১-৪৪৫ খ্স্টপূরবাব্দ) রাজ্যের রাজধানী রাজগৃহ থেকে পাটলিপনত্রে 
স্থানান্তরিত করেন। প্রাচীন ভারতে এই পাটালিপুত্র কালক্রমে হয়ে ওঠে প্রধান একটি 
ক্ষমতার কেন্দ্র। এরও পরবতর্ঁ এক সময়ে অবস্তী রাজ্যের শাক্ত হাস পায়। তখন 
নতুন একটি রাজবংশ শিশুনাগ বংশের রাজা শিশুনাগ মগধের সিংহাসনে আসান। 
এই রাজবংশও পরে নন্দ-বংশকে জায়গা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। নন্দ-বংশের অধণনে 
মগধের অধীনস্থ স্মম্রাজ্য বিশাল আকার ধারণ করে। এই সমস্ত রাজবংশের ইতিহাস 
মোটেই সম্পূর্ণভাবে জানা যায় না এবং ইতিহাসবেত্তা পণ্ডিতেরাও এই সময়কার 
যে-সমস্ত সন-তারিখ মেনে নিয়েছেন সেগুলিও আনুমানিক সময়চিহমান্র। এই 
যুগের গবেষক পশ্ডিতেরা প্রধানত নিভভর করে থাকেন যে-সব তথ্য-প্রমাণের ওপর 
সেগ্যাল পাওয়া গেছে পরের যুগের িংহলী ধারাবিবরণীগুলি (খুসস্টীয় চতুর্থ 
ও পণ্চম শতাব্দীতে লিখিত দীপবংশ ও খ্াস্টীয় ষ্ঠ শতাব্দীতে লাখিত মহাবংশ 
নামের বিবরণীগ্বাল) এবং মধ্য যুগের সূচন।ক।লে সংকপিত পুরাণগ্লি থেকে। 
এ-সবের মধ্যে নিচের তারিখগুঁল সবচেয়ে বোশ গ্রহণযোগ্য বলে মনে করা হয়: 
যথা, বিম্বিসার-প্রাতিষ্ঠিত হর্যঙ্ক-রাজবংশ (৪৩৭-৪১৩ খাস্টপূরাব্দ), শিশুনাগ- 
রাজবংশ (৪১৩-৩৪৫ খএটস্টপূর্বাব্দ) এবং নন্দ-রাজবংশ (৩৪৫-৩১৭/৩১৪ 
খযাস্টপূর্বাব্দ)। 


আকিমেনিড-সাম্রাজ্য ও মাসিডোনিয়ার আলেকজান্ডারের ভারত-আক্লমণ 


এই যুগে উত্তর-পশ্চিম ভারতে কিন্তু পারস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন । গঙ্গা- 
উপত্যকার মতো সেখানে চারপাশের উপজাতি ও জনগোম্ঠীগুিকে এঁকাবদ্ধ করার 


৮০ 


মতো শাক্তধর কোনো বড় রাষ্ট্র ছিল না। ওই এলাকায় বাস করত তখন বহুধাচন্র 
ভাষা ও সংস্কৃতির বাহক বহতর নৃকুলগোম্ঠীর উপজাতিসমূহ । সেখানকার সবচেয়ে 
শাক্তশালী রাষ্ট্র ছিল কম্বোজ ও গান্ধার, যাদের ষোড়শ 'বৃহৎ রাষ্ট্র'এর মধ্যে ধরা হোত। 

খস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষাংশে উত্তর-পশ্চিম ভারতের কিছ-কিছু অণ্চল 
ছিল আকমোনিড-সাম্রাজ্যের অংশ। 

প্রখ্যাত আকিমোৌনড-সম্রাট দারিয়্‌স (৫২২-৪৮৬ খস্টপূরবাব্দ)-এর পর্ব তগান্রে 
উৎকণীর্ণ 'লাঁপগুলিতে গান্ধার এবং 'সন্ধনদ-অণ্লকে সাম্রাজ্যের অন্তভূক্ত প্রদেশ 
বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই শেষোক্ত সন্ধনদ-অণ্চল বলতে স্পম্টতই বোঝানো 
হচ্ছে নদবিধৌত মধ্য ও দক্ষিণ এলাকাগ্ুীলকে, তবে সম্ভবত এগাঁলর পাশ্ববতা 
অন্যান্য অণ্ণলকেও বোঝানো হয়ে থাকতে পারে । দারিয়্‌সের নিদেশে কারয়ান্দার 
[স্কলাখ "ীসন্ধমনদ ঠিক কোন জায়গায় সমদ্রে গিয়ে পড়েছে তা নির্ণয় করার জন্যে 
যে-অভিযান পাঁরচালনা করেন তার এক কৌতূহলোদ্দীপক বর্ণনা পাওয়া যায় 
হেরোডোটাসের রচনা থেকে । এই আঁভযানাঁট রণনোতিক ও বৈজ্ঞানিক উভয় বিচারেই 
গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এর ফলে পারাঁশকরা ভারতীয় অণ্টলসমূহের জাতিগোষ্ঠীগুঁল 
ও তাদের আচার-ব্যবহার ও এঁতিহ্যের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঞভাবে পারাচিত হওয়ার 
সযোগ পায়। 

যাঁদও উত্তর-পশ্চিম ভারতের একাঁট অংশমাল্র আকমোনিড-সামাজ্যের অন্তভূর্ত 
হয়োছিল, তব্য ওইসব ভুখণ্ড এবং দেশের আরও কিছ-কিছু অণ্চল তখন আঁকমেনিড- 
শাসনাধীন পারশ্যের সাংস্কীতিক ও রাজনোতিক প্রভাবের অধীন হয়োছল অজ্পাঁধক 
পারমাণে। 

উত্তর-পশ্চিমের এইসব ভূখন্ড মারফত ভারত তখন 'নিকট-প্রাচ্য ও মধ্য-এঁশিয়ার 
রাষ্ট্রগুলির সংস্পর্শে এসেছিল. কারণ ওইসব অণ্থলের কিছুটা অংশও ছিল তখন 
আঁকিমেনিড সাম্রাজ্যেব অন্তরভক্ত। এই সাম্রাজ্যের দলিল-দস্তাবেজের সরকারি ভাষা 
ছিল আরামেইক। এই ভাষা পরেও দানয়ার ওই অংশে বেশ কিছুকাল ব্যবহৃত 
হয়েছে। 

ভারতের যে-সমস্ত অণ্চল আকমেনিড-সাম্রাজ্যের অস্তভূক্ত ছিল তাদের সম্বন্ধে 
অনেক কিছুই তৎকালীন পাশ্চাত্তয দেশে জানা ছিল, কিন্তু ওই যুগের প্রপদটী 
লেখকরা তৎকালীন পূর্ব ভারত সম্বন্ধে এবং গঙ্গাউপত্যকায় তখন কঈ-যে 
রাজনোতিক ঘটনাপ্রবাহ ঘটে চলোছিল সে-সম্বন্ধেও কার্যত কিছুই জানতেন না। 
হেরোডোটাসের মতে ভারতের ওই অংশ ছিল নিছক মরুভূমিমান্র। পাশ্চাত্যের সঙ্গে 
ভারতের যোগাযোগের চেহারা (এবং এট ভারতের পূর্বাণুল সম্বন্ধেও প্রযোজ্য) 
বহুপাঁরমাণে বদলে যায় মাঁসডোনয়ার আলেক্জান্ডারের ভারত-আক্রমণের পর। 

আলেকজান্ডার যখন ভারত-ভূথণ্ডে প্রবেশ করেন পূর্ববতাঁ বড়-বড় সামারক 


6--498 ৮১ 


বিজয়ের ফলে তাঁর খ্যাঁত তখন তুঙ্গে। তাঁর প্রকাণ্ড ও সুসজ্জিত সেনাবাহিনীর 
ভাঁবষ্যৎ সাফল্যও স্মনিশ্চত মনে হাচ্ছিল তখন। তদনপাঁর উত্তর-পশ্চিম ভারতও 
রাম্ট্রজোটের রাজাদের মধ্যেও এঁক্য ছিল না। আণুলিক 'কিছু-কিছু ক্ষুদ্র রাজা 
(যেমন, তক্ষশিলার শাসক) গোড়াতেই আলেকজান্ডারের সঙ্গে সান্ধসূত্রে আবদ্ধ হয়ে 
পড়লেন। এর বিনিময়ে আলেকজান্ডার তাঁদের কিছ-পরিমাণে স্বায়ত্তশাসনের 
আঁধকার 'দতে অঙ্গীকার করলেন এবং তাঁদের 'নিজ-নিজ রাজত্ব বজায় রাখারও 
আঁধকার 'দিলেন। তবে ভারত-আভিযানের একেবারে সূচনা থেকেই আলেকজান্ডারকে 
বহু উপজাতির কাছ থেকে প্রবল বাধার সম্মুখীন হতে হল। এই আভিযানের 
[ববরণদাতারা আলেক্জান্ডারের বীরকীর্ত ও তাঁর সাফল্যের জয়গানে মুখর 
হলেও ভারতীয়দের বিস্ময়কর অধ্যবসায় নিয়ে বারংবার প্রাতরোধ, তাদের বীরত্ব 
ও মৃত্যুপণ সংগ্রামের তীব্র আকাঙ্ক্ষার উল্লেখ না-করে পারেন নি। বহু ভারতীয় 
উপজাতি-গোম্ঠী সরাসরি অস্বীকার করে গ্রীক ও মাসডোনীয়দের কাছে 
বশ্যতাস্বীঁকার করতে এবং অসম যুদ্ধে আত্মাহুতি দিতে এগিয়ে আসে; বস্তুত 
বেশ কয়েকটি যুদ্ধে তারা এমন ক জয়ী পর্যন্ত হয়। 

উত্তর-পশ্চিম ভারতে তখন সবচেয়ে পরাক্রান্ত রাজা ছিলেন পূরু। 
আলেকজাণ্ডারের বিরদ্ধে যে-সমস্ত রাজা সম্মুখয্দ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন পুরু 
ছিলেন তাঁদের একজন। কয়েকদিনব্যাপী পুরু ও আলেক্জান্ডারের এই যৃদ্ধ 
অন্যন্ঠিত হয়েছিল 'হডাস্পেস (ঝলম বা বতস্তা) নদীর তীরে । আিআন- লাখত 
আলেক্জান্ডারের আনাবাসস (বো অভিযান)-সম্পকিতি ইতিহাসে উল্লাখিত 
সংখ্যাগ্চুল থেকে এই যুদ্ধের ব্যাপ্তি ও প্রচণ্ডতা অনুমান করা যায়। আরিআন 
জানাচ্ছেন যে শেষাঁদনের নিধারক যুদ্ধে যোগ দিয়োছিল তিরিশ হাজার পদাতিক 
ও চার হাজার অশ্বারোহী সৈন্য এবং ব্যবহৃত হয়েছিল তিন শো রথ ও দু'শো 
হাতি। কেবলমান্ত্ চাতুর্যপূর্ণ রণকৌশলের সাহায্যেই আলেকজান্ডার পুরুর সৈন্য- 
সমাবেশ ভেদ করতে সমর্থ হয়েছিলেন । স্বল্প অস্ত্রশস্তে সঙ্জত তাঁর অশ্বারোহী 
ভয় পাইয়ে দিতে ও ছত্রভঙ্গ করতে । যাঁদও আলেকজান্ডার এ-যুদ্ধে জয়ী হন, 
তব্য গুরুতর আহত অবস্থাতেও রাজা পুরু যৃদ্ধ চাঁলয়ে ষান শেষপর্যস্ত। ভারতীয় 
রাজার এই দুজর়্ সাহসের পরিচয় পেয়ে আলেকজান্ডারও বশীভূত হন। তানি 
শুধয পুরূর জীবনই রক্ষা করলেন না, রাজ্যও ফিরিয়ে দিলেন তাঁকে। 

আলেকজাণ্ডারের সেনাবাহনী অতঃপর আরও পূবাঁদকে হিড্রোয়েটস (রাবী 
বা ইরাবতী) নদীর তাঁর পর্যন্ত অগ্রসর হয়। হিফাঁসস (আধ্যানক বিয়াস বা 
বপাশা) নদী পার হওয়ার জন্যে সৈন্য-সমাবেশ শর করলেন আলেকজাশ্ডার। 


৮৭ 


তবে তার আগে তিনি ঠিক করলেন হিফাসিসের অপর পারের দেশটি সম্বন্ধে, 
সেখানকার রাজা ও তাঁর সৈন্যদলের শাক্ত সম্বন্ধে যতদূর সম্ভব সব খবরাখবর সংগ্রহ 
করবেন। স্থানীয় ছোট-ছোট ভূস্বামীরা আলেক্জাণ্ডারকে জানালেন ওই দেশাটর 
এশ্বর্যের কথা এবং আগ্রাম্মেস নামে সেখানকার রাজার পাঁরচালনাধীন শাক্তশালী 
সেনাবাহিনীর বিবরণ । কিন্তু ওই সময়ে আলেকজাণ্ডারের নিজ সৈন্যবাহনীর মধ্যেই 
অসন্তোষ দেখা 'দিয়োছিল, সৈন্যদের মধ্যে অনেকেই দাবি করছিল এই ক্লান্তকর 
যুদ্ধাভিযানের অবসান ঘটানোর । আনিচ্ছাসত্তেও শেষপর্যস্ত আলেক্জাণ্ডারকে তাই 
রাজি হতে হল দিগ্বিজয়ের স্বপ্ন পাঁরত্যাগ করে পশ্চাদপসরণের নিদেশি দিতে । 
গ্রেকো-মাঁসডোনীয় বাহনশর এই পশ্চাদপসরণের সময়ে নতুন করে ফের একবার 
মাসডোনীয়-বিরোধী অভ্যু্থান ও সংঘর্ষের পালা চলল। এবার বিশেষ করে 
আলেকজান্ডার-বাহনীকে প্রবল প্রাতিরোধের সম্মুখীন হতে হল সুসংগঠিত ও 
শক্তশালী সেনাবাহনীর আঁধকারী মল্প-রাজাদের। 

ভারত ছেড়ে যাবার সময় আলেকজান্ডার পেছনে রেখে গেলেন আঁভঙ্ঞ 
সেনাপাঁতদের ও কয়েকজন স্থানীয় ভারতীয় রাজার পাঁরিচালনাধীন 'বাভন্ন প্রদেশে 
বিভক্ত তাঁর বিজিত সাম্রাজ্য। তবে আলেকজান্ডার উত্তর-পশ্চিম ভারতের একটা 
অংশমান্র দখল করতে সমর্থ হয়োছিলেন এবং ভারতীয় আকর গ্রন্থগ্লিতে তাঁর 
ভারত-অভিযান কিংবা তাঁর সেনাবাহননঈর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সম্বন্ধে কোনো উল্লেখ 
পর্যন্ত পাওয়া যায় না (ধ্ুপদা গ্রন্থকারদের কাছ থেকে এই সংবাদ পাচ্ছি আমরা)। 
তৎসত্তেও ভারতের ইতিহাসের ওই যুগপর্যায়ের ঘটনাবলীর ওপর এই যদ্ধাভিযানের 
প্রভাবকে তুচ্ছ বলে নাকচ করা চলে না। 

আলেকজাণ্ডারের ভারত-আভষান থেকে দেখা যাচ্ছে যে তাঁর হাতে ভারতাঁয়দের 
পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল অভ্যন্তরীণ এঁক্যের অভাব, ভারতীয়দের 
মধ্যেকার বিরোধ-বিসংবাদ। একমান্র বিদেশী আন্রমনকারীর বিরদ্ধে যুদ্ধ করতে 
গিয়ে ভারতীয় রাজন্যদের তখন বাধ্য হয়ে এক্যবদ্ধ হতে হয়োছিল। 

এই যুদ্ধাভিষান অন্যান্ঠিত হওয়ার ফলে ভারতের সঙ্গে বাহার্বশ্বের সাংস্কীতিক 
ও বাঁণাঁজ্যক সম্পর্কও যথেম্ট পারমাণে প্রসারিত ও দঢুবদ্ধ হয়ে ওঠে। ভারত নিজেই 
অতঃপর গ্রীক ভাষা ও ভাবধারার জগতের ওপর ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তার করতে 
শুরু করে। 


নন্দ-রাজবংশ ও রাষ্ট্র 


আলেক্জাশ্ডারের ভারত-আক্রমণের সময় পাটিপ7ন্রে রাজত্ব করছিল নন্দ- 
রাজবংশ । স্থানীয় ক্ষুদ্র রাজারা আলেক্জান্ডারকে এই নন্দ-রাজবংশেরই অধাঁন 


৮৩ 


সেনাবাহিনীর শাক্ত-সামর্থয এবং রাজা আগ্রাম্মেসের জনাপ্রয়তার ঘাটাতর কথা 
বলেছিলেন। এই তথ্য ইউরোপীয় ধ্রুপদী লেখকদের রচনা থেকে পাওয়া গেলেও 
নন্দ-সাম্রাজ্য সম্পর্কে আধকাংশ তথ্যই আমাদের হাতে এসে পেপছেছে প্রধানত 
স্থানীয় ভারতীয় আকর গ্রন্থগ্ীল থেকে। 

ভারতীয় ইতিবৃত্ত অনুসারে নন্দ-রাজারা শ্রবংশীয় বলে পাঁরাচিত এবং সকল 
ক্ষান্রয়কে নিধন করেই নাক এই রাজবংশাঁটি সিংহাসন আঁধিকার করোছল বলে 
কাঁথত। শোনা যায়, প্রথম নন্দ-রাজ ছিলেন শ্রী মায়ের গর্ভে ও অজ্ঞাত পিতার 
ওরসে জাত। এ-থেকেই বোঝা যায় কেন রাহ্গণদের লিখিত পুথিতে ও রাজবংশের 
ইাতকথায় (পুরাণসমূহে) নন্দ-রাজারা 'নীচকুল-জাত ও নীচ গুণসম্পন্ন মানুষ” বলে 
উাল্লাখত। ইউরোপীয় ধ্রুপদী লেখকদের রচনাতেও নন্দ-রাজাদের এই বর্ণনা পাওয়া 
যায়। এথেকে অনুমিত হয় যে তাঁরা ভারতায় পৃথপন্রের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। 
িছ-কিছ; তথ্য-প্রমাণ থেকে এ-কথাও অনুমান করার কারণ ঘটেছে যে ইউরোপীয় 
ধুপদী লেখকরা প্রথম মৌর্য রাজা চন্দ্রগ্প্ত ও তাঁর মন্ত্রী চাণক্য সম্বন্ধে 
ভারতীয় উপাখ্যানগ্যীলর সঙ্গে পাঁরচিত ছিলেন। এই সমস্ত উপাখ্যানমালা থেকে 
উল্লেখ পাওয়া যায় মৌর্যরাজবংশের পূর্ববতর্ট নন্দ-বংশের রাজাদের 
সম্বন্ধেও। 

নন্দ-রাজাদের প্রকাণ্ড সেনাবাহনীর বর্ণনার ক্ষেত্রে স্থানীয় ভারতীয় ও ধ্রুপদী 
ইউরোপীয় রচনাগঁলির উল্লেখে প্রচুর মিল খুজে পাওয়া যায়। িওডোরাস ও 
ক্যুইণ্টাস কার্টয়াস রূফাস উভয়েই নিম্নোক্ত সংখ্যাগলির উল্লেখ করেছেন 
আশগ্রাম্মেসের অধীনস্থ নন্দরাজ্যের সেনাবাহনীর 'বাভন্ন বিভাগ সম্বন্ধে। যথা, 
পদাতিক সৈন্য ২ লক্ষ, অশ্বারোহী সৈন্য ২০ হাজার. রথ ২ হাজার এবং তিন থেকে 
চার হাজার হাতি । ঠিছ--কিছ্‌ ভারতীয় ও সংহলী প্াথতে প্রথম নন্দ-রাজার নাম 
উল্লেখ করা হয়েছে উগ্রসেন বলে, অর্থাৎ এমন এক ব্যাক্তি যাঁর প্রকাণ্ড ও পরান্রান্ত 
সেনাবাহিনী" আছে। 

নন্দ-রাজাদের অপর একটি বৈশিষ্ট্যও এতহ্যসূত্রে উাল্লাখত হয়ে আসছে, তা 
হল তাঁদের ধনসণয়ের স্পৃহা । সিংহলী পৃথিগলিতে প্রকাশ যে নন্দ-রাজারা চামড়া, 
কাঠ ও মূল্যবান খানজ পাথর সহ সব ধরনের ব্যাক্তগত ধনসম্পীত্তকেই রাজকীয় 
শুজ্কদানের চৌহাদ্দির অন্তভূক্ত করেছিলেন। 

তাঁদের শীক্তশালী সেনাবাহিনীকে ভালোরকম কাজে লাগিয়ে এবং শুল্ক 
আদায়ের নিয়মিত বিধিবদ্ধ রীতির প্রবর্তন করে নন্দ-রাজারা পররাম্ট্র-নীতির ক্ষেত্রে 
অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠোছলেন। িছু-কছি আণ্চীলক রাজবংশের শাক্ত ও 
স্বাধীনতা বিনষ্ট করতে এবং দক্ষিণ ভারতের আরও দক্ষিণাণ্লে অনুপ্রবেশে 
সমর্থ হয়োছিলেন তাঁরা । উৎকণর্ণ শিলালাপর সন্ত থেকে এটা স্পম্টভাবে জানা 


৮৪ 


গেছে যে কাঁলঙ্গ-রাজ্য বর্তমানে গাঁড়্‌ষ্যা) ?িংবা তার অংশাঁবশেষ নন্দ-সাম্রাজ্যের 
অন্তভূ্ত ছিল। 

নন্দ-রাজাদের এই সমস্ত প্রচেম্টার ফলে যে-সাম্রাজ্য গড়ে উঠোছিল তা-ই পরবততাঁ 
কালে হয়ে উঠোছল মোর্য-রাজবংশের অধীনস্থ এক্যবদ্ধ ভারতীয় রাষ্ট্র প্রাতষ্ঠার 
[ভত্তস্বর্প। 


মৌর্য-সাম্রাজ্যের অভ্যুদয় 
চন্দ্রগ,প্ত ও বিল্দ;সার 


মোর্য-রাজবংশের প্রথম রাজা ছিলেন চন্দ্রগপ্ত। তবে এই ক্ষমতা ও আঁধকার 
অর্জন করতে চন্দ্রগুপ্তকে নন্দ-রাজবংশের বিরদ্ধে এবং ভারতে আলেক্জান্ডারের 
রেখে-যাওয়া গ্রীক সেনাবাহনীর বিরুদ্ধেও তুমুল সংগ্রাম চালাতে হয়। 
ক্ষমতালাভের জন্যে চন্দ্রগ্প্তকে এই-যে সংগ্রাম চালাতে হয় তার 'বাঁভন্ন পর্যায়ের 
কৌতূহলোদ্দীপক নানা বর্ণনার উল্লেখ পাওয়া যায় ভারতীয় ও ইউরোপণয় 
ধূপদী রচনাসমূহের সনন্র থেকে। তবে সংগ্রামের এই 'বাভন্ন পর্যায়ের ইতিবৃত্ত ও 
তার সত্যাসত্য নির্ণয় এখনও পর্যন্ত ই[তিহাসবেত্তাদের মধ্যে তুমূল বিতকের বিষয় । 

মৌর্যরাজবংশের উৎপান্ত সম্বন্ধেও নানা মত প্রচারত আছে। কিছু-কিছু 
মত অনুযায়ী নন্দ-রাজবংশ থেকেই মৌর্যদের উৎপান্ত এমন কথাও বলা হয়। বলা 
হয় যে চন্দ্রগ্প্ত স্বয়ং ছলেন নাকি জনেক নন্দ-রাজার সন্তান। কিন্তু অধিকাংশ 
প্রাচীন সূত্র অন্যায় (যেমন বৌদ্ধ ও জৈন পুথিপন্রে) মৌযদের মগধের একটি 
ক্ষন্নিয় বংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। 

বৌদ্ধ ও জৈন পূুিপন্রে বার্ণত হয়েছে চন্দ্রগুপ্তের অল্প বয়সের কথা, তক্ষশিলায় 
তাঁর পাঠগ্রহণের বৃত্তান্ত এবং মনে করা হয়েছে যে সেখানেই ?িনি তাঁর হিতৈষী 
ও ভাঁবষ্যং উপদেষ্টা কৌটিল্য (বা চাণক্য)-এর সাক্ষাৎ পান। তবে এই সমস্ত তথ্য 
কতদূর নির্ভরযোগ্য তা বলা শক্ত। প্রচলিত প্রাচীন মত অনুসারে চাণক্যের সঙ্গে 
মিলে চন্দ্গ্‌প্ত তক্ষাশলায় থাকতেই মগধের সংহাসন দখলের এক পাঁরকল্পনা 
ফাঁদেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে যুবক চন্দ্রগুপ্ত ও নন্দ-রাজবংশের মধ্যে সংঘর্ষের বিবরণ 
দয়েছেন রোমান লেখক জাস্টিনাসও (খবস্টীয় "দ্বিতীয় শতাব্দ৭)। তান এর বিবরণ 
সংগ্রহ করোছলেন সম্রাট অগাস্টাসের আমলের জনৈক লেখক 'গ্রিউস পম্পেইয়াস 
দ্রোগাসের রচনা থেকে, আবার ট্রোগাস সম্ভবত এসব তথ্য সংগ্রহ করোছিলেন চন্দ্রগপ্ত- 
[বিষয়ক ভারতাঁয় উপাখ্যানমালা থেকেই। 


৮৫৬ 


সিংহলী সূত্রের ইতিবৃত্ত থেকে জানা যায় যে চাণক্য চন্দ্রগুপ্তের সঙ্গে মিলে 
সৈন্য-সংগ্রহে প্রবৃত্ত হন, দেশের কয়েকটি অণ্ল থেকে ভাড়াটে যোদ্ধা সংগ্রহ করা 
হয় এবং চন্দ্রগুপ্তের নেতৃত্বে শিগগিরই এক প্রকাণ্ড সেনাবাহিনী গড়ে ওঠে। 

গ্রীক লেখক প্রুটার্ক (৪৬-১২৬ খঈস্টাব্দ) এমন কি যুবক চন্দ্রগ্‌প্ত ও 
আলেক্জাণ্ডারের মধ্যেও এক সাক্ষাৎকারের বিবরণ দিয়েছেন। 

এই সাক্ষাৎকার যদি সাঁত্যই ঘটে থাকে তবে তা চন্দ্রগপ্তের সঙ্গে তৎকালীন 
নন্দ-বংশীয় রাজার প্রথমবারের সংঘর্ষের পরেই ঘটা সন্ভব। প্লুটাকের মতে, নন্দ-রাজ 
আগ্রাম্মেস সম্পর্কে চন্দ্রগুপ্তের ধারণা মোটেই ভালো ছিল না এবং আলেকজান্ডারকে 
তিনি এই বলে প্ররোঁিত করেছিলেন যে যদি আলেকজান্ডার সবব্র-ঘৃঁণত ওই 
ভারতটয় রাজার বিরুদ্ধে তাঁর সৈন্যদল পূর্বাদকে চালিত করেন তাহলে চন্দ্রগপ্ত 
তাঁকে সমর্থন করবেন। তবে এখন আমরা জানি যে আলেকজান্ডার এই পরামর্শ 
অনুযায়ন ভারতের অভ্যন্তর-প্রদেশে তাঁর আভযান পাঁরচালনা করতে পারেন 
নি এবং যোঁদক থেকে তিনি এসেছিলেন সেই পশ্চম-অভিমুখে ফিরে যেতে 
বাধা হন। 

বৌদ্ধ এবং জৈন সনত্র থেকে জানা যায় যে চন্দ্ুগুপ্তের নন্দ-রাজবংশকে উৎখাত 
করার প্রথম প্রয়াস ব্যর্থ হয়, কারণ সেবার তিনি তাঁর সেনাবাহননর পশ্চাদভাগ 
নিরাপদ করে তুলতে পারেন নি। ওই সময়ে চন্দ্রগ্‌প্তের পক্ষে স্বভাবতই সম্ভব 
ছিল না একই সঙ্গে গ্রীক ও মাসিডোননয়দের প্রবল সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেও অভিযান 
চালানো । আলেক্জান্ডারের সেনাবাঁহনীর প্রধান অংশ ভারত ত্যাগ করে যাবার 
পরই একমাব্র পরিস্থিতি চন্দ্রগপ্তের অনুকূলে আসে। 

আলেকজান্ডার তাঁর অধিকৃত ভূখন্ড কয়েকটি সামন্ত-রাজ্যে বা প্রদেশে ভাগ 
করে দেন এবং এর একটা অংশ রেখে যান ভারতাঁয় রাজাদের অধীনেও। কিন্তু এর 
অশ্পাঁদনের মধ্যেই বিভিন্ন সামন্ত-রাজ্যে মাঁসডোনীয় শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ 
দেখা দেয় এবং সামন্ত-রাজ্যগ্যালর পরস্পরের মধ্যেই দেখা দেয় ক্ষমতার লড়াই। 
এই লড়াই আবার 'িশেষরকম তীব্র হয়ে ওঠে ৩২৩ খুস্টপূর্বাব্দে স্বয়ং 
আলেক্জাণ্ডারের মৃত্যুর পরে। এই সময়ে চন্দ্রগ্প্ত ছিলেন পঞ্জাবে, আগেকার 
শক্তি-সামর্থ্যের ছায়ামান্রে পর্যবাঁসত অবশিল্ট মাঁসিডোনীয় সৈন্যদ্ূলগ্যীলর বিরুদ্ধে 
আক্রমণ চালানোর জন্যে স্পম্টতই প্রস্তুত হয়ে। ৩১৭ খ্াীস্টপূর্বাব্দে শেষ গ্রীক 
সামন্তরাজ ইউডেমস যখন ভারত ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হলেন, তখন নন্দ্রগ-প্ত 
কার্যত হয়ে দড়ালেন পঞ্জাবের অধাশবর। এই সময়ে আবার চন্দ্রগুপ্তের এক প্রধান 
প্রতিদ্বন্দ্বী, আলেক্জাণ্ডারের 'দয়ে-যাওয়া বিশাল এক ভূখণ্ডের আধপাত, প্রবলপ্রতাপ 
ভারতীয় রাজা পুরুও নিহত হলেন। কাজেই এখন সর্বপ্রধান প্রাতপক্ষ মগধের 
সিংহাসন দখলের ব্যাপারে মনোযোগ দিলেন চন্দুগ্‌্প্ত এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতের 


৬৬ 


কয়েক প্রজাতন্তীয় জোটবদ্ধ রান্ট্রের সমর্থন পাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার 
পর তিনি নন্দ-রাজের বিরুদ্ধে সৈন্যচালনা করলেন। 

অতএব গ্রেকো-মাসিডোনীয় সেনাবাহনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধকে চন্দ্রগ্প্তের চরম 
ক্ষমতা-দখলের সংগ্রামের, পাটলিপুত্রের সিংহাসন আঁধকারের যুদ্ধের একটি স্তর 
হিসেবে গণ্য করা চলে। বিদেশী সেনাবাহনীসমূহের কবল থেকে ভারতীয় 
ভূখণ্ডগুলিকে মুক্ত করা অবশ্যই ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, তব্য এমন কি 
প্রাচীন গ্রীস ও রোমের লেখকরাও আমাদের জানাচ্ছেন যে বদেশী সেনাবাহনী 
বিতাড়নের পর ভারতকে এক দাস-শিবিরে পরিণত করে চন্দ্রগুপ্ত নিজের মাক্তদাতার 
ভূমিকা বরবাদ করে দিলেন। চরম ক্ষমতা দখলের পর যে-জনসাধারণকে তিনি একদা 
বিদেশী শাসনের কবল থেকে মুক্ত করেছিলেন তাদেরই তিনি পরিণত করলেন 
উৎপীড়ন-অত্যাচারের শিকারে (গ্নিউস পম্পেইয়াস ট্রোগাস থেকে জুনিয়ানাস 
জাস্টিনাসের উদ্ধাত-অনুসারে)। 

নন্দ-রাজের বিরুদ্ধে চন্দ্রগূপ্তকে কঠিন সংগ্রাম করতে হয়েছিল। নন্দ-রাজের ছিল 
বিশাল এক সেনাবাহনী। বৌদ্ধশাস্ত্র ণমলিন্দ-পহ'এর বিবরণ অনুযায়ী এই চরম 
নর্ধারক যুদ্ধে নাক 'নহত হয়েছিল দশলক্ষ সৈন্য, দশ হাজার হাতি, একলক্ষ ঘোড়া 
ও পাঁচ হাজার রথারোহ? যোদ্ধা (এই সংখ্যাগ্াল অবশ্যই বেশ আতিরঞ্ন-দোষদুজ্ট, 
তবে যাদ্ধাট-ষে প্রচন্ড রকমের ও রক্তক্ষয়ণ হয়েছিল তাতেও কোনো সন্দেহ নেই)। 

৩১৭ খ:৯স্টপূর্বাব্দে চন্দ্রগুপ্তের রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠিত হয়। এই তারিখটি 
মিলে যাচ্ছে ভারতীয় (বোদ্ধ ও জৈন) এবং ধ্রুপদী ইউরোপীয় সূত্রে পাওয়া তথ্যাদির 
সঙ্গে, যাঁদও বহু ইতিহাসবেন্তা মৌর্য রাজবংশের প্রাতিষ্ঞার সময় নির্দেশ করেছেন 
আরও পরের কালপর্যায় থেকে। 

ধুূপদশী ইউরোপীয় সূত্র থেকে আমরা জানতে পার চন্দ্রগুপ্তের সঙ্গে 
আলেকজান্ডারের বন্ধ, সহযোদ্ধা ও পরে সরিয়ার রাজা সেলযযকাস 'নিকাটরের 
যৃদ্ধবিগ্রহের ও পরে শান্তিচুক্তি সম্পাদনের কথা । তবে এই য্বদ্ধবিগ্রহের কোনো 
কারণ ওইসব সূত্র থেকে জানা যায় না। আমরা বড়জোর অনুমান করতে পারি 
যে চন্দ্রগ্প্ত তাঁর নব-আঁজঁত রাজশীক্ত সংহত করে তোলার পর আলেকজাণ্ডারের 
(0152০0১1) উত্তরাধিকারবর্গের মধ্যে প্রাধান্য অনের যে-সংগ্রাম তখন চলছিল 
তাকে নিজের স্বার্থসাধনের কাজে লাগান ও সেল্যকাসকে আক্রমণ করেন। যে- 
সমস্ত এলাকা আলেকজান্ডার দখল করেন ও তাঁর মৃত্যুর পর যা সেল্দ্যকাসের ভাগে 
পড়ে তা জয় করে নেবার জন্যে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন চন্দ্রগ্‌প্ত। এ-উপলক্ষে কয়েক 
যুদ্ধের পর যে-সান্বচুক্ত সম্পাদত হয় সে-অনুসারে চন্দ্ুগ্‌প্ত সেল্যকাসকে পাঁচ 
শো হাতি উপহার দেন এবং মৌর্য-রাজা লাভ করেন পারোপাঁমসাস, আরাকোঁসয়া 
ও গেড্রোসিয়া নামের তিনটি অণ্লের ওপর আ'ধপত্য। 


৮৭ 


সেলন্যকাস তাঁর দূত মেগাস্ছেনিসকে চন্দ্রগৃপ্তের রাজসভায় পাঠান। মেগাস্ছেনিস 
এই 'বিদেশবাসের বিবরণ দেন তাঁর 'ইশ্ডিকা" নামের বিশেষ গ্রল্থাটতে (এই গ্রন্থের 
খাঁণ্ডত অংশাবিশেষ মাত্র পাওয়া গেছে)। 

চাক্বশ বছর (সম্ভবত ৩১৭ থেকে ২৯৩ খুসস্টপূরাব্দ) রাজত্ব করার পর 
চন্দ্রগপ্ত মারা যান। অতঃপর মগধের সিংহাসনে বসেন তাঁর পত্র বিল্দ;সার। 
গ্রকদের কাছে হীন আমিট্রোকেটিস (সংস্কৃতে শব্দটি হল 'আমন্রঘাত, অর্থাৎ শত্রু 
'নিধনকার?) নামে পাঁরচিত। মনে হয় এই উপাঁধাটি দেশের সে-সময়কার উত্তেজনাপূর্ণ 
পরাস্িতিরই পাঁরচয়বাহী। বেশ কয়েকটি এলাকায় তখন মাথাচাড়া দিয়েছিল বিদ্রোহ 
এবং কিছ-কিছু তথ্যের সাক্ষ্য অন্যায়ী মনে হয় বিন্দসারের রাজত্বকালে 
দাক্ষণাপথের িছু-কিছু ভূখণ্ড আধিকৃত ও অন্তভূক্ত হয়োছল মৌর্য সাম্রাজ্যের । 
তবে এ-যুগের নির্ভরযোগ্য কোনো শিলালাপি পাওয়া যায় নি। 

পিতার মতো বিন্দুসারও গ্রীক-প্রভাঁবত মিশর ও সেল্যকাস-প্রাতচ্ঠিত 
সামাজ্যের সঙ্গে ঘানম্ঠ কূটনীতিক সম্পর্ক বজায় রেখোঁছলেন। স্ট্রাবোে লিখছেন যে 
ডেইমাকোস নামে সেল্যকাস-প্রাতম্ঠত সাম্রাজ্যের এক দৃতকে পাঠানো হয় 
পাটলিপ7ত্রে। সেলযকাস-বংশনয় রাজা আশ্টিয়োকাস ও ভারতীয় রাজা বিন্দসারের 
মধ্যে বার্তা-বিনিময় প্রসঙ্গে কৌতৃহলোদ্দপক একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন 
আথেনাইয়োস। তিনি লিখেছেন যে ভারতীয় রাজা আশ্টিয়োকাসকে অনুরোধ 
জানিয়েছিলেন তাঁকে 'মিম্টি মদ, শুকনো মেওয়া-ডুমুর ও একজন সাঁফস্ট দার্শীনক 
পাঠাতে । জবাবে বিন্দুসারকে জানানো হয় ষে তাঁকে মদ ও ডুমুর অবশ্যই পাঠানো 
বলে দার্শানক পাঠানো সম্ভব হবে না। 

পুরাণসমূহে উল্লাখিত তথ্যাদ বিশ্বাস করলে বলতে হয় যে বিন্দুসার রাজত্ব 
করোছলেন পণচশ বছর (২৯৩-২৬৮ খ৭স্টপূর্বাব্দ)। তাঁর মৃত্যুর পর ক্ষমতার 
দখল নিয়ে তাঁর ছেলেদের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দিতা চলে । অবশেষে পাট্লিপনন্রের 
সিংহাসনে আরোহণ করেন অশোক। 


অশোকের রাজ্যশাসনকালে মৌোর্য-সাম্াজ্যের অবস্থা 
পিয়দশি-অশোক 


অশোকের শাসনাধীনে মৌর্য-সাম্রাজ্য ক্ষমতা ও প্রাতপান্তর তুঙ্গে ওঠে। 
সাম্রাজ্যের পরিধি এ-সময়ে আরও বিস্তৃত হয় এবং প্রাচনকালের প্রাচ্দেশে এট 


৮৮ 


হয়ে দাঁড়ায় বৃহত্তম সাম্রাজ্যগলির একটি । এর খ্যাঁতও ভারত ছাঁড়য়ে বহুদূর 
পর্যন্ত ছাড়িয়ে পড়ে। অশোক ও তাঁর ক্রিয়াকলাপকে জাড়য়ে গড়ে ওঠে বহুতর 
উপকথা-উপাখ্যান, তার মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পায় বৌদ্ধধর্ম প্রচারের ব্যাপারে তাঁর 
কীর্তকাহিনী। বৌদ্ধধর্মের সঙ্গে জাঁড়ত এই উপাখ্যানগ্ঁলি ছাঁড়য়ে পড়ে এশিয়ার 
দেশ-দেশাস্তরেও। 

অশোকের নির্দেশে প্রচারিত বহু অনুশাসন থেকে ওই যুগের ইতিহাস সম্বন্ধে 
গুরুত্বপূর্ণ নানা সংবাদ, তাঁর সাম্রাজ্য-পরিচালনার পদ্ধতি ও মৌর্য রাজবংশের 
রাষ্ট্রনীতিসমূহের পরিচয় পাওয়া যায়। অনুশাসনগুিতে মৌর্যরাজার উল্লেখ 
রয়েছে দেবানামাঁপয় িয়দাঁশ, অর্থাৎ 'দেবগণের প্প্রয় রাজা প্রিয়দশর্শ” বলে। 
কেবলমান্র দুটি অনুশাসনে রাজার নাম অশোক বলে উল্লিখিত হয়েছে। 
পরবতাঁকালের কিছু-কিছ্‌ সূত্র থেকে জানা গেছে যে সিংহাসন দখল করার আগে 
ধন্দুসারের এই পুত্রের আসল নাম ছিল 'পিয়দাশ বা 'প্রয়দশর, পরে রাজা হওয়ার 
পর হীন পারচিত হন অশোক (অর্থাৎ আক্ষারক অর্থে 'দুঃখবেদনামুক্ত) নামে । 

কান্দাহারে প্রাপ্ত অশোকের অনুশাসনের গ্রীক ভাষাস্তরণে রাজাকে পিয়দশি 
বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। যখন তানি যুবরাজমান্র তখন 'পয়দাশকে কীভাবে তাঁর 
পিতা রাজা 'বন্দুসার পশ্চিম ভারত (অর্থাৎ অবন্তী প্রদেশ) শাসন করতে তাঁকে 
রাজধানী উজ্জয়িনীতে বের্তমানে উজ্জয়িনে) পাঠালেন সে-কাহিনী ববৃত হয়েছে 
সংহল ইাতিবৃত্তগীলতে । উত্তর ভারতীয় সূত্রগল থেকে জানা যায় যে রাজপুত্র 
একসময়ে উত্তর-পশ্চিম ভারতের তক্ষশিলা নগরে ছিলেন, বিন্দুসার তাঁকে সেখানে 
পাঠিয়েছিলেন রাজ-কর্মচারদের বিরুদ্ধে স্থানীয় অধিবাসীদের এক বিদ্রোহ দমন 
করতে । এই সূত্রগূলি থেকে আরও জানা যায় যে ক্ষমতা দখলের জন্যে পিয়দাঁশ 
তাঁর ভাইদের বরুদ্ধে তুমূল সংগ্রাম চালিয়োছলেন। 'সংহলী ইতিবৃত্ত গুলিতে 
বলা হয়েছে যে অশোক মগধের 'সংহাসন আঁধকার করার পরও এই ভ্রাতৃদ্বন্দের 
নিরসন হয় নি। এ-থেকেই বোঝা যায় কেন অশোক ক্ষমতায় আধাম্ঠত হবার দীর্ঘ 
চার বছর পরে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর রাজ্যাঁভিষেক সম্পাঁদত হয়োছল। 


কঁলিঙগ-য,দ্ধ 


রাজা অশোকের অনুশাসনগ্দীলতে একটিমাত্র যে-বড় রকমের রাজনোতিক 
ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় তা হল বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম উপকূলস্থ শক্তিশালী এক 
রাষ্ট্র কলিঙ্গের (বর্তমান গুাঁড়ষ্যার) বিরুদ্ধে যৃদ্ধ। সাশ্লঘ্ট অনুশাসনাটিতে রাজা 
অশোক ঘোষণা করছেন যে এই যুদ্ধে দেড়লক্ষ লোক মগধের হাতে বন্দী হয় ও 


৮৯ 


নিহত হয় একলক্ষেরও বোঁশ মানুষ৷ রণনোতিক ও বাঁণাঁজ্যক উভয় দিক থেকেই 
গুরুত্বপূর্ণ এই বিজয় ও কলিঙ্গ-রাজ্য দখল মগধ-সাম্রাজ্যকে দৃঢ়তর করে তুলতে 
সাহায্য করে। 

অশোকের সেনাবাঁহনীকে কাঁলঙ্গে প্রবল প্রাতিরোধের সম্মুখীন হতে হয়। 
এরও আগে এই অণ্চল ছল নন্দ-সাম্রাজ্যের অংশ, তবে পরে কালঙ্গ স্বাধীনতা 
অজনে সমর্থ হয়। কাঁলঙ্গাবজয় উপলক্ষে উৎকর্ণ এক বিশেষ অনুশাসনে রাজা 
অশোক নিজে স্বীকার করেছেন যে সাধারণ মানুষ ও আঁভজাত সম্প্রদায় উভয়ের 
বিরুদ্ধেই কঠোর শান্তদান-ব্যবস্থা গৃহীত হয়। প্রসঙ্গত স্মর্তব্য যে কালঙ্গের 
আঁভিজাতরাও মৌর্যদের শাসন মেনে নিতে আনচ্ছক 'ছিলেন। সামাগ্রক প্রাতিরোধ 
এতই প্রবল হয়োৌছল যে অশোক এমন কি বাধ্য হয়েছিলেন সদ্য-বিজিত এই ভূখণ্ডে 
উত্তেজনা হাসের জন্যে বিশেষ-বিশেষ ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে । ফলে কাঁলঙ্গকে 
অনেকখানি পারমাণে স্বাধীনতা দেয়া হল এবং সম্রাট স্বয়ং কাঁলঙ্গে নিযুক্ত তাঁর 
কর্মচারদের কাজকর্মের ওপর ব্যাক্তগত তদারাঁক কায়েম রাখলেন যাতে কাঁলঙ্গের 
নাগারকদের উপযুক্ত কারণ ছাড়া বন্দী করা না-হয় এবং 'বনা কারণে 'নর্ধাতন 
করা না-হয়। 

অনেক ইতিহাসবেন্তা মনে করেন যে কলিঙ্গের বর্দ্ধে যুদ্ধের ফলে সম্রাট 
অশোক এঁক্যবদ্ধ এক সাম্রাজ্য প্রাতষ্ঠার উদ্দেশ্যে পারচ্যালত তাঁর এীতিহ্যাঁসদ্ধ 
সাক্রযয় পররান্ট্র-নশীতি ত্যাগ করতে বাধ্য হন। তাঁদের মতে অশোক ইতিমধ্যেই 
স্বপ্নলোকাঁবহারী হয়ে উঠোছলেন এবং পাঁরত্যাগ করেছিলেন নিজের প্রাতপা্ত 
ও ক্ষমতা 'বস্তারের ও তা সংহত করার সকল প্রয়াস। কিন্তু দেখা গেছে এই ধারণা 
আকর গ্রল্থ, ইত্যাঁদ উপাদানসমূহে প্রদত্ত তথ্যাদর সঙ্গে খাপ খায় না। আসলে 
অশোক তার সাক্রুয় পররাম্ট্র-নশীত মোটেই ত্যাগ করেন নি, তিনি শুধু এই নীতি 
প্রয়োগের পদ্ধাততে 'িছু-পারমাণে পাঁরবর্তন ঘঁটিয়োছিলেন এইমান্র। জের 
ক্ষমতা-বিস্তারের কথা না-ভুলে এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে শক্তিপ্রয়োগ করেই 
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে এই মৌর্যরাজা প্রধানত প্রয়োগ করতে থাকেন তত্ুগত 
ও কূটনীতিক হাতিয়ার। বিশেষভাবে নিযুক্ত রাজ-কর্মচারি ও কূটনীতিক দৃতদের 
ওপর নিভর করে তিনি তখনও-পর্যস্তআধিকৃত-নয় এমন সব ভূখণ্ডে নিজ প্রাতপাত্ত 
সংহত করে তোলার ব্যাপারে সর্বশাক্ত নিয়োগ করেন। সেই সব দেশের আঁধবাসীঁদের 
তান জ্ঞাপন করেন সম্রাটের সম্ভাব্য ক্নেহযত্র, পিতৃসূলভ মমতা ও সর্বপ্রকার 
সমর্থনের কথা । 

একাঁট অনুশাসনে অশোক তাঁর রাজ-কমণচারদের এইমর্মে নিদেশ 
দেন: “অনাধকৃত দেশসমূহের জনসাধারণের মনে দঢ়ভাবে এই বিশ্বাস 
জন্মানো চাই যে আমাদের চোখে রাজা হলেন পিতৃতুল্য। নিজের প্রাতি তাঁর 


১০ 


যে-মনোভাব প্রজাদের প্রাতিও তাঁর মনোভাব তৈমনই, নিজ সন্তানের মতোই তারা 
তাঁর প্রিয় । 

বহু দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কুটনীতক সম্পর্ক রাখতেন অশোক। তাঁর 
অনুশাসনগ্ূলিতে এই সম্পর্কের উল্লেখ আছে সেলযকাস-বংশীয় রাজা দ্বিতীয় 
আন্টিয়োকাস থিওস (সেল্যকাসের পৌন্র) মিশরের রাজা দ্বিতীয় টলোমি 
িলাডেলফাস, মাসডোনিয়ার রাজা আ্টগোনাস গোনেটাস, কাইরান (আফ্রিকা)-র 
রাজা মাগাস ও এপিরাসের রাজা আলেকজাণ্ডারের সঙ্গে। মোর্য-রাষ্ট্রদূতদের 
পাঠানো হোত বহু 'বাভন্ন দেশে, আর সেখানে তাঁরা প্রচার করতেন তাঁদের পরা্নান্ত 
ও ন্যায়ানষ্ঠ রাজা অশোকের কথা । 

মগধের সঙ্গে তখন বিশেষ ঘানিষ্ঠ সম্পক্ঁ ছিল সংহলের। বৌদ্ধধর্ম প্রচারের 
জন্যে অশোক সেখানে পাত্র মাহন্দ মেহেন্দ্র)-এর নেতৃত্বে এক বিশেষ প্রচারক-দল 
পাঠান। 

সংহলের তৎকালীন রাজা তিসস (তিষ্য) এর 'বাঁনময়ে কৃতজ্ঞতাস্বর্প 
অশোকের সম্মানে নিজেও দেবানামাপয় ('দেবগণের প্রিয়”) উপাধি ধারণ করেন ও 
পাটালপুন্রে এক রাষ্ট্রদূত পাঠান। 


কাল-নিরপণ 


অশোকের রাজত্বকালের সন-তারিখ নির্পণ নিয়ে ইতিহাসবেত্তাদের মধ্যে 
এখনও তুমুল বিতর্ক চলেছে । তবে তাঁর অনুশাসনগুলিতে এই প্রশ্নটির সঙ্গে 
সম্পকিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদ এর মীমাংসার পথে সহায়ক হতে পারে। অশোকের 
রাজ্যাঁভষেকের বারো বছর পরে পর্বতগ্ান্রে উৎকীর্ণ তাঁর তথাকাথত প্রধান-প্রধান 
অনুশাসনে সমকালীন পাঁচজন (ওপরে উীল্লীখত) গ্রীক ও গ্রশক-প্রভাবিত রাজার 
উল্লেখ আছে। এর অর্থ যে-বছরে ওই অনুশাসন বা অনুশ্াসনগ্ীল পাথরে খোদাই 
করা হয়োছিল সে-বছর উপরোক্ত পাঁচজন রাজাই জীবিত ছিলেন। অর্থাৎ বছরটি 
তাহলে সম্ভবত ২৫৬ কিংবা ২৫৫ খবস্টপূর্বাব্দ বলে অন্দামত হচ্ছে। এ থেকে 
ইীঙ্গত পাওয়া যাচ্ছে ষে অশোকের রাজত্ব শুরু হয়েছিল আনুমানিক ২৬৮ 
খুবস্টপূর্বাব্দে। 

অশোকের নামের সঙ্গে জড়িত উপাখ্যানগ্ঁলিতে জ্যোতির্বিদ্যাগত যে-সমস্ত 
তথ্য পাওয়া যায় তা নিয়েও কৌতৃহলোদ্দীপক গবেষণা হয়েছে। বৌদ্ধ 
উপাখ্যানগ্ঁলতে আমরা এক সূ্ষগ্রহণের উল্লেখ পাই যা বৌদ্ধ বিহার ও স্তূপ-দর্শন 
উপলক্ষে অশোকের দেশপারব্লাজনের সমকালীন এক ঘটনা বলে অনুমিত হয়। 
পাশ্ডতেরা নির্ণয় করেছেন যে অশোকের রাজত্বকালে ২৪৯ খস্টপূর্বাব্দে সাঁত্যই 
একবার সূর্যগ্রহণ হয়। আবার অশোকের রাজত্বকালের বিংশাঁততম বর্ষে প্রচারিত 


৯১৬ 


এক অনুশাসনে পাওয়া যায় বুদ্ধের জন্মস্থান-দর্শনে ওই বছরে তাঁর বান্নার উল্লেখ। 
এই সবাঁকছ্‌ একত্রে বিচার করলে আমাদের এমন অনুমান করার কারণ ঘটে যে 
অশোকের রাজত্বকাল শুরু হয় ওই ২৬৮ খ্স্টপূর্বাব্দেই। অপর 'কিছু-কিছু আকর 
গ্রল্থের উপাদানেও এই তাঁরখটির সমর্থন মেলে । যথা, রাজবংশের কুলপাঞ্জ পেশ 
করে পুরাণগুিতে যেমন বলা হয়েছে সে-অনযায়ণী যাঁদ ধরে নেয়া হয় যে বন্দুসার 
পণচশ বছরই রাজত্ব করোছিলেন, তাহলে বলতে হয় অশোক সিংহাসনে বসৌছলেন 
২৬৮ খ২স্টপূর্বাব্দেই। অপরপক্ষে বৌদ্ধ ধর্ম শাস্তরগ্ীলিতে উল্লাখত আছে যে অশোক 
1সংহাসনে আরোহণ করেছিলেন বুদ্ধের মহাপাঁরনির্বাণ বা মৃত্যুর ২১৮ বছর পরে, 
আর বহু পশ্ডিতই এ-ব্যাপারে একমত যে বুদ্ধের মৃত্যুর ওই বছরটি ৪৮৬ 
খুীস্টপূর্বাব্দ হওয়া খুবই সম্ভব। তাহলে দেখা যাচ্ছে এই এীতিহ্য অনুযায়ীও 
আমরা অশোকের রাজত্বের সূচনাকাল হিসেবে ওই একই বছর, অর্থাৎ ২৬৮ 
খীস্টপূর্বাব্দ, পেয়ে যাচ্ছ। 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে অপর কিছু পণ্ডিত আবার "ভিন্ন সন-তারখের সপক্ষে 
মতপ্রকাশ করেছেন। অশোক যে রাজক্ষমতা দখলের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে রাজা 
হিসেবে আভাষক্ত হন নি, বরং তা হয়োছলেন চার বছর পরে _ সিংহলী 
ইতিবৃত্তসমূহের এই উল্লেখাটর কথা এরা বলে থাকেন প্রায়ই। এরই 'ভীত্ততে 
তাঁরা অশোকের সিংহাসনে বসার তাঁরখ নির্দেশ করেছেন ২৬৫ খ্স্টপূর্বাব্দে। 
যাই হোক, মৌর্য-সাম্রাজ্যের এই সন-তারিখ নির্পণের প্রশ্নটি ভারি জল থেকে 
গেছে। 


মোর্য-সাম্রাজ্যের বিস্তার ও সশমানা 


মৌর্য-সাম্রাজ্যের বস্তার ছিল বশাল এক ভূখন্ড জুড়ে। এই একটিমান্র 
রাম্ট্র-কাঠামোর অন্তভূক্তি ছল বহু বাভন্ন নৃকুলের মানুষ ও নানা উপজাতি, যারা 
চর্চা করত 'বাভল্ন 'ভাষা ও সংস্কৃতির এবং অনুসরণ করত বিচিত্র রীতিনশীতি, 
আচার-ব্যবহারের এীতহ্য ও ধর্মীবশ্বাসের। 

অশোকের উৎকীর্ণ 'লাপসমূহ ও অর্থশাস্ত্র-এর সাক্ষ্য-অনুযায়ী বলতে হয় 
ওই সময়ের মধ্যেই ধহমালয় থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল এক ভূখণ্ড- 
জোড়া কর্তৃত্বের অধিকারী” এক একচ্ছন্র রাজার অধাঁন প্রকান্ড এক রাম্ট্রের ধারণা 
জনমনে বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছিল। রাজনোতিক তত্তবিদরাও ওই সময়ের মধ্যে 
সাম্রাজ্যের বিস্তারের তারতম্য এবং কাছের ও দূরের অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে 
তার সম্পকের ব্যাপারাট 'নয়ে রীতিমতো একেকাঁট 'বশদ তত্তই গড়ে 
তুলোছিলেন। 


মৌর্যযুগে নতুন ধ্যানধারণার উদ্ভব লক্ষ্য করা যায় মগধের এক পূর্ববতরঁ 


৭২, 


রাজা বিম্বসার ও সম্রাট অশোকের স্বর্পবর্ণনার মধ্যে। প্রথমোক্ত রাজাকে যেখানে 
উল্লেখ করা হয়েছে প্রদেশ-রাজ' অর্থাৎ ছোট এক ভূখণ্ড বা প্রদেশের শাসক বলে, 
সেখানে অশোককে বলা হয়েছে 'জম্বুদ্বীপের (বা সমগ্র ভারতের) “সর্বশীক্তমান 
অধীশ্বর' বলে। 

সম্রাট অশোকের অনুশাসনগ্াীলই মৌর্য সাম্রাজ্যের বিপুল বিস্তারের প্রধান 
সাক্ষী। চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকাল সম্বন্ধে ইউরোপীয় ধ্ুপদী লেখকদের রচনাগ্‌লি 
থেকেও িছু-কিছ খবরাখবর পাওয়া যায়। চঈনা পরিব্রাজকদের 'লাখিত 'ববরণ 
থেকে যে-তথ্যাঁদ পাওয়া যায় বিশেষ করে শিলালাপ-সংক্রান্ত ও প্রত্রতাত্বক প্রমাণের 
সমর্থন মিললে তাদেরও ছটা মূল্য আছে বলতে হয়। 

অশোকের সাম্রাজ্যের পশ্চিম সীমান্ত নির্ধারণের অনেকখান স্মাবধা হয়েছে 
প্রাচীন আরাকোঁসিয়ার প্রাণকেন্দ্র কান্দাহারে অশোকের অনুশাসনগ্দলি গ্রীক ও 
গ্রেকো-আরামেইক হরফে লেখা) আবিষ্কৃত হওয়ায়। এগুলি থেকে স্পম্ট বোঝা 
যায় যে সে-সময়ে আরাকোসিয়া (আধুনিক আফগানিস্তানের একটি অংশ) ওই 
সাম্রাজ্যের অন্তরভূক্ত ছিল। 

অশোকের অনশাসনগুলিতে দেশের পাঁশ্চমাণ্চলে বসবাসকারী বন ও কাম্বোজ 
জাতিদ্‌টির কথা কয়েকবার উল্লিখিত হয়েছে। 

যবন শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে গ্রীকদের বোঝাতে, আরাকোসয়ায় তখন তাদের 
কয়েকাট বসাঁত ছল । এই গ্রীক জনসাধারণের বোঝার স্াবধার জন্যে অশোকের 
অনুশাসনগ্লি গ্রীকভাষায় তমা করে প্রচার করা হয়োছল। কিছ:-কিছ; পাঁণ্ডিত 
মনে করেন যে অশোকের আমলের এই যবনরা ছিলেন মাঁসডোনিয়ার আলেক্জান্ডারের 
সময়কার যে-গ্রীক উপজাতি-গোম্ঠীগ্লি আরাকোঁসিয়ায় বসাঁতস্থাপন করে থেকে 
গিয়েছিল তাদেরই উত্তরপরুষ। 

আরাকোঁসয়ায় বস করতেন কাম্বোজরাও (ইরানীয় ভাষাভাষী এক উপজ্াতি- 
গোল্ঠ)। প্রাচীন ভারতীয় উপাখ্যানগুলিতে এদের বর্ণনা করা হয়েছে তুখোড় 
ঘোড়সওয়ার এবং ঘোড়ার প্রজনক হিসেবে । কাম্বোজদের ভাষা কী ছিল তা সাঁঠক 
জানা যায় না, তবে কান্দাহারে অবাস্থিত অশোকের অনূশাসনের আরামেইক ভাষ্যে 
যেহেতু বহ? ইরানীয় শব্দ পাওয়া গেছে তাই একথা বিশ্বাস করা চলে যে এই ভাষ্যাট 
বিশেষ করে কাম্বোজদের জন্যেই রচিত হয়েছিল। 

অশোকের একটি অনুশাসন পাওয়া গেছে লম্পকেও (আধুনিক জেলালাবাদের 
কাছে)। এ-থেকে এই ধারণার সমর্থন মেলে যে পারোপামিসাস রাজ্যট বস্তুত মৌর্য 
সাম্রাজযেরই অংশ ছিল (এর একমান্র উল্লেখ ইতিপূর্বে পাওয়া গিয়েছিল গ্রীক 
সূত্র থেকে। সেখানে বলা হয়েছিল যে চন্দ্ুগপ্ত ও সেল্যকাসের মধ্যে এক 
সান্বচুক্তির ফলে এই রাজ্য চন্দ্রগ্‌প্ত লাভ করোছিলেন)। 


৯১৩ 


কাশ্মীরের হাতবৃত্ত 'রাজতরাঙ্গন'তে প্রাপ্ত তথ্যাদি এবং চীনা পরিব্লাজকদের 
বিবরণী থেকে একথা বিশ্বাস করার কারণ ঘটে যে কাশ্মীরের একাংশও অশোকের 
সাম্রাজ্যের অন্তভূক্ত ছিল। প্রচলিত এঁতিহ্য অনুসারে প্রকাশ যে কাশ্মীরের প্রধান 
শহর শ্রীনগর অশোকের রাজত্বকালেই নির্মিত হয়েছিল। নেপালের কিছ অংশও 
সম্ভবত অন্তর্ভুক্ত ছিল এই সাম্রাজ্যের । আবন্কৃত শিলালাঁপ ও 'লাখত সূত্র থেকে 
ইীঙ্গত পাওয়া যায় যে বঙ্গদেশও মগধ-সাম্রাজ্যের অংশভূত 'ছিল। 

দক্ষিণ ভারতে অশোকের প্রচারিত অনুশাসনগূলি পাওয়া যাওয়ার ফলে 
মগধ-সাম্াজ্যের দক্ষিণ সীমান্ত নির্ধারণে স্মাবধা হয়। ওই সীমান্ত ছিল আধুনিক 
চিতলদর্গ জেলার আনমানক দাঁক্ষণ সীমানা-বরাবর। দক্ষিণে মগধ-সাম্রাজ্যের 
সীমান্তবতর্দশ ছিল চোল, কেরলপুত্র ও সত্যপুত্রদের রাজ্যগ্যাল। অশোকের 
অনশাসনসমূহে এগুলকে তাঁর রাজ্যের বহির্ভূত ভূখণ্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 
তবে মোর্যরা এই অণুলগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলতেন। এসব জায়গাতে 
বৌদ্ধন্তুূপও নির্মিত হয়েছে, বোদ্ধ প্রচারকও পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও বহু 
দেশের সঙ্গেও কূটনীতিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলত মগধ, ভারতের পশ্চিম 
সীমান্তের প্রান্তবতর্শ গ্রীক ও গ্রীক-প্রভাবক দেশসমূহ, শ্রীলঙকা, এবং মধ্য-এীশয়ার 
কিছু-কিছু অণ্ল ছিল এই বন্ধুরান্ট্রের অন্তর্গত। 


মৌর্য-য;গে রাজশক্তি 


মগধ-রাম্ট্রের অস্তিত্বকালে এবং বিশেষ করে মৌর্যরাজাদের অধীনে রাজার 
ক্ষমতা ভ্রমশ দৃঢ় ও সংহত হয়ে ওঠে এবং উপজাতিক রাঁতি-পদ্ধীতি ও প্রাতিজ্ঞানগ্ালর 
গুরুত্ব হাস পায় সম-পরিমাণে। 

মৌর্য-সম্াটদের আমলে রাজশীাক্ত বিশেষ তাৎপর্যে মশ্ডিত হয়ে ওঠে । অশোকের 
অন্শাসন-লাপিগ্লি ও অর্থশাস্ত্রের সাক্ষ্য থেকে এটা স্পম্ট। এ-সময়ে রাজাকে 
গণ্য করা হোত রাম্ট্রের ভীত্ত হিসেবে । অর্থশাস্ত্রে বলা হয়েছে রাষ্ট্র ও রাজা 
সমার্থক'। এই বাক্যটিতে রাম্ট্র সম্বন্ধে তৎকাল-প্রচলিত গোটা তত্তবের অন্তঃসারাট 
নিহিত। 

বংশপরম্পরা-সূত্রে উত্তরাধকারের নীতিকে মেনে চলা হোত অত্যন্ত 
কড়াকাঁড়ভাবে। রাজার মৃত্যুর আগেই তাঁর একটি ছেলেকে সংহাসনের 
উত্তরাধিকারী মনোনীত করা হোত (প্রায়ই এই ছেলোট হতেন রাজার জ্যোম্ঠপনত্র)। 
তবে কার্ক্ষেত্রে ক্ষমতা দখলের জন্যে রাজার ছেলেদের মধ্যে শুর্‌ হয়ে যেত তাঁর 
প্রাতিদ্বন্দিতা। 


8৪ 


অতঃপর নতুন রাজার 'সংহাসনে আরোহণের সময় এক বিশেষ পূজা ও 
অনুষ্ঠান (আভষেক' নামে পারিচিত) উদ্যাঁপত হোত। ঢালাও ভোজ ছিল সেই 
অনুষ্ঠানের অঙ্গ । 

মৌর্যরাজাদের আমলে রাজচন্রবার্তন (আক্ষরিক অর্থে -_ ণযনি ক্ষমতার চক্র 
আবার্তত করেন')-এর ধারণাটি পাঁরণত হয়ে ওঠে । রাজচন্রবতর্শ হলেন সেই একচ্ছন্ন 
রাজা যাঁর ক্ষমতা প্রসারত পশ্চিম থেকে পূর্ব সমুদ্র, হিমালয় থেকে কন্যাকুমারী 
পর্যন্ত এক বিশাল ভূখন্ড জূড়ে। এই ধারণাটিকে বিশেষভাবে বিশদ 
করা হয়েছে অর্থশাস্তে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, এটি হল প্রকান্ড এক 
সাম্রাজ্যগঠনের সঙ্গে সম্পকিতি ভারতীয় রাম্ট্রের বিকাশের এক নতুন স্তরে তার 
তাত্বক রূপ। 

অশোকের শিলালাপগুলির বিচারে বলতে হয় যে মৌর্যরাজা রাম্ট্রযন্দ্ের 
কর্তৃত্বে থাকতেন এবং আইন প্রণয়নের আধকারী ছিলেন। অশোকের অন্শাসনগ্যাল 
প্রচারিত হয়েছিল রাজার নির্দেশে ও রাজার নামেই। রাজা স্বয়ং প্রধান-প্রধান 
রাজকর্মচাঁরকে নিষুক্ত করতেন, রাজস্ব-সংগ্রহ সম্বন্ধীয় বিভাগের প্রধান ছিলেন 
এবং ছিলেন দেশের প্রধান 'িচারকর্তা। অর্থশাস্ে আমরা পাই রাজার বিবিধ 
'ক্রুয়াকলাপের ও অবসর-ীবনোদনের বিস্তারিত বর্ণনা । রাজার দেহরক্ষী-বাহনী 
নিযুক্ত করার ব্যাপারে তখন বিশেষ নজর দেয়া হোত, কারণ রাজার 'বর্দ্ধে নানা 
ধরনের ষড়্যল্ল ছিল রাজসভার প্রায় নৈমাত্তক এক ঘটনা। চন্দ্গুপ্তের রাজসভায় 
নযৃক্ত গ্রীক রান্ট্রদূত মেগাচ্ছোনস এ-ব্যাপারটি বিশেষ মনোযোগ-সহকারে 
পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। নিজের বিবরণীতে তিনি লিখেছিলেন : “দুষ্ট ষড়যন্দ্ের 
শিকার হওয়ার ভয়ে রাজা দিনের বেলা ঘুমোন না, এমন কি রান্রেও থেকে-থেকে 
বশ্রাম-স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হন 'তিনি। রাজা যখন শিকারে বেরোন তখন 
তানি পারবৃত্ত থাকেন স্বীলোক "দিয়ে, আর এই স্ত্রী-সাঙ্গনশদের আবার ঘিরে 
থাকে বর্শাধারী দেহরক্ষীদের ক্যহ। রাজার মৃগয়ার যাত্রাপথ ঘেরা থাকে দুশদকে 
টানা দাঁড়র বেষ্টনী দিয়ে। একমাত্র পূর্বোক্ত স্তীলোকদেরই এই দাঁড়র বেল্টননর 
মধ্যে দিয়ে হাঁটার আঁধিকার আছে। অন্য কোনো হঠকার ব্যক্তি এই বেষ্টনীর মধ্যে 
প্রবেশ করলে তাকে সাক্ষাৎ মৃত্যুর সম্মুখীন হতে হয়।, 

মৌর্য রাজসভায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকত রাজার প্রধান পুরোহিতের । 
প্রভাবশালী ব্রাহ্মণদের মধ্যে থেকেই এই পুরোহিত নিযুক্ত হতেন। 

রাজা ব্যক্তিগতভাবে তাঁর 'বিশ্বাসভাজন ব্যক্তদের মধ্যে থেকে রাজকার্ষের 
সাহায্যকারী নির্বাচন করতেন, তবে এই সাহাষ্যকারীদের ওপরেও গোপনে নজর 
রাখা হোত। অনূচরবৃন্দকেও বশেষ-ীবশেষ পরীক্ষার মধ্যে ফেলতেন রাজা । এই 
পরীক্ষায় যারা সসম্মানে উত্তীর্ণ হতে না-পারত, তাদের খনিতে কঠিন শ্রমসাধ্য 


2 


কাজে পাঠানোর সম্ভাবনা থাকত । এইভাবে নানাঁদক থেকে দেশ জুড়ে গোয়েন্দাগারির 
জালবিস্তারের ওপর আরোপ করা হোত প্রচণ্ড গুরুত্ব। কেবল যে রাজকর্মচারদের 
গাঁতাঁবধিই তীক্ষমভাবে নজরে রাখা হোত তা-ই নয়, শহর ও গ্রামের সাধারণ 
অধিবাসরাও এর কবল থেকে মক্ত থাকতেন না। রাজপত্রদের ওপর আবার 
বিশেষ করে দৃষ্টি রাখা হোত, কেননা অর্থশাস্দের ভাষায় তারা “পতাকে ভক্ষণ 
করে বাগদা চিংঁড়র মতো”। 

রান্রবেলা রাজা সাক্ষাৎ করতেন তাঁর গোপন সংবাদবাহকদের সঙ্গে, আর দিনের 
বেলা -_ অর্থশাস্ত বইটি থেকে আমরা জেনোছ _ তিনি ব্যস্ত থাকতেন 
রাম্ট্রপারচালন-সংক্রান্ত কাজকর্ম নিয়ে কিংবা নানা ধরনের আমোদপ্রমোদ উপভোগে। 
রাজাকেই গণ্য করা হোত সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাধ্যক্ষ হিসেবে । মেগাস্ছোনিসের 
ণাববরণ অন্যায়ী রাজার সৈন্যসংখ্যা ছিল তাক-লাগানোর মতো । চন্দ্রগুপ্তের সৈন্য- 
শিবিরে মোট ৪ লক্ষ সৈন্য ছিল। 


পরিষদ ও সভা 


রাজ্য-পারচালনার ব্যাপারে গ্‌রুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল 'পাঁরষদ” নামে পাঁরাঁচিত 
রাজার মন্তরিমশ্ডলীর ওপর। মৌর্য-রাজাদের আমলেই-যে এই সংগঠনাটর প্রথম 
উদ্তব ঘটে তা নয় (আরও আগে থেকেই আস্তত্ব ছিল এর), তবে সঠিকভাবে বলতে 
গেলে মৌর্যআমলেই পরিষদ রাজনোৌতিক মল্নণাসভার চরিন্ন অজ্ন করে। সম্রাট 
অশোকের অনুশাসনগুলিতে এই পাঁরষদের উল্লেখ আছে এবং বিস্তারিতভাবে এর 
কাজকর্মের বর্ণনা আছে অর্থশাস্ত্ে। সেখানে একে বলা হয়েছে মন্ল্িপারষদ। এই 
পারষদের কাজ ছিল গোটা শাসন-ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং রাজার 
'নিদেশি কার্যকর করা। পাঁরষদ ছাড়াও বিশেষভাবে রাজার বিশ্বাসভাজন এমন 
স্বল্পসংখ্যক ব্যাক্তিকে নিয়ে গণিত অপর একাঁট ছোট্ট গোপন পাঁরষদও থাকত 
তখন। অত্যন্ত জরুর কোনো ব্যাপারের মীমাংসার প্রয়োজন হলে এই উভয় 
পরিষদই একন্র মিলিত হোত বলে জানা যায়। 

অর্থশাস্তে বলা হয়েছে যে পরিষদের সদস্য-সংখ্যায় তারতম্য ঘটানো হোত 
রাষ্ট্রের তাৎক্ষাণক প্রয়োজন অনুসারে । অশোকের রাজত্বকালে পারষদের ওপর 
দায়িত্ব ন্যস্ত হোত ধর্ম অনুযায়ী কর্তব্যাদ সম্পন্ন করার ব্যাপারাটর ওপর তদারকি 
করার। দেশের 'বাভল্ন অণ্চলে পরিভ্রমণ করে যে-সমস্ত রাজকর্মচার কাজকর্মের 
খবরদার করতেন পরিষদ তাঁদের দায়দায়িত্ব তখন 'বাধবদ্ধ করে দিত। অশোকের 
একটি অনুশাসনে উল্লেখ আছে যে পরিষদ রাজার অনুপাস্থিতিতেও সময়ে-সময়ে 
1মালত হতে পারে, তবে অশোকের নিদেশ ছিল যে জরযার অবস্থায় এমন ধরনের 


৬ 


সভার অনচ্ঠানের কথা অবশ্যই অবিলম্বে তাঁকে জানাতে হবে। পাঁরষদের নিজস্ব 
আলোচনা-সভায় প্রায়শই তুমুল বিতর্ক দেখা দিত, কখনও-কখনও স্বয়ং রাজাকেও 
হস্তক্ষেপ করতে হোত তাতে । কখনও-কখনও রাজা ও পরিষদের মধ্যেও মতপার্থক্য 
ঘটত। অশোকের রাজত্বের শেষ পর্যায়ে রাজার বিরোধী শাক্ত মাথা চাড়া 
দিয়ে ওঠায় উপরোক্ত মতপার্থক্য তখন বিশেষভাবে তীব্র আকার ধারণ 
করে। 

রাজনোতিক সংগঠন হিসেবে পাঁরষদের সদস্য হতেন শুধু যোদ্ধা ও যাজক- 
সম্প্রদায় থেকে নির্বাচিত অভিজাত ব্যক্তিরাই । তাঁরা যথাসাধ্য নিজেদের বিশেষ 
সুযোগ-সীবধার অধিকার রক্ষা করে চলতেন এবং সীমাবদ্ধ করে রাখতেন রাজার 
একচ্ছনন ক্ষমতা । এর পূর্ববতণ আমলে, যেমন ধরা যাক বৈদিক যুগে, সমাজের আরও 
ব্যাপকতর সম্প্রদায়ের লোকজন পাঁরষদের সদস্য হতে পারতেন এবং ক্ষমতার কেন্দ্র 
হিসেবে এট ছিল তখন আরও বোঁশ গণতান্লিক এক সংগঠন -- রাজা ও তাঁর 
নীতিসমূহের ওপর আরও স্পম্টতর প্রভাবাবস্তারে সমর্থ । তবে ক্রমে-্রমে এই 
সংগঠনের সদস্য-সংখ্যা হাস পেতে থাকল এবং সদস্যপদ সীমাবদ্ধ হয়ে গেল 
আভিজাত-সম্প্রদায়গ্যালর প্রাতানিধিদের মধ্যে। সেইসঙ্গে পারষদের ভূমিকাও অজ্প- 
অল্প করে সীমাবদ্ধ হতে-হতে শেষপর্যস্ত এট পাঁরণত হয়ে গেল রাজার চূড়ান্ত 
কর্তৃত্বের অধীন নিছক এক উপদেম্টা-পাঁরষদে । তৎসত্তেও, এমন কি মৌর্যযুগে যখন 
রাজার ক্ষমতা িশেষরকম প্রবল তখনও, এই পাঁরষদের প্রভাব বড় কম ছিল না। 
এমন কি মৌর্য-রাজারাও এই সংগঠনের কর্তৃত্রকে উপেক্ষা করার শাক্ত রাখতেন 
তব । 

“সভা নামের অপর একটি সংগঠনেরও বিবর্তন ঘটেছিল একই রকমভাবে। 
গোড়ার 'ঈদকে সভা ছিল আভজাতদের ও জনসাধারণের প্রাতিনাধদের এক ব্যাপক 
সমাবেশ, যা িষ্পন্ন করত সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্তব্যাদি। কিন্তু মোর্য- 
যুগে পেশছতে-পেশছতে এই সভার সদস্যপদ সীমাবদ্ধ হয়ে গেল সমাজের সংকীর্ণ 
একটা অংশের মধ্যে এবং খোদ সভা বিবার্তত হয়ে পরিণত হল রাজকেন্দিক এক 
পাঁরষদে বা রাজসভায়। তবু পূর্বোক্ত পারিষদের থেকে তুলনায় রাজসভা তখনও 
আরও ব্যাপ্ত প্রাতিনধিমূলক এক সংগঠন 'হসেবে থেকে গিয়েছিল । শহর ও গ্রামের 
জনসাধারণের কিছু-কিছ: প্রাতনিধি তখনও সভার আলোচনায় যোগ দেয়ার অধিকার 
পাচ্ছিলেন এবং বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে রাজা স্বয়ং বাধ্য হচ্ছেন 
সমর্থনলাভের জন্যে রাজসভার মুখাপেক্ষী হতে । যেমন, তৎকালীন একাধিক সন্র 
থেকে জানা যায় যে রাজা অশোক স্বয়ং রাজসভার সদস্যদের উদ্দেশ করে ভাষণ 
দচ্ছেন। চন্দ্ুগৃপ্তের রাজত্বকালের এক সভার উল্লেখ পাওয়া যায় পতঞ্জালর 
ব্যাকরণেও (খ্শস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দ৭)। 


7--498 ১৫ 


লাখত আকর উপাদানগ্ীলতে মৌর্যযুগে রাম্টরব্যবস্থার মধ্যে পাঁরষদ ও 
রাজসভার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যে-অনুচ্ছেদগ্যাীলতে সেগ্লি দারুণ 
আগ্রহোদ্দীপক। এগুলি থেকে দেখা যায় যে রাজার ক্ষমতা যখন বিশেষ প্রবল 
হয়ে উঠেছিল এমন কি সেইসব যুগেও রাজক্ষমতা কিছু-পাঁরমাণে খর্বকারনপ্রাচঈন 
রাজনোৌতিক সংগঠনগত রীীতি-প্রথা ও এঁতিহ্য টিকে গিয়েছিল। 


পাজস্ব-পংগ্রহ 


নানাবিধ রাজকর আদায় তখন রাজার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্গুলির অন্যতম 
বলে গণ্য হোতা এ-কারণে এই যুগের আকর উপাদানগ্ীলতে রাজকর-সংগ্রহ 
ব্যবস্থার সংগঠন ও তার অন্তার্নীহত নীতসমূহের বিশদ আলোচনা 
অন্তভূক্ত। 

বাভন্ল রাজনোৌতক আলোচনাগ্রল্থে বারবার জোর দয়ে বলা হয়েছে যে রাজকোষ 
হল রাজশীক্তর 'ভীত্তস্বর্প এবং রাজার অবশ্যকর্তব্য হল রাজস্ব-আদায় সংক্রান্ত 
নানা ব্যাপারের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা । 

দেশবাসীর আয়ের যে-অংশ কর হিসেবে আদায় করা হোত তার পারমাণ ছিল 
খুবই বোশ। তবে উপরোক্ত গ্রন্থগ্লিতে সর্বদাই বলা হয়েছে যে রাজা রাজস্ব 
আদায় করেন তাঁর প্রজাবর্গের রক্ষার্থেই এবং দেশের জনসাধারণের প্রাত তাঁর সদা- 
সতর্ক দৃম্টির সকৃতজ্ঞ স্বীকৃতিস্বরূপ এই রাজকর রাজার প্রতি নিবেদিত সামান্য 
একট্রু উপহার ছাড়া কিছু নয়। মোর্যষুগ নাগাদ পূর্বতন রাজস্ব-আদায় 
ব্যবস্থায় ঘটে গিয়োছল বিপুল পাঁরবর্তন। অতাঁতে প্রায়শই স্বেচ্ছাকৃতভাবে রাজাকে 
যে-সমস্ত উপহার-উপচার নিবেদন করা হোত, তা এখন বাধ্যতামূলক দেয় বস্তুতে, 
কড়াকাঁড়ভাবে স্মানার্দন্ট রাজকরে পারিণত হল । রাজস্বের প্রধান ধরনটি ছিল যাকে 
বলা হয় 'ভাগ” (অর্থাৎ রাজাকে দেয় অংশ) তা-ই, সাধারণত এই ভাগাঁট ছিল 
কৃষির উৎপাদসমূহের এক-যম্ঠাংশ। রাজা যাঁদ চাইতেন তাহলে এইভাবে দেয় 
রাজস্বের পরিমাণ হাস করতে কিংবা কারও-কারও ক্ষেত্রে একেবারেই এই কর মকুব 
করে দিতে পারতেন, তবে এমন ঘটনা ঘটত খুব কম এবং তা ঘটত শুধুমাত্র বিশেষ- 
বিশেষ ক্ষেত্রেই । তখন রাজাকে কখনও-কখনও এমন কি 'ষড়ভাগিন'ও (অর্থাৎ, এক- 
ষম্ঠাংশ যাঁর প্রাপ্য তিনি) বলা হোত। যে-সমস্ত অঞ্চলে জাঁমর উর্বরতা বোশ হোত 
ও বৃম্টিপাত হোত প্রচুর সেখান থেকে অবশ্য এর চেয়ে আরও অনেক বেশি পাঁরমাণে 
রাজস্ব ফেসলের এক-চতুর্থাংশ কিংবা এমন কি এক-তৃতীয়াংশও) আদায় করা চলত । 
এছাড়া রাষ্ট্রে আর্ক সংকট দেখা দিলেও রাজার প্রাপ্য রাজস্বের এই অংশ বাডানে। 
চলত। 


৯৮ 


এ-্্রসঙ্গে পতঞ্জলির সেই কিছুটা অসাধারণ ডীক্তটি উল্লেখ্য, যেখানে তিনি 
বলছেন যে মৌর্য-রাজারা 'স্বর্ণ- সংগ্রহের প্রয়াসে মৃর্তিপ্রাতিষ্ঠা করতেন'। মনে হয় 
মৃত বলতে এখানে দেবতাদের প্রাতমূর্তিই বোঝানো হচ্ছে। বিশেষ-বশেষ 
মান্দরে এইসব দেবমার্তি প্রাতজ্ঠার পর এগুলির উদ্দেশ্যে যে-সব মূল্যবান উপহার- 
উপচার নিবোদিত হোত সে-সমস্ত যথাকালে জমা পড়ত রাজকোষে। এমন কি এ-ও 
সম্ভব যে মৌর্যরাজারা এই দেবমৃূর্তিগুলি অন্যান্য মান্দর থেকে সংগ্রহ করিয়ে 
আনাতেন। অর্থশাস্তের ভাষ্য-অনুযায়ী, অর্থনোতিক সংকটের সময় রাজা 'নজ 
রাজকোষ পূর্তির জন্যে 'বাঁভন্ন মান্দর থেকে মূল্যবান অলঙকার, ইত্যাঁদ নেবারও 
অধিকারী 'ছিলেন। 

রাজস্বের সিংহভাগ যাঁদের দিতে হোত তাঁরা ছিলেন রাজার কাঁষিজীবী 
প্রজাবৃন্দ -_ ছোট-ছোট জামির আঁধকারা গ্রাম-সমাজের মুক্ত সদস্যরা । এছাড়া নানা 
ধরনের কারুশিল্পী, বাঁণক ও গৃহপালিত পশু-প্রজনকদেরও রাজাকে কর দিতে 
হোত । 

আকর উপাদানগ্ীল থেকে জানা যায় যে জনসাধারণের কয়েকটি স্তরের মানুষ 
রাজকর দেয়া থেকে অব্যাহতি পেতেন। ইউরোপীয় ধ্রুপদী লেখকরা ও প্রাচীন 
ভারতীয় “সংহতা” বা শাস্ত্রসমূহ থেকে জানা যায় যে পাঁবন্র ধমগ্রল্থগুঁলিতে 
বিশেষজ্ঞ এবং উচ্চতর বর্ণের প্রাতানাধ বলে রাজকর দেয়া থেকে অব্যাহাতি 
পেয়েছিলেন ব্রাহ্মণেরা। কিছু-কিছু রচনায় এমনও উল্লেখ আছে যে বেদাভিজ্ঞ 
পণ্ডিত, আশ্রমবাসী সন্ন্যাস ও রাজার পুরোহিতবর্গের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় 
করায় আদায়কারণীরা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছে । ব্রাহ্মণ্য সূত্রগ্ঁলতে এই ব্যাপারটিকে 
ব্যাখ্যা করার চেষ্টা হয়েছে এই বলে যে রান্মণেরা ধমঁয় যজন-যাজন মারফত রাজকোষে 
তাঁদের [নিজস্ব বিশেষ অবদান রাখেন এবং দেশের উন্নাতিবিধানে সাহায্য করে 
থাকেন। 

রাজকর থেকে কারা-কারা অব্যাহতিলাভের যোগ্য তার তালিকা দিতে গিয়ে 
কছ-কিছু প্াথতে 'রাজার অনুচরবৃন্দ, অর্থাৎ যাঁরা রাজার অধীনে চাকার 
করছেন, তাঁদেরও অস্তভূক্ত করা হয়েছে। এর অর্থ রাজকরের বোঝাটা মূলত 
চেপেছিল তখন কৃষক ও কারুশল্পীদের ওপর এবং এইভাবে তা পারস্পারিক 
অসঙ্গতি ও 'বরোধকে প্রবল করে তুলেছিল 'বাভন্ন শ্রেণী, ভূ-সম্পাত্তর ছোট-বড় 
মাঁলক ও নানা ধরনের সামাজিক গোল্ঠীর ভেতর। 

অর্থশাস্তে আমরা বিশদ বর্ণনা পাই রাজস্ব-বিভাগের কম্চারিদের কাজকমের 
এবং প্রধান কর-আদায়কার কর্মচারর অধীনে পাঁরচালিত বিশেষ কর-সংগ্রাহক 
বভাগের কাজের। 


ঠা ৯৯ 


প্রদেশ শাপন-ব্যবস্ছা 


সাম্রাজ্যের অধীন প্রদেশগুির শাসন-ব্যবস্থাকে এমনভাবে সংগঠিত করা হোত 
তখন যাতে প্রাচনতর রীঁতি-প্রথা ও প্রতিজ্ঞানগুল মর্যাদা পায়। তবে মৌর্য- 
রাজারা তাঁদের সাম্রাজ্য গড়ে ওঠার আগে এক্ষেত্রে-প্রচালত ব্যবস্থাটিতে পরিবর্তন 
ঘাঁটয়োৌছলেন বেশাঁকছ, নতুন পারাস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছিলেন একে। 
আবার এর সঙ্গে-সঙ্গে রাষ্ট্র-পরিচালনার নতুন-নতুন রীতি ও ব্যবস্থাও তাঁরা গড়ে 
তুলোছিলেন। তাঁদের সাম্রাজ্যের প্রাণকেন্দ্র ছিল 'বাঁজত (আক্ষারক অর্থে _ 
'আধকৃত') অঞ্চল, রাজার মূল শাসনাধীন এলাকা এবং কেন্দ্রীয় শাসনের িশেষরকম 
কড়া নিয়ল্লণের অধীন অন্য কিছু-কিছ্‌ অণুল ছিল এর অন্তভূক্ত। এছাড়া মৌর্য- 
সাম্রাজ্য বিভক্ত ছিল কয়েকটি বিভাগে, তার মধ্যে নিম্নোক্ত চারটি বিভাগ ছিল বিশেষ 
মর্যাদার আঁধকারী : উত্তর-পশ্চিম বিভাগ, যার রাজধানন ছিল শক্ষাশিলা; রাজধানন 
উজ্জয়িনী সহ পশ্চিম বিভাগ ; রাজধানী তোসাল সহ পূর্ব বিভাগ বা কালঙ্গ এবং 
রাজধানী সবর্ণাগাঁর সহ দক্ষিণ বিভাগ । এই চারটি বিভাগের শাসনকর্তা নিযুক্ত 
হতেন রাজপত্রেরা । সাম্রাজ্যের মধ্যে এই চারটি ভূখণ্ডের বিশেষ অবস্থান এবং দেশের 
রাজনৈতিক, অর্থনোতিক ও সাংস্কাতিক জীবনে এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণেই 
এই িভাগগ্ালি ছিল অতখানি উচ্চ মর্যাদার আঁধকারী। এগুলির মধ্যে আবার 
বিশেষ দাক্ষণ বিভাগ গঠনের কারণ খজে পাওয়া যায় 'দক্ষিণদেশের সমস্যা'র 
গুরুত্ব রাজা বিন্দসারের আমল থেকেই প্রবল আকার ধারণ করার মধ্যে। এ-কারণেই 
দেখা যায় তক্ষশিলা, উজ্জীয়নী ও তোসালতে নিযুক্ত শাসনকর্তা রাজপ7ন্রেরা যেখানে 
'কুমার' (সাধারণ বা যেকোনো রাজপহন্র) আখ্যা পাচ্ছেন, সেখানে যে-রাজপদন্র 
সবর্ণাগার শাসন করছেন অশোকের অনুশাসনে তাঁকে উল্লেখ করা হচ্ছে 'আযপনত, 
সেংস্কৃত আর্ধপুত্বর থেকে, অর্থাৎ স্পম্টতই তিনি যবরাজ বা িংহাসনের 
উত্তরাধিকারী) বলে। এই বিশেষ আখ্যাটি থেকেই এই শেষোক্ত রাজপান্লের বিশেষ ও 
উচ্চতর পদমর্যাদা বোঝানো হয়েছে । একথা মনে করার যথেম্ট যুক্তসঙ্গত কারণ 
রয়েছে যে অশোকের রাজত্বকালে সংহাসনের উত্তরাধিকারীকে শাসনকর্তা নিযুক্ত 
করা হয়েছিল স্মবর্ণাগরিতেই। 

এই প্রধান বিভাগগ্যীল তখন যথেষ্ট পরিমাণে স্বায়ত্তশাসনের আধকার ভোগ 
করত। এখানকার শাসনকর্তা রাজপাত্ররা (একমাত্র কলিঙ্গে আঁধাচ্ঠত রাজপাত্র ছাড়া) 
স্থানীয় ও আণ্লিক রাজকর্মচারদের কাজকর্ম তদারক করার জন্যে বিশেষ পরিদর্শক 
পাঠাতেন। কলিঙ্গের শাসক রাজপন্লের অবশ্য এই অধিকার ছিল না, সম্রাট স্বয়ং 
এই ভূখণ্ড-এলাকায় পাঁরিদর্শন উপলক্ষে পর্যটন সংগঠিত করতেন। কাঁদঙ্গের 
স্থানীয় রাজকর্মচাঁরদের সঙ্গেও প্রত্যক্ষভাবে যোগাযোগ রাখতেন অশোক । এর 


১০০ 


কারণ কলিঙ্গ তখন সবেমান্র সাম্রাজ্যের আঁধকারে এসেছে এবং যাঁদও এই ভূখণ্ডাটকে 
প্রধান বিভাগের একটি মর্যাদা দেয়া হয়েছিল, তবু এটিকে গণ্য করা হচ্ছিল আঁধকৃত 
(বা বাজত) ভূখণ্ড হিসেবে ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের প্রত্যক্ষ নিয়ল্্ণে রাখা হাচ্ছিল 
বিভাগটিকে। 

গোটা দেশকে চারটি প্রধান বিভাগে ভগ করা ছাড়াও, প্রত্যেকাট বিভাগকে 
আবার ভাগ করা হয়েছিল কয়েকাট করে 'জনপদ' খেন্ড 'বভাগ)-এ, প্রদেশ (অণ্ুল)-এ 
ও “আহালে' (জেলা)-তে। বিভাগীয় শাসন-ব্যবস্থার নিম্নতম 'ভীন্তি ছিল গ্রামগযাীল। 

' নামে প্রধান রাজকর্মচারিরা শাসন করতেন জনপদসমূহ । রজ্জুক শব্দটির 

অর্থ হল 'রজ্জ; বা দাঁড় ধরে থাকে যে'। খুব সম্ভবত এই শব্দাটর উৎস 

হল এইসব করম চাঁরর পূর্বতন পেশা, অর্থাং দাঁড় ধরে জমি জারপ করা। মনে হয়, 
পরে এদের ভূমিকাকে আরও গুরত্বপূর্ণ করে তোলা হয়োছল এবং কাজকর্মের 
পাঁরাধ বাঁড়য়ে তা আরও বোৌঁন্র্যপূর্ণ করা হয়োছিল। এদের অধীনস্থ খণ্ড- 
বিভাগগ্যালতে এদের ওপর ন্যস্ত হয়োছল স্বানারস্ট 'বচারাবভাগীীয় কাজ, এবং 
এইভাবে প্রাক্তন গ্রামীণ কর্মচাঁররা উন্নীত হয়োছিলেন খণ্ড-বিভাগীয় শাসনযন্ত্রের 
নেতৃপদে। অশোকের রাজত্বকালের রঙ্জুকদের সঙ্গে চন্দ্রগ্‌প্তের আমলের গ্রামণ 
রাজকর্মচাঁরদের (বা গ্রীক ভাষায়, 'আগারোনোমোই') বেশ মিল আছে বলেই মনে 
হয়। সেলযযকাসের রাষ্ট্রদূত মেগাস্ছেনিস এই শেষোক্ত কর্মচারিদের সম্বন্ধে বিশদ 
বর্ণনা লাপবদ্ধ করে গেছেন। তবে এ-প্রসঙ্গে স্মর্তব্য যে অশোকের রাজত্বকাল নাগাদ 
এই সমস্ত গ্রামীণ রাজকর্মচারর কর্তব্য ও দায়িত্বে পারবর্তন ঘটোছিল কিছুটা । 
কেননা দেখা যাচ্ছে আহালের ভারপ্রাপ্ত মহামান্ররা রঙ্জকদের কাছে জবাবাঁদহি করতে 
বাধ্য থাকতেন। 

জেলার প্রধান-প্রধান শহরে থাকত মন্ত্রণাগ্হ যেখানে রাজকর্মচাররা 
নিয়মিতভাবে সমবেত হতেন সভার অন্মম্ঠানে। এই সমস্ত সভা থেকে যে-নদেশাবল 
গৃহীত হোত তার অন্যালাঁপ তোর করতেন লেখক বা 'লাঁপকাররা, অতঃপর সেই 
অন্বাীলাপগুি পাঠানো হোত জেলার সব্ব্ত। এই যূগের বলাঁপকাররা রান্মীী, খরোচ্ঠী 
ও গ্রীক প্রভৃতি ?লাঁপর সঙ্গে পাঁরিচিত ছিলেন। 
বিশেষ রাজকর্মচাঁর বা 'অন্তমহামান্রদের উল্লেখ পাওয়া যায়। অর্থশাস্ত্ের লেখকও 
অবাঁহত ছিলেন এই কর্মচারিদের ব্যাপারে । এই কর্মচাররা বেশ উচ্চ পদাধকারী 
ছিলেন বলেই মনে হয়, কারণ এ*রা খুব মোটা বেতন পেতেন। যাঁদও মৌর্য-রাজাদের 
নীতি ছিল শাসনব্যবস্থার কঠোর কেন্দ্রীকরণের, তব্য বহন প্রাচীন রীতি-প্রথা ও 
এীতহ্যও একই সঙ্গে রক্ষা করতেন তাঁরা, সেগুলকে মর্যাদা দিয়ে চলতেই তাঁরা 
বরং উদগ্রীব 'ছলেন। 


১০১ 


সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরে বিচ্ছ্রতার নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রয়াস সত্বেও মৌর্য 
রাজারা িছ-কিছ প্রজাতল্লীয় প্রতিষ্ঠান বা গণকে সাম্রাজ্যের ভেতরে থেকেই 
স্বায়ন্তশাসনের আঁধকার রাখতে 'দিয়োছলেন। বশেষ করে সেই সমস্ত অণ্ুলে যেখানে 
কড়াকাঁড়ভাবে নিয়ন্ত্রণ চালু করা সবচেয়ে কঠিন, সেখানেই এই আঁধকার মেনে 
নিয়েছিলেন তাঁরা । মৌর্য-সাম্মাজ্যে এইরকম স্বায়ত্তশাঁসত, স্বনির্ভর কিছু নগর- 
রাষ্ট্রের কথা উল্লেখ করেছেন মেগাস্ছেনিস, যেগ্াল ছিল প্রাচীন রাজনৈতিক 
ধরনধারণের বহূতর লক্ষণাক্রান্ত। তবে এই গণগ্যাল 'কন্তু সাম্রাজ্যক শাসনের 
সামাগ্রক ব্যবস্থারই অঙ্গঈভূত ছিল। 


নগর-শাসনব্যবস্থা 


মোর্যযূগে নগর-শাসনব্যবস্থাতেও স্বশাসনের কিছু-কিছু বৈশিষ্ট্য টিকে 
গিয়োছল। অশোকের শিলালাপগুিলতে উল্লেখ পাওয়া যায় শহরগ্দালকে অভ্যন্তর- 
অণ্চলের, অর্থাৎ বিজিত এলাকার, অন্তর্ভুক্ত শহর ও বাহিদেশশীয় শহরে ভাগ করে 
দেখার একটা পদ্ধাতির। সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল তখন পাটলিপ্ন্ত্। মেগাস্ছেনিস 
বশেষ ধরনের নগর-কর্মচারিদের (বা গ্রীক ভাষায়, অস্টনোমোই'দের) কথা বলেছেন 
যাঁরা প্রাতাট শহরে ছ”ট করে ছোট-ছোট পাঁরষদ গঠন করতেন। এইরকম প্রাতাঁট 
পারষদের সদস্যসংখ্যা হোত পাঁচজন করে। প্রতিটি পারষদ তত্বাবধান করত নাগারিক 
জীবনের নিম্নোক্ত ক্ষেত্রগীলর। যথা, 'বাভন্ন কারুীশলপ, আগন্তুক বিদেশন, জন্ম 
ও মৃত্যুর হিসাবনিকাশ, বাণজ্যসংক্রান্ত ক্রিয়াকলাপ, কারশিল্পীদের তোর 
জিানিসপন্রে বান্রুর আগে সিলমোহর দেয়ার ব্যবস্থা, এবং জনিসপন্র বাক বাবদ কেনা- 
দামের এক-দশমাংশ কর হিসেবে আদায়ের ব্যবস্থা । মেগাস্ছেনিসের এই বিবরণ থেকে 
দেখা যায় নগর-শাসনব্যবস্থার কোন-কোন দক সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ছিল ও কর্তৃপক্ষের 
তরফ থেকে বিশেষ নিয়ন্্রণ চাল্‌ করার অপেক্ষা রাখত। সেকালে শহরে-শহরে 
এইধরনের যৌথ শাসন-পারিষদসমূহের আস্তত্বই ছিল একটা লক্ষণীয় ব্যাপার । প্রতিটি 
শহরে নগর-পারিষদই ছিল কার্যত প্রধান শাসন-কর্তৃপক্ষ, যাঁদও এটা স্পম্ট যে এই 
পারষদের সদস্যরা পূর্ববতর্শ বোৌদক যুগের মতো পরিষদে নির্বাচিত হতেন না, 
কেন্দ্রীয় কিংবা বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের নিষুক্ত বা মনোনীত ব্যক্তি হতেন মান্র। 

কেন্দ্রীয় শাসন-কর্তৃপক্ষ অবশ্য সর্বদা সচেম্ট থাকতেন নগর-পাঁরষদগীলর 
স্বাধীনতাহরণে, তবু এই পারিষদুলি কিছু পরিমাণে স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে 
সমর্থ হয়েছিল। যেমন, উদাহরণস্বরূপ, কিছু-কিছু শহরের নিজস্ব সিলমোহর 
ও নিজস্ব প্রতীকচিহ ছিল এবং নগর-পারষদগ্ীল সরাসার কার্শিজ্পী- 
সমবায়গ্াালর সঙ্গে কাজ-কারবার চালাত। 


১০৭ 


বর্ণ ও পেশা অনুযায়ণ জনসংখ্যার প্রাতিটি অংশ বাস করত শহরের সৃনির্দিজ্ট 
একেকটি মহল্লায়। সম্ভবত এই অভ্যাসাঁট ছিল উপজাতিক সংগঠনের অত্যন্ত প্রাচীন 
একটি এতিহ্যেরই জের । নগর-পরিষদের কর্মচারিরা স্রকার ভবনগ্ীল, শহরের 
পারচ্ছল্নতা ও স্বাভাবক অবস্থার সংরক্ষণ এবং তীর্থস্থান ও মন্দিরগুঁলর 
রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারগাল নিজেদের "নিয়ন্ত্রণে রাখতেন । শহরগ্ীলতে তখন বোঁশর 
ভাগ বাঁড়ই ছিল কাঠের তৈরি, ফলে আগ্মকান্ড থেকে বাঁড়গুল রক্ষা করার ব্যাপারটা 
ছিল বিশেষ গুরত্বপূর্ণ । গ্রী্মকালে বাড়ির ভেতর আগুন জবালার অনুমাত ছিল 
না কারও এবং এই আইন ভঙ্গ করলে অপরাধীকে শাস্তি্বর্প মোটারকম অর্থদন্ড 
দিতে হোত। এছাড়া সকল বাঁড়র মালিককে আগ্ন-নির্বাপক ব্যবস্থাদিও মজুত রাখতে 
হোত। অর্থশাস্ত্রে বলা হয়েছে যে গৃহবাসীদের সর্বদা হাতের কাছে রাখতে হোত 
অনেকগ্যাল জলভরা পান্র। রাস্তার ধারেও মজুত রাখা হোত বহু জলভরা বালতি, 
ইত্যাদি। অর্থশাস্তে লাখত সাক্ষ্য অনুযায়ী বলতে হয়, শহরগুঁলতে মানুষের 
জীবন ছল কড়াকাঁড়ভাবে 'নয়ন্ত্িত। সন্ধেবেলায় বশেষ এক সংকেতজ্ঞাপনের পর 
রাস্তায় বেরনো নিষিদ্ধ ছিল, সাহস করে শহরবাসনীদের কেউ যাঁদ তখন রাজপ্রাসাদে 
সামনে দিয়ে পথ চলতেন তাহলে তাঁর শাস্তি হোত গ্রেপ্তার ও জরিমানা । 


অশোকের ধর্মনীতি 


ভারতে বৌদ্ধধর্মের ব্যাপক প্রচারের জন্যে মৌর্যযুগ চিহৃত হয়ে আছে। মোর্য- 
রাজত্বের কয়েক শতাব্দী আগে পাররাজক ভিক্ষুদের ছোট একটি সম্প্রদায়ের ধর্ম 
[হসেবে যে-বৌদ্ধধর্মের সূচনা হয় খাীস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে তা রূপ নেয় প্রাচীন 
ভারতীয় সমাজের আঁত্মক জীবনে অন্যতম সর্ববৃহৎ একট ধর্মান্দোলনের। ওই 
সময়ের মধো গড়ে ওঠে সংগাঠিত বৌদ্ধ জীবনযাত্রার প্রতীক “সঙ্ঘ' এবং শেষ হয় 
প্রধান-প্রধান বৌদ্ধ ধম্গ্রন্থের সংকলনের কাজ। ঠিক ওই যুগেই-যে বৌদ্ধধর্ম 
ব্যাপকভাবে ছাঁড়য়ে পড়ে এবং মৌর্যরাজাদের অনেকের সমর্থন লাভ করে এটা 
কোনো আপাঁতক ঘটনা নয়। প্রবল শাক্তশালী এক রাস্ট্রের শীর্ষে স্বৈরতল্লী একচ্ছ্ 
এক রাজা বা রাজচন্রবর্তিন-এর আদর্শ সহ বৌদ্ধধর্ম ওই সময়ে এক্যবদ্ধ এক 
সাম্রাজ্যগঠনের তত্গত ভিত্তির যোগান দেয়। 

প্রাপ্তিযোগ্য নানা ধরনের সূত্র অনুযায়ী বলতে হয় অশোক একাঁদনে বা 
রাতারাতি বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত হন নি। পিতার আমলে রাজসভাতেই তিনি দেখা 
পেয়েছিলেন রক্ষণশীল ও তথাকথিত প্রচলিত ধর্মবিরোধী নানা মত ও পথের 
দার্শানক পণ্ডিতদের। পরে অবশ্য অশোক একটি বৌদ্ধ সঙ্ঘ পাঁরদর্শন করেন, 
বুদ্ধের মূল শিক্ষাসমূহ অধ্যয়ন করেন গভনরভাবে এবং উপাসক বা মঠবাহর্ভূত 


৯০৩ 


বৌদ্ধ হন। নিজের অনুশাসনগুলতেই তাঁর ধর্মীবশ্বাসের বিবর্তনের কথা বলছেন 
অশোক । রাজত্বের গোড়ার দিকে সম্রাট বৌদ্ধ ধর্মমত ও সম্প্রদায়ের দিকে বিশেষ 
মনোযোগ দেন নি, কিন্তু পরে রাজধানীর বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জীবনযাত্রার সঙ্গে 
ব্যাক্তগতভাবে পাঁরচিত হবার পরই সক্রিয়ভাবে বৌদ্ধদের সমর্থন করতে ও তাঁদের 
ধর্মমতকে সাহায্য দিতে শুর করেন তিনি । কলিঙ্গ-যুদ্ধের পরই বুদ্ধের শিক্ষাসমূহ 
ও বৌদ্ধ নীতিবোধ সম্বন্ধে তাঁর আগ্রহ বিশেষ রকম জাগ্রত ও স্পম্ট হয়ে ওঠে এবং 
ধর্মীবজয় (বা, আচরণের অর্থাৎ ধর্মের মূলনাীতির শনয়মগ্ীল প্রচারণা)-এর নীতি 
বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে তাঁর কার্যকলাপে । তবে প্রসঙ্গত স্মর্তব্য যে কাঁলঙ্গ-যুদ্ধ 
শুর হওয়ার আগেই কিন্তু অশোক বৌদ্ধধর্মের অনুসারী হয়েছিলেন। 

শনজে সক্রিয় বৌদ্ধ-মতাবলম্ব হওয়া সত্তেও অশোক তাঁর গোটা রাজত্বকালে 
কখনও কিন্তু মঠবাসী ভিক্ষু হন নি কিংবা রাজ্যের শাসনভার অপর কারও হাতেও 
অর্পণ করেন নি। কিছ-কিছ; পশ্ডিত মনে করেন যে অশোক ছিলেন রাজসন্ন্যাসী 
এবং শেষাঁদকে তান রাজ্য ছেড়ে বৌদ্ধ মঠে যোগ 1দয়োছিলেন। কিন্তু এখনও- 
পর্যস্ত-টিকে-থাকা কোনো সূত্র থেকে এ-মতের সমর্থন মেলে না । অশোকের রাজত্বকালে 
বৌদ্ধধর্ম পাঁরণত হয়োছল রান্ট্রের সরকার ধর্মমতে -- এই তত্তবটিও একইরকম 
ভিত্তিহীন । 

যঁদও অশোক বোদ্ধ ধর্মমত ও সম্প্রদায়ের পৃঞ্পোষকতা করেছিলেন, তবু 
বৌদ্ধধর্মকে সরকার ধর্মমতে পরিণত করেন নি তিনি । তাঁর ধর্ম-সংক্রান্ত নীতির 
প্রধান একটি বৈশিষ্ট্য ছিল পরমতসাহফ্ণুত এবং প্রায় পুরো রাজত্বকাল ধরেই তানি 
এই সাহঙ্কুতা বজায় রেখে চলেছিলেন। 

অনুশাসনগুলিতে সকল ধর্ম-সম্প্রদায়ের এক্যের সপক্ষে মত ব্যক্ত করেছেন 
অশোক, তবে বলেছেন এই এঁক্য অন করতে হবে জোর-জবরদস্তির মধ্যে "দিয়ে 
নয়, প্রত্যেকটি ধর্মমতের মূলনীতিসমূহের 'বিকাশসাধনের মধ্যে দিয়ে। এইসব 
অনুশাসন থেকে জানা যায় অশোক ওই সময়কার বৌদ্ধদের অন্যতম প্রধান প্রাতপক্ষ 
এবং জনসাধারণের মধ্যে রীতিমতো প্রভাবশালী অজীবকদের কয়েকটি গ্‌হা দান 
করেন। এছাড়া অন্শাসনগল থেকে আরও জানা যায় যে সম্রাট তাঁর প্রাতানীধদের 
আলাপ-আলোচনার জন্যে পাঠাতেন জৈন ও ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়গ্লির কাছেও । একথা 
মনে করার কারণ আছে যে অশোক এই পরমতসহিষ্তার নশীত গ্রহণ করেছিলেন 
কিছুটা বাধ্য হয়েই»কারণ (বৌদ্ধধর্ম ছাড়াও) রক্ষণশীল ও তার গবরোধী সংস্কারবাদণী 
ধর্মমত তাঁর সমকালে এতথান প্রভাব বিস্তার করে রেখোঁছল যে এছাড়া অন্য কোনো 
পন্থা ছিল না তাঁর পক্ষে। তাঁর এই পরধর্মসাহষ্তার নীতি ও সেইসঙ্গে বাভন্ন 
ধর্ম-সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রার ওপর রাষ্ট্রের সুকৌশল 'নয়ন্মণই সঠিকভাবে বলতে 
গেলে বাণ, অজীবিক ও জৈনদের শাক্তশালণ স্তরগুলির সঙ্গে সংঘ! এড়িয়ে চলতে 


৯০৪ 


এবং সেইসঙ্গে বৌদ্ধধর্মকে অতটা কার্যকরভাবে প্রচার করার ব্যাপারে অশোকের 
সহায়ক হয়েছিল। কিন্তু পরে তাঁর রাজত্বকালের শেষ বছরগিতে যখন অশোক 
এই পরধর্মসাহফ্ুতার নীতি ত্যাগ করে খোলাখুলি বৌদ্ধধর্মের সপক্ষে নীতির 
পাঁরচালনা শহর করলেন, অন্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তখন দেখা দিল প্রবল বিরোধিতা 
এবং এই ব্যাপারটা হয়ে দাঁড়াল রাজা ও তাঁর শাসনব্যবস্থার পক্ষে গুরুতর ফলাফলের 
কারণস্বরূপ। 

রাজত্বকালের একেবারে শেষদিকে অশোক বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে 
ওঠেন এবং আগেকার সাঁহফ্তার নীতি বিসর্জন দিয়ে অজীবিক ও জৈনদের ওপর 
এমন কি পাঁড়ন পর্যন্ত শুর করেন। 

এর ফলে বৌদ্ধদের সঙ্গে ওই সময়কার অন্যান্য ধর্মমতের প্রতিনাধদের সম্পর্ক 
গুরূতররকমে জঁটল হয়ে ওঠে । এমন কি বৌদ্ধ-সম্প্রদায়গুলির মধ্যেও কিছু-কিছঃ 
বিরোধের লক্ষণ প্রকাশ পায় এ-সময়ে। তখনকার কোনো-কোনো সূত্র থেকে 'বাভল্ল 
বৌদ্ধ ধর্মমতের প্রাতিনিধিদের মধ্যেও বিসংবাদের খবর মেলে। এ-কারণে সম্রাট 
অশোক চেষ্টা করেন বৌদ্ধ ধর্ম ও সম্প্রদায়গ্িকে এক্যবদ্ধ রাখতে । সঙ্ঘের এঁক্যকে 
যাঁরা ক্ষুণ্ন করাছলেন 'ভন্নমতাবলম্বী সেই সমস্ত 'ভক্ষু ও িক্ষুণীদের রুদ্ধ 
সংগ্রাম পারচালনার বিষয়াটি নিয়ে বিশেষ একখানি অনুশাসন প্রচার করেন অশোক । 
এই অন্‌শাসনে বিদ্রোহীদের সঙ্ঘ থেকে বাঁহন্কারের কথা বলা হয়। সেইসঙ্গে অশোক 
সুপারিশ করেন যে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের উচিত বৌদ্ধ শাস্তগ্রল্থগীল সযত্তে অধ্যয়ন করা । 
প্রসঙ্গত 'তান সঙ্ঘে শৃঙ্খলারক্ষার বিষষে লিখিত বেশ কয়েকাটি বৌদ্ধ ধর্মীবধি- 
সংক্রান্ত গ্রন্থের তাঁলকাও পেশ করেন।* 

বৌদ্ধ পাথর ভাষ্য অনুযায়ী অশোকের রাজত্বকালে পাটালিপৃত্রেই বৌদ্ধদের 
তৃতীয় মহা-সম্মেলন অনু্ঠিত হয়। 

অশোকের ধর্ম-সংক্রান্ত নীতির একটি স্ানার্দন্ট বৈশিম্ট্য হল এই যে 'তানি-ষে 
শুধু বৌদ্ধ ভিক্ষুদেরই সমর্থনলাভের উদ্যোগ িয়োছলেন তা-ই নয়, সবচেয়ে 
বোশ করে চেম্টা করেছিলেন তান বদ্ধের ব্যাপক উপাসক বা ভক্তবৃন্দের 
সমর্থনলাভের। 

এঁদক থেকে আমরা বলতে পার যে অশোকই ছিলেন ভারতের সেই প্রথম 
রাজা যিনি সাম্রাজ্যের সংহতিসাধনে বৌদ্ধধর্মের গুরুত্ব উপলান্ধ করেছিলেন ও তার 
প্রচারে উৎসাহ যুগিয়োছিলেন। তাঁর অধিকাংশ অনুশাসনই উপাসকদের উদ্দেশে 
রচিত, ভিক্ষুদের নয়; কারণ, যতদূর মনে হয়, ওই উপাসকরা বৌদ্ধধর্মের মূল 
নশীতিগ্লি ও ওই ধর্মমতের দার্শনিক স্তরাবন্যাসগ্ীল সম্পর্কে যথেম্ট অবহিত 
ছিলেন না। এ-থেকেই বোঝা যায় কেন এইসব শিলালাঁপতে নির্বাণ. মহৎ চতুঃসত্য, 
অস্টধা পথ, ইত্যাদ বিষয়গুলির কোনো উল্লেখ নেই। এইসব শিলালাপর বাস্তব 


১০ 


জীবনানুগ তাৎপর্যই হল এগ্ালর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য, তাই সম্রাট নিজেই 
এগুলিকে আখ্যা 'দিয়োছলেন 'ধর্ম (আচারআচরণগত) শাসন বলে। নৌতক 
এই সমস্ত বিধিনিষেধ অ-বৌদ্ধ ধর্মসম্প্রদায়গুল সহ বৌদ্ধ উপাসকদের কাছে তখন 
ভালোরকম পরিচিত হয়ে উঠেছিল এবং জনসংখ্যার এক বিপ্দল অংশের ও সামাঁজক 
নানা গোম্ঠীর সমর্থনপুষ্ট ছিল তা। 


অশোকের ধর্মশাসন 


ধর্ম বলতে সাধারণত বোঝায় মানুষের আচার-আচরণের ও নশীতানিষ্ঠ 
জীবনযাপনের নিয়মকানূনকে। তবে বৌদ্ধ শাস্তাদিতে যেভাবে এই শব্দটি ব্যবহৃত 
হয়েছে সেই অপেক্ষাকৃত সংকীর্ণ অর্থে এ দিয়ে বশেষ একটি তত্জ্ঞানও বোঝানো 
হয়ে থাকে। 

অশোকের অনুশাসনগ্যীলতে উপরোক্ত ওই উভয়াবধ অর্থেই ধর্ম শব্দীট 
উল্লিখিত হয়েছে। বেশির ভাগ িলালাপতে অবশ্য ধর্ম শব্দাট দিয়ে বোঝানো 
হয়েছে নৌতক নিয়মকানূনের এক সমন্টিকে, তবে বিশেষ করে বৌদ্ধধর্মশাসিত 
অনশাসনগ্‌লিতে এই শব্দটি বুঝয়েছে বুদ্ধের উপদেশাবলীকে। অনুশাসনে 
উল্লখত উপরোক্ত নৌতক 'নয়মকানুনের অন্তর্গত ছিল বাবা-মায়ের বশ্য-বাধ্য 
হওয়া, গুরুজনকে শ্রদ্ধা-নিবেদন, জীবে দয়া, জীবিত প্রাণ হত্যা করতে অস্বীকৃত 
হওয়া, ইত্যাঁদ। অর্থাৎ, অন্যভাবে বলতে গেলে এই নীতিগ্‌ল মানুষের এমন সমস্ত 
আচার-আচরণের সঙ্গে জড়িত যা বিশেষভাবে বৌদ্ধ, ব্রাহ্মণ্য কিংবা অপর কোনো 
ধর্মমতের সঙ্গে সম্পীকিতি নয়। জাতিগত উৎস কিংবা ধময় আনুগত্য-ননরপেক্ষভাবে 
জনসমাজের বিভিন্ন স্তরের পক্ষে সহজে বোধগম্য এরীতহ্যসিদ্ধ নৈতিক নিয়মকানুন 
ছিল এগুলি । কিছ-কিছ্‌ পণ্ডিত ভ্রান্ত ধারণাবশে মনে করেন যে এই নীতিগ্লি 
বুঝি কড়াকাঁড়ভাবে বৌদ্ধ ধমঁয় নীতিশাস্দ্রেরই অশ্ুগ্গতি। অবশ্য এটা ঠিক খে 
"অশোকের অনুশাসনগ্লতে প্রাপ্তব্য ধর্মের বিচার-বিশ্লেষণ বৌদ্ধধর্মের দ্বারা প্রভাবিত 
ছিল যথেষ্ট পরিমাণেই। প্রসঙ্গত এটা লক্ষণীয় যে অশোকের অনুশাসনগলির গ্রীক 
ভাষাস্তরণে ধর্ম শব্দাট বোঝানো হয়েছে যে-গ্রীক শব্দ 'ইউসৌঁবিয়া' দিয়ে, সোঁটিতে 
আসলে ন্যায়পরায়ণতা বোঝায়, ধর্মীবশ্বাস নয়। ধর্মের নশীতসমৃহ আঁবচলভাবে 
অনুসরণ করে চললে কোন শুভফল মানুষ অর্জন করে সেই প্রশনাটিও অশোক তাঁর 
অনুশাসনগলতে উপস্থাপন করেছেন একই রকম সহজ ও সাধারণভাবে । তিনি 
বলেছেন যে-মানুষ ধর্মপালন করে দৃঢ়তার সঙ্গে ও আন্তারকভাবে তার প্রাপ্য হয় 
রাজার অনগ্রহ, সম্পদ-সমৃদ্ধ ও স্বর্গলাভ। এই শেষোক্ত ফলাটিও জনসাধারণের 
ব্যাপক অংশের কাছে খুবই বোধগম্য ছিল। বৌদক যুগেই এই পূণ্যফলটির কথা 


১০৬ 


সাধারণ্যে প্রচারিত ছিল, পরে বৌদ্ধরাও উত্তরাধিকারসূত্রে এই ধারণাঁটির অংশনদার 
হয়েছিলেন! এছাড়া অনুশাসনগ্াীলতে কিন্তু বৌদ্ধধর্মের ধমর্শয় কিংবা দার্শনক 
নীতিসমূহের স্পম্ট কোনো উল্লেখ থাকত না, কারণ, আগেই বলোছি, অনুশাসনগীলির 
লক্ষ্য ছিল বহুবিধ মত-পথের ব্যাপক জনসাধারণের বোধগম্য হওয়া । তদুপাঁর 
অশোকের ধর্ম ওই যুগের অন্যান্য প্রধান ধর্মমতের অন্তরভক্ত মৌল নোৌতক 
নিয়মকানূনের বিরোধশও ছিল না। তাঁর প্রচারিত নশীতিগ্াীল বহুবিধ ধর্ম-সম্প্রদায় 
ও মতাদর্শের কাছে গ্রাহ্য ধর্মশিক্ষার অন্তঃসার বলে প্রচার করতেন সম্রাট। 
অনুশাসনগ্ঁলিতে মানুষের কাছে ধর্মীশক্ষা গ্রহণের জন্যে আবেদনের পাশাপাশি 
পাওয়া যায় সকল প্রকার ধর্মের অন্তর্গত উপদেশাবলী গ্রহণের ও তা মেনে নেয়ার 
একটা মনোভাব । 

অশোকের অনুশাসনগাঁলতে ধর্মের যে-নীতিসমূহের উল্লেখ পাওয়া যায় 
তা রচিত হয়োছল গোটা সাম্রাজ্যের সমগ্র জনসংখ্যাকে একটি সবশ্সাহ্য নৌতিক 
[ভন্তি যুগিয়ে দেয়ার জন্যে এবং যেন বর্ণ ও সম্প্রদায়সমূহ এবং বহীবধ সামাঁজক 
গোম্তর ধর্মাচরণেব পাশাপাশি আঁধকতর মর্যাদা অর্জনের উদ্দেশ্যে । 

ধর্মের নীতিসমূহ প্রচারের উদ্দেশ্যে পাঁরচাঁলত রাষ্ট্রনীতি বা ধর্মীবজয়' 
(আক্ষরিক অর্থে ন্যায়নিষ্ঠতার মধ্যে দিয়ে জয়লাভ) ছিল অশোকের সামাগ্রক 
রাস্ট্রনীতির সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ একটি অংশ। ধর্মের এই নিয়মাবলী যথাযথভাবে 
যাতে পালিত হয় তা নিশ্চিত করার জন্যে অশোক বিশেষ রাজকর্মচাঁর বা ধর্ম 
মহামান্র পর্যন্ত নিয়োগ করেছিলেন। 

এই কর্মচারিদের পাঠানো হোত 'বাভল্ন ধর্মাবলম্বী মানুষজনের ওপর নজর 
রাখতে । অনুশাসনগ্যালতে সম্মাট সরাসাঁর একথা জানাতে কুশ্ঠিত হন নন যে ধর্ম 
মহামান্রদের কাজ হল বৌদ্ধ, ব্রাহ্মণ, জৈন ও অজাবকরা ধর্মকে কীভাবে বাস্তবে 
রুপায়িত কবছেন তা দেখা । 

জনসাধারণের মধ্যে বিভিন্ন মত-পথাবলম্বী গোম্ঠীর ওপর নিয়ন্ণ বজায় রাখা 
ও 'বীচ্ছন্নতার মনোভাবকে দমন করা এই রাষ্ট্রনীতি অনুসরণের ফলে সম্ভব হয়ে 
ওঠে ৮ 


অশোকের ক্ষমতাচ্যাত ও সাম্রাজ্যের পতন 


মৌর্য-সাম্রাজ্যের শেষ যুগের ইতিহাস অনুধাবনের পক্ষে রাজা অশোক সম্বন্ধে 
বৌদ্ধ উপকথাগ্যাল অত্যন্ত সহায়ক ও কোতূহলপ্রদ, কেননা খুব কম করেও বলতে 
গেলে ওই সময়কার সাক্ষীস্বরূপ 'শিলালিপির সত্রগূি অত্যন্ত খশ্ডিত। 


১০৭ 


এক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হল রাজত্বের শেষ বছরগদলিতে অশোক কাঁভাবে 
কার্যত ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন তার এক অসামান্য ববরণ। দীর্ঘ এক সময় ধরে 
সংকলিত বেশ কয়েকাট নানা ধরনের গ্রন্থে এই বিবরণ 'লাপবদ্ধ হয়েছে। 

এ-থেকে আমরা জানতে পার যে রাজত্বের শেষদিকে বৌদ্ধ সঙ্ঘগলিতে মক্তহস্তে 
অর্থদান করার ফলে অশোক তাঁর রাজকোষ প্রায় শূন্য করে ফেলেন। এই দান 
তিনি করাছলেন বৃদ্ধের বাণী প্রচারের সাহায্যকল্পে। ওই সময়ে অশোকের পৌন্ন 
সম্পাদ (বা সম্প্রীতি) সিংহাসনের উত্তরাধিকারী মনোনীত হয়োছলেন। রাজার 
উচ্চপদস্থ অমাত্যরা তখন সম্পাঁদকে জানালেন রাজার এই আতিরিক্ত অর্থঅপচয় 
বা িক্ষুদের মান্রাতিরিক্ত অর্থদানের কথা এবং দাবি জানালেন এইসব অর্থদানের 
রাজাদেশ নাকচ করার। অতঃপর সম্পাঁদর নির্দেশে বৌদ্ধ সঙ্ঘগ্দলতে অশোকের 
অর্থদানের আদেশ পালিত হওয়া বন্ধ হল। আসলে রাজক্ষমতা ইতিমধ্যে চলে 
গিয়োছিল সম্পাঁদর হাতে। উপরোক্ত এইসব বৌদ্ধ সূত্র অনুসারে অশোক নাকি 
তাঁর পক্ষে অত্যন্ত অপ্রীতিকর এই সত্যট স্বীকার করোছিলেন যে তাঁর আদেশ 
কাগজে-কলমেই থেকে যাচ্ছে মান্র, তা পালিত হচ্ছে না এবং আন.জ্ঠানকভাবে তিনি 
তখনও রাজা থাকলেও আসলে তিনি রাজ্য ও ক্ষমতা দুই-ই হাঁরয়েছেন। 

বৌদ্ধ এই সত্রগ্লি থেকে সংগৃহীত তথ্যাদ একেবারেই স্বকপোলকল্পিত 
বলে ঠেকলেও আসলে কিন্তু সে-সবের মধ্যে দিয়ে কার্যত পাওয়া যাচ্ছে অশোকের 
রাজত্বের শেষাদকে দেশের তৎকালীন বিক্ষুব্ধ রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোটামুটি 
নিভরযোগ্য একটি চিন্র। অশোকের বোদ্ধপ্রীতির রাষ্ট্রনীতি তখন রক্ষণশীল 
ব্রাহ্মণ্যধর্ম ও জৈনধর্মের সমর্থকদের মধ্যে গরূতর অসন্তোষ জাগিয়ে তুলেছল। 
কয়েকটি আকর সূত্র অনুযায়ী সম্পাঁদ স্বয়ং নাক জৈনধর্মালম্বী ছিলেন এবং 
রাজসভায় প্রভাবশালী রাজকর্মচাঁরদের সমর্থনপু্টও ছিলেন তান। ওই সময় 
নাগাদ দেশে অর্থনৌতিক অভাব-অসূবিধাও দেখা 'দয়েছিল এবং বাভন্ন অঞ্চলে 
শুর হয়ে গিয়েছিল বিদ্রোহ ও অভ্যযর্থান। তক্ষাঁশলায় ওই সময়ে যে-অভ্যুঙ্থান ঘটে 
তাতে বিদ্রোহীদের নেতৃত্বে ছিলেন স্থানীয় শাসনকর্তা । এখানকার এই বিদ্রোহ সে- 
যুগের পক্ষে অন্যতম সর্ববৃহৎ ছিল। 

আকর উপাদানগ্লি থেকে জানা যায় যে রানী 'তম্যরক্ষিতাও (তিনিও ছিলেন 
বৌদ্ধধর্মের অন্যতম বিরোধ) রাজার বিরুদ্ধে এই ষড়্যন্তে যোগ দেন। অশোকের 
রাজত্বকালের শেষ অনুশাসনগ্যীলর একটিতে রাজাদেশ প্রচারিত হয় আগের মতো 
রাজার নামে নয়, রানীর নামে। এই অনুশাসনখানি ছিল রাজার আনুকূল্য ও 
উপহারাঁদ বিতরণের ব্যাপারে, অর্থাৎ এটি ছিল সেই ব্যাপারটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট 
বোদ্ধ গ্রল্থাঁদর সূত্র অন্যায় যে-প্রম্নাট নিয়ে রাজা ও তাঁর পারিষদদের মধ্যে 
আনুল্ঠাঁনকভাবে সংঘর্ষ বেধে উঠোছিল। একথা বিশ্বাস করার মতো যথেস্ট কারণ 


৯০৮ 


আছে যে শিলালপিসমূহে উৎকণর্ণ তথ্যাঁদ ও বৌদ্ধ উপাখ্যানগ্লির মধ্যে আশ্চর্য 
সাদৃশ্য মোটেই আপাতিক নয়। এই সাদৃশ্য আসলে অশোকের রাজত্বকালের শেষ 
কয়েক বছরের বাস্তব অবস্থারই প্রাতিফলন। 

এ-সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ থেকে এই তথ্যটিও জানা যাচ্ছে যে অশোকের সংহাসনের 
উত্তরাধিকারীরা সাম্রাজ্যের এঁক্য ও অখণ্ডতা রক্ষা করতে পারেন 'ন। প্রাপ্তিযোগ্য 
সূত্রের সাক্ষ্য থেকে একথা মনে করার কারণ ঘটেছে যে মৌর্য-সাম্রাজ্য প্রথমে দুটি 
অংশে বিভক্ত হয়ে যায় : পাটলিপনত্রকে কেন্দ্রে করে পূর্বাঞ্চলে এবং তক্ষাঁশলাকে কেন্দ্র 
করে পাশ্চমাণ্চলে। প্রাপ্তযোগ্য সত্রগলিতে অশোকের প্রত্যক্ষ উত্তরাধকারীদের 
সম্পর্কে যে-সমস্ত উল্লেখ পাওয়া যায় সেগুঁলতে বহু পরস্পরবিরোধন ডীক্ত আছে, 
তবে একথাও বিশ্বাস করার কারণ আছে যে হয় পূর্বোক্ত সম্পাঁদ নয়তো পুরাণসমূহে 
যাঁকে অশোকের পুত্র ও উত্তরাধিকারী বলা হয়েছে সেই দশরথ অশোকের পরে 
পাটলিপুত্রের সিংহাসনে বসোঁছলেন। অশোকের মতো দশরথও 'দেবানামাপিয়' 
উপাধি ধারণ করেছিলেন এবং অজাবিকদের কয়েকটি গুহাদান-সম্পাঁকত তাঁর 
অনুশাসনগূঁলির বিচারে বলতে হয় অজনীবকদের পৃন্জপোষক 'ছলেন তিনি। এর 
পরের কয়েকাট বছর মগধের 'সংহাসনে কয়েকজন রাজার দ্রুত ও পরপর বসার 
ঘটনা দিয়ে চিহ্ত। অবশেষে ১৮০ খ্ডীস্টপূর্বাব্দের কাছাকাছি কোনও সময়ে 
মৌর্য-রাজবংশের শেষ উত্তরাধকার বৃহদ্ুথ তাঁর প্রধান সেনাপাঁতি পৃষ্যমিত্রের 
নেতৃত্বে পারচালিত অপর এক ষড়্যন্তের ফলে নিহত হলেন। অতঃপর যে-রাজবংশ 
[সংহাসনে আরুঢ় হল তার নাম শঙ্গ-বংশ। কিন্তু মৌর্য-সাম্রাজ্যের প্রাক্তন 
গোরবরক্ষায় শুঙ্গ-বংশও অসমর্থ হল। মনে হয় শুঙ্গরা যখন ক্ষমতায় আসীন 
হয়ৌছলেন ততাঁদনে উত্তর-পশ্চিম অণ্ণল ও দাক্ষিণাত্যের কিছ্‌ অংশ মগধ সাম্রাজ্যের 
হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল। 
রাজাদের সঙ্গে সেল্যকাস-বংশীয় রাজাদের পরস্পর-সম্পক্ঁ বিষয়ে কোত্‌হলোদ্দীপক 
তথ্যাদি পাওয়া যায়। পালাঁবয়াসের মতে, সেল্যকাস-বংশীয় সৃখ্যাত রাজা মহান 
আশ্টিয়োকাস (২২৩-১৮৭ খাীস্টপূর্বাব্দ) প্রাচ্দেশে আভযান পাঁরচালনার পর 
'হিন্দুকুশ পর্বত আঁতন্রম করেন এবং ভারতীয় রাজা সোফাগাসেনাসের (স্পেম্টতই 
মৌর্যরাজা সভগসেনার) সঙ্গে তাঁর মৈন্রীবন্ধন ঝালিয়ে নেন। অতঃপর আরাকোঁসিয়া 
উপহারস্বরূপ পান। এ-থেকে মনে হয়, সম্ভবত ২০৬ খএইস্টপূর্বাব্দ নাগাদ মৌর্য 
রাজবংশ এতদূর হশীনবল হয়ে পড়েছিল যে আণ্টিয়োকাসের আরাকোপিয়া আভযান 
ঠেকানোর মতো ক্ষমতা ছিল না তার। তাছাড়া এ-সন্তাবনাকেও নাকচ করা চলে 
না যে আরাকোঁিয়া ওই সময়ে আর মৌর্য-সামাজ্যের অংশভুক্ত ছিল না। তৎসত্তেও 


১০৯ 


আশ্টিয়োকাসের পক্ষে কিস্তৃ সম্ভব হয় নি সুভগসেনাকে উপেক্ষা করা। আর তাই 
সেল্যকাস-রাজবংশ ও মৌর্যরাজবংশের মধ্যে যেমৈত্রীসম্পর্ক ইতিপূর্বে স্থাপিত 
হয়োছল আশ্টিয়োকাস তারই পুনগপ্রবর্তনে বাধ্য হন। 


শুঙ্-রাজবংশ ও ইন্দো-গ্রণক আক্রমণ 


শুঙ্গ-বংশের রাজত্বকালে পশ্চিমের সমস্যাপট সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি 
রাজনোতিক সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। পতপ্জল-রচিত গ্রল্থ মহাভাষ্য অনুসারে 
যবনদের (ইন্দো-গ্রীকদের) সেনাবাহিনী সে-সময়ে ভারতীয় শহর সাকেত ও মাধ্যামকা 
অবরোধ করে। 'যুগ-পুরাণ' নামের গ্রল্থেও এই ঘটনার উল্লেখ আছে। এই শেষোক্ত 
গ্রন্থ থেকে আরও জানা যায় যে ঘবনসেনা সাকেত হয়ে পাটলিপত্র পর্যন্ত ধাওয়া 
করে, কিন্তু পরে ওই সেনাবাহিনীর মধ্যে অভ্যন্তরণ বিবাদ-বিসংবাদ দেখা দিলে 
শুঙ্গদের রাজধানী থেকে অবরোধ তুলে নিতে বাধ্য হয় তারা । 

মনে হয় ইন্দো-গ্রকদের আক্রমণ ঘটোছিল পুষ্যামন্রের রাজত্বকালে, খুস্টপূর্বাব্দ 
দ্বিতীয় শতাব্দীর মাঝামাঁঝ সময়ে। ইন্দো-গ্রীকদের রাজা ছিলেন সে-সময়ে 
মেনাণ্ডার। 

পুষ্যামত্রের বংশধরদের আমলেও, বিশেষ করে তাঁর পৌন্র বস্ীমন্রের 
রাজত্বকালে, শুঙ্গদের সঙ্গে ইন্দো-গ্রীকদের সংঘর্য ঘটে। বস্মীমন্র অবশ্য এই যুদ্ধে 
বড় রকমের বিজয়লাভে সমর্থ হন, ফলে শঙ্গদের সঙ্গে ইন্দো-গ্রীকদের সম্পর্কে 
অতঃপর '্ছিতিশীলতা আসে। 'শলালাপর সাক্ষ্যে দেখা যায় গ্রীক রাজা 
আশ্টিআলাঁসডাস গোটা একট দতস্থান প্রেরণ করেন শুঙ্গ-রাজ ভগভদ্রের কাছে। 
এই দৃতস্থান পাঠানো হয় 'বাঁদশায়। এ থেকে মনে হয় শুঙ্গ-রাজারা নিশ্চয়ই তাঁদের 
রাজধান? স্থানান্তারত করেছিলেন বাদশা নগরে । 

এক শো বছরেরও বোৌশ সময় ধরে শহঙ্গ-বংশ রান্ট্রক্ষমতায় অধিন্ঠিত থাকে । পরে 
সিংহাসন আঁধগত হয় কাহুদের (৬৮-২২ খাীস্টপূর্বাব্দ)। এই কাহ-রাজবংশের 
আমলে মগধ-সাম্রাজ্যের 'বিকেন্দ্রীভবনের প্রক্রিয়া চলে ক্ষিপ্রগাততে । সাম্রাজ্যের বহু 
অংশ ভ্রমে-্রমে কেন্দ্র থেকে বিাঁচ্ছন্ন হয়ে যায় এবং নতুন-নতুন আগ্চাঁলক বা স্থানীয় 
রাজবংশের উদ্ভব ঘটে । শুঙ্গদের রাষ্ট্রনীতি বৌদ্ধধর্মের 'িরোধী ছিল এইমর্মে যে- 
সমস্ত বিবরণ পাওয়া যায় তা কতদূর নির্ভরযোগ্য, বিশে করে পষ্যামন্রের আমলে 
বৌদ্ধ-বিরোধী নীতির সত্যতা কতদূর বিশ্বাস্য, সেকথা বলা কঠিন. তবে এ-ও 
ঠিক যে অশোকের আমলে বৌদ্ধধর্ম যে-প্রবল রাজসমর্থন লাভ করেছিল পরবত 
আমলে স্পম্টতই তার অভাব ঘটেছিল । শ্দঙ্গ-রাজত্বের আমলে বষ্পুজা ও বৈষব 


১১০ 


ধর্মও-যে ব্যাপক জনাপ্রয়তা অর্জন করেছিল, শুঙ্গ-রাজাদের শিলালাপগ্ঁল থেকে 
সোঁট স্পন্ট। বিশেষ করে বাসুদেবের পূজা এ-সময়ে গুরুত্ব অর্জন করে। 

পুরাণসমূহ থেকে দেখা যায় যে মোর্যরাজবংশ মগধের 'সংহাসনে আধিন্ঠিত 
ছিলেন ১৩৭ বছর। প্রধান-প্রধান রাজনৈতিক ঘটনা অনুজ্ঠানের যুগ ছিল এট, এটি 
ছিল সামাজক ও সাংস্কীতিক ক্ষেত্রে তাংপর্পূর্ণ বিকাশের কাল, যা প্রাচীন ভারতের 
সমাজ ও রাষ্ট্র-ব্যবস্থার বিবর্তনে গভীর প্রভাব রেখে গেছে। এই যূগে এঁক্যবদ্ধ এক 
ভারতীয় রাষ্ট্র গড়ে ওঠার ফলে বহন 'বাচত্র জাতির মানুষের মধ্যে পারস্পারিক ক্রিয়া- 
বিক্রিয়া ও সংযোগ ঘটে, তাদের সংস্কাতি ও এীতহ্যসমূহের মধ্যে ঘটে পরস্পর- 
নিষেক এবং সংকীর্ণ উপজাতিক স্তরগ্ঁলর মধ্যে তারতম্য অস্পম্ট হয়ে আসে। 
আবার ওইসঙ্গে দেশ-বিদেশের সঙ্গে সম্পর্কও বৃদ্ধি পায় ব্যাপকতর হারে । মৌর্য- 
যুগেই ভারতীয় সংস্কৃতির প্রসার ঘটে দক্ষিণ-পূর্ব এঁশয়ার দেশগুলিতে ও 
শ্রীলঙকায়। ওই যুগেই আবার বহু রাম্দ্রীয় সংগঠনের অঙ্কুরোদগম ও প্রাতষ্ঠা 
ঘটে, যা বিকশিত হয়ে ওঠে পরবতারঁ কালে। 

তব তাঁদের পরাক্রান্ত সেনাবাহিনী, শাক্তশালী রাম্ট্রন্ত্ ও িপুল-বিস্তৃত 
শাসনব্যবস্থা, বহুবাচত্র জাতি ও অণ্চলকে এঁক্যসৃত্রে গ্রাথত করার উদ্দেশ্যে 
পরিচালিত তাঁদের ধর্মীবজয়ের রাষ্ট্রনীতি সত্বেও মৌর্যরা এমন কি সেই নড়বড়ে 
এক্যটুকুও বজায় রাখতে পারেন নি। আসলে মৌোর্য-সাম্রাজ্য ছিল বিকাশের 'বাভন্ন 
স্তরবতন্খ বহবাভন্ন উপজাতি ও জাতিগোম্তীর একত্রবাসের এক রকমারি চিন্র। 


মগধ ও মোর্য-যগে দাক্ষিণাত্য ও দাক্ষণ ভারত 


খুস্টপূর্ব প্রথম সহম্রাব্দের "দ্বিতীয়ার্ধে উত্তর ভারতের ইতিহাস সম্বন্ধে আকর 
সূত্র ও মালমশলা যত পাওয়া যায় সেই তুলনায় দাক্ষণ ভারত ও সেখানকার 
রাষ্ট্রসমূহের এবং মহাদেশের ওই অংশের রাজনোতিক, অর্থনোতিক ও সাংস্কাতিক 
বিকাশের সাক্ষ্য-সমন্বিত আকর উপাদানের সাক্ষাৎ পাওয়া যায় বহুপাঁরমাণে কম। 
দাক্ষণ ভারতের স্থানীয় ভাষাগুীলতে 'লাখত আকর গ্রন্থগুলি দেখা দিয়োছিল মান্র 
গোড়ার দিককার খ্্ীস্টীয় শতাব্দীগুলিতে এবং এই কারণে খ্স্টপূর্বাব্দের 
ইতিহাসের প্রধান সাক্ষ্যসত্র হল ওই অণ্ুলে-পাওয়া উৎকীর্ণ [শিলালাপগীলই 
(প্রাকৃত ও সংস্কৃত ভাষায় লিখিত)। 

অশোকের অনুশাসনগুলিতে তাঁর সাম্রাজ্যের বহিভূতি দক্ষিণের দেশসমূহের 
যে-তালিকা পাওয়া যায় তার অন্তর্গত হল পাণ্ড্, চোল, চের, সত্যপুত্র ও 
কেরলপ্্রদের রাজ্যগ্ঁল। কিছুটা আগের যুগে লেখা মেগাস্ছেনিসের বিবরণীতে 
পান্ড্য রাজ্যের উল্লেখ আছে, তা থেকে মনে হয় অন্ততপক্ষে খস্টপূর্ব চতুর্থ 


৯১১১৯ 


শতাব্দীর শেবাশোঁষ দক্ষিণ ভারতে ওই নামে একটি রাজ্য অবশ্যই ছিল। প্রসঙ্গত, 
এটি একটি কৌতূহলোদ্দীপক ঘটনা যে মাসিডোনিয়ার আলেক্জাণন্ডারের ভারত- 
আন্রমণের সঙ্গী হয়োছলেন যে-হীতিবৃত্তকাররা তাঁরা দাক্ষিণ ভারতের কথা, এমন কি 
শ্রীলঙ্কার কথাও শুনেছিলেন। ওনোসিক্রিটাস নামে এদেরই একজন শ্রীলগকা 
আভমূুখে সমমুদ্ুযান্রার কাহিনী লিপিবদ্ধ করে গেছেন। মগধের এবং মৌর্যরাজাদের 
আমলে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে যোগাযোগ বিকশিত হয়ে ওঠে আরও দঢ় 
ও নিয়মিত "ভীত্ততে। বৈয়াকরণ কাত্যায়ন (আনূমানিক খস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দী) 
ও পরবতর্শ কালের পতঞ্জলির গ্রন্থে দক্ষিণ ভারতের িছ-কিছদ অণুলের উল্লেখ 
পাওয়া যায়। ইতিমধে) উত্তর ভারতের সংস্কৃতি ক্রমশ বিস্তারলোভ করাছল 
দক্ষিণাদকে, অর্থনৈতিক সম্পর্কও গড়ে উঠছিল ক্রমশ । দক্ষিণ ভারতের কিছু-কিছু 
অংশ মৌর্য-সাম্রাজ্যের অন্তভূক্ত হওয়ায় ঘটনার এই ধারা আরও দ্রুতগাঁত লাভ 
করে। অর্থশাস্ত্রে দক্ষিণ ভারতের মাটির তোর পণ্যদ্রব্যাদর বহর বস্তুত বর্ণনা 
পাওয়া যায় আর পাওয়া যায় দক্ষিণ ভারতের মধ্যে দিয়ে প্রসারিত বাণিজ্যপথগযলির 
1ববরণ। 

মৌর্যরাজাদের শাসনকালে দক্ষিণ ভারতে বৌদ্ধধর্মের বিস্তার শুরু হয়। এর 
সাক্ষ্য মেলে দাক্ষণাত্যের কিছু-কিছ্‌ অণুল থেকে আঁবন্কৃত খ্ঢাস্টপূর্ব তৃতীয় 
ও দ্বিতীয় শতাব্দীর সময়কার উৎকীর্ণ বৌদ্ধ শিলালাঁপগলি থেকে। 

মৌর্য-শাসনের অবসানের পর সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত দাক্ষিণাত্যের কয়েকটি অণ্চল 
সাম্রাজ্যের কবল থেকে মাাক্তর জন্যে সংগ্রাম শুর্‌ করে। এ-সময়ে একমান্ন বাহবলেই 
বিদর্ভকে দমন করতে সমর্থ হয় শুঙঈ-রাজবংশ। তবে ওই রাজ্যের দক্ষিণ অংশ 
শেষপর্যন্ত স্বাধীনতা-অজঁনে সমর্থ হয়। 

মৌর্যপরবতাঁ যুগে দাক্ষিণাত্যের সবচেয়ে পরিচিত ও শীক্তশালী রাম্ট্র ছিল 
সাতবাহনদের রাজ্য। তবে এই রাষ্ট্রের ইতিহাসের বহন পৃচ্ঠাই রহস্যময় থেকে গেছে, 
যার সমাধান এখনও করে ওঠা সম্ভব হয় নি। পুরাণসমূহ থেকে যে-স্মস্ত তথ্য পাওষা 
যায় তাতে সাতবাহনদের আমরা অন্ধ;দেশবাসী বলে সনাক্ত করতে পাঁরি। উতৎকীর্ণ 
[শিলালাপি অনযায়ী এই সাতবাহনরা পরে দক্ষিণ ভারতের পশ্চিম সমদ্র-তাঁরবতাঁ 
ভূখণ্ড পর্যন্ত রাজ্যবিস্তার করেছিল বলে মনে হয়। এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন 
সমূক (বা পুরাণের সাক্ষ্য অন্যায়ী [িশুক), তবে সাতবাহন-বংশের হীতিহাসে 
গোড়ার পর্যায়ে সবচেয়ে শাক্তশালী রাজা ছিলেন সাতকানি (বা পরাণ-অনসারে 
শতকণাঁ)। রাজা শতকর্ণার আমলে রাজ্যের সীমানা বহুগুণ প্রসারিত হয় এবং রাজা 
স্বয়ং সৃখ্যাত হয়ে ওঠেন “দক্ষিণ রাজ্যের প্রভু” হিসেবে । একসময় শতকণণ্কে যুদ্ধে 
প্রবৃত্ত হতে হয় পূর্ব-সমুদ্রোপকুলের এক শক্তিশালণ রাম্ট্র কলঙ্গের বিরুদ্ধে, কারণ 
কাঁলঙ্গ-রাজ খারবেল তাঁর সেনাবাহিনী নিয়ে পশ্চমদিকে অগ্রসর হতে থাকেন। 


১৯৭ 


ওই সময়ে কাঁলঙ্গ ভারতের সবচেয়ে শাক্তশালী রাষ্ট্রগ্লর অন্যতম হয়ে ওঠে। 
হাঁতিগুম্ফাতে (আধ্বানক ভুবনেশ্বর শহরের সাল্নিকটে) পাওয়া খারবেল-শলালাঁপ 
অনযায়ী কালঙ্গ-বাহিনী পশ্চিমাঞ্চলের ভোজক ও রাঁথক নামের জাতিদুটির বিরুদ্ধে 
যুদ্ধে বিজয় হয়। অতঃপর রাজা খারবেল তিনবার উত্তরাণ্টল-আভমূখে সৈন্যচালন 
করেন, অবরোধ করেন মগধের প্রাচীন রাজধানী রাজগৃহ এবং তারপর অগ্তসর হন 
গঙ্গাতীর-আভমুখে। খারবেল-লপি থেকে আরও জানা যায় যে মগধের রাজা 
বহসাঁতমিত কাঁলঙ্গ-রাজের কাছে বশ্যতাস্বীকার করেন। খারবেল দাক্ষিণেও সামারক 
আঁভযান চালান এবং তাঁর সেনাবাহনী গিয়ে পেশছয় এমন কি পাণ্ড্য-রাজ্য পর্যান্ত। 
খারবেলের রাজত্বের পর অবশ্য কাঁলঙ্গের সৌভাগ্যের দিনের অবসান হয়ে আসে 
এবং কাঁলঙ্গ সম্বন্ধে আকর সত্রগ্দলিতে ভ্রুমশ কম-কম উল্লেখ পাওয়া যেতে থাকে। 


অর্থনোতিক (বিকাশ ও সমাজ-কাঠামো 
কাষ 


 প্রাচান ভারতের অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রে মগধ ও মৌর্যযুগ এক অতান্ত 
গুরত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে চিহৃত। ওই সময়ে প্রাচীন ভারতশয় সমাজের ভিত্তিস্বরূপ 
সামাঁজক ও অর্থনোৌতিক কাঠামোর মূল চারিন্রযবৈশিষ্ট্যগাল স্মানার্দন্ট রুপ পাঁরিগ্রহ 
করেছিল এবং পরবতর্ট কালে সেগ্যালই হয়ে উঠেছিল আরও িকশিত। সেইসঙ্গে 
এটিও লক্ষণীয় রকম স্পম্ট হয়ে উঠেছিল যে দেশের ভিন্নশভন্ন অণ্চলের বিকাশের 
স্তর ছল সাংঘাতিক রকমের অসমান। অর্থনৌতিক দিক থেকে উত্তর ভারতের 
স্বচেয়ে উন্নত এলাকাগুলির একটি ছিল গঙ্গা-উপত্যকা, এলাকাটি ছিল উর্বর 
পালমাটির দেশ এবং খাঁনিজ ধাতুর ভাণ্ডারে সমদ্ধ। 

এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ছিল লোহার খাঁনর ব্যাপ্ত ও আধিক্য। 
কাঁষ এবং কারুশিজ্প উভয় ক্ষেত্রেই লোহা ব্যবহারের চল ছিল। লোহা 'দয়ে কৃষির 
যল্্রপাতি, বিশেষ করে লাঙলের ফলা, তৈরি করতে শুরু করেছিল মানুষ এবং এর 
ফলে কাষকাজের ও তার ফলাফলের প্রকৃতিতে গুণগত পারিবর্তন ঘটে িয়েছিল। 
সবচেয়ে প্রাচীন বৌদ্ধ পুঁথগুলির মধ্যে একটি “সুত্ত-নিপট'এর এক উপাখ্যানে বলা 
হয়েছে যে এক ব্রাহ্মণ জমি চাষ করছিলেন লাঙল দিয়ে আর সেই লাঙলের ফলা 
(স্পষ্টতই লোহার তোর) এত গরম হয়ে উঠল যে তাঁকে জলে ডুবিয়ে তা ঠাণ্ডা 
করতে হল। উৎপাদনশণল শ্রমের প্রধান ধরনটাই তখন হয়ে দাঁড়াল কৃষিকাজ। 
যে-সমস্ত অণুলের জমি বোঁশ উর্বর কৃষকরা সেখানে বছরে দু'বার, এমন 'কি তিনবার 


৪--498 ১১৩ 


পর্যন্ত ফসল ফলাতে সমর্থ হচ্ছিলেন। পাঁণানর ব্যাকরণে তাই পাওয়া যায় 
বসম্তকালীীন ও শরংকালীন ফসলের ভন্ন-ীভন্ব সংজ্ঞা । প্রাচীন ভারতীয়রা ছিলেন 
দক্ষ কৃষক, নানা ধরনের জমির প্রকীতি ও গুণাগুণ সম্বন্ধে ভালোরকম জানাশোনা 
ছিল তাঁদের । তখন ধান, গম ও যবই ছিল প্রধান শস্য। প্রত্বতত্ববিদরা যখন উত্তর ও 
মধ্য-ভারতের প্রাচীন নগরবসাতগুলিতে খননকার্ধ চালান তখন মগধ ও মৌর্য 
যুগগ্ঁলর সঙ্গে সম্পাকতি ভূস্তরসমূহে চালের দানা পাওয়া যায়। মগধের আঁধকৃত 
রাজ্যে ধানচাষের জন্যে বিশেষ করে বরাদ্দ করা হয় প্রকাণ্ড-প্রকাণ্ড এলাকা । বৌদ্ধ 
পুথিগ্ালতেও মগধে ধানের ভালো ফলনের উল্লেখ আছে বহ্বার। পতঞ্জলিও 
তাঁর ব্য।/করণ-সংল্রাস্ত রচনায় উল্লেখ করেছেন যে মগধ-রাজ্যে প্রধান ফসল ছিল ধান, 
আর পাশ্চম ভারতের অন্যর্বর এলাকাগ্দাীলতে যবই ছিল সবচেয়ে বোশ প্রচলিত 
ফসল।। প্রত্রতাত্বক খননকার্ষের ফলে এবং লিখিত আকর সূত্রের সাক্ষ্য অনুযায়ী 
জানা যায় যে মহাদেশের পশ্চিম অংশে গম, সীম-বরবাঁট ও সেইসঙ্গে যবের চাষও 
হোত ব্যাপকভাবে । এছাড়া আরও দক্ষিণ অগ্চলে, যেখানে আবহাওয়া শৃজ্কতর ও 
জাঁম আরও কম উর্বর, সেখানে জোয়ারের চাষই ছিল প্রধান। 

মগধ এবং মৌর্যযুগগ্ালিতে জমিতে সেচ-ব্যবস্থারও দ্রুত উন্নাতি ঘটে । বহুতর 
আকর সত্রেই বিশেষভাবে সেচের উদ্দেশ্যে খনন-করা বিশেষাঁবশেষ খাল ও 
জলাধারের উল্লেখ আছে এবং মগধে জামর সেচ-ব্যবস্থার একাধক উল্লেখ আছে 
প্রত্যক্ষভাবেই । রাষ্ট্রের তরফ থেকে সেখানে সংগঠিত হয়োছল বড় আকারের বহু 
সেচ-প্রকল্প, তদনপার জামতে সেচের ব্যবস্থা করত যৌথভাবে গ্রামীণ সমাজগাাঁল 
ও ব্যান্ডগতভাবে কৃষকরাও । সৌরাত্ট্রেপাওয়া খুস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীর একখানি 
উৎকণীর্ণ 1লাঁপতে চন্দ্রগুপ্ত মৌযেরি রাজত্বকালের মতো অত প্রাচীনকালেই একটি 
জলাধার নির্মাণের উল্লেখ পাওয়া গেছে। আর সম্রাট অশোকের আমলে বিস্তারত 
সেচ-ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তার সঙ্গে যুক্ত হল বহ্দাবিধ খাল । মেগাস্ছেনিসও মৌর্য- 
সাম ্রাঙ্যের আমলে সেচ-ব্যবস্থার প্রচলনের কথা লিখে গেছেন (খুব সম্ভব এই 
ব্যবস্থাগুলি তিনি দেখোছিলেন রাজধানীর কাছাকাছ এলাকায়)। সেচের খালগাল 
এবং খাল থেকে মাঠে জল সরবরাহের ব্যবস্থা পারদর্শনের জন্যে রাজকর্চার 
নয়োগের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। 

যঁদও ওই যুগে কৃষকাজই ছিল উৎপাদনের প্রধান ক্ষেত্র, তব গবাদ পশু 
পালন ও প্রজননও কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। গবাদি পশু পালনের ওপর আতীরক্ত 
গুরৃত্ব আরোপ করা হোত তখন, কেননা খেতের কাজে ব্যবহার করা ছাড়াও মাল- 
বওয়া গাড়িটানার কাজেও তাদের ব্যবহার করা হোত। যুদ্ধের সময়ও গবাদ পশু 
খুব বোশ কাজে লাগত । বৌদ্ধ পাঁথগু2লিতে ধনী পশুপালকদের বহ উল্লেখ আছে ; 
বলা হয়েছে জনেক ধনী পশুখামার-মালিকের নাক সাঙাশ হাজার দুগ্ধবতী গাভী 


১১৪ 


ছিল। এত বড় একটি খামারের গোরু-চরানোর জন্যে স্বভাবতই [নিযুক্ত ছিল বিশেষ 
সমস্ত রাখাল এবং গোরুর তত্তাবধানের জন্যে বেশকিছু কৃষাণ। মাঁলকানা নিয়ে 
গোলমাল এড়ানোর জন্যে নিয়ম হসেবেই গবাদি পশুব্‌ গায়ে ছাপ মেরে দেয়া হোত। 


শহরের বাড়বৃদ্ধি ও কার;শিল্পের উদ্ভব 


মগধ ও মৌর্যযুগগুলিতে জীবনযান্নার একটি সমীনার্দস্ট বৈশিষ্টা ছিল ওই 
সময়কার শহরগ্ালর বাড়বৃদ্ধি। শহরগ্াল তখন হয়ে উঠছিল কারুশিজ্প ও 
ব্যবসা-বাণিজ্যের একেকটি কেন্দ্র। তবে তখনও জনসংখ্যার বেশ বড় একটি অংশ 
গ্রামেই বাস করত। 

প্রত্রআত্তক খননকার্ষের ফলে দেখা গেছে যে শহরগ্ঁলির সবচেয়ে দূত বিস্তার 
ঘটেছিল খস্টপূর্ব ষষ্ঠ থেকে তৃভীয় শতাব্দীর মধ্যে । এটা হল সেই সময় যখন 
নগররক্ষার জন্যে প্রাকার ও পাঁরখা নির্মাণ এবং নগরনির্মাণ-পাঁরকল্পনা কার্ধত 
দেখা দিতে থাকে । তবে তখনও পর্যন্ত একাঁট শহর থেকে অপর এক শহরের পার্থকা 
ঘটত প্রচণ্ড । যেমন, পাটলিপন্র শহরটি গড়া হয়েছিল সামান্তাবক ক্ষেত্রের আকারে, 
কৌশাম্বী অসমান্তরাল বাহ্াবাঁশস্ট চতুর্ভূজ ক্ষেত্রের ধরনে, শ্রাবন্তী 'ন্রকোণ ক্ষেত্রের 
ধাঁচে আর বৈশালী আয়তক্ষেত্রের গড়নে। এদের মধ্যে আকারে সব থেকে বড ও 
বৃহত্তম জনসংখ্যার শহর ছিল সাম্রাজ্যের রাজধানী পাটালিপূত্র। রাজধানশর এক 
সময়ের বাসিন্দা মেগাস্ছেনিসের উদ্ধৃত তথ্য-অনুযায়শ মনে হয় পাটলিপুন্নের আয়তন 
পণচিশ বর্গহকলোমিটরেরও বোশ ছিল। এই তথ যাঁদ 'নর্ভরাযোগ্য বলে ধরা হয় 
তাহলে বলতে হয় পাটাঁলপ.ন্র অবশ্যই প্রাচীন কালের শহরগযাীলর মধ্যে অনাতম 
সর্ববৃহৎ িল। প্রাচ্ঈন আলেক্জাশ্ড্রয়া ছিল উপরোক্ত আয়তনের এক-তৃতীয়াংশ 
মাত্র এবং বংসরাজ্যের রাজধানী স্‌খ্যাত ভারতীয় শহর কৌশাম্বন ছিল পার্টীলপূন্রের 
চেয়ে এগারোগ্‌ণ ছোট। মেগাস্ছেনস আরও লিখেছেন যে মৌর্যপসাম্রাজোর 
রাজধানীকে ঘিরে ছিল &৭০টি দুর্গীমনার এবং শহরে প্রবেশ করতে হলে আতন্রম 
করতে হোত ষাটাটিরও বোশ তোরণদ্বার। 

শহরের ঘরবাঁড় তৈরির প্রধান উপাদান অবশ্য তখনও পর্যন্ত কাঠই ছিল। খুবই 
কালেভদ্রে এ-কাজে পাথর ব্যবহৃত হোত। এমন কি খননকার্ষের ফলে দেখা গেছে 
যে অশোকের রাজপ্রাসাদও তৈরি হয়েছিল কাঠ 'দয়ে। কাঠকে তখন এমন এক বিশেষ 
প্রক্রিয়ায় পোক্ত করে তোলা হোত যাতে বহু শতান্দীতেও তা ক্ষয় পেত না। অশোকের 
রাজত্বের ছয় শতাব্দী পরে চীনা পরিবাজক ফা হিয়েন যখন পাটালিপুন্নে আসেন 
তখন তানি ওই প্রাসাদের চমৎকারিত্বে আভভূত হন এবং লেখেন যে প্রাসাদাট নিশ্চয়ই 
দেবতাদের তোর, মানুষের হাতে-গড়া নয়। এমন কি এই শতাব্দীর সূচনায় যে- 


১১৫ 


সমস্ত প্রত্ততত্ঁবিং এই রাজপ্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ নিয়ে প্রথম অনসন্ধানকার্য শুরু 
করেন, তাঁরাও প্রাসাদাঁটতে কাঠের 'ভাত্ত অক্ষুগ্র রাখার কলাকৌশল এবং গৃহনির্মাণ- 
পদ্ধাত লক্ষ্য করে গভীর বিস্ময় বোধ করেন। 

কারুশিল্পও ওই সময়ে অত্যন্ত উচ্চ স্তরে উন্নীত হয়, বিশেষ করে তাঁতাশিল্প, 
ধাতুশিল্প ও মাঁণকারের কাজ। বারাণসী, মথুরা ও উজ্জয়িনীর তাঁতাঁশল্পীদের 
বোনা সক্ষ সৃতীবস্ত্র সর্বোৎকৃম্ট বলে গণ্য হোত তখন । ভারতের সৃতনবস্ত তখন 
রপ্তানি হোত পাশ্চাত্যে _ বাঁরগাজা হয়ে। সে-সময়ে গান্ধার বিখ্যাত ছিল পশাঁম 
কাপড়ের জন্যে। 

অর্থশাস্ত্র বইটিতে যেখানে নানাবিধ ধাতুর কাজ হোত এমন কিছ বিশেষ 
রাজ-কর্মশালার উল্লেখ আছে। এই কর্মশালাগ্ীলর ওপর রাজকর্মচারিদের কড়া 
নয়ল্লণ বজায় থাকত । রাজার নিজস্ব অস্ত্রনির্মীণশালা ছাড়াও ছিলেন অন্যান্য বহু 
ধাতু-কর্মকার ও তাঁদের কর্মশালা । এই কর্মকাররা নিজ-নজ কাজ-কারবার চালাতেন 
এবং খারদ্দারের ফরমায়েশ তামিল করতেন। প্রাতিটি গ্রামেই কুমোর. ছুতোর ও 
কামারদের লোকে অত্যন্ত সম্ভ্রমের চোখে দেখতেন। 

কারুশিল্পীদের নিজস্ব সমবায়-সঙ্ঘ থাকত, সেগ্ীলকে বলা হোত "শ্রেণী? । 
এই শ্রেণীগুলি িছু-পাঁরমাণে স্বাধীন ছিল, তাদের নিজস্ব বিধি-বিধানও 
লাঁপবদ্ধ থাকত। যে-কার্ীশজ্পীরা একটি বশেষ সঞ্ঘের সদস্য হতেন, সেই সঙ্ঘের 
নাঁ্ট 'বাঁধ-বিধান মেনে চলতে হোত তাঁদের । দরকার পড়লে সঙ্ঘও তার সদস্যদেব 
সমর্থনে দাঁড়াত। রাস্ট্রের তরফ থেকে চেষ্টা চলত এই সমস্ত সমবায়-সঙ্ঘবের ওপর 
কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার । সঙ্ঘগুলিকে বলা হোত রাম্ট্রের কাছে তাদের নাম তালিকাভুক্ত 
করার এবং শাসন-কর্তৃপক্ষকে আগে না-জানিয়ে দেশের এক অণ্চল থেকে আরেক 
অণ্লে সত্যের কর্মস্ছল স্থানাস্তরণও 'নাষদ্ধ ছিল। 


ব্যবসা-বাণিজ্য। মহদ্রার আবিভণাৰ 


বাঁণকদেরও একই ধরনের নিজস্ব সংগঠন ছিল। কার্ীশল্পীদের মতো সেগঁলও 
ছিল বিশেষ পেশাভিত্তিক। দেশের একেকটি বিশেষ অঞ্চলের বণিককুল স্ানার্দন্ট 
একেকাঁট ধরনের পণ্যদ্রব্য কেনাবেচা করতেন। মগধের এবং মৌর্যরাজাদের আমলে 
দেশের 'বাভল্ন অণুলের মধ্যে আগের চেয়ে আরও বস্তুত যোগাযোগ-ব্যবস্থা গড়ে 
ওঠে, নতুন-নতুন রাস্তা তোর হয় এবং 'বাভন্ন রাজ্যের রাজধানশগুলির মধ্যে স্থাপিত 
হয় বিশেষ ধরনের বাণিজ্যপথ। এই বাণিজ্যপথগ্দলির মধ্যে সবচেয়ে বোশ বখ্যাত 
[ছল উত্তরাভমূখ ও দাক্ষণাঁভমুখ রাজপথ-দাটি। মেগাস্থেনিস এমনই একটি 


৯১১৬ 


রাজপথের কথা লিখেছেন যে-রাজপথাঁট উত্তর-পাশ্চম সীমান্ত থেকে স্মদূর 
পাটালপাত্র পর্যন্ত প্রসারিত হয়ে আরও পূবাঁদকে চলে গিয়েছিল। 

স্থলপথে বাঁণজ্য ছাড়াও নদী ও সমূদ্রপথও বাণিজ্যের প্রয়োজনে ব্যবহার করা 
শুর্‌ হয়োছিল তখন। আকর সত্রগ্লি থেকে ভারতীয় বাঁণকদের এমন কি দীর্ঘ 
ছ'মাস পযন্ত স্ছায়ী 'বপজ্জনক নানা সমদ্দ্রযান্রার কাহিনী জানা যায়। ভারতের 
উপকূল থেকে জাহাজগ্যাল তখন পাড় জমাত শ্রীলঙকা, র্ষদেশ ও দাক্ষণ আরবে। 
নানা ভারতীয় পণ্যদ্রব্য রপ্তানি হোত গ্রীক ও গ্রীকশাসিত দেশগুঁলতে । এইসব 
পণ্যদ্রব্যের মধ্যে থাকত মশলা, দাম পাথর, হাতির দাঁতের খোদাই-করা শৌখিন বস্তু 
এবং সেইসঙ্গে দূললভ নানাজাতীয় কাঠ। 

প্রায় এই একই সময়ে মুদ্রার আবভীব ঘটে এবং মুদ্রার প্রচলন শুরু হয়। 
প্রথমে ধাতুর টুকরো ব্যবহৃত হতে শর হয় মুদ্রা হিসেবে, তারপর ত্রমে-্রমে সেই 
টুকরোগুলো একেকটি স্টানাঁদম্ট আকার পায় এবং সেগ্ীলর ওপর নানা ধরনের 
প্রতীক-চিহ ও 'লাপি ইত্যাঁদ খোদাই করা বা তার ছাপ মার৷ চলতে থাকে। 

খস্টপূর্ব পণ্চম ও চতুর্থ শতাব্দীতে যন্ত্র সাহায্যে ছাপ-দেয়া মুদ্রা দেখা দেয় । 
এই মদ্রাগ্যাল বেশির ভাগই ছল তামা 'কংবা রুপোর তোরি। যে-সমস্ত এলাকা তখন 
আকিমোনিড সাম্রাজ্যের অন্তরভূক্ত ছিল সেখানে চলন শুরু হয় পারশি সগলোইয়ের, 
আর উত্তর-পশ্চিম অণ্চলে 'বানময়ের একক হয়ে ওঠে গ্রীক টেট্রাড্রাক্মা। 

প্রত্রতত্ববিদরা মোর্যয্‌গের সঙ্গে সম্পাককৃত ভূস্তর খ:ড়ে যে-সমস্ত ছাপ-দেয়া 
মুদ্রা পেয়েছেন সেগ্দালর বৌশল্ট্য হচ্ছে মদ্রার ওপর বারে-বারে একই ধরনের 
কতগ্দাল প্রতনীক-চিহ্ের ছাপ। সম্ভবত এগ্যাল মৌর্যরাজাদেরই নিজস্ব প্রতীক- 
চিহ। 'লাঁখত গ্রন্থ ও উৎকীর্ণ লাপগুলিতে এই সমস্ত মুদ্রার 'বাভন্ন নামকরণের 
উল্লেখ আছে । যেমন, 'কার্ষাপণ (রুপোর ও তামার মুদ্রা), 'কাকাঁন' (তামার মুদ্রা), 
“সুবর্ণ” (স্বর্ণমুদ্রা), ইত্যাঁদ। 

যে-সমস্ত রাজকর্মচাঁরকে টাঁকশাল থেকে মদ্রা তোরর ও মুদ্রা প্রচলন-ব্যবস্থার 
তদারক করতে হোত অর্থশাস্তে তাঁদের করণীয় দায়ত্বগ্যালও আলিকাভুক্ত করা 
হয়েছে। ভারতীয় সভ্যতার ওই পর্যায়েই খণদান, সুদ ও বন্ধকী কারবারের 
ধারণাগ্ীলর সঙ্গে সাধারণের পাঁরচয় ছিল। 


ভূ-সম্পাত্তর মালিকানা 


খস্টপূর্ব প্রথম সহম্রাব্দের "দ্বিতীয়ার্ধে ব্যক্তিগত ভূ-সম্পান্তর মালকানার 
আরও প্রসার ঘটে। জামর মালিকানা ও জমি চাষ-আবাদ করার মধ্যে পার্থক্যটি 
প্রাচীন ভারতীয়রা ভালোই বঝেছিলেন এবং 'ভিন্ন-ভিন্ন সংজ্ঞাও দিয়েছিলেন এই 


১১৪ 


দুটি অবস্থার । মালিকানার ব্যাপারটিকে ষুক্ত করেছিলেন তাঁরা সম্বন্ধবাচক সর্বনাম 
স্ব'এর সঙ্গে এবং তার সঙ্গে ধাতু বা প্রকৃতিযোগে উৎপন্ন অন্যান্য তাঁদ্ধতাস্ত শব্দের 
সঙ্গে। আর 'ভূজ্‌” (ভোগ করা অর্থে) ধাতু ও তা থেকে উৎপন্ন ভোগ", ভুক্ত" ইত্যাঁদ 
শব্দ ব্যবহৃত হোত সামায়ক অধিকার বা দখল বোঝাতে । সূত্র এবং শাস্ত্রসমূহে 
এমন ঘটনা লিপিবদ্ধ আছে ফেক্ষেত্রে লোকে যে-কোনো জিনিস কেনার পর কিংবা 
তা আবচ্কার বা উদ্ধারের পর সম্পাত্তর মালিক হয়েছে। তবে ওই একই সঙ্গে এ-ও 
বলা হয়েছে যে একমান্র আইনগত স্বীকীতির পর এবং আইনসঙ্গত আধকার-অজনের 
ভাঁত্ততেই কোনো ব্যক্তীবশেষ আগে-থেকে-বাবহৃজ জিনিসের মাঁলক বলে গণ্য হতে 
পারে। উপরোক্ত এই সমস্ত নিয়মকানূন জমির মালিকানা ও জাম চাষ-আবাদ করা 
সম্বন্ধেও প্রযোজ্য ছিল। 'মানব-ধর্মশাস্ত্রে বা মনুসংহিতা'় খেওবস্টপূর্ব "দ্বিতীয় 
শতাব্দী থেকে খীস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীর মধ্যে সংকালত) আবাদী জাঁম প্রধান- 
প্রধান সম্পান্তর অন্যতম বলে গণ্য । 

দেশের ভূ-সম্পান্ত তখন বিভক্ত ছিল 'তনাট স্তরে -_ ব্যক্তিগত. সামাজিক ও 
রাজার খাসদখল। 

ব্যক্তগত ভূ-সম্পান্তর মালিকদের মধ্যেও স্তরভেদ ছিল 'বাভন্ন প্রকারের । ধনী 
ভূস্বামী ছাড়াও ছোট-ছোট টুকরো জাঁমর দাঁরদ্র মাঁলকও ছিল অনেক । ধনী মালিকদের 
িছু-কিছ ভূ-সম্পান্ত এতই প্রকাণ্ড ছিল যে তা চাষ করার জন্যে কয়েক শো 
লাঙলের দরকার হোত। এই ধরনের ভূ-সম্পাক্ততে চাষের কাজ চালানো হোত 
ন্লীতদাস এবং খেতমজুর 'দয়ে। 

বড়-বড় ভূ-সম্পান্তর আয়তন যেখানে ছিল এক হাজার করীষ (এক করাঁষ 
জাম প্রায় এক 'বিঘার সমান) পর্যন্ত, সেখানে অত্যন্ত ক্ষুদ্র টুকরো জাঁমও বড় কম 
ছিল না। ছোট জাঁমর মাঁলকরা িজ-নিজ পাঁরিবারের সাহায্যে চাষ-আবাদ করতেন। 
সম্পান্তর আধকার অলঙ্ঘননয় ও সরাক্ষত ছিল। অন্যের মালিকানাধীন জাম বে- 
আইনাীভাবে আত্মসাৎ করলে তার শাপ্ত ছিল মোটা অর্থদণ্ড এবং এ-ধরনের 
আইনভঙ্গকারীদের জনসমক্ষে আখ্যা দেয়া হোত চোর বলে। শাস্ত্রের বাধ-অন_যায়ী 
জাঁম আত্মসাৎ করার দরুন অর্থদণ্ড চুরির অপরাধে অর্থদণ্ডের সমান ছিল। কোনো 
ভূস্বামীর নিজস্ব ব্যাপারে অপরের হস্তক্ষেপ ছিল আইনত নিাষদ্ধ। মনুসংহিতায় 
লেখা আছে, যে-লোকের নিজস্ব জমি নেই কিন্তু যার শস্যবীজ আছে, সে যাঁদ সেই 
বীজ অন্যের জাঁমতে বোনে তাহলেও উৎপন্ন ফসলে তার কোনো আঁধকার থাকবে 
না। একমান্র জমির মালকেরই অধিকার আছে তাঁর জমি সম্বন্ধে যেকোনো সিদ্ধান্ত 
রাখতে 'কিংবা ইজারা 'দতে পারেন । এর নানা সাক্ষ্য মেলে ভারতীয় পাাঁথগদীলতে : 
যেমন এক ব্রাহ্মণের কাহিনন উল্লিখিত আছে যানি তাঁর জামির একাংশ অন্যকে দান 


৯১১৮ 


করে 'দচ্ছেন, আবার অন্যত্র বলা হয়েছে যে এক বাঁণক যুবরাজের কাছ থেকে নে 
নিচ্ছেন একাঁটি ফলের বাগান, ইত্যাদি । অতএব, প্রাচীন ভারতে কোনো ব্যাক্তীবশেষ 
ভূ-সম্পান্তর আঁধকারী হতে পারত না, িওডোরাসের এই উীক্ত (যা সম্ভবত 
মেগাস্ছেনিসের বিবরণী থেকে সংগৃহীত) স্থানীয় আকর সন্ত্রগুলির সঙ্গে খাপ খাচ্ছে 
না এবং ওই সময়কার বাস্তব পারিস্ছিতিরও প্রাতিফলন মেলে না এথেকে। 

'নারদ-স্মৃতি'তে খেএনস্টীয় তৃতীয় আর চতুর্থ শতাব্দীর) একটি বিধান লিপিবদ্ধ 
আছে যাতে বলা হয়েছে যে স্বয়ং রাজারও আঁধকার নেই ব্যাক্তগত মালকানার 
[ভাত্তকে লঙ্ঘন করার, অর্থাং কোনো ব্যাক্তীবশেষের নিজস্ব বাঁড় বা জামর ব্যাপারে 
হস্তক্ষেপ করার। তবে রাজশাক্ত সর্বদাই সম্পান্তর মালিকদের আঁধকার খর্ব করার 
চেম্টা করে থাকে। বস্তুত রাজা ব্যক্তিগত মালিকানার জাঁমর ওপর কর ধার্য করতেন 
এবং স্বভাবতই জামির অবস্থার ওপর সতর্ক নজর রাখতেন তিনি । যাঁদ কোনো 
জামির মাঁলক বীজ বোনার 'কংবা ফসল কাটার সময় জমির দিকে নজর না-দিয়ে 
তা ফেলে রাখতেন, তাহলে রাজা সেই ভূস্বামীর কাছ থেকে অর্থদণ্ড আদায় করতে 
পারতেন। যে-সমস্ত ভূদ্বামী রাজস্ব দেয়া বন্ধ করতেন রাম্্রের তরফ থেকে তাঁদের 
ওপরও জাঁরমানা ধার্য হোত। এ-সবই অবশ্য গ্রাহ্য ছিল রাজ্যশাসনের কর্তভব্যের 
আবাশ্যক অংশ হিসেবে । তবে, সবাঁকছ সত্তেও, রাষ্ট্রের আধিকার ছিল না ব্যক্তিগত 
মালিকদের কাছ থেকে জাম বাজেয়াপ্ত করে নেয়ার । “বৃহস্পাত-স্মাত'তে খেওশস্টীয় 
তৃতীয় ও চতুর্থ শতাব্দীর) এ-ব্যপারে দৃম্টি আকর্ষণ করা হয়েছে যে রাজা যাঁদ 
ব্যক্তি-মালকানাধীন জাম এক ভূস্বামীর কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে তা অন্যকে দান 
করেন, তবে তিনি আইনবির্দ্ধ কাজ করবেন। তবে জম কেনাবেচার কাজাঁট 
আইনসম্মতভাবে হচ্ছে কিনা রাষ্ট্রকে সে-ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে, আর তা 
না-হলে উপযুক্ত ক্ষেত্রে অর্থদণ্ড জার করা চলবে। 

রাষ্ট্রের মতো গ্রামীণ সমাজও জমিতে ব্যক্তিগত মালিকানাকে সীমাবদ্ধ রাখবার 
প্রয়াস পেত, বিশেষ করে সমাজ নজর রাখত তার সদস্য নয় এমন সব লোকের কাছে 
জাম 'বিক্লির ব্যাপারে । জাম বিন্রুর সময় বিক্রেতার আত্মীয়স্বজন ও প্রাতিবেশীদের 
অগ্র-্রয়াধিকার দেয়া হোত। 'বাভন্ন গ্রামের সীমানা ও বিশেষ জামির অবস্থান 
নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে তখনও সর্বোপার এই গ্রামীণ সমাজগুির মতামত 
বিবেচনার মধ্যে ধরা হোত। সমাজ তার সদস্যদের মধ্যে ভূস্বামীদের আঁধকারও রক্ষা 
করে চলত। এছাড়া সমাজ স্বয়ং দায় থাকত যৌথ মালিকানাধীন জম-জায়গার 
জন্যে: যেমন, চারণভূঁম, ঘরবাঁড় এবং যৌথ জামির ওপর 'দয়ে প্রসারত রাস্তা, 
ইত্যাদির জন্যে। 

দেশের মোট জমি-জায়গার একটা অংশ 'ছিল রাম্ট্রীয় জমি ও রাজার নিজস্ব 
বা খাস-দখলভক্ত জম। রাম্দ্রীয় জাম বলতে বোঝাত জঙ্গলজোত, খাঁন ও পাতত 


১১৯ 


জমি। রাজার দখলভুক্ত মোট ভূখন্ড (বা "্বভূমি”)-এর অন্তভূক্ত ছিল তাঁর খাসদখলী 
আবাদ (বা 'সীতা')। বিশেষভাবে নিযাক্ত পরিদর্শকরা এই খাসদখলী আবাদের 
চাষবাসের কাজ তদারক করতেন। এছাড়া 'বিভন্ন গ্রামেও ছোট-ছোট জাঁমিতে রাজার 
মালিকানা রাখার আধকার 'ছিল। এই সমস্ত ছোট জাঁমর যেমন-খাঁশ  বাঁল-বন্দোবস্ত 
করতে পারতেন রাজা । ইচ্ছে করলে তানি জাম দান ও শবান্রু করতে কিংবা ইজারা 
দিতে পারতেন। চাইলে 'তাঁন খাসদখলী আবাদ-জমিরও অন্রূপ 'বাল-বন্দোবস্ত 
করার আধকারী ছিলেন। খাসদখলী আবাদগ্লিতে জমি চাষের কাজ করতেন 
ক্রতদাস ও খেতমজুররা এবং নানা স্তরের ভাডাটিয়া কৃষক-প্রজারা। এই শেযোক্তদের 
কিছু-কিছু্‌ 'বানময়ে পেতেন উৎপন্ন ফসলের অর্ধেক ভাগ, তবে বাকিরা ফসলের 
এক-চতুর্থাংশের বোৌশ পেতেন না। এছাড়া রাম্ত্রীয় জামতেও ভাড়াঁটয়া প্রজা বসানো 
হোত, তাঁদের জাম দেয়া হোত সামায়কভাবে চাষ-আবাদের জন্যে। রাস্ট্রীয় জমির 
কৃষক-প্রজাদের অবস্থা রাজার খাসদখলী আবাদের অনুরূপ প্রজাদের চেয়ে ভালো 
ছল। প্রাকৃতিক সম্পদ গণ্য হোত রাস্ট্রের সম্পান্ত হিসেবে, খাঁনর মালিকানার 
ওপরও থাকত রাষ্ট্রের একাঁধপত্য। এই প্রাচঈন যুগের আকর সনত্রগীলতে (বিশেষ 
করে অর্থশাস্ত্)ট রাজস্বের প্রকৃতি অনুযায়ী দু'ধরনের জামির মধ্যে স্পম্ট একটা 
পার্থক্য টানা হয়েছে: রাজার নিজস্ব জম থেকে যে-রাজস্ব আদায় করা হোত 
তাকেও বলা হোত সাঁতা, আর অন্যান্য ব্যক্তিগত ভূ-সম্পান্ত থেকে যে-কর আদায় 
করা হোত তাকে বলা হোত ভাগ। 

মেগাস্ছেনিস এই পার্থক্যটটি ঠিক বোঝেন নি, তাই তান লিখেছেন যে ভারতে 
সকল ভূ-সম্পান্তই ছিল রাজার আঁধকারভুক্ত। স্পম্টতই বোঝা যায় রাষ্ট্রদূত 
মেগাস্ছেনিস রাজধানীতে বাস করায় রাজার খাসদখলী আবাদের সঙ্গেই সবচেয়ে বোশ 
পারাচিত ছিলেন, আর তই ভ্রমবশত ওই খাসদখলের শাসন-ব্যস্থাকেই গে 
ভারতের জমির ওপর কায়েম সাধারণ শাসনব্যবস্থা বলে মনে করেছিলেন। 

আগেই বলোছি, রাজা দেশের সমস্ত আবাদগ জামির মালিক ছিলেন না। প্রাচীন 
ভারতীয় পথ, উৎ্কনীর্ণ লিপি, ইত্যাদিতে পাঁর্কারভাবেই বলা হয়েছে যে রাজা 
রাজস্ব আদায় করতেন দেশের একমাত্র ভুস্বামী হিসেবে নয়, রাজ্যের সর্বসাধারণের 
রক্ষাকর্তা রাস্ট্রের সার্বভোম প্রধান হিসেবে । যেমন, উদাহরণস্বরূপ, মানব-ধর্মশাস্তে 
বলা হয়েছে যে রাজা যাঁদ প্রজাবর্গের জীবনরক্ষায় মনোযোগন না-হয়ে শুধুই রাজস্ব 
সংগ্রহে মন দেন, তাহলে অনাঁতাঁবলম্বে তাঁর গতি হবে নরকে । একাঁট প্রাচীন 
মহাকাব্যেও এই ধরনের রাজা সম্বন্ধে উক্ত করা হয়েছে যে তিনি "শস্যের ষড়ুভাগের 
অপহততা+। 

সমাজ-সম্পকেরে জটিল চিন্র এবং বিভিন্ন ধরনের জমির মালিকানা সম্বন্ধে 
লাখত সত্রগ্িতে ডীল্লখিত তথ্যাঁদ দেখে বেঝা যায় কেন প্রাচীন ভারতের জাঁমর 


১২০ 


মালিকানার প্রকৃতি সম্বন্ধে বলতে গিয়ে পণ্ডিতেরা নানা ধরনের পূর্বানূমানের 
আশ্রয় নয়েছেন। কিছ,-কিছ ইতিহাসবেত্তা মনে করেছেন যে প্রাচীন ভারতে জাঁমতে 
কোনো ব্যক্তিগত মালিকানা ছিল না, রাজাই ছিলেন গোটা রাজ্যের একমান্র ও পরম 
ভূস্বামী, অথবা ভেবেছেন যে গোটা দেশে একমান্ন সামাজিক বা যৌথ মালকানারই 
চল ছিল। অথচ আকর সত্রগ্ল কন্তু ইঙ্গিত দিচ্ছে যে প্রাচীন ভারতে সাত্যই নানা 
ধরনের জামির মালকানা প্রচলিত ছিল, আবার কখনও-কখনও জাঁম ছিল কয়েকজন 
অংশদার-মালকের, বলতে গেলে, যৌথ সম্পান্তই। তদুপাঁর, জমির মালিকানার 
প্রকৃতি সম্বন্ধীয় এই প্রশ্নটর দ্যর্থহাীন, স্পন্ট উত্তর আশা করাটাও বোধহয় সমীচীন 
হবে না. কারণ মনে রাখতে হবে যে আমাদের আলোচনা করতে হচ্ছে মৌর্য-সাম্রাজ্যের 
মতো বিশাল এক ভূখণ্ডের ভূমি-ব্যবস্থা 'নিয়ে। 

গঙ্গা-উপত্যকায় ও মগধে -_ রাজার ক্ষমতা যেখানে ছিল বিশেষরকম প্রবল -- 
সেখানে যৌথ সামাঁজক ভূঁ-সম্পান্তর চেয়ে রাজার খাসদখলণী আবাদ ও বড়-বড় 
ব্ক্তগত মালকানাধীন ভূসম্পান্তর ভূমিকা ছিল বোশ গুরুত্বপূর্ণণ আবার 
ভারতের উত্তর-পাশ্চম অঞ্চলে তেমনই যৌথ সামীজক মালিকানার এীতহ্য ছিল 
প্রবলতর । 


প্রাচীন ভারতের গ্রামীণ সমাজ 


মগধ ও মৌর্যযুগের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংগঠনের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ 
একটি দক ছল গ্রামীণ সমাজব্যবস্থা। জনসংখ্যার বেশ একটি উল্লেখ্য অংশ 'ছিল 
এর অন্তরভক্ত: এরা হলেন গ্রামীণ সমাজের মক্ত বা অ-দাস সদস্য, অর্থাৎ 
কাঁষজীবাীরা । দুঃখের বিষয় এই গ্রামীণ সমাজের চরিত্র, এর কাঠামো ও এর অন্তর্ভূক্ত 
সম্প্রদায়গীলির সমাবেশ সম্বন্ধীয় সংশ্লম্ট আকর উল্লেখগুঁলির সংখ্যা যদিও যথেষ্ট 
নয়, তবু যতটুকু যা পাওয়া গেছে তা থেকে জানা যায় যে ওই যুগে সবচেয়ে ব্যাপক 
ধরনের যে-সমাজের আস্তত্ব ছিল তা হল এই গ্রামীণ সমাজ । অবশ্য সাম্রাজ্যের পশচাৎপদ 
এলাকাগ্লিতে তখনও পর্যন্ত গোম্ঠীভাত্তক আদম ধরনের গ্রামীণ সমাজেরও 
আস্তত্ব রয়ে গিয়োছল। আকর সূত্রগীলতে এই গ্রামীণ সমাজকে উল্লেখ করা হয়েছে 
গ্রাম বলে। তবে এই শব্দটির তৎকালীন তাৎপর্য ছল বহনব্যাপক। কখনও-কখনও 
এই বাঁসন্দার সংখ্যা প্রায়শই উধর্বপক্ষে এক হাজার হওয়া বিচিত্র ছিল না। প্রাতাট 
গ্রামীণ সমাজ বা গ্রামের সীমানা ছিল স্ানার্দষ্ট। গ্রামের আবাদী জাম ভক্ত ছিল 
ছোট-ছোট টুকরো জাঁমতে, আর সেই সব জমির মালিক ছিলেন গ্রামীণ সমাজের 
অ-দাস সদস্য বা কৃষকরা । গ্রামীণ সমাজের সীমানার অন্তভূক্তি টুকরো জামির মালিকরা 


৯২১৯ 


রাজাকে খাজনা দেয়া ছাড়াও স্পম্টতই যৌথ মালিকানাধীন জাম বাবদেও যৌথ 
খাজনা গ্রামের ওপর ধার্য করা হোত। 
হয়ে গিয়েছিল। গ্রামীণ সমাজের সেইসব সদস্য যাঁরা নিজ-নিজ জমি চাষ করতেন 
তাঁরা ছাড়াও জমিতে চাষের জন্যে ব্রুতদাস ফিংবা ঠিকা-মজ্‌র নিযুক্ত করত গ্রামীণ 
সমাজের এমন এক আঁভজাত সম্প্রদায়ও তোর হয়ে গিয়েছিল। এছাড়া গ্রামীণ 
সমাজের অপর কিছু সদস্য দারিদ্র্যের কবলে পড়ে জমি ও চাষের সাজসরঞ্জাম হারিয়ে 
ঠিকা প্রজা 'হসেবে অনোর জাম চাষ করতেও বাধ্য হচ্ছেন তখন। গ্রামীণ সমাজের 
সর্বানম্ন স্তর ছিল শোষিত মান্ষজনকে নিয়ে গাঠিত। এইসব মানুষ উৎপাদনের 
কোনো উপায়েরই মালিক "ছল না। গ্রাম্য কারুশিল্পীরাও ছিলেন কয়েকটি স্তরে 
[বিভক্ত। তাঁদের মধ্যে কিছু-কিছ্‌ নিজস্ব কর্মশালায় স্বাধীনভাবে কাজ করতেন, 
কাছে। একই গ্রামীণ সমাজের মধ্যে কার্যাশল্প ও জাঁমর চাষ-আবাদের সমন্বয়ের 
ফলে সমাজের মানূষের মধ্যে পণ্য ও সেবা-বিনিময় প্রথা গড়ে ওঠে। প্রাচীন ভারতীয় 
গ্রামীণ সমাজের এট ছিল এক বোৌশম্ট্য। আংশিকভাবে এটি ওই সমাজের 
আত্মকোন্দ্রুক, পিতৃশাঁসত চরিন্ন গড়ে ওঠারও কারণ । 

ভারতীয় গ্রামীণ সমাজ এখনও পর্যন্ত প্রাচীন কালের সাঁম্মীলত এঁতিহ্য সহ 
দূঢ়বদ্ধ এক যৌথ-জীবনের কিছ-কিছ7 বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে চলেছে। বৌদ্ধ 
পাঁথগ্দীলতে উল্লেখ আছে গ্রামের রাস্তা-পাঁরম্কার ও জলাশয় খননে যৌথ শ্রমদানের 
কথার। গ্রামীণ সমাজের মুক্ত সদস্যরা ধমাঁয় অনুষ্ঠান সহ তাঁদের সকল উংসবই 
মালিতভাবে উদযাপন করতেন। অর্থশাস্তে বলা হয়েছে যে কেউ যাঁদ কোনো 
সামাঁজক অনুজ্ঠানে যোগ দিতে অস্বীকার করেন তাহলে অর্থদণ্ড দিতে হবে তাঁকে। 
সাম্মীলতভাবে এই গ্রামীণ সমাজ অন্যান্য গ্রামীণ সমাজগুির সঙ্গে কিংবা দেশের 
রাজার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারত। মুক্ত গ্রামবাসীদের আঁধকারসমূহও 
রক্ষা করত গ্রামীণ সমাজ। “রাস্ট্রের মতো) গ্রামীণ সমাজ যেমন একাঁদকে ছিল এই 
সমস্ত মুক্ত ও সমস্তরের বাক্তগরত সম্পীত্তর মাঁলকদের পরস্পর-সম্পর্কের প্রীতরূপ, 
বাহর্জগতের 'বরুদ্ধে তাঁদের জোটস্বর্প, তেমনই স্ইেসঙ্গে ছিল তা তাঁদের 
শনরাপত্তার সূচক ।% 

নিজস্ব অভান্তরণ পাঁরচালনার ব্যাপারে কিছ পরিমাণে এই গ্রামীণ সমাজ ছিল 
স্বাধীন। সমাজের মুক্ত সদস্যরা শাসন-সংন্রান্ত নানা সমস্যার সমাধানকল্পে প্রায়ই 


ধু, 22) 07779765562 061 47215 061 72012050761) 0197017:2, 1557. 
1858, 18109128) 1999, 9. 979. 


একত্রিত হতেন, তবে গ্রামগুলির প্রধানরা তখনই ক্রমশ বোশ-বোশ গ্‌রুত্বপূর্ণ 
ভাঁমকা নিতে শুর্‌ করেছিলেন । গোড়ার 'দিকে গ্রামীণ সমাজের এই প্রধান নির্বাচিত 
হতেন সমাজের সকল সদস্যের এক সভা থেকে, তারপর রাম্ত্রীয় কর্মকর্তারা তা 
অনুমোদন করতেন। এইভাবে গ্রাম-প্রধান হয়ে দাঁড়াতেন রাষ্ট্রের প্রাতিনাধি। গ্রামীণ 
সমাজের একমাত্র মুক্ত সদস্যদেরই এই ভোটদানের আধকার ছিল, অন্যাঁদকে 
ভ্রীতদাস, গৃহভূত্য ও দিনমজুররা সকল প্রকার রাজনৌতিক আঁধিকার থেকেই বাত 
ছিলেন। দীর্ঘাদন ধরে এই গ্রামীণ সমাজগ্‌ি পরস্পরের থেকে বাচ্ছন্ন হয়ে ছিল, 
এগ্যীলি ছিল স্বয়ংসম্পূর্ণ স্বনির্ভর সব প্রাতিষ্ঠান, তবে ক্ুমশ এগুলি আগের 
চেয়ে কম স্বনির্ভর ও আত্মকোন্দ্রিক হয়ে ওঠে। 


দাসপ্রথা ও তার বিশিষ্ট লক্ষণসমূহ 


বোদিক যুগে ক্রীতদাস-প্রথার সূচনা ও তার ধার বিকাশের তুলনায় মগধ ও 
মৌর্যযুগে প্রথাটি অনেক দ্রুত বিকশিত হয়ে ওঠে। যাঁদও ওই সময়কার আকর 
সত্রসমূহে ব্লীতদাস ও দাস-শ্রমের নিয়োগ সম্বন্ধীয় তথ্যাদ যথেষ্ট পারমাণে পাওয়া 
যায় না, তবু প্রাচন ভারতে দাস-মালিকানার ও সমাজ-কাঠামোর মধ্যে দাসপ্রথার 
ভীমকা সম্বন্ধে সাধারণ একটি "চন্র পাওয়া সম্ভব হয়। দুঃখের বিষয়, প্রাচীন ভারতে 
দাসপ্রথার এই ব্যাপারাটর 'দকে না পশ্চিম ইউরোপীয় না ভারতীয় পশ্ডিতবর্গ 
কেউই যথেষ্ট মনোযোগ দেন 'ন। তবে সম্প্রাত এই অবস্থার ফিছুটা পাঁরবর্তন 
লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কেননা এই গরত্বপূর্ণ প্রশ্নাট নিয়ে বিশেষ ধরনের কছু-ীকছু 
গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে (এক্ষেত্রে বিশেষ মূল্যবান গবেষণা চালিয়েছেন সোভয়েত 
ভারততত্বীবতরা, বিশেষ করে গ. ফ. ইলিন)। 

এমন কি প্রাচীন ভারতোতহাসের এই স্বানার্দস্ট যুগাটতে অর্থাৎ, খস্টপূর্ব £ 
প্রথম সহম্রাব্দের দ্বিতীয়ার্ধে) দাসপ্রথার প্রশনটি নিয়ে আলোচনার সময়েও একথা 
মনে রাখা একান্ত প্রয়োজন যে 'বশালায়তন মগধ ও মৌর্য-সাম্রাজোর 'বাভন্ন অংশে 
সমাজ-সম্পর্কের বিকাশের স্তর ছিল 'ভন্ন-ভন্ন, সামাঁজক রীতি-প্রথা ও সংগঠনাঁদির 
জটিল জোড়াতাঁলর জাল বিস্তৃত ছিল সাম্রাজ্য জুড়ে, অগ্রগতির হারও ছিল অসমান, 
ইত্যাদি ইত্যাঁদ। বৌশর ভাগ আকর সূন্নে কেবলমান্র গঙ্গা-উপত্যকা ও তার সংলগ্ন 
ভূখণ্ডগলিতেই দাসপ্রথা ও ব্রীতদাসদের নিয়োগ-সম্পর্কত খ:টনাটির বিবরণ 
পাওয়া যায়। এই সমস্ত তথ্য থেকে যে-সব "সিদ্ধান্তে পেণছনো যায় তা প্রধানত 
প্রযোজ্য মগধ ও অপর কিছু-কিছ অপেক্ষাকৃত উন্নত অণ্ুলের ক্ষেল্রেই। 

গোড়ার যুগের বোদ্ধ পাঁথগ্ুলতে ও অপর কিছু-কিছ; গ্রন্থে ক্লীতদাসদের 
আখ্যা দেয়া হয়েছে সমাজের অপরাপর মানুষের ওপর নির্ভরশীল মানৃষ হিসেবে। 


৯১২৩ 


ন্লীতদাসদের তখন দেখা হোত ব্যক্তি নয় বস্তু হিসেবে, কিংবা গৃহপালিত প্রাণীদেরই 
একটা রকমফের 'হসেবে। গোড়ার 'দককার মহাকাব্যগ্ছলিতে ব্লীতদাসে পরিণত 
মানুষকে গোর, ছাগল, ভেড়া 'কিংবা ঘোড়ার সঙ্গে এক নিশ্বাসে বলা হয়েছে 
খামারপালিত জন্তু । ধর্মসত্রগ্ীলতে মৃতব্যক্তির স্থাবর-অস্থাবর অন্যান্য সম্পান্তর 
সঙ্গে ভ্রীতদাসদেরও উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারার 'নয়মকানূন 'বাধবদ্ধ 
করা আছে। গৃহপালিত জীবজন্তু ও মূল্যবান ধাতু, ইত্যাদর মতো ব্রীতদানদেরও 
তখন বন্টন করে দেয়া হোত উত্তরাধকারীদের মধ্যে। 

জনসাধারণের 'বাভল্ন অংশ ছিল দাস-মালিক। রাজসভায়, ধনী নাগরিকদের 
গৃহে এবং গ্রামীণ সমাজে সব্ত্ুই নানা কাজে যুক্ত ছিলেন এই ব্রীতদাসেরা । 
নিজের ভাগ্য নিধরণের ব্যাপারে ক্রীতদাসের কোনো বক্তব্য থাকা সম্ভব ছিল না; 
ইচ্ছেমতো দান ও বিক্রি করা যেত ব্রতদাসকে, পাশা খেলায় তাঁকে বাঁজ রাখা 
ও খেলায় হেরে গেলে তাঁকে অনায়াসে অন্যের মালিকানাধীন করে দেয়া চলত। 
লাখত বৌদ্ধ সনত্রগুলিতে প্রায়ই ভ্রীতদাসদের তৎকালীন চলাত বাজার-দরের 
উল্লেখ পাই আমরা, এই বাজার-দর বশেষ-বিশেষ ক্রলীতদাসের স্বাস্থ্য ও কাজকর্মে 
যোগ্যতার ওপর নিভভরশীল ছিল। কছু-কিছ পুথিতে আবার ক্রুঈতদাসদের চতুষ্পদ 
প্রাণীদের থেকে পৃথক করে দেখানোর জন্যে তাঁদের দ্বিপদ প্রাণী বলে উল্লেখ করা 
হয়েছে । মোটেই তখন সহজ ছল না ভ্রতদাসের জীবন। বৌদ্ধ পুথগুীলিতে বলা 
লৌহ অগ্কুশ দিয়ে, এমন কি কিছু-কিছ দাসকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করেও, চালনা করা 
হোত তাঁদের। আর খাদ্য বলতে প্রায়ই তাঁদের কপালে যা জুটত তা পাতলা একটা 
লপাঁসি ছাড়া কিছু নয়। 

ব্ীতদাস সংগ্রহের পদ্ধাত অনুসারে তাঁদের ভাগ করা হোত 'বাভন্ন স্তরে। 
এ-পর্যন্ত প্রথম এরকম যে-স্তরাবন্যাসাঁট পাওয়া গেছে তাতে তিন ধরনের ব্রীতদাস 
তাঁলকাভুক্ত হয়েছেন: গৃহদাসদের সন্তানসন্তাতি, যাঁদের কেনা হয়েছে এবং যাঁদের 
আনা হয়েছে অন্যান্য দেশ থেকে (স্পম্টতই এ'রা হলেন যাদ্ধবন্দী)। অতঃপর নতুন- 
নতুন ভ্র'তদাসকে অন্তভূরক্ত করার ফলে এই তালিকার কলেবর ব্রমশ বৃদ্ধি পেতে 
থাকে। ভ্রীতদাসদের ম্াক্ত দেয়ার 'বাঁধাবিধানও ভ্রমশ গড়ে ওঠে। যাঁদও কোনো 
ব্রুতদাসকে মুক্তি দেয়া হবে কিনা তা ছিল দাস-মালিকের ইচ্ছাধীন, তবু িবশেষ- 
[বিশেষ অবস্থায় ও বিশেষ পারমাণ মুক্তিপণ দিতে পারলে ভ্রলীতদাসেরা (বিশেষ 
করে অস্থায় দাসেরা) স্বাধীনতা ভ্রুয় করতে পারতেন। 

অর্থশাস্্ গ্রল্থাটর রচয়িতা কোটিল্য ক্রীতদাস-প্রথার ব্যাপারটি নিয়ে যথেম্ট 
মাথা ঘামিয়েছেন। সারা জীবনব্যাপাী ব্লীতদাস এবং অস্থায়শ বা সামায়ক ভ্রীতদাসদের 
মধ্যে সংস্পন্ট পার্থক্য নির্দেশ করেছেন তিনি এবং নানা ধরনের ঘটনার উল্লেখ করে 


১২৪ 


দেখিয়েছেন স্বাধীন আর্যদের দাসদশায় পারণত হওয়া থেকে রক্ষা করা যায় কীভাবে। 
অর্থশাস্তের ভাষ্য অনুযায়ী, দাস-মালিক 'নাদ্ট পাঁরমাণ মুক্তপণ পাবার পরও 
অস্থায়ী ক্রতদাসকে মুক্ত না দিলে তাঁকে এমন 'কি অর্থদণ্ডে দশ্ডিত করারও বিধি 
ছিল। অর্থশাস্ত্ের রচয়িতা অস্থায়ী ভ্রীতদাসদের সম্তানসম্ততকে ক্রীতদাস বলে 
গণ্য করেন নি! এট কিন্তু এর পূর্ববতরঁ পুথগ্ুলিতে 'লাপবদ্ধ ধানের চেয়ে 
পৃথক, কারণ সে-সব প্যীথতে বলা হয়েছে যে-কোনো ক্রীতদাসীর সন্তানেরা আপনা 
থেকেই ব্রীতদাসের শ্রেণীভুক্ত হবে। উচ্চতর বর্ণের যে-সমস্ত মানুষ ভাগ্যাবপর্যয়ের 
ফলে ব্লীতদাসে পাঁরণত হতেন তাঁদের স্বার্থের সপক্ষে দাঁড়য়ৌোছলেন কোটিল্য। 
অস্থায়ী দাসদের নীচ কাজে নিযুক্ত করার অনুমতি দেন নি 'তানি। অর্থশাস্ত্ে বলা 
হয়েছে যে ল্লীতদাসের নিজস্ব সম্পান্ত রাখার অধিকার আছে। 'কন্তু পরবতর্শ 
শাস্মগ্লির বিধান অনুযায়ী ক্রুতদাসের-যে কেবল নিজস্ব সম্পান্ত রাখাই নাঁষদ্ধ 
ছিল তা নয়. তাঁর আঁজত যথাসবস্ব প্রভুর হাতে তুলে দিতে পর্যন্ত বাধ্য ছিলেন 
তানি। 

অর্থশাস্ত্রের মধ্যে প্রাতিফলিত হয়েছে তৎকালীন রাম্ট্রের পক্ষ থেকে ব্রু'তদাসদের 
পদমর্যাদা 'নর্পণের ব্যাপারে কিছুটা শৃঙ্খলা ও পাঁরচ্ছল্ন দৃম্টিভাঙ্গ প্রবর্তনের 
প্রয়াস এবং সে-সময়ে এই গোটা ব্যাপারাট বিশেষ গুরুত্ব অজ্ন করায় এক্ষেত্রে 
কিছু-পারমাণে যথাযথ ব্যবস্থাদি অবলম্বনের চেষ্টা। 

সমাজের সমগ্র কাঠামোর মধ্যে ভ্রতদাসদের স্বানার্দন্ট স্থান নির্ণয়ের ব্যাপারাঁটর 
সঙ্গে জাঁড়ত সবচেয়ে গ্রুত্বপূর্ণ প্রশনগ্যালির মধ্যে একটি ছিল তখন উৎপাদনের 
ক্ষেত্রে অর্থাৎ সমাজের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপের মূল ক্ষেত্রগ্লিতে, দাস-শ্রমের 
বিশেষ ভূঁমিকাটি। ূ 

আকর সব্রগ্ীল থেকে জানা যায় যে কাঁষকাজে তখন দাস-শ্রম ব্যবহৃত হোত। 
ব্লীতদাসদের তখন কাজে লাগানো হোত রাজকীয় খাসমহলগ্যালতেও । অর্থশাস্ত্ের 
সাক্ষ্য অনযায়ী, এই খাসমহলগুতে বীজ বোনার কাজটি বিশেষভাবে 'নার্দ্ট 
থাকত ক্রীতদাস কংবা ঠিকা-মজূর এবং অর্থদশ্ডের টাকা গতরে খেটে উশল করার 
জন্যে নিষুক্ত লোকজনের জন্যে। এছাড়া ব্যাক্ত-মালিকানাধীন বড়-বড় খামারের 
কাজের জন্যেও ভ্রীতদাসদের নিযুক্ত করা হোত। এইসব খামারে জাঁমতে লাঙল 
দেয়া, বীজ বোনা ও ফসল কেটে ঘরে তোলার গোটা কাজটাই করতেন ব্রীতদাসেরা । 
জাতকগ্রন্থগ্দীলতে সেইসব ক্রীতদাসের উল্লেখ আছে যাঁরা 'ঠিকা-মজ;রদের সঙ্গে 
একন্ে গাছ কেটে বীজ বোনার জন্যে জমি-জায়গা সাফ করতেন । ছোট-ছোট জামির 
মাঁলকরাও কখনও-কখনও দাস-মালিক হতেন, তবে তাঁদের অধীন ক্রীতদাসের 
সংখ্যা অবশ্যই খুব বৌশ হোত না। জাতকপ্রন্থগুলতে ঘনঘনই এমন সব পাঁরবারের 
উল্লেখ আছে যাদের একজন করে ব্রতদাস কিংবা ক্রুতদাসী ছিল। ক্লুীতদাসরা বোদ্ধ : 


৯২৬ 


সম্প্রদায়ের সদস্যভুক্ত হতে পারতেন না, তবে সঙ্ঘের তরফ থেকে যে-সমস্ত শ্রীমক- 
কমর্শ নিয়োগ করা হোত তাঁদের পদমর্যাদা ছিল কার্যত ব্লীতদাসদেরই সমতুল্য । এই 
শ্রীমক-কমাঁরা মঠের অধশীন ভূ-সম্পাঁল্ততে কাজ করতেন কিংবা নিষ্যস্ত হতেন অন্য 
নানা কাজে। কার্শিজ্পের ক্ষেত্রেও দাস-শ্রম নিয়োগের কথা জানা যায়, তবে এ- 
সম্পাঁকত উল্লেখ পাওয়া যায় খুবই কম। 

প্রাচীন ভারতীয় সমাজে দাসপ্রথার যে-বাঁশম্ট লক্ষণগ্যাল দেখতে পাওয়া যায় 
তা থেকে প্রমাণ হয় যে প্রথমত ও প্রধানত এই প্রথাট ছল অপারণত রূপে ও 
িতৃশাঁসত চরিন্ন নিয়ে বর্তমান । দাস-শ্রম মুক্ত ঠিকা-মজুরদের শ্রমের থেকে বড়- 
একটা আলাদা প্রকৃতির ছিল না। এপ-প্রসঙ্গে স্মর্তব্য, বহু আকর সূন্রেই দাস-শ্রমের 
উল্লেখপ্রসঙ্গে একথা বলা হয়েছে যে এই শ্রম ঠিকা-মজুরদের শ্রমের সমগোন্নীয়। 
অর্থশাস্ত্র গ্রম্থাটতে এমন 'ক ভ্রঁতদাস ও 'কর্মকারদের (ঠিকা-মজুরদের) 
পদমর্যাদাকে একই স্তরভূক্ত পর্যন্ত করে দেখানো হয়েছে। 

ভারতীয় দাসপ্রথার অপর একটি বৌশম্ট্য হল গৃহকর্মে ব্যাপকভাবে দাস-শ্রমের 
ব্যবহার। প্রাচীন ভারতীয়দের জীবনযাত্রায় এই ধরনের শ্রমের ব্যবহার বড় একটা 
জায়গা জুড়ে ছিল। লিখিত আকর সত্রগ্লিতে প্রায়ই গৃহের পরিচারক এই দাসদের 
বিশেষ নামে উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন, 'ঘরদাস” 'গৃহদাস' 'গেহদাস' বা 'দাসণী” 
ইত্যাদি। বাঁড়তে দাস-শ্রমকে কাজে লাগানোর ফলে প্রভু এবং দাসের মধ্যে সম্পকেরি 
ক্ষেত্রে একটা পতাপূত্র-জাতীয় আত্মীয়-সম্পকেরি ছোঁয়াচ লেগোঁছল তখন, এবং 
এমন একটা ধারণার উত্তব হয়েছিল যেন সমগ্রভাবে দাসপ্রথাটা অত্যন্ত কোমল আর 
সহনীয় একটা ব্যাপার । সম্ভবত এরই ফলে মেগাস্ছেনিস এই ভ্রান্ত উীক্ত করেছিলেন 
যে 'সকল ভারতীয়ই সে-যুগে ছিল স্বাধীন এবং ভ্রতদাস বলতে কেউ 'ছিল না,। 

সমগ্রভাবে াবচার করলে বলতে হয় যে যাঁদও প্রাচীন ভারতীয় পটভূমিতে 
দাসপ্রথার কতগ্যাল স্মানার্দ্ট বৈশিষ্ট্য (যেমন, পিতৃশাঁসত সমাজ-সম্পরের উপাঁর- 
প্রলেপ, দাস-্রমের সঙ্গে মুক্ত কৃষকের শ্রামব নিকট-সান্লিধ্য, অনুন্নত অর্থনৌতিক 
ধরনধারণের আস্তত্ব) বর্তমান ছিল, তব্য মগধ ও মৌর্যযুগে সমাজের সামাগ্রক 
কাঠামোর মধ্যে তা এক গ্রুত্বপূর্ণ ভাঁমকা পালন করত। দেশের মধ্যে সে-সময়ে 
সবচেয়ে উন্নত অণ্চল মগধে ছিল প্রকাণ্ড-প্রকাণ্ড রাজকীয় খাসমহল এবং বহুসংখ্যক 
দাস-মালিকানাভাত্তক সামাঁজক-অর্থনোতিক সংগঠন ছিল স্পজ্টতই প্রধান। 

যাঁদও সেখানকার উৎপাদনের প্রধান-প্রধান ক্ষেত্রে গ্রামীণ সমাজের মুক্ত সদস্য, 
ভাড়াটে চাষাপ্রজা ও ঠিকা-মজুরদের শ্রম প্রধান এক ভূঁমকা পালন করত, তবু 
আদিম সমাজের তুলনায় দাসপ্রথা ছিল সেখানে এক প্রগ্াতশীল ঘটনা এবং তা 
সমগ্রভাবে সমাজের ওপর প্রবল প্রভাব বিস্তার করোছিল। দাসপ্রথা অবশ্য তখন 


৯২৬ 


শোষণের একমান্্ উপায় ছিল না, তবু তা 'ছিল সবচেয়ে গ্রুত্বপূর্ণ এক উপায়। 
আমরা যে-ষুগের কথা আলোচনা করাছ সে-যূগে এই দাসপ্রথা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়ে 
চলোছল। 


কম কাপ বন্প 


মগধের এবং মোর্যরাজাদের আমলে ঠিকা-মজ:রের ব্যবহার ছিল ব্যাপক । 
এইসব মজুর বা কর্মকারকে দেখা যেত উৎপাদনের ববাভন্ন ক্ষেত্রে-_ কৃষকাজে 
(রোজকীয় ও ব্যক্তিগত ভূ-সম্পান্ততে এবং গ্রামীণ সমাজের যৌথ জমিতে), 
কারুঁশল্পীদের কর্মশালায় এবং ব্যবসা-বাণজ্যে। যখন জমিতে বীজ বোনা কিংবা 
ফসল কাটার সময় আসত, অর্থাৎ অন্যভাবে বলতে গেলে যখন কাজের লোক 
দুর্লভ হয়ে উঠত, তখন খেতখামারে এই কর্মকারদের সংখ্যা যেত বেড়ে। গ্রামে 
এবং শহরে সর্বত্রই কাজ করতেন কর্মকারেরা। সাধারণভাবে উৎপাদনের উপায়- 
উপকরণ থাকত না এদের এবং বাঁধা বেতনে কিংবা পেটখোরাকির বদলে ঠিকা-মজুর 
হিসেবে এরা কাজ করতেন। 

কর্মকারেরা রাজার খাসমহলে এবং ধনী কৃষকের ব্যক্তিগত খামারে কাজ করতেন, 
জমতে লাঙল দিতেন এবং গৃহপালিত পশুর তদারাঁকর কাজ করতেন। গ্রামীণ 
সমাজগ্যালরও প্রয়োজন ঘটত ঠিকা-মজরদের সাহাষ্য নেয়ার । মজ;ররা কাজ করতেন 
আবাদে, জাঁমতে সেচের ব্যবস্থা করতেন কিংবা গোরু-ছাগল ইত্যাঁদ গৃহপালিত 
জীবজন্তু চরাতেন। যে-সমস্ত কর্মকার রাজার খাসমহলগ্লিতে কাজ করতেন 
বিশেষভাবে নিষদক্ত এক তত্বীবধায়ক তাঁদের কৃষির যন্ত্রপাতি ও লাঙল টানার বলদ, 
ইত্যাদর যোগান 'দিতেন। 

ঠিকা-মজুরদের অবস্থা এমাঁনতে ছিল খুবই সাঁঙগন, তবে যাঁরা রাজার 
খাসমহলগুলিতে কাজ করতেন তাঁদের অবস্থা 'ছিল অপেক্ষাকৃত ভালো । অর্থশাস্মে 
বার্ণত সাক্ষ্য অনুযায়ী বলতে হয় যে-সমস্ত কর্মকার জাম চাষ-আবাদ করতেন তাঁরা 
মজার হসেবে পেতেন ফসলের এক-দশমাংশ, আর যাঁরা গোরু-ছাগল চরাতেন তাঁরা 
গোরুর দুধ ও তা থেকে তোর মাখনের এক-দশমাংশ পাঁরমাণ পেতেন। যাঁদও 
অর্থশাস্ত্ে কর্মকারদের কাজ সমাধা করা সম্পর্কে চুক্তি সম্পাদনের স্যানীর্দন্ট 
শনয়মাবলী বেধে দেয়া হয়োছিল, তব্দ কার্যত সবাঁকছ? নির্ভর করত বিশেষবশেষ 
নয়োগকর্তা বা মালকের মারজর ওপর। কর্মকারেরা যে-খাবার খেতে পেতেন 
ব্লীতদাসদের খাবারের চেয়ে তা বিশেষ পৃথক ছল না। তাঁদের কঠিন জাীবনযান্লা 
প্রায়ই তাঁদের বাধ্য করত বলতে গেলে যে-কোনো শর্তেই ঠিকা কাজের জন্যে রাজ 
হয়ে যেতে। অর্থশাস্ন্রে বলা হয়েছে জমির মালিকরা ফসল কেটে নিয়ে যাওয়ার পর 


৯২৭ 


রাভাবে গ্রামীণ খেতমজুররা মাঠ থেকে ঝড়তিপড়তি ফসলের দানা সংগ্রহ করতেন। 

সমাজে চতুর্র্ণের ছকের মধ্যে ঠিকা-মজুররা সাধারণত স্থান পেতেন শুদ্রদের 
মধ্যে। তবে এটাও সম্ভব যে তাঁদের মধ্যে কিছদসংখ্যক মুক্ত গ্রামীণ কৃষক ও 
কারদাশল্পীদের দলভুক্তও ছিলেন, আর এই কৃষক ও কারুশিল্পীরা সে-সময়ে দরিদ্র 
বনে গেলেও তাঁরা আসলে ছিলেন বৈশ্যবর্ণের অন্তভূক্ত। 


সামাজক বিভাগ ও ন-প্রথা 


মগধ এবং মৌর্য-যুগঞ্ালিতে বর্ণ ও জাতিভেদ-প্রথার শুধৃ-ষে উত্তব ঘটোছিল 
তা-ই নয়, সমাজ-কাঠামোর মধ্যে তা এক প্রধান ব্যাপার হয়েও দাঁড়য়োছল। সমাজে 
বর্ণাভন্তক বিভাগের অস্তিত্ব ছিল তখন মৌল শ্রেণীগত বিভাগের পাশাপাশই। 

বৌদ্ধ ধর্মীবাধর অংশাবশেষ 'মজঝিম-নিকায়” গ্রন্থে ভারতকে তুলনা করা 
হয়েছে তার প্রাতিবেশী দেশগ্যীলর সঙ্গে_যে-সব অঞ্চলে গ্রীকরা বসবাস করতেন 
এবং কাম্বোজদের বসাঁত-অণ্ল আরাকোসায় ভূখণ্ডও ছিল এই বিচারের অন্তভুক্তি। 
গ্রন্থাটিতে বলা হয়েছে যে শেষোক্ত ওই সমস্ত দেশে সমাজ বিভক্ত ছিল শুধুমাত্র 
মুক্ত আঁধবাসী ও ক্লীতদাসদের মধ্যে, কিন্তু ভারতাঁয় সমাজে এর সঙ্গে ছিল 
চতুর্র্ণ-ভেদও। 

আকর সত্রগ্ালতে পাওয়া বহৃতর তথ্য থেকেই দেখা যাচ্ছে যে সমাজে 
কোনো মুক্ত ভারতীয়ের স্থান অনেকখান পাঁরমাণেই নির্ধারিত হোত তখন সেই 
মানুষাট কোন বিশেষ বর্ণের অন্তভূক্ত তা-ই 'দিয়ে। তবে ওই সময়ে জল্মকোলান্যের 
চেয়ে বিষয়সম্পন্ত ও অর্থের মর্ধাদা ক্রমশই বোৌশ-বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্থান আধিকার 
করে চলোছল । তখনই বলা হোত ষে এশ্বর্য মানুষকে এনে দেয় খ্যাতি ও মর্ধাদা। 

ব্রাহ্মণ ও বৌদ্ধদের পুথিগ্লিতে বর্ণ-বিভাগ ব্যবস্থার সামাগ্রক ছকটি 'ভিন্ন-ভন্ন 
ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে: ব্রাহ্মণদের পুথিগ্লিতে সর্বশেম্দ বর্ণ হিসেবে উল্লিখিত 
ব্রাহ্মণরা পেয়েছেন দ্বিতীয় স্থান ক্ষন্রিয়দের পরে। অবশ্য এটাও সম্ভব যে বৌদ্ধ 
পুথিগ্চিলিতে বর্ণীবভাগ ব্যবস্থা সম্পকে বৌদ্ধদের দৃম্টিভাঙ্গই শুধু নয়, সামাজিক 
বিভাগের গোটা ছকের মধ্যে ওই সময়ে যে-সমস্ত পরিবর্তন ঘটাঁছল প্রাতফাঁলিত 
হয়েছে তা-ও। 

মৌর্যরাজাদের আমলে চতুর্বর্ণপ্রথা সম্বন্ধে কোতূহলোদ্দীপক এক বিবরণ 
পাওয়া যায় মেগাস্ছেনিসের রচনায় । মেগ্রাস্ছেনিস নিজে এই সামাজিক প্রথা ও 'বাভন্ন 
বর্ণের মানুষের মধ্যে পরস্পর-সম্পকের ব্যাপারটি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করার 
সূযোগ পেয়েছিলেন। তিনি ভারতের গোটা জনসমম্টিকে দেখিয়েছেন সাতাঁট 


৯২৮ 


অংশে ভাগ করে : যথা, দার্শীনক পণ্ডিত, কৃষক, রাখাল ও শিকারী, কারুশিজ্পশ ও 
বাঁণক, সৈনিক, তত্বাবধায়ক পরিদর্শক, পরামর্শদাতা পরিষদবর্গ ও খাজনা-নর্ধারক। 
মেগাস্ছোনসের এই স্তরবিভাগ অবশ্য পেশাভিত্তিক, তবে চতুরর্ণের সকল মানুষই 
তাঁর এই ছকের অন্তভূক্ত। তাঁর এই তালিকার শণর্ষে ব্রাহ্মণদের পুথিগুলির মতোই 
আছেন ত্রাহ্গণরা। এ-থেকে মনে হয় তিনি ব্রহ্গণ্য এরীতহ্যই অনুসরণ করেছেন । 

মগধের ও মৌর্য-রাজাদের রাজত্বকালে ব্রাহ্ধণরা ছিলেন সমাজের শীর্ষস্থানে । 
মতাদর্শের চর্চা ও ধমাঁয় প্‌জা-অর্চনার ব্যাপারে তাঁদের প্রভাব 'ছিল 'বিশেষরকম 
প্রবল। ব্রাহ্ষণরাই ছিলেন রাজসভায় ও আইন-আদালতে প্রধান উপদেষ্টা। এই 
ব্রাহ্মণদের মধ্যে অনেকেই অত্যন্ত ধনী ছিলেন, তাঁরা বড়-বড় ভূ-সম্পাত্তর অধিকারও 
ছিলেন। বিশেষ করে মগধে ও কোশলে ব্রাহ্মণরা ছিলেন অপেক্ষাকৃত সবল-প্রবল, 
কারণ ওইসব অঞ্চলে বড়-বড় ভুস্বামী ছিলেন তাঁরা। 

নতুন পাঁরাস্থাত সামাঁজক স্তরাবন্যাসের কাঠামোর মধ্যে ব্রাহ্মণদের পদমর্যাদাকেও 
প্রভাবিত না-করে পারাছল না। ব্রাহ্মণরা বাধ্য হচ্ছিলেন তাঁদের এতিহ্যাঁসদ্ধ পেশার 
পরিবর্তন ঘটাতে, ফলত কোনো-কোনো সুযোগ-সাবিধা থেকে বণ্িত হতে। ওই 
যুগের 'লখিত স্রগ্লিতে উল্লেখ আছে ব্রাহ্মণ ভূস্বামী, বাঁণক, কারুশিল্পী ও 
ভূত্যদের। এর পূর্ববতঁ ব্রাহ্মণ্য সত্রগ্ালতে যেখানে বলা হয়েছে যে একমান্র অত্যন্ত 
বিরল একেকটি ক্ষেত্রে মাত্র বান্ধণদের চাষবাস ও ব্যবসা-বাঁণজ্যের কাজ নিতে 
অনুমতি দেয়া হয়েছে, সেখানে এ-সময়ে ব্রহ্মণ্য বিধানেই অনুমাতি দেয়া হচ্ছে ওই 
বর্ণের মানুষদের ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যবর্ণের বৃত্তি গ্রহণ করার । বৌদ্ধ সত্রগ্িতে এমন 
কি ব্রাহ্মণ ভূত্য, কঠুরিয়া, গো-পালক ও দরিছু চাষীর উল্লেখ পর্যস্ত পাওয়া বাছে। 
স্পম্টতই বোঝা যাচ্ছে, এই সমস্ত লোক 'নজেরাই যে-সব পেশাকে ব্রাহ্মণের অন্ুপফূক্ত 
জ্ঞান করতেন কঠিন অর্থনৌতিক অবস্থার দরূন এখন সেইসব পেশা গ্রহণে বাধ্য 
হচ্ছেন। আর এই সমস্ত ক্ষেত্রে রাজকর থেকে অব্যাহাতিলাভের মতো তাৎপর্যপূর্ণ 
সুযোগস্াবধা থেকেও বণ্চিত হচ্ছেন এই  ব্রাহ্মণরা। 
হবার পর তাঁদের প্রভাব বিপুল পারমাণে বৃদ্ধি পেয়েছিল। রাজারা নিয়ম করেই 
হতেন ক্ষত্রিয়-বংশোদ্ভুত এবং সেনাবাহনী থাকত তাঁদের নিয়ল্্ণাধীন। বিশেষ 
করে প্রজাতন্ত্রী রাজ্যগ্যলিতে ক্ষত্রিয়দের শাক্ত বিশেষ প্রবল হয়ে উঠেছল। মগধ 
এবং মৌর্যযুগেও ক্ষত্রিয়রা প্রধান-প্রধান অর্থনৈতিক সযোগস্বিধা লাভ করেন, 
বড়-বড় ভূ-সম্পাত্তর মালিক হয়ে ওঠেন তাঁদের অনেকেই । এর পূর্ববতাঁ যুগে 
ব্রাহ্মণরা যেখানে মতাদর্শের ক্ষেত্রে অপাঁরসীম ক্ষমতার আধিকারী ছিলেন, সেখানে 
এখন ক্ষন্তিয়রাও স্বাধশন ভূমিকার দাবিদার হয়ে উঠলেন। . 

প্রাচীন ভারতের বাঁশম্ট রাজনৈতিক নেতৃবর্গ ক্ষত্রিয় ও ব্রাহ্মণদের মধ্যে 


$---4968 ১২৯ 


মৈত্রীবন্ধনের সপক্ষে মতপ্রকাশ করাছলেন। অর্থশাস্ত্ের রচয়িতা লিখলেন যে 
ক্ষত্রিয়দের শাক্ত ব্রাহ্গণদের মন্রণায় চাঁলত হলে তা অজেয় হয়ে উঠবে এবং 
চিরকাল অজেয় থেকে যাবে । তৎকালীন বহবাবধ লিখিত সূত্রে প্রতিতুলনায় উচ্চতর 
দুই বর্ণের শ্রেম্ঠত্ব প্রতপাদন করা হয়েছে নিম্নতর দুই বর্ণের থেকে। 'নিম্নতর 
এই দুই বর্ণ বৈশ্য ও শদ্রুকে, এক পর্ষায়ভূক্ত করে দেখানো তখন বলতে গেলে 
একটা সাধারণ রীতি হয়েই দাঁড়য়েছিল। আবার ওই একই সঙ্গে অপেক্ষাকৃত 
এশ্বর্যশালী বৈশ্যদের সঙ্গে উচ্চতর বর্ণের মানুষের অনেক ব্যাপারেই মিল দেখা 
যাঁচ্ছল আর দারিপ্র্যদশায় পতিত বৈশ্যরা কার্যত পরিণত হচ্ছিলেন শদ্রে। বাণিজ্য 
ও কুঁটিরাশষ্পের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের নানা পাঁরিবর্তন ঘটতে দেখা 
যাচ্ছিল। বৈশ্যদের প্রধান উপজনীবকা ছিল কৃষিকাজ, কারুশিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য । 
রাজকরের বোঝা প্রধানত বহন করত এই সামাঁজক গোম্ঠীঁটিই, তবে ধন? 
বৈশ্যদের মধ্যে ছিলেন শ্রেষ্ঠ” নামে পারচিত ক্ষমতাবান বণিকরা, সুদের কারবারি 
মহাজন ও ভূস্বামীরাও ৷ মগধ ও মৌর্যযুগগ্ালিতে বৈশ্যদের রাজনোতক ভূমিকার 
অধঃপতন শুরু হয়েছিল এবং অস্ত্রশস্ত্র রাখবার অধিকার কার্যত হারিয়েছিলেন 
তাঁরা । 

ওই সময়ে শদ্রদের সামাঁজক অবস্থা কার্যত অপাঁরবার্তিতই থেকে গিয়েছিল 
এবং তাঁদের মধ্যে মান্ত অল্প কয়েকজনই বাণিজ্য বা কার্দীশজ্প মারফত 
এশ্বর্ষের আধকারী হতে পেরোছলেন। এর ফলে সমাজে তাঁদের পদমর্যাদাও বাদি 
পেয়েছিল। 

খওম্টপূর্ব প্রথম সহতম্্রাব্দের দ্বিতীয়ার্ধে প্রাচীন ভারতের বংশানুক্রামক 
রাজ্যগ্বীলতে সমাজ-কাঠামোর এমনই একটি চিন্র আমরা দেখতে পাই। তবে ওই 
একই যুগের প্রজাতন্ত্র রাষ্ট্রগ্দলির সমাজ-সংগঠন অবশ্য কিছুটা ভিন্ন ধরনের ছিল। 
(প্রাচীন ভারতের প্রজাতল্লসমূহ' অধ্যায়টি দেখুন ।) 


পরিবার ও বিবাহের '[বাভন্ন রশীতি 


মগধ ও মৌর্যষুগে পারবারের প্রধান রৃপটাই ছিল প্রকাণ্ড পিতৃশাসিত যৌথ 
পরিবারের । রাজ্যের কয়েকটি অণ্চলে একবিবাহ-সম্পর্ক ছাড়াও আরও প্রাচীনতর 
নানা রীতির বিবাহ-সম্পকের প্রচলন ছিল। স্বামী হতেন পরিবারের কর্তা । 
স্লীলোকদের পদমর্ধাদায় ভ্রমশ এমন কিছু পাঁরবর্তন ঘটে গেল যার ফলে 
কালক্ুমে তাঁরা পুরোপ্যরি নিভরশীল হয়ে পড়লেন স্বামী ও পত্রদের ওপর। 
বিবাহ অনুষ্ঠানটি পরিণত হল সম্পান্ত হস্তান্তরের এক ধরনের চুক্তিতে । পুরুষ 
যেন স্ত্রী কিনতে লাগল ক্রয়মূল্য দিয়ে, আর বিবাহের পর স্দী পরিণত হল 


১৩০ 


স্বামীর অস্থাবর সম্পত্ততে। আকর সনব্রগ্লতে স্বামীর স্লী 'বান্রর কিংবা 
জুয়াখেলায় বাজি ধরে স্ত্রী হারানোর নানা কাহিনী পাওয়া যায়। 

সমাজে স্ত্রীলোকের অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। শৈশবকালে নারীকে 
সম্পর্ণত পিতার কর্তৃত্বাধীন বলে গণ্য করা হোত, যৌবনে তান হতেন স্বামীর 
অধীন এবং স্বামীর মৃত্যর পর হয়ে পড়তেন 'তানি পূত্রদের অধীন। মনুসংহিতায় 
স্ীলোকের এই-ই 'বাধালপি বলে বর্ণনা করা হয়েছে। স্ত্রীরা আমৃত্যু সহ্য করে 
যেতেন সবকিছু এবং কড়াকাঁড়ভাবে নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁদের দায়দায়ত্ব পালন করে 
যেতেন। মন্দসংহিতায় এই বিধান দেয়া হয়েছে যে স্বামী সম্পূর্ণ গুণহাঁন হলেও 
তাঁকে দেবতা বলে গণ্য করতে হবে স্ত্রীকে । কেবল স্বামীদেরই অধিকার ছিল তখন 
স্ত্রীদের ত্যাগ করার । অথচ পাঁরবারকে পাঁরত্যাগ করার কোনো আঁধকার স্ত্রীর ছিল 
না। যাঁদ কোনো স্বীলোকের স্বামী তাঁকে বাক করে দিতেন বা ত্যাগ করতেন 
তবুও তিনি ওই স্বামীর স্তাঁ হিসেবেই গণ্য হতেন। স্ত্রী আবিশ্বাসনী হলে 
মৃত্যুদণ্ড সহ যত রকমের ভয়ঙ্কর শান্ত আছে তা-ই তাঁর জন্যে বরাদ্দ হোত। অথচ 
পুরুষের একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি স্ত্রী থাকতে পারত এবং একে পাপকাজ বলেও 
গণ্য করা হোত না! প্রচলিত প্রথা অনুসারে স্ত্রীকে হতে হোত স্বামীর সমবর্ণভূক্ত। 
তবে বিরল কোনো-কোনো ক্ষেত্রে পুরুষেরা নীচ কোনো বর্ণের স্ব গ্রহণ করতে 
পারতেন, কিন্তু উচ্চবর্ণের স্ত্রীলোকের পক্ষে সম্পর্ণতই নাষদ্ধ ছিল ননচবর্ণের 
পুরুষকে বিবাহ করা । শুদ্ধ পুরুষ ও ব্রাহ্মণ স্লীলোকের মধ্যে বিবাহকে গণ্য 
করা হোত সবচেয়ে মারাত্মক অপরাধ হিসেবে । ছেলেমেয়ের ওপর বাপের কর্তৃত্ব 
ছিল একেবারে নির্ধারক ও চূড়ান্ত । ব্রন্ষণ্য ণবধান্সমূহে সরাসারি বলা হয়েছে যে 
বাপ ইচ্ছে করলে নিজের ছেলেমেয়েদের 'বালিয়ে পর্যন্ত দিতে পারেন। 

শাস্্সমূহে আট রকম বিবাহের কথা বলা হয়েছে, তবে কার্ধত এই সবকণট 
ববাহের রীতির চল 'ছিল 'কিনা তা বলা কঠিন। বিবাহের এই আট ধরন হল 
এই রকম: কন্যা-সম্প্রদান (্রেহ্ধবিবাহ'), পুরোহিতকে কন্যা-সম্প্রদান (দৈবাঁববাহ'), 
গোর কিংবা ষণ্ডের 'বানিময়ে কন্যা-ক্রুয় (আর্ষীববাহ'), সমচুক্তির ভিত্তিতে বিবাহ 
(প্রজাপত্য-বিবাহ”), স্ছিরীকৃত কন্যাপণ দিয়ে কন্যা-্লুয় (আসরবিবাহ'), কন্যা- 
অপহরণের ি:ভ্ততে বিবাহ (রাক্ষসবিবাহ”), ঘুমন্ত কন্যাকে বলপুরবক অপহরণ 
(টৈশাচবিবাহ') এবং স্ত্রী-পুরুষের পারস্পারক সম্মাতর ভিক্তিতে বিবাহ 
(গান্ধরাঁববাহ”)। 
যুগ থেকে উত্তরাধকার-সূত্রে পাওয়া প্রাচীন প্রথাগ্ুলি বিবাহ ও পারিবারিক 
সম্পকের ক্ষেত্রে বহ7 দীর্ঘ সময় ধরে প্রাধান্য বিস্তার করে ছিল। যেমন, বরহ্মণ্য 
শবধান'দসমূহ বা শাস্ত্সমূহের মতে, সন্তানাদি না-রেখে যাদ কোনো স্বামীর মৃত্যু 


9৭ ১৩১৯ 


ঘটত তাহলে স্বামীর আত্মীয়স্বজন দাবি জানালে তাঁর স্ত্রী বাধ্য থাকতেন স্বামণর 
ভাই কিংবা অপর কোনো ঘানষ্ আত্মীয়ের ওরসে গভে সম্তানধারণে। 

এই ধরনের সামাজিক নিয়মকানুনের উৎস খুজে পাওয়া যায় গোম্ঠী-সম্পান্ত 
রক্ষার নীতির সঙ্গে সম্পকিত প্রাচীন সামাজিক প্রথার মধ্যে। প্রত্যক্ষ রক্ত-সম্পরিতি 
আত্মীয়স্বজনের অব্যবাহত সাতপুরুষের মধ্যে বিবাহ-সম্বন্ধ স্থাপনও নিষিদ্ধ ছিল। 


প্রাচীন ভারতের প্রজাতন্্সমূহ 
গণ ও সঙ্ 


ভারতীয় আকর সূত্রে গণ” ও “সঙ্ঘ' নামে পরিচিত প্রজাতন্ত্রীয় য.ক্তরাম্ত্রগনলি 
মগধ এবং মৌর্য-ফুগগ্যালতে প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে এক গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা 
পালন করেছে। এইসব ্ুক্তরাম্ট্র রাজবংশ-শাঁসত রাজ্যগ্দালর বিরুদ্ধে তখন 
প্রাণপণ সংগ্রাম করে গেছে এবং বেশ কয়েকাট ক্ষেত্রে লাভ করেছে উল্লেখ্য 
জয়সাফল্য। বৌদ্ধ আকর গ্রল্থগীলতে এই ধরনের 'কিছু্‌-কিছ প্রজাতল্লীয় রাষ্ট্রকে 
এমন কি 'বৃহৎ রাজ্য'এর তালিকার অন্তভূক্ত করা হয়েছে। 

গণ" শব্দটর অর্থ বহ্দাবধ। বৌদক য্গে গণ” বলতে বোঝানো হোত 
উপজাতীয় গোম্ঠগ্লিকে; পরবতাঁকালে গণ" ও “সঙ্ব' শব্দদ্াটির অর্থ দাঁড়য়েছিল 
সমাজাবকাশের ভিন্ন একট স্তরে রাজবংশ-শাসত নয় এমন সমস্ত যুক্তরাষ্ট্র 
বৈয়াকরণ পাঁণনি খেস্টপূর্বাব্দ পণ্চম ও চতুর্থ শতাব্দী) কয়েক ধরনের সঙ্ের 
কথা উল্লেখ করেছেন: যেমন, “অস্ববলে বলীয়ান সঙ্ঘ' বা সামরিক রাষ্ট্র-সংগঠন 
এবং এমন সব সঙ্ঘ যেখানে রাষ্ট্রব্যবস্থার বিকাশ অত্যন্ত অগ্রসর একটা পর্যায়ে 
উন্নীত হয়েছে। নানাবিধ বৌদ্ধ পাতে আবার দু'ধরনের রাল্ট্রের মধ্যে পার্থক্য 
দেখানো হয়েছে, যথা-_ একজনমান্র রাজার অধীন রাজবংশ-শাসিত রাজ্য ও গণ- 
শাসিত িছু-ীকছ ভূখন্ড । এই প্রথম ধরনের রাজ্যে সর্বক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকত 
একাঁটমান্র মানুষের হাতে, অপরপক্ষে গণগ্লিতে ডেপরোক্ত প্াাথসমূহের মধ্যে 
একাঁটর বিবরণ অনুষায়শ) এমন 'কি দশজনের সর্বসম্মত "সিদ্ধান্ত পনার্বচার করে 
দেখত বিশজন, অর্থাৎ প্রাতাঁট "সিদ্ধান্ত 'নভর করত আঁধকসংখ্যকের মতামতের 
ওপর। লক্ষণীয় যে প্রাচীন ভারতীয়েরা গণকে রাজার অবর্তমানে নিছক 
না। বরং তাঁরা রাজবংশ-শাসিত ও প্রজাতন্্ীয় এই দুই ধরনের রাজশাক্তর মধ্যে 
তুলনামূলক বচারের অবতারণা করেছেন এবং দেখিয়েছেন ষে নিজ-নিজ শাসনাধীন 


৯৩৭ 


রাজ্যে রাজা এবং গণ সংগঠন উভয়েই চূড়ান্ত ক্ষমতার পরিচালক হিসেবে একচেটিয়া 
কর্তৃত্বের আধকারী 'ছলেন। 

আলেক্জান্ডারের ভারত-আভিযানের যাঁরা সঙ্গী ছিলেন ইউরোপণয় সেই সমস্ত 
ধুপদণ গ্রন্থকার এবং রাষ্ট্রদূত মেগাস্ছেনিসও সে-যুগের ভারতে এমন সব যুক্তরান্ট্রের 
অস্তিত্ব-বিষয়ে অবাহত ছিলেন যে-রাম্ট্রগ্দলি বংশানূক্রমিক রাজার শাসিত রাজ্য 
ছিল না। ভারতীয় আকর সূত্রে যে-সমস্ত যুক্তরাষ্ট্রকে গণ বা সঙ্ঘ বলে উল্লেখ 
করা হয়েছে সেগুলি যে স্বায়ত্তশাঁসত ও স্বাধীন ছিল তা-ও' বলা হয়েছে । এই 
সমস্ত যুক্তরাষ্ট্রে রাজা ছিল না, রাম্ট্রনেতারা নির্বাচিত হতেন সেখানে। 

ইউরোপণয় ধ্রুপদী ও ভারতীয় আকর সন্রগ্তে এই সমস্ত রোজবংশ- 
শাঁসত নয় এমন) যুুক্তরাম্ট্রকে সৃপরিচালিত শাসনব্যবস্থা ও উন্নত মানের সংস্কৃতি 
সহ সমৃদ্ধ ভূ-খণ্ড বলে বর্ণনা করা হয়েছে। 


স্াজ্যশাপল-্থ্যবস্ছা 


মৌর্য-যৃগের সবচেয়ে উন্নাতিশীল গণ ও সঙ্ঘগুলি ছিল এমন সব রাষ্ট্র 
যেগদাঁলর কর্তৃত্বে ছিলেন না অখণ্ড ক্ষমতাশালী রাজারা, অর্থাৎ অন্যভাবে বলতে 
গেলে সেগ্যীল ছিল প্রজাতন্্। তবে এইসব রাম্ট্রে প্রজাতল্তীয় শাসনব্যবস্থার 
ধরনধারণ সর্বদাই-যে একরকম ছল তা নয়। এই সমস্ত প্রজাতল্মের সাধারণ একাঁট 
বৈশিষ্ট্য ছিল এই যে সেখানে অখণ্ড ক্ষমতার আঁধকারী বংশানূক্রামক রাজারা রাজত্ব 
করতেন না। রাষ্ট্রপ্রধান সেখানে সাধারণত 'নর্বাচন (কিংবা নিযুক্ত) করত গণগ্ীলি, 
আবার দরকার পড়লে রাস্ট্রপ্রধানের অপসারণও ঘটাত ওই গণ। বৌদ্ধ গ্রল্থ 
চীবরবাস্তুতে তৎকালগন উত্তর ভারতের সবচেয়ে শাক্তশালন প্রজাতন্লীয় রাম্ট্রগলির 
একাঁট লিচ্ছাবদের গণ সংগ্রঠনের ভার কৌতূহলোদ্দীপক এক বর্ণনা পাওয়া যায়। 
এটি হল রাম্ট্রনেতার মৃত্যুর পর ফের গণ-প্রধান 'নর্বাচনের এক 'ববরণ। নেতা- 
নর্বাচনের প্রধান শর্ত ছিল সেখানে যে নেতৃপদ-প্রার্থাকে বহগ্ুণসম্পন্ন মানুষ 
হতেই হবে। গণ সেখানে একজন প্রার্থীকে নেতৃপদে নিযুক্ত করল, তবে সেইসঙ্গে 
একথাও ঘোষণা করল যে নেতা যাঁদ তাঁর কাজকর্মের জন্যে গণ-এর সম্মতিলাভে 
ব্যর্থ হন তাহলে তাঁকে নেতৃপদ থেকে অপসারণের আঁধকারও রইল গণ সংগঠনের । 
এই ধরনের যুক্তরাষ্ট্রগীলতে গণ-প্রধানের থাকত প্রধানত কার্যীনর্বাহধ শাসনক্ষমতা, 
আর আইন-প্রণয়নের ক্ষমতা থাকত সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সংস্থা হিসেবে গণ-এর 
এীক্তয়ারভুক্ত (কাজেই দেখা যাচ্ছে, গণ বলতে তখন একই সঙ্গে রাজবংশ-শাসিত 
নয় এমন রাজ্যপরিচালন-ব্যবস্থা সহ এক রাষ্ট্র ও সেই রাস্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন 
সংস্থা উভয়কেই বোঝাত)। 


১৩৩ 


রাজ্য-পাঁরচালনার প্রধান-প্রধান ব্যাপারে প্রস্তাবের আকারে গণগুলি নানা সিদ্ধান্ত 
নিত, আর এই সমস্ত সিদ্ধান্ত বাধ্যতামূলক ছিল দেশের সবচেয়ে প্রাতিপত্তিশালী 
নাগাঁরকবর্গ সহ সকল নাগারকের পক্ষেই। যে-কেউ এইসব আইন ভেঙেছে বলে 
মনে করা হোত, তার ওপরই শাস্তি হিসেবে বরাদ্দ হোত কঠোর অর্থদণ্ড । প্রয়োজন 
বোধ করলে কখনও-কখনও অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড পর্যস্ত দেয়া হোত। গণ-এর পক্ষ 
থেকে নিযুক্ত করা হোত তার নিজস্ব কর্মচারিদের এবং এই কর্মচাররা গণ্য হতেন 
গণ-এর প্রাতিনিধি হিসেবে। 

কিছ্‌-কছ: প্রজাতন্দে আবার এই গণ ছল পূর্ণঅধিকারভোগী সকল মুক্ত 
নাগারককে নিয়ে গঠিত এক ধরনের এক জন-সংগঠন। এই সংগঠন থেকে যে-সমস্ত 
সিদ্ধান্ত নেয়া হোত তা স্ছিরীকৃত হোত আঁধকাংশের মতামত অনষায়ী। গণ-এর 
চরিত্র এবং সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সংস্থা হসেবে তার ভূমিকা অনেকখানি পারমাণে 
এই সমস্ত প্রজাতন্ন্ীয় রাষ্ট্রের প্রকীতি নির্ধারণ করে 'দিত। এই সমস্ত ক্ষেত্রে যেখানে 
জন-সংগঠনের নেতৃস্থানীয় ভূমিকা থাকত এবং সংগঠনাঁট গড়ে উঠত পর্ণ 
আঁধকারভোগন নাগাঁরকদের নিয়ে সেখানে আলেচ্য প্রজাতন্নকে গণতান্ত্িক আখ্যা 
দেয়া চলতে পারত, তবে এমন কি এ-সমস্ত ক্ষেত্রেও যত দিন যাচ্ছিল ততই আভিজাত 
নাগারকদের পাঁরষদ বোশবেশি গুরুত্ব লাভ করছিল। এই রকম 'িছ-কিছু 
রাজনোতিক যুক্তরাষ্ট্র তখনই হয়ে দাঁড়য়েছিল গণতান্ত্রিক থেকে আঁভজাত প্রজাতল্তে 
রৃপান্তরের পথে মধ্যবতর্শ এক ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থা। আবার অপর কয়েকটি ক্ষেতে 
জন-সংগঠনগল তত 'দিনে তাদের প্রাধান্য ও গুরদত্ব হারিয়ে বসায় এবং আসল 
রাষ্দ্রক্ষমতা ক্ষন্রিয়দের আভজাত পাঁরষদের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় প্রজাতন্্গুলি 
তখনই পরিণত হয়োছল আভজাত প্রজাতল্তে । 


ক্ষান্রয়দের রাম্্রক্ষমতা ও সমাজ-কাঠামো 


গণ এবং সঙ্ঘগীলতে ক্ষান্রয়রা জনসংখ্যার বাকি অংশ থেকে পৃথকভাবে 
সমাজের সর্বোচ্চ ও স্বতন্ত্র একটি স্তরে পর্যবসিত হয়েছিল। এ-থেকেই বোঝা যায় 
কেন রাজবংশ-শাসিত নয় এমন বহ; যুক্তরাষ্ট্রকে সেকালে ক্ষন্রিয়রাজ্য বলা হোত। 
আঁভজাত প্রজাতল্গ্িতে অপেক্ষাকৃত ধনী ও প্রভাবশালী ক্ষত্রিয়রা বিশেষ 
পদমর্যাদার আঁধিকারী 'ছলেন, তাঁরা ছিলেন 'রাজা”উপাধিধারী। এই উপাধি অর্জন 
করতে হলে মানুষকে পাবন্র পজ্কীরণীর জলে আভবসিপ্ুন ও দীক্ষা গ্রহণ অনুষ্ঠানের 
মধ্যে দিয়ে যেতে হোত, একে বলা হোত “আঁভষেক' অনুম্ঠান। বে-আইনীভাবে 
কেউ এই অনুষ্ঠান উদ্‌যাপন করলে সে ক্ষত্রিয় হলেও তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হোত। 

যে-সব ক্ষত্রিয় 'রাজা'-উপাধিধারী ছিলেন তাঁরা মাঝে-মাঝে এক বিশেষ সভাগ্‌হে 


১৩৪ 


বা 'সান্তবনাগার'এ মিলিত হতেন এবং সেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসানিক প্রশ্নাদ 
নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতেন। অন্যান্য বর্ণের প্রাতানাধদের, এমন কি 
ব্ান্মণদেরও, অনুমতি দেয়া হোত না এই সমস্ত সভায় উপস্থিত থাকার । কিছ--কিছু 
প্রজাতন্দে খুব সম্ভবত নানা সমস্যা নিয়ে এই সমস্ত আলাপ-আলোচনা শুরু হোত 
জন-সংগঠনে, আর তারপর সে-ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিত রাজাদের পারষদ। 
উপরোক্ত এই দুই সংগঠনের মধ্যে পরস্পর-সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবেই নিভভর করত 
সেই বিশেষ প্রজাতন্মর্টতৈে ক্ষমতা-বাঁটোয়ারার প্রকৃতির ওপর। 'বাশিষ্ট 
রাজকর্মচারদের পদগ্মলিতেও-_-যেমন, সেনাধ্যক্ষ, বিচারক, ইত্যার্দ পদেও-__ 
স্পম্টতই 'িফুক্ত হতেন ক্ষত্রিয়বর্ণের লোকজনেরা । 

উপজাতি বা গোল্ঠী-সম্পকের যুগ থেকে উত্তরাধিকার-সূতন্রে পাওয়া রীতিনীতি 
গণ ও সঙ্ঘগ্দালর, এমন কি তাদের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রসর বা উন্নত প্রজাতন্নগুলিরও, 
সমাজ-কাঠামোয় তখনও পর্যস্ত অত্যন্ত দ্‌ঢ়মূল ছিল। যেমন, উদাহরণস্বরূপ, 'গোন' 
(বা গোষ্ঠী)-র প্রভাব তখনও রীতিমতো অনুভূত হোত, যদও তখন 'কুল' (বা 
পরিবার) আ'বর্ভীত হচ্ছিল প্রধান সামাজিক একক হিসেবে । 

গণ এবং সঙ্ঘগ্দালর বড় রকমের স্বকীয় একটা বোৌশিষ্ট্য ছিল সেগালর মধ্যে 
বর্ণ এবং জাতিভেদের ছকটি। এঁদক থেকে ক্ষান্রয়রা জনসংখ্যার বাঁক অংশ থেকে 
পৃথক ও 'বাঁশম্ট ছিলেন, এমন ক ব্রাহ্গণরাও তাঁদের সমকক্ষতা অর্জন করতে 
পারতেন অত্যন্ত বিরল কয়েকাঁট ক্ষেত্রে মান্র। রাজবংশ-শাঁসিত রাজ্যগ্ীলতে যেমন 
ব্রাহ্মণরাই সবচেয়ে বেশি করে বড়-বড় ভূ-সম্পা্তর মালিক ছিলেন, তেমনই 
প্রজাতন্নগদলিতে ক্ষত্রিয়রা নিজেদের প্রাতিষ্ঠিত করোছলেন প্রভাবশালী ভূম্যধিকারী 
হিসেবে । রাজনোতক ক্ষমতার সংহভাগও প্রজাতন্রগালতে ছিল ক্ষত্রিয়দের করায়ত্ত। 
রাজার শাসনাধীন রাজ্যগুলির মতো ব্রাহ্মণরা এক্ষেত্রে তাঁদের অগ্রাধকার কায়েম 
করার ব্যাপারে অসমর্থ হয়েছিলেন এবং প্রায়শই তাঁদের সামাঁজক মর্যাদা 
দাঁড়য়ে গিয়েছিল স্াবধাপ্রাপ্ত বৈশ্য সমাজের কাছাকাছি একটা স্তরে। বর্ণ 
বিভাগের কাঠামোর স্মানার্দস্ট বৈশিষ্ট্য সত্তেও কি প্রজাতন্্গ্ীলতে ও কি 
রাজবংশ-শাঁসত রাজ্যগ্ীলতে সবচেয়ে নিপীঁড়ত বর্ণ বলতে ছল শূদ্ররা। 
এ-থেকেই দেখা যাচ্ছে রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রকতি সমাজ-কাঠামোর স্বরূপ 
নর্ণয় করত না। 

গণ এবং সঙ্ঘগীলতে রাজনোতিক সংগঠনের যে-সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যটি 
তাদের রাজবংশ-শাসিত রাজ্যগ্াল থেকে পৃথক করে চাহত করেছিল তা হল 
এই যে প্রথমোক্ত রাষ্ট্রগীলতে জনসাধারণের ব্যাপক স্তরসমূহ রাজনোতিক ঘটনাবলণর 
সঙ্গে জড়িত ছিল এবং এর ফলে সেগ্াল গড়ে উঠোছল সুদ্‌ট় ও স্ছায়ী যুক্তরাষ্ট্র 
হিসেবে । অর্থশাম্দ্ের রচয়িতার মতে সঙ্ঘসমূহ তাদের দৃঢ় আসঞ্জনের কারণে 


১৩৬ 


দুভেদ্য ছিল। কিছু পরিমাণে গণতান্রিকতা সত্তেও প্রজাতল্্গ্যাীলতে সমাজ-সম্পক" 
ছিল তার শ্রেণী, মালিকানা ও সমাজগত বিরোধে দীর্ণ। 'লাখত আকর সব্রগ্যীলতে 
সমাজের প্রভাবশালী, অর্থাৎ ক্ষত্রিয় সদস্যদের সঙ্গে গণ ও সঙ্বগ্লির সাধারণ 
সদস্যদের সংঘর্ষের উল্লেখ পাওয়া যায়। মহাভারতে বলা হয়েছে যে গণ ও 
সঙ্ঘসমূহের প্রধান শন্রু হল তাদের মধ্যেকার অভ্যন্তরীণ বিরোধ। বৌদ্ধ ধর্মশাস্তে 
শাক্যদের প্রজাতন্দে ভ্রতদাসদের প্রকাশ্য বিদ্রোহের পযন্ত উল্লেখ আছে। 

প্রাচীন ভারতাঁয় এই প্রজাতন্্রুলি মৌর্য-যুগেও টিকে ছিল, এমন কি একেবারে 
গুপ্ত-যগের সূত্রপাত পর্যন্ত আস্তত্ব ছিল তাদের । অতঃপর ওই সময়ে তারা ব্লুমে- 
ন্রুমে তাদের স্বাধীনতা হারায় ও রাজবংশ-শাসত রাজ্যগলির অধীন হয়ে পড়ে। 
প্রাচীন ভারতের প্রজাতন্তীয় শাসন-ব্যবস্থার পর্যালোচনার ফলে এটা স্পল্ট হয়ে 
ওঠে যে প্রাচীন ভারতের রাজনোতিক ব্যবস্থাগ্ীলর সঙ্গে ইউরোপীয় ধ্রুপদী যুগের 
ভূমধ্যসাগর-অণ্ুলীয় দেশসমূহের ওই ব্যবস্থাদির প্রাতিতুলনা উপস্থিত করা বা 
বৈষম্য-্রদর্শন আবিবেচনার পরিচয়স্চক। কেননা, যেমন ভারতে তেমনই ধ্র্পদী 
সভ্যতাগ্লির ক্ষেত্রেও শ্রেণীহীন সমাজ থেকে রাষ্ট্রের উন্তবের ধারায় সমাজ- 
বিকাশের একই রকম একট পদ্ধাতি লক্ষ্য করা যায়। আর এই বিকাশের পটভূমিতে 
পারিপার্খক অবস্থার ওপর 'নিভভরশীল বহুতর শর্তসাপেক্ষে যে-কোনো রাষ্ট্রের 
পক্ষেই তখন সম্ভব ছিল হয় রাজবংশ-শাসিত আর নয়তো প্রজাতন্ত্ীয় শাসনব্যবস্থা 
প্রবর্তন করা। 


মৌর্য-ঘগের সংস্কাতি 
হস্তালপির প্রসার 


মগধ এবং মৌর্য-রাজাদের যুগটি ছিল দ্রুত সাংস্কৃতিক বিকাশের কাল। ভারতের 
বহ; অণ্চল এবং এমন কি আধ্দনিক আফগানিস্তানের ভূখন্ড থেকেও পাওয়া 
শতাব্দীতেও হস্তাঁলাঁপর প্রসার ছিল মোটের ওপর বহযবিস্তৃতই। অবশ্য হস্তালপির 
আস্তত্ব এরও কয়েক শতাব্দী আগে থেকেই-যে ছিল সেশীবষয়ে সন্দেহের অবকাশ 
কম। বহু বোদ্ধ পাাথতে উল্লেখ আছে যে সেই প্রাচীন কালেও পন্ন-ীবনিময়, 
রাজকীয় ঘোষণার অনুলিখন, পেশাদার 'লাপলেখকদের আস্তত্ব এবং 
বিদ্যালয়গীলতে গণতশিক্ষার পাশাপাশি হস্তটলপি-শিল্প শিক্ষার প্রচলন 
ছল। 


১৩৬ 


পাানির ব্যাকরণে হস্তালপি ও লেখক বোঝাতে বিশেষ সংজ্ঞার ব্যবহার আছে 
আর উল্লেখ আছে গ্রীক 'লাপর। অশোকের শিলালাঁপগ্ুলি উৎকধর্ণ হয়েছে 
ব্রান্মী লাপিতে, এছাড়া আরামেইক, গ্রীক ও ব্রাহ্মী লিপির প্রভাবে আরামেইক থেকে 
উদ্ভৃত খরোম্ঠী 'লাঁপও ব্যবহৃত হয়েছে এই শিলালাপতে। তবে বৌশর ভাগ 
শিলালাপ অবশ্য উৎকীর্ণ হয়েছে ব্রাহ্মী হরফে । নেয়াক্কসের বিবরণীতে দেখা 
যায়, আলেক্জান্ডারের ভারত-আভযানকালে প্রাচীন ভারতীয়রা সৃতশ কাপড়ের 
ওপর লখতেন। তবে এটা সম্ভব যে লেখার জন্যে সবচেয়ে ব্যাপকভাবে তখন 
ব্যবহৃত হোত তালপাতা, আর দেশের স্যাঁতসেতে আবহাওয়ার দরুন সেইসব হাতে- 
লেখা প্দাথ শেষপর্যন্ত টিকে থাকে নি। তাই ওই যুগের লাপলেখন- 
[শিল্পের একমাত্র সাক্ষ্য আজ পর্যন্ত যা রয়ে গেছে তা হল পাহাড়, স্তম্ত ও 
গুহাগাত্রে খোদাই-করা অশোকের অনুশাসন 'লাপগাল। খ্যীস্টপূর্ব তৃতীয় 
শতক নাগাদ ব্রাহ্মী দীর্ঘাদনের ইতিহাস-সমন্বিত একাঁট 'লাপতে পাঁরণত 
হয়োছিল। 

ব্রাহ্মী লাঁপর উৎস সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞরা কোনো এঁকমত্যে পেশছতে পারেন 'ন। 
নানা জনে এই লিপিকে সংযুক্ত করে দৌখিয়েছেন বহ় 'বাঁচন্র লিপির সঙ্গে, যেমন 
হর্পা সভ্যতার লিপি, সোমিটিক 'লাঁপ, দাঁক্ষণ আরবের 'লিপি, এমন ক গ্রীক 
লাপিও। খসস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের উৎকীর্ণ শলালাপগুলি থেকে জানা যায় 
যে সে-যুগে ব্রাহ্মণ 'লাপর বেশ কয়েকটি রকমফেরের প্রচলন 'ছিল। খাস্টপূর্ 
প্রথম শতকের সূচনাকালের বৌদ্ধ রচনা ও ব্দদ্ধের জীবনকথা 'ললিতবিস্তার'এ 
উল্লিখত আছে চৌষট্রট রকমের বাভন্ন 'লাপর, যার অর্তুভুক্ত ছিল 'বাভন্ন স্থানীয় 
ভারতীয় 'লাপ ও বহু; 'বদেশী বলাঁপ। অশোকের অনুশাসনগ্যাল কেবল-ষে 
রাজকর্মচারিদের উদ্দেশ্যেই উৎকীর্ণ হয়েছিল তা নয়, সাধারণ প্রজাবর্গের জন্যেও 
বটে। নানা সামাজিক গোষ্ঠীর লোকজন তাঁর অনুশাসনগুি পড়ুক, এটাও ছিল 
অশোকের উদ্দেশ্য । খুস্টপূর্ব দ্বিতাঁয় ও প্রথম শতকের উৎকীর্ণ শিলালাপগযালর 
মধ্যে বেশকিছু ছিল উৎসর্গ-পন্র, বৌদ্ধ সঙ্ঘের নামে দান-করা উপহার-সামগ্রীর 
যেন তালিকা ছিল সেগাাঁল। বাঁণক, বৌদ্ধ-ভিক্ষদ, কারুশিল্প, ইত্যাদির পক্ষ 
থেকে খোদাই করা হয়োছল এই িলালাঁপগ্ঁল। খশস্টপূর্ব তৃতীয়, দ্বিতীয় ও 
প্রথম শতাব্দীর প্রান ভারতীয়রা-যে বহ পরিমাণে 'লাখত হস্তলিপির সঙ্গে 
পারাঁচত 'ছলেন উপরোক্ত এই 'লাপগ্লি তার প্রমাণ। তবে এইসঙ্গে একথাও 
ভুললে চলবে না যে প্রাচীন ভারতে শিক্ষাদান-ব্যবন্থা গড়ে উঠেছিল মৌখিক 
শশক্ষাদানের এীতহ্যের ভিত্তিতে, ধর্মশাস্তরগাল আগাগোড়া কণ্তস্থ করার মধ্যে 
দয়ে আর সেই মৌখক শিক্ষা পুরুষানুক্রমে মুখস্থ করার মধ্যে দিয়ে সণ্টারত 
কারয়ে। 


১৩৭ 


বৈজ্ঞানক জ্ঞানের বিকাশ 


বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের লক্ষণীয় বিকাশের জন্যে মগধ ও মৌর্য-যুগ 'বাশিম্ট। ওই 
সময়েই জ্যোতার্বিদ্যা, গ্রণত, চিকিৎসা-শাস্তর ও ব্যাকরণ-সংক্রাম্ত বহু বিজ্ঞান-গ্রন্থ 
রচিত হয়, যাঁদও তা পাঁথিপন্রে লিপিবদ্ধ করা হয় পরবতাঁ যুগগুলিতে। বৌদ্ধ এবং 
জৈনদের লেখা বহসংখ্যক ধর্মগ্রল্থও রচিত হয় ওই যুগে। বিশদভাবে শলাখত 
সংস্কৃত ব্যাকরণের সংকলক প্রখ্যাত ভারতীয় বৈয়াকরণ পাঁণিনির জীবন ও 
রচনাকালও ওই খ্যাস্টপূর্ব পণ্থম কিংবা চতুর্থ শতাব্দীতে বলে মনে করেন 
আধুনিক পশ্ডিতেরা। পাঁণাঁনর রচিত ব্যাকরণের নাম ছিল “অস্টাধ্যায়শ' (অন্ট 
অধ্যায়যুক্ত)। তাঁর ভাষা বিশ্লেষণের পদ্ধাত খুব উশ্চুদরের ছিল। 'িছ-কিছু 
পূর্বস্রীর রচনার ওপর ভান্ত করে পাঁণিনি তাঁর এই ব্যাকরণখানি লেখেন, ওই 
পূর্বসূরীদের নামও তিনি উল্লেখ করেন তাঁর গ্রন্থে। পরবতর্শ সংস্কৃত বৈয়াকরণদের 
কাজের বলতে গেলে মূল্য-নির্পকই হয়ে দাঁড়ায় এই 'অস্টাধ্যায়?” ব্যাকরণ। তাঁরা 
আগাগোড়াই এই গ্রন্থের আদ্যন্ত বিশ্লেষণ ও বিশদ টাঁকাভাষ্য রচনা করে গেছেন। 
খীস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে কাত্যায়ন “অষ্টাধ্যায়ন গ্রন্থের একটি ভাষ্য রচনা করেন 
এবং খন)স্টপূর্ব "দ্বিতীয় শতকে এরই 'ভাত্ততে পতঞ্জাল রচনা করেন নতুন 
একখানি সংস্কৃত ব্যাকরণ। এই শেষোক্ত দু'জন বৈয়াকরণ কেবল-যে সংস্কৃতই 
জানতেন তা নয়, স্থানীয় ও আণ্চলিক বহু উপভাষার সঙ্গেও পাঁরাঁচিত 
ছিলেন। 

মগধের এবং মৌর্যরাজাদের রাজত্বকালে প্রাকৃত ভাষাও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত 
হতে থাকে৷ এই প্রাকৃত ভাষাতেই অশোকের অন্শাসনগ্ীলি রচিত হয় এবং 
অন্যান্য বহু শিলালাঁপও উৎকীর্ণ হয়। তখনই ভারতে প্রচালত হয়েছিল এমন 
বেশ কয়েকটি উপভাষা। এই রকম একটি উপভাষা পাঁলতে লেখা মূল বৌদ্ধ 
ধর্মশাস্ত্র করায়ত্ত হয়েছে আমাদের! প্রচালত লোকপ্রবাদ অনুসারে এই গ্রল্থখাঁন 
লাখত হয়েছিল শ্রীলঙ্কা দ্বীপে ৮০ খীস্টপূর্বাব্দে। পতঞ্জাল তাঁর রচিত 
ব্যাকরণে প্রাকৃত ভাষায় লেখা নানা গ্রন্থের নাম করেছেন। ওই সময়ে ভারতায় 
সাঁহত্যে যাকে কাব্য বলা হয় সেই ছন্দোবদ্ধ পদমালার আস্তত্ব ছিল 
আর ছিল সংস্কৃত ভাষায় লেখা রাজনীতি ও নীতিশাস্-সম্পীকত 
গ্রন্থাদি। 

পাণিনি ও পতঞ্জালর রচনাবলঈতে যে-সমস্ত তথ্য পাওয়া যায় তা থেকে এমন 
ধারণা করাটা অমূলক হবে নাষে ওই সময়ে ভারতে নাটকও রচিত 
হয়োছল। পতঞ্জালর ব্যাকরণে আভনেতৃবর্গ, রঙ্গমণ্ট, বাদ্যষন্ন, ইত্যাদির উল্লেখ 
আছে। 


৯১৩৮ 


স্থাপত্য ও ভাস্কর্ষণশল্প 


মগধ এবং মৌোর্যযুগসমূহে অধিকাংশ ঘরবাঁড়ই ছিল কাঠের তৈরি, এ-কারণে 
এ-সবের কিছু টুকরোটাকরা ভগ্মাংশমান্তর এ-পর্যন্ত টিকে গেছে। তবে ওই সময়েই 
বাঁড় তোরর কাজে পাথরের ব্যবহারও শুরু হয়েছে ক্রমে-্রমে। প্রাচীন 
পাটলিপুত্রের খননক্ষেত্রে খননকার্য চালানোর ফলে রাজপ্রাসাদের ও শত-স্তন্তযুক্ত 
সভাগৃহের অংশাবশেষ আবিচ্কৃত হয়েছে । এই ধরনের ধর্মীনরপেক্ষ অদ্রালকাঁদ 
ছাড়াও ওই যুগের আবিষ্কৃত ধর্মমান্দিরগঁীলও বিপুল আগ্রহের দ্যোতক, বিশেষ 
করে আনূমানক খ্যীস্টপূর্ব তৃতীয় ও "দ্বতীয় শতাব্দীতে 'নার্মত সাঁচি ও 
ভারহ্‌তের বৌদ্ধ স্তুপগ্যাল। 

মৌর্যযুগে ভাস্কর্যশিল্পের কিছু-কিছন স্থানীয় ধারার উত্তব ঘটে। এদের 
মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখ্য হল তক্ষাশলা-কেন্দ্রিক উত্তর-পাশ্চমের এবং তোসালি-কেন্দ্রিক 
পূর্বাণ্টলীয় ধারাদাট। অশোকের অনুশাসনগ্রুলি উৎকীর্ণ আছে দেশের 'বিভন্ন 
আণ্াঁলক রাজধানশর যে-সমস্ত স্তপ্তের গায়ে সেগুলিতে উৎকীর্ণ িল্পকাজে উচু 
মানের দক্ষতা লক্ষণীয় । মৌর্যষুগের সংস্কৃতিতে, বিশেষ করে সে-ষুগের উত্তর- 
পশ্চিম অণ্চলের সংস্কৃতিতে, আকিমোনিড সংস্কৃতির কিছুটা প্রভাব লক্ষ্য করা 
গেলেও সাধারণভাবে বলা চলে যে ওই ফুগের প্রাচীন ভারতীয় সংস্কাত ছিল 
মূল্গতভাবে জাতীয় ও স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে পূর্ণ। এই সংস্কৃতি গড়ে উঠোছল 
স্থানীয় এতিহ্যের ভীত্ততেই। 


রাজনোতিক ধ্যানধারণা 


খস্টপূর্ব প্রথম সহম্রাব্দের দ্বিতীয়ার্ধ প্রাচীন ভারতে রাজনোতিক সংগঠনাদি 
ও রাম্ট্রশাক্তর বিকাশের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়। এই পর্যায়টি 
গঙ্গা-উপত্যকায় প্রথম বড়-বড় রাষ্ট্রের উৎপাত্ত ও পরে এঁক্যবদ্ধ সাম্রাজ্য প্রাতষ্ঠার 
সঙ্গে যুক্ত । এই সময়ে শাসন-পরিচালনার নীতিসমূহ ও রাম্ট্শাক্ত-সম্পকিতি 
তত্বগ্মীলর বিশদীকরণ ঘটে; শুরু হয় নানা রাজনোৌতক ধারার ও রাজনৈতিক 
গ্রন্থের প্রকাশ। এ-ক্ষেত্রে বিশেষ উল্লেখ্য হল অর্থশাস্ত্ নামের গ্রন্থটির প্রকাশ। 
এটি পাঁরচিত মৌর্যরাজ চন্দ্রগুপ্তের অধীনে কর্মরত তাঁর প্রধান উপদেষ্টা 
কোটিল্যের রচনা বলে। এই রাজনোতিক গ্রন্থাঁটর বেশির ভাগ্গ অংশই অবশ্য 
খুখস্টজন্মের পরেকার শতাব্দীর গোড়ার বছরগলতে সংকলিত বলে মনে হয়, 
তবে এতে আলোচিত রাষ্ট্রনীত-সম্পার্কত ধ্যানধারণা ও নীতিসমূহ মৌর্যয্ুগের 
ভাবনাচন্তারই প্রতিফলন। 


১৩৯ 


মগধ এবং মৌর্য যুগগগ্ছলিতে রাজবংশ-শাঁসত রাজ্যগুির পাশাপাশি আস্তিত্ 
ছিল প্রজাতন্ত্রীয় রাষ্ট্রসমূহের, তবে ওই সময়ে রাজবংশ-শাঁসিত রাজ্যই ছিল 
সবচেয়ে ব্যাপক প্রচালত রাজশাক্ত। প্রাচীন ভারতীয়রা নিজেরাই বলেছেন যে 
চিরকাল রাম্ট্রের আস্তত্ব ছিল না, (ঈশ্বরের কৃপায়) রাষ্ট্রের উদ্তব ঘটোছিল তখনই 
যখন মানুষের মধ্যে অপেক্ষাকৃত শাক্তশালীরা মাছের মতো ছোট মাছকে ভক্ষণ 
করতে শুরু করল আর প্রয়োজন হয়ে পড়ল এই মাংস্যন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের 
সমাজে আইন-শৃঙ্খলার প্রবর্তন করা। অর্থশাস্ত্রের রচাঁয়তা কৌটিল্য মনে করতেন 
যে রাম্ট্রের একট আত গুরত্বপূর্ণ কর্তব্য হল সামাঁজক বৈষম্যকে, অর্থাৎ চতুরর্ণ- 
ভাত্তক সামাজিক স্তরভেদকে, টিকিয়ে রাখা । রাজাকে তাঁর প্রজাবর্গের রক্ষণাবেক্ষণ 
রাষ্ট্রশাসনের বিজ্ঞানই তখন পারাঁচিত ছল শাস্তদানের বিজ্ঞান হিসেবে । কৌটিল্য 
উল্লেখ করছেন প্রাচীনকালের রাম্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে এইমর্মে একটি মত প্রচালত 
ছিল যে মানুষকে পাঁরচালনার সর্বোত্তম উপায় হল শাস্তদান। 

সেকালের রাজনীতিবিদরা মনে করতেন যে সবচেয়ে বিপজ্জনক ধরনের অশান্তি 
হল অভ্যন্তরীণ বক্ষোভ এবং কোঁটিল্যও সরাসার রাজাকে সম্বোধন করে 
লখোছলেন যে অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ বাইরে থেকে আঁবির্ভত অশান্তর চেয়ে অনেক 
বোশ ভয়ঙ্কর, কেননা এর ফলে এমন কি রাজসভায় ও রাজার অনূচরবৃন্দের মধ্যেও 
সাধারণভাবে একটা আশ্বাসের মনোভাব গড়ে ওঠে । গোয়েন্দা-ীবভাগ গড়ে তোলা 
ও রাজনীতিতে গোপন কুটকৌশল প্রয়োগের ব্যাপারে বিশেষ দৃন্টি দেয়া হোত 
তখন। কোটিল্য রাজাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে রাজকর্মচারদের ঘুষ দেয়ার 
ব্যবস্থা করা এবং তাঁদের পেছনে গ্প্তচর নিষুক্ত করে রাজকর্মচারিদের পরস্পরের 
মধ্যে মনোমালন্য সৃন্টি করা দরকার। তদুপাঁর রাজার সমর্থক ও 
শত্রুদের কেবল খোলাখ্াঁলই নয় গোপনেও শাস্তদানের ব্যবস্থার প্রচলন করা 
প্রয়োজন । 

বাস্তব বৈষয়িক স্বার্থকেই কৌটিল্য সবার ওপরে স্থান দিয়েছেন। এই স্বার্থ 
রক্ষার খাতিরে শাস্নসম্মত 'বাধাঁবধান থেকে এক-আধটুকু বিচ্যাতিও মেনে 'নিতে 
প্রস্তুত থেকেছেন 'তিনি। তাঁর দৃ্টিভাঙ্গ অনুযায়ী, যাঁদ কোনো সরকার 'নদেশি 
বাধবদ্ধ আইনের সীমা লঙ্ঘন করে তাহলে সেক্ষেত্রে ওই বেআইনী সরকার 
'নর্দেশকেই প্রাধান্য দেয়া উচিত হবে। 

রাজা যখন অর্থনৌতক দক থেকে সংকটের সম্মুখীন হতেন তখন কোটিল্য 
তাঁকে পরামর্শ দিতেন মান্দিরগ্যালর সম্পান্ত বাজেয়াপ্ত করে সেই অর্থে রাজকোষ 
পূর্ণ করতে। এমন কি কৌটিল্য এধরনের কিছ কৌশলও উদ্ভাবন করেছিলেন 
যেগুলিকে ব্যবহার করে রাজা তাঁর প্রজাবর্গের ধায় কুসংস্কারকে নিজের স্বার্থে 


৯১৪০ 


কাজে লাগাতে পারেন এবং প্রজাদের মনে এই ধারণা জল্মাতে পারেন যে তাঁদের 
রাজা অলৌকিক শাক্তির আধকারী। 

ওই যুগে 'বাভন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের, য্দ্ব-পাঁরচালনার ও শাস্তি- 
স্থাপন সম্পরিতি আলোচনার বহুবিধ পদ্ধাতও উন্তাবিত হয়। রাষ্ট্র-পরিচালনার 
ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ ব্যাপার ছিল পররাস্ট্র-নীতির 'বষয়টি। অর্থশাস্ত্ে 
পররাম্ট্র-নীত পাঁরচালনার ছশট প্রধান পদ্ধাত বিবৃত হয়েছে। যেমন, শাস্তি, যুদ্ধ, 
পর্যবেক্ষণ ও প্রতীক্ষা, আগ্রাসন, প্রাতিরক্ষার উপায়াদ সন্ধান এবং দু'মুখো 
রাম্ট্রনীতি। গ্রন্থটতে বিশেষ নজর দেয়া হয়েছে রাষ্ট্রদুতদের কার্যকলাপ সম্পর্কে । 
এই রাম্ট্রদূতদের কাজকর্মের পাঁরাধ ছিল তখন অত্যন্ত ব্যাপক! রাম্্রীয় চুক্তির 
শর্তাঁদ প্রাতপালন এবং নিজ রাস্ট্রের মর্যাদা রক্ষা করা ছাড়াও, কোটিল্যের মতে 
রাষ্ট্রদূতের কাজ হল বন্ধব-রাস্ট্রগীলর মধ্যে বিবাদ বাধিয়ে দেয়া, গোপন যড়যল্্, 
ইত্যাদির অনুষ্ঠান করা, মোতায়েন সৈন্দলকে গোপনে স্থানান্তরিত করা, ইত্যাদ। 
অর্থাৎ, সম্ভবপর সকল রকম দ:জ্কর্মই সাধন করা । প্রাতিবেশী রাষ্ট্রগ্ালকে সাধারণত 
শত্রু হিসেবে গণ্য করা হোত বলে তাদের 'বরদ্ধে শন্রুতাসাধনের উপায়াঁদও 
বিস্তারতভাবে বিবৃত হয়েছে গ্রন্থাটতে। প্রাতিবেশীর অপর প্রাতবেশীকে অবশ্য 
গণ্য করা হোত বন্ধু বলে, তবে সেই বন্ধ;র প্রাতিবেশী-রাম্ট্র আবার গণ্য হোত অপর 
এক শন্রু হিসেবে। অন্য রাজ্য আন্রমণ করার পক্ষে সবচেয়ে সাাবধাজনক পারিস্থিতি 
সম্বন্ধে লিখতে গিয়ে কোটিল্য বলছেন যে সম্ভাব্য শন্লুদেশের অর্থনৌতিক অবস্থা 
এবং সে-রাজ্যে রাজার সঙ্গে প্রজাবর্গের সম্পকে ব্যাপারগ্যাল হিসেবের মধ্যে ধরতে 
হবে। এ-ব্যাপারে কোটিল্যের মত ছল এই যে এমন এক দেশে প্রজারা যাঁদ রাজার 
বিরুদ্ধে আন্দোলনে রত থাকেন তাহলে এমন কি আপাতদৃ্টিতে সেই রাজাকে 
শাক্তশালী বলে মনে হলেও প্রজারা সেই রাজার পতন ঘটাতে পারেন। এ-কারণেই 
প্রজাবূন্দ যে-রাজার শন্রু তাঁর বিরুদ্ধে যাদ্ধঘোষণা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে কোটিল্য 
মনে করতেন। 
প্রত্যক্ষভাবে বৈজ্ঞাঁনক জ্ঞানের অগ্রগাতি এবং সমাজ-বিকাশের ক্ষেত্রে সামাগ্রক প্রগাতি। 

এটা বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে জ্ঞানের চারটি প্রধান শাখা বলতে কোটিল্য 
বুঝতেন দর্শনশাস্ম ('অন্বীক্ষক"), 'বেদপাঠ', অর্থনীতি-শাস্ত্র পাঠ ও রাম্ট্রশাসন- 
সম্পাককতি পাঠ (দণ্ডনীতি') গ্রহণকে। প্রধান-প্রধান জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধ্যে 
দর্শনশাস্তরকে যে তান প্রথম স্থান দিয়েছেন এটাও নিছক আকস্মিক ব্যাপার নয়। 
তিনটি দার্শানক মতবাদের ধারার কথা উল্লেখ করেছেন কোটিল্য। সেগুলি হল -- 
লোকায়ত, সাংখ্য ও যোগ । কৌটিল্যের মতে দর্শনশাস্তে আঁধকার থাকলে রাষ্ট্- 
পাঁরচালনার কাজেও সাফল্য আসে। 


বহ5ব্যাপক ধ্যানধারণা নিয়ে অনুসন্ধান এবং সে-সমস্ত বিশ্লেষণের গভশরতা 
প্রতিষ্ঠত করেছে এবং কৌটিল্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছে পুরাযূগের অন্যতম শ্রেম্ঠ 
চিন্তাবিং আরিস্টটলের সঙ্গে সান আসনে। 


মৌর্যযুগের ধর্মমতসমূহ 


প্রাচীন ভারতে খ্ডীস্টপূর্ব প্রথম সহত্রাব্দের মাঝামাঝি সময়টা ছিল ধর্মমত 
ও দর্শনশাস্ত্রের ব্যাপারে অনুসন্ধান ও সংস্কারসাধনের কাল। ধর্মমত হিসেবে 
বেদবাদের প্রভাব তখন কিছু-পারমাণে ক্ষুপ্ন হয়েছে। বেদসমূহের পোরাণিক 
ধ্যানধারণার আদম প্রকৃতি, বেদের জটিল ও সেকেলে পূজাপার্বণের ধরনধারণ, 
পুরোহিতদের স্হুল বৈষয়িক দাবিদাওয়া উেন্নততর জ্ঞানের অধিকারী বলে 
পুরোহিতদের সম্পর্কে ইতিপূর্বে লোকের যে মোহ ছিল তা থেকে মুক্তির ফলে), 
ইত্যাদি কোনোকিছুই আর নতুন যুগের মনোভাবের সঙ্গে খাপ খাচ্ছিল না, ফলে 
ব্রুমশ প্রবল হয়ে উঠল প্রাতিবাদ। বিশ্বাসের এই সংকট অতিক্রমণের প্রথম চেম্টায় 
এমন একটি ধর্মান্দোলন দেখা দল যার প্রাতফলন মিলল উপাঁনষদসমূহে । 
সমগ্রভাবে বিচার করলে, এই ধর্মান্দোলন অবশ্য বেদবাদকে প্রত্যাখ্যান করল না, 
তবে প্রয়াস পেল নতুন ও তত্গতভাবে অপেক্ষাকৃত দ্‌ঢ় এক ভিত্তির ওপর দাঁড়য়ে 
বোদিক মতবাদে নতুন জীবনের সণ্টার ঘটাতে । প্রাচীন এঁতিহ্যসমূহের নিষ্ঠাবান 
ধারক-বাহকরা অবশ্য নতুনতর নীতিসমূহের প্রবক্তা সংস্কারসাধক ধমাঁয় প্রবণতা 
ও মতবাদের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে দড়ুপণ কঠিন সংগ্রাম শুরু করলেন। 
রক্ষণশশীলরা এই পরবতাঁদের আখ্যা দিলেন "অ-সনাতনী” অর্থাৎ বেদসমূহের 
কর্তৃত্বে অবিশ্বাসী) বলে, এবং এদের অন্তভূক্ত করলেন ওই সময়ে নব-উদ্তৃত দুটি 
ধর্মমত জৈন ও বৌদ্ধধর্মকে ও ভারতীয় দর্শনের ক্ষেত্রে বস্তুবাদী ভাবধারাকে ভাষা 
দিচ্ছিল এমন অপর যে-সব দার্শনিক মতাদর্শ তাদের সবকশটকেই। উপরোক্ত এইসব 
দার্শনিক মতাদর্শই তখন খোলাখুঁলভাবে বোঁদক ধর্মমতের অপারবর্তনীয়তার 
তাৎপর্যকে অস্বীকার করাছল। 

গোড়ার দিককার উপনিষদসমূহ এবং রন্গণ্যবাদের অধননতা থেকে মূলত মুক্ত 
নতুন ধর্মায় ও দার্শানক মতবাদগ্যালর উত্তবের মধাবতাঁ পর্যায়ে এমন একটা সময় 
এসেছিল যা চিহিত ছিল তীব্র আধ্যাত্মক অনূসন্ধান 'দিয়ে। এ-সময়ে বেশ বড় 
একদল সন্ন্যাসী সাধারণ গৃহীর দৈনাল্দন জীবন ও প্রাচীন ধর্মমতের এীতহ্যের 
সঙ্গে সকল সম্পর্কের ছেদ ঘাঁটয়োছিলেন। এরাই হয়ে দাঁড়য়োছলেন উপরোক্ত 
ওইসব নতুন ভাবাদর্শের প্রবস্তা। এ'রা পারচিত ছিলেন “পারব্রাজক' (আক্ষারক 


৯১৪২ 


অর্থে ভ্রমণকারী বা তাঁথযান্রী) ও "শ্রমণ” নামে। পেরবতাঁকালে এই শ্রমণ' শব্দটি 
দিয়ে অ-রক্ষণশশীল ধর্মান্দোলন বা ধর্ম-সম্প্রদায়ভুক্ত গৃহত্যাগী সন্াসীদের 
বোঝানো হোত।) গোড়ার দিকে এই শ্রমণরা তাঁদের নিজস্ব মঠ এবং সম্প্রদায় গড়ে 
তোলেন নি, কিন্তু পরে অপেক্ষাকৃত স্বনামধন্য ভ্রমণকারীদের ঘিরে অনূরক্ত 
অনুসারীরা একান্রত হতে শুরু করলেন। 

মতাদর্শগত আলোড়নের এই পর্যায়ে উদ্তব ঘটল বহদতর মতবাদ ও মতাদর্শগত 
প্রবণতার, তবে এই সময়কার প্রধান-প্রধান সংস্কারসাধক মতবাদের প্রাতজ্ঠাতারা 
এইসব মতাদর্শের অনেক কিছুই পরে আত্মসাৎ করে সেগুীলকে আরও বিশদ 
করে তুললেন। গোড়ার দিককার সবক্শট শ্রমণ-সম্প্রদায় বেদের কর্তৃত্ব মেনে নিতে 
অস্বীকার করল, বেদ-ভিত্তিক মতাদর্শগত ও সামাজিক নিয়মকানুনও মানতে 
রাজি হল না তারা। স্বভাবতই এর ফলে “পরম জ্ঞান'এর একমাত্র অধিকারী হিসেবে 
ব্রাহ্মণদের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যাত হল, অথচ এর আগে পর্যন্ত ওই জ্ঞান সাধারণ 
মানুষের আঁধকার-বহির্ভৃত বলে গণ্য হয়ে আসাছল। ব্রাহ্মণদের জ্ঞানার্জনের এই 
বিশেষ অধিকার বোদক সমাজে বর্ণশ্রেম্ঠ হিসেবে তাঁদের গণ্য হওয়ার পক্ষেও 
একটা যুক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কাজেই, শ্রমণদের বিপুল সংখ্যাধিক্য অংশ অন্যান্য 
বর্ণের প্রাতানধি হওয়ায় তাঁরা-ষে প্রচন্ড দঢ়তা নিয়ে পরোহিততন্তের সামাজিক 
অধিকারের দাবিদাওয়া প্রত্যাখান করবেন, এটা খুবই স্বাভাবিক ছিল। 

শ্রমণদের উপস্থাপিত সবক্শট মতবাদের অপর একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য ছিল 
নীতিগত প্রশ্নাদ সম্পর্কে সেগুলির দৃস্টিভাঙ্গর গভীরতা । বোদক সাহিত্যে প্রথম 
[নরৌশশিত ও 'বশদীকৃত বর্ণভেদ-ভিভ্তিক এীতিহ্যাঁসদ্ধ সমাজ-ব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান 
করে সেগ্যালিকে তখন নতুন করে খ*জতে হয়োছিল প্রকৃতিতে ও সামাঁজক পরিবেশে 
মানুষের স্থান-সম্পাঁকৃত প্রশ্নাটর সদুত্তর। এই লক্ষ্যসন্ধানে নিয়োজিত তাত্তিক 
'ন্রয়াকলাপের তাব্রতার অবশ্য মান্লাভেদ ছিল সংস্কারসাধক 'বাঁভন্ন এই ভাবধারার 
মধ্যে। এ-বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মগুরুদের দ্বারা 
বিস্তারতভাবে আলোচিত ও সমাধিত নোৌতিক প্রশ্নাদ কেবলমান্ন এই দ্যাট 
ধর্মান্দোলনেরই নিজস্ব বৌশিষ্ট্য নয়, তা ওই যুগের সকল অ-রক্ষণশশল ধর্মশিক্ষার 
যা বৈশিষ্ট্য, আচার-আচরণের সেই নতুন মান-সন্ধানের প্রকাশও বটে। 

শ্রমণ-সন্াসীদের ভাবধারাগুঁলির সামাঁজক তাৎপর্য ভারতের ইতিহাসে এক 
উল্লেখ্য ব্যাপার । শ্রমণ ধর্মপ্রচারকরা নিজেরা কিন্তু কোনো বিশেষ ধরনের সামাজিক 
কর্মসূচি ঘোষণা করেন নি, তবে তাঁদের অনেক ধ্যানধারণা এবং বিশেষ করে 
'রন্মণ্য ভারত'এর বিরুদ্ধে তাঁদের আপসহীন মনোভাব ব্রন্গণ্য ধর্মীশক্ষার সমর্থনপৃত 
উপজাতি-ভীত্তক অনৈক্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত গোড়ার যুগের ভারতায় রাষ্ট্রগ্ীলর 
শাসকদের তাঁদের সন্তাব্য সহযোগী করে তোলে । ভারতের তৎকালীন রাজনোতিক 


১৪৩ 


জীবনে কেন্দ্রীভবনের যেপ্রাক্রয়া শুরু হয়েছিল তা মিলে গিয়েছিল ধমাঁয় ও 
আত্মিক জীবনে এক্প্রয়াসশ প্রবণতাগ্লির আবির্ভাবের সঙ্গে। মনে রাখা দরকার 
যে এটি কোনো আপাতিক ঘটনা 'ছিল না, কেননা তখন বহ7সংখ্যক পরস্পর-ীনরপেক্ষ 
স্বাধীন ধর্মগুরুর জায়গায় ক্রমশ দেখা "দিচ্ছিল গোটা ভারত জুড়ে স্বীকৃতিলাভে 
সমর্থ অল্প কয়েকাঁট ধমীঁয় মতাদর্শ । 

এগ্ালর মধ্যে কয়েকটি ধমঁয় মতাদর্শ অবশ্য গোটা দেশের পক্ষে তাৎপর্যবহ 
ছিল না, তব এই সবকণশট মতাদর্শই সেই ষ্ুগে ও তার পরবতাঁ যুগগলিতে 
প্রাধান্য লাভ করে ছিল যে-সমস্ত ধ্যানধারণা ও ভাবনাচিন্তা সেগ্ালর 'বকাশের 
ব্যাপারে বিপুল প্রভাব বিস্তার করোছল । প্রাচীন বৌদ্ধ পাঁথগুীলতে এমন ছ'জন 
প্রচালত ধর্মমত-বিরোধ?” গুরুর নাম পাওয়া যায় যাঁদের সঙ্গে বৌদ্ধ গুররা তুমুল 
বিতর্কে প্রবৃত্ত হয়েছিলেন। এ“দের মধ্যে ছিলেন সেকালের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 
ধমাঁয় ও দার্শানক ভাবধারা জৈন ও অজাবিকবাদের প্রাতিষ্ঠাতারা। 


জৈনধর্ম 


ভারতের প্রাচীনতম অ-সনাতনী ধর্মগ্রলির একটি হল জৈনধর্ম। প্রাচীন 
লোকশ্রতি থেকে এই ধর্মের উত্তবের কাল ও এর প্রাতিষ্ঠাতার নাম জানা গ্েছে। 
জৈনধর্মের প্রাতজ্ঞঠাতা ছিলেন বিদেহ (বর্তমানে বিহার)-নিবাসী বর্ধমান নামে 
ক্ষত্নিয়-বর্ণোস্ভুত এক ব্যক্তি । খুবস্টপূর্ব ষম্ঠ শতাব্দীতে ইনি জীবত ছিলেন। 
মাত্র আটাশ বছর বয়সে পিতৃগৃহ ত্যাগ করে ইনি বনে চলে যান ও সেখানে 
সন্ন্যাস-জীবন বরণ করে ধ্যানে মগ্ন থাকেন (প্রাচীন ভারতাঁয়দের কাছে কৃচ্ছসাধনের 
দ্বারা দৈহক বাসনা-কামনার অবদমন এবং এর মধ্যে দিয়ে একদিকে সাধারণ 
মানাবক স্পৃহা ও দুর্বলতার দূরীকরণ ও অন্যাঁদকে মান্ষের মনঃসংযোগের 
শক্তিব্দ্ধি ঘটানোর ব্যাপারটি ছিল স্বতঃসিদ্ধ)। বারো বছর এইভাবে সন্ব্যাস- 
জীবনযাপন ও তপস্যার মধ্যে দিয়ে বর্ধমানের মনে দানা বেধে উঠল নতুন এক 
ধর্মের নীতিসমূহ । অতঃপর ভারতের নানা অণ্চল পারিভ্রমণ করে 'তাঁন এই নতুন 
ধর্ম প্রচার করতে লাগলেন এবং এইসত্রে সংগ্রহ করলেন বৃহৎ এক শিষ্যমশ্ডলী। 
বধধমান জাঁবিত ছিলেন আশি বছরেরও বোশ। গোড়ার 'দিকে তাঁর প্রচারিত 
ধর্মের বিস্তার ঘটেছিল শুধ্দমান্র বিহারেই, সেখানে তিনি বহু প্রভাবশালী 
পৃন্তপোষক পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবতাঁকালে তাঁর এই ধর্মের প্রচার-কেন্দ্র গড়ে 
ওঠে ভারতের অত্যন্ত প্রত্যন্ত বহ; প্রদেশেও। অতঃপর এই নতুন ধর্মের প্রাতষ্ঠাতা 
পারচিত হলেন মহাবীর, অথবা ণজন, (বিজয়) নামে। সেকালে এই ধরনের 
সম্মানসূচক নানা উপাধি দেয়া হোত বিশেষ শ্রদ্ধাভাজন ধর্মগুরুদের (বস্তুত, 


১৪৪ 


'জৈনধম” নামটিই উদ্ভূত হয়েছিল উপরোক্ত ওই দ্বিতীয় উপাঁধ থেকে। অথাৎ, 
জিন-এর প্রচারিত ধর্মই জৈনধর্ম)। এই নতুন ধর্মের সন্স্যাস-জীবন যাপনকারণ 
বহু অনুসারী ছাড়াও অসংখ্য গৃহীও অজ্পাঁদনের মধ্যে মহাবীরের শিষ্যদের দলে 
যোগ দিলেন। এই গৃহী শিষ্যরা বিষয়-সম্পাত্ত বা পাঁরবার-পাঁরজন ত্যাগ করলেন 
না বটে, তবে জৈনধর্মে বিধিবদ্ধ স্ানার্ষ্ট আচার-অনূম্ঠান মেনে চললেন। পরবতাঁ 
কালে জৈনধর্ম শুধু ভারতের সাংস্কীতিক জীবনেই নয়, দেশের সামাঁজক জাঁবনেও 
তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা নেয় ।* 

জিন-প্রচারিত (ও তাঁর ঘানম্ঠ শিষ্যদের দ্বারা বিশদশকৃত) ধর্মীশক্ষার অন্তঃসারের 
ব্যাখ্যা পাওয়া যায় গোড়ার দিককার জৈন ধমপ্রল্থগ্লিতে। এইসব গ্রন্থে মানুষের 
বিশ্ববোধের 'ভাত্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে পণ্েন্দ্রিয়ের সাহায্যে লভ্য জগৎ সম্বন্ধে 
মানুষের তাৎক্ষণিক প্রত্যক্ষ জ্ঞানকে (ওই সময়ে আবির্ভূত অন্যান্য ধর্মীশক্ষাতেও 
এই একই কথা বলা হয়েছে)। বস্তুত, এই বিশেষ ধরনের বাস্তববাদ প্রাচীন কালে 
আঁবির্ভীত আঁধকাংশ ধর্মীশক্ষারই অঙ্গীভূত (এবং এট কেবল ভারতের ক্ষেত্রেই- 
যে সত্য তা নয়)। জৈন ধর্মশিক্ষায় বন্তুজগং ও আঁত্বক জগৎকে দুই 'বিরুদ্ধ-শাক্ত 
হিসেবে উপস্থাপিত করা হয় নি: বলা হয়েছে মানুষের অনুভব ও চিন্তার ক্ষমতা 
ঠিক সেই রকমই জীবনের এক স্বাভাঁবক লক্ষণ, যে-লক্ষণ অনুক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে 
মানুষের চতুম্পার্থখের প্রকৃতি-জগতে। প্রথম দৃষ্টিতে এই নাতিসত্রাটকে 
আংিকভাবে বস্তুবাদী চিন্তার লক্ষ্যে একটি পদক্ষেপ বলে মনে হতে পারে, তবে 
তা শুধুমাত্র আধাঁশকভাবেই, কেননা জৈনধর্ম আলোচ্য এই নীতিসূত্রের মধ্যে যে- 
কোনোদকে যাক্তসম্মত "সিদ্ধান্ত টানার অবকাশ রেখে সনিয়মিতভাবে দুটি 
সন্ভতাবনাকেই বিকশিত করে তুলেছে। এই তত্ব কেবল-যে আত্মক জগৎকে 'বস্তুভূত' 
করছে তা-ই নয়, বন্তুজগৎকেও তা করে তুলছে “আঁত্মক'। এতে আত্মা সম্বন্ধে প্রাচীন 
ধারণাকে একেবারে চরম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বল হয়েছে, আত্মা সর্ববস্তুতে 
1বরাজমান; গাছপালা, এমন কি পাথরেরও আত্মা আছে। আত্মা আঁবনাশী আর 
তা ঈশ্বরেরও সম্ট নয়। 


* জৈনদের (বর্ধমান বা জিন-এর 'শিষ্য-সম্প্রদায় নিজেদের এই নামেই আভহিত করে 
গাকেন) 'নজেদের 'বশ্বাস তাঁদের ধর্মমত বহু পুরাকাল থেকেই প্রচলিত। এ-প্রসঙ্গে তাঁরা নাম 
করে থাকেন চাস্বশ জন ধর্মগুরু বা তথাকাঁথত "তীর্থকর'এর আস্তত্বের ম্রোতাঁস্বনী পদত্রজে 
পারাপারকারীর), যাঁদের মধ্যে বর্ধমান হলেন সবশেষ তীর্থ*কর। আসলে এই নতুন ধর্মবিশ্বাসটির 
সবকণট প্রধান নীতিসূত্রের সঙ্গে বর্ধমানের নামই জাঁড়ত অথবা সেগুলি আরও পরবতাঁ পর্যায়ে 
উদ্ভৃত)। তীর্থগ্করদের সম্বন্ধে উপরোত্ত এই সমস্ত কাহিনী পৌরাণক আতিকথা, লোকপ্রবাদ এবং 
পৃববতর্ যুগে ধর্মসংস্কারের িছু-কিছহ প্রয়াসের স্মৃতির জমাম্টমান্। _ লেখক 


10--498 ১৪৬ 


তাৎক্ষণিক অভিজ্ঞতা থেকে তথ্য-সংগ্রহ ও তার 'ভান্ততে "সিদ্ধান্তে উপনীত 
হওয়া ছাড়াও, বেদ ও উপাঁনষদে বিবৃত ধ্যানধারণার 'ভানত্ততে গৃহীত নানা 
'সিদ্ধান্তও সমান গ্রাহ্য বলে গণ্য হল জৈনদের কাছে। যেমন, উদাহরণস্বরূপ, তাঁরা 
বিশ্বাস স্থাপন করলেন পুনরজ্মবাদে এবং পুনজন্মের কৃতকর্মের ফল অন্যায়ণ 
নতুন জন্মলাভের যে-তত্ সেই কর্মবাদে। 

প্রকীতিজগতে সকল বস্তুরই প্রাণ আছে জৈনরা এই তত্ব গ্রহণ করায় এর সঙ্গে 
তাঁদের উপরোক্ত পুনজরন্মবাদের ধারণা চমৎকার খাপ খেয়ে গেল এবং এর ফলে 
নানাপ্রকার প্রাণী ও বস্তুর মধ্যে বিভেদের সকল সমানাই গেল ঘুচে । অর্থাৎ তাঁদের 
মতে, মানুষ পরজল্মে পাথরে পরিণত হতে পারে আবার পাথর জল্মান্তরে হতে 
পারে মানুষ । জৈনরা বললেন, কর্মবাদই আত্মার আধার কী হবে তা নির্ণয় করে 
এবং জল্মান্তরে আত্মা ইতর প্রাণন, মানুষ, দেবতা কিংবা দানবের দেহ ধারণ 
করতে সমর্থ । 

বোঁশর ভাগ প্রাচীন ভারতীয় ধর্মমতের মতো জৈনধর্মেরও মূল লক্ষ্য ছল 
নিছক পরম জ্ঞান অজনে মানুষকে সহায়তা দেয়া নয়, বরং এমন সমস্ত বাধ-ীবধান 
নিয়মকানুন 'নার্দস্ট করে দেয়া যা নাকি মানুষকে সাহাষ্য করবে বাস্তব জীবনে তার 
ধমাঁয় আদর্শ অর্জনে। যেমন উপানিষদসমূহে তেমনই জৈনধর্মেও এই আদর্শ হল 
“পরমা মুক্ত” অর্থাৎ সকল বাসনা-কামনা ও পার্ঘব বন্ধনের হাত এাঁড়য়ে এমন 
একটা অবস্থায় উত্তীর্ণ হওয়া যে-অবস্থায় ব্যক্তিসত্তা মিশে যাবে নৈর্যাক্তক, 'নাঁখল 
্রহ্মান্ডের সমগ্রতায়। মানুষ যখন এই তুরীয় অবস্থা প্রাপ্ত হয়, তখন সে উত্তীর্ণ 
হয় আস্তত্বের সর্বপ্রকার প্রাকীতক নিয়মের দাসত্বানগড় ভেঙে এবং অতঃপর তার 
আর পুনজন্ম হয় না। 'সর্ববন্ধনমুক্ত' এই সন্তা জগতে সবাঁকছুর উধের্ সবাঁকছ 
থেকে সে শ্রেম্ত, এমন কি দেবতাদেরও সে অতিক্রম করে যায়-_-কারণ দেবতারাও 
কর্মবাদের অধীন। মানুষ এবং বিশেষ করে 'অহান্তুরা” (অর্থৎ যে-সব জৈন 
সন্নযাসী পূর্ণ 'নর্বাণ প্রাপ্ত হয়েছেন) দেখও।ধের চেয়ে উচ্চাসনে আঁধান্ঠত, কেননা 
দেবতারা “অহন্তত্ব লাভে অসমর্থ । পূর্ণ মাক্ত পেতে গেলে দেবতারও মান্দষের 
ঘরে, মানৃষের জগতে পুনজর্ম লাভ করা দরকার । 'মুক্তর পথ' প্রসারিত অসামান্য 
কঠিন তপশ্চর্যা, সর্বত্যাগ ও আত্মপীড়নের মধ্যে দিয়ে । 

জৈনধর্মের ইতিহাসে একমান্র গুরুতর অনৈক্যের কারণ সাঁন্ট হয়েছিল এই 
তপশ্চর্যার পদ্ধতি বিষয়ে মতান্তর নিয়েই। "শ্বেতাম্বর' জৈন বা শ্বেতবসন-পাঁরাহত 
জৈন সম্প্রদায় তখন সমালোচিত হয়োছল বেশভূষা সম্পূর্ণ পাঁরত্যাগ্রকারী 
অপেক্ষাকৃত রক্ষণশণল অপর সম্প্রদায়টির দ্বারা। এই শেষোক্ত জৈন সম্প্রদায় 
পারচিত ছিল ণদগম্বর' জৈন বা 'দিকরুপ বন্ত্র-পারিহত জৈন সম্প্রদায় 


১৪৬ 


জৈনধর্ম অনুযায়ী, গৃহনীর নয় একমাত্র সন্ন্যাসীর আত্মাই "মুক্তি" পেতে পারে। 
অতএব এটা কোনো আপাঁতিক ঘটনা নয় যে প্রাচীন ভারতে অন্যান্য সব ধর্মের 
অনুসারীদের চেয়ে জৈনরাই অনেক আঁধক সংখ্যায় সন্ন্যাস গ্রহণ করে তপশ্চর্যায় 
মনোনিবেশ করতেন। এমন কি মহাবীর" বা শজন' অথবা বিজয়ী উপাঁধিটিও 
বহনবারের প্দনর্জন্মে পার্থিব বাসনা-কামনাকে জয় করার সঙ্গে সংযুক্ত এবং 
সন্ন্যাস গ্রহণ ও তপশ্চর্যার দ্যোতক। 

জৈন নীতিশাস্তের এক অপারহার্য অঙ্গ ও মূলনীতি হল “'অহিংসা' জৌঁবস্ত 
প্রাণী হত্যা না করা)। জৈন সাধ্‌রা কেবল-ষে প্রাণনহত্যা থেকেই বিরত থাকতেন 
তা নয়, ক্ষুদ্রাতক্ষদ্র পোকামাকড়ও যাতে দৈবক্রমে পায়ে না মাঁড়য়ে ফেলেন 
সেজন্যে আঁতমান্রায় সতর্ক থাকতেন। পরবতাঁকালে জৈন পাথগ্দালতে সাধুদের 
আচরণাঁবাঁধ 'াববৃত হয়েছে বিশদভাবে । এই রকম আটাশাঁটি আচরণাঁবাঁধ মেনে 
চলতে হোত তাঁদের, যার অন্তভূক্ত ছিল সত্যবাঁদতা, সংযম, বৈরাগ্য, চুরির ওপর 
কঠোর নিষেধাজ্ঞা, ইত্যাদ। তবে জৈনধর্মের গৃহী অনুসারীদের জন্যে এইসব 
বাঁধানষেধের কঠোরতার মান্রা ও এদের সংখ্যা কম ছিল। 

অল্পকালের মধ্যেই জৈনধর্ম ব্যাপকভাবে ছাড়িয়ে পড়ল দেশ জুড়ে, তবে বৌদ্ধ 
বা 'হন্দুধর্মের উপযুক্ত প্রাতদ্বন্ী হতে পারল না কোনোদিনই । খ২স্টজন্মের 
পরবতাঁ গোড়ার 'দকের শতাব্দীগ্ীলিতে এই ধর্মের প্রভাব নিঃসন্দেহে হ্থাস পায়, 
তবে আজও পর্যন্ত ভারতে ছোট একটি দূঢ়বদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে এর আস্তত্ব টিকে 
আছে। তব্দ এও অনস্বীকার্য ষে প্রাচীন ও মধ্য যুগে ভারতীয় সংস্কাতিতে 
জৈনধর্মের প্রভাব পড়েছিল ব্যাপকভাবে । এই ধর্মের প্রেরণায় রচিত হয় বিপুল 
এক সাহত্য এবং জৈন-দর্শনে নিহত বাস্তববাদ বিজ্ঞানের নানাক্ষেত্রে এই ধর্মের 
অনুসারীদের আগ্রহী করে তোলে। ভারতশয় বৈজ্ঞানিক কীর্তকলাপের ক্ষেত্রে 
জৈনদের অবদান ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ । 


প্রথম যুগের বৌদ্ধধর্ম: বৌদ্ধ ধর্মনীতির সারকথা 


অন্যান্য সংস্কার-ভীত্তক ধর্মীশক্ষার মতো বৌদ্ধধর্মও সবচেয়ে ব্যাপকভাবে 
প্রচারিত হয়েছিল উত্তর ভারতে এবং বিশেষ করে মগধে। মগ্ধধ তখন গণ্য হোত 
রন্মণ্যধর্ম গ্রহণে সবচেয়ে অনিচ্ছুক একটি রাজ্য এবং অ-সনাতনা ধর্মপ্রচারের এক 
কেন্দ্র হিসেবে। অ-সনাতনী অথবা তথাকথিত প্রচাঁলত ধর্মদ্বেষী ধর্মমতগ্যালর 
মধ্যে অনেকগ্যাঁল ব্যাপারে সাধারণ একটা এঁক্য ছিল, তবে সেগঁলর মধ্যে আবার 
মতভেদও ছিল প্রচুর। গোড়ার দিকে বৌদ্ধধর্মের তেমন কোনো প্রভাব ছিল না 
এবং এট ছিল অ-সনাতনী ধর্মমতগ্ীলর একাঁট--যা নাকি ব্যস্ত ছিল উপ- 


10” ১৪৭ 


মহাদেশের শাঁক্তশালণী রাম্ট্রগ্লির, বিশেষ করে মগ্ধধের রাজ্যশাসকদের, সমর্থন 
আদায়ের জন্যে। 

কড়াকড়িভাবে কায়েম-করা জাতিভেদ-প্রথা প্রত্যাখ্যান করে উপাত্ত বা 
জাতিপারচয়-নরপেক্ষভাবে সকল মানুষের সমানাধিকার সমর্থন করায় এই নতুন 
ধর্মমত সমাজের বাঁণক সম্প্রদায়ের কাছে বিশেষরকম আকর্ষণীয় হয়ে উঠল। এই 
বাঁণকরা ছিলেন বৈশ্যদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত সম্পন্ন, অথচ বরহ্গণ্যধমের আওতায় 
সমাজ-কাঠামোয় এদের জন্যে নার্দন্ট ছল বেশ নিচু স্থান। এছাড়া বোদ্ধধর্ম 
ক্ষান্রয়দের মধ্যেও বেশ জনাপ্রয় হয়ে উঠল। ওই সময়ে ক্ষত্রিয়রা নিজেদের হাতে 
কেন্দ্রীভূত করে তুলাছিলেন ক্রমশ বোশ-বেশি ক্ষমতা, অথচ সেইসঙ্গে এ-ও অবগত 
ছিলেন যে ব্রাহ্মণরা তাঁদের ওপর প্রবল মতাদর্শগত চাপ বজায় রেখেছেন এবং 
নিজেদের জাহির করছেন সর্বশ্রেষ্ঠ ও একমান্র পবিল্ন বর্ণের প্রাতানীধ, এমন কি 
পার্থিব দেবতা হিসেবেও । 

বৌদ্ধ সম্প্রদায় বা 'সঙ্ঘ'এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অধিকার পেলেন সকল বর্ণের 
মুক্ত প্রাতিনাধরা এবং এর ফলে এই নতুন ধর্মের প্রভাবের পাঁরাধ বিপুলভাবে 
বিস্তৃত হল। এমন কি যাঁরা সঙ্ঘে যোগ 'দলেন না স্বর্গলাভের পথ তাঁদের জন্যেও 
উন্মুক্ত রইল--গৃহশী ভক্তদের জন্যে এই আদর্শ প্রচার করলেন বুদ্ধদেব । প্রথম 
যুগে বৌদ্ধধর্মে নীতিগত দিকটিই ছিল প্রধান; গৃহনদের উদ্দেশে প্রচারিত তাঁর 
বাণতে বুদ্ধদেব জল আধাবিদ্যা-সংক্রান্ত প্রশ্নগ্ঁলি নিয়ে বিশদ আলোচনায় 
মনোযোগী হন ি। 

প্রাথামক পর্যায়ে বৌদ্ধধর্মের সাফল্যের মূলে অনেকখান পারিমাণে ছিল এই 
ঘটনাঁট যে ব্দ্ধদেব তাঁর ধর্মীশক্ষায় সকল পুরনো এতিহ্য ও রাঁতনীতিকে 
প্রত্যাখ্যানের আহবান জানান 'ি। প্রসঙ্গত স্মর্তব্য যে ভারতের সেই প্রান ও 
রক্ষণশীল সমাজে সোঁদন সামাঁজক ও বাদ্ধিচর্ঠার উভয় ক্ষেত্রেই এইসব এঁতিহ্য 
ও রীতনীতির মূল দৃঢ়ভাবে প্রোথিত ছিল! বুদ্ধদেব তাই চেস্টা করোছলেন 
নতুন এক ব্যাখ্যার অবতারণা করতে, প্রচালত নানা আচারবিধির সম্পূর্ণ নিজস্ব 
এক ব্যাখ্যা দিতে । 

তবে প্রধানত বৌদ্ধধর্ম ছিল এক মৌল ধর্মমত। এটি অন্যান্য ভারতীয় 
ধর্মমতের থেকে এতখানি পৃথক ছিল যে পরবতর্ঁকালে বেশ কয়েকবার চেষ্টা হয়েছে 
এই ধর্মমতকে ভারতের সীমানার বাইরে অন্যান্য দেশে উদ্ভূত অন্যান্য ধর্মমতের, 
যেমন খ্স্টধ্মের, সঙ্গে এক করে দেখানোর । তবে বৌদ্ধধর্মের অন্তভূর্ত বহুতর 
নতুন ধ্যানধারণাকে সাধারণ এঁতিহ্যাঁসদ্ধ ধ্যানধারণার কাঠামোর মধ্যে অত্যন্ত 
সতকরভাবে ধাঁরয়ে দেয়া হয়েছে। অবশ্য একথাও সাত্য যে বৌদ্ধধর্ম কোনোদিন 
এই এঁতিহ্যাদ্ধ ধ্যানধারণাগলিকে পুরোপদাবি প্রত্যাখ্যান করে নি। 


৯৪৮ 


পণ্ডিতেরা বৌদ্ধ ধর্মমত ও উপনিষদসমূহের মধ্যে যে একটা যোগসূত্রের কথা 
বলেন সেটা নিছক অমূলক নয়। অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে বুদ্ধদেব 
উপাঁনষদসমূহে বিধৃত নীতিগ্যাীল গ্রহণ করোছিলেন। বরং একথা বললেই 
অপেক্ষাকৃত সঠিক বলা হয় যে প্রাচীন ভারতের 'বাভন্ন অণ্চলে সমাজ-ব্যবস্থা ও 
সংস্কৃতির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে যে-সমস্ত নতুন ধ্যানধারণার উত্তৰ ঘটাছল তারই 
প্রাতকলন দেখা যাচ্ছিল সমকালে-রচিত উপানিষদসমূহে। 

বৌদ্ধধর্ম ও রন্গণ্যধর্মের মধ্যে বহীবধ সাদ্‌শ্যের নানারকম কারণ নির্দেশ করা 
সম্ভব। প্রসঙ্গত, এটা কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ যে বৌদ্ধধর্ম ও অন্যান্য ধর্ম- 
সংস্কারমূলক মতবাদের আবিভনব সত্তেও কয়েক শতাব্দী ধরে বংশ-পরম্পরাক্রমে 
আচাঁরত ভারতীয়দের এীতহ্যাঁসদ্ধ ধর্মমতে মৌল কোনো পাঁরবর্তন ঘটে নি। 
জৈনধর্মের মতো বৌদ্ধধর্মও রুন্ষণ্যধর্মের প্রসাদপুস্ট এ্রাতহ্যাসদ্ধ ভারতীয় 
পুজাপার্বণ-পদ্ধাত গ্রহণ করে নেয়। এ-কারণেই বোদক ও রন্গণ্যধর্মের দেবদেবীরা 
বৌদ্ধধর্মে নিন্দিত হন 'ন। 

এঁতিহ্যসিদ্ধ ভারতীয় দেবদেবীদের বৌদ্ধধর্ম প্রত্যাখ্যান না-করলেও ওই 
ধর্মমতের আওতায় তাঁদের জন্যে এমন একটা আকণ%কর স্থান 'নার্ন্ট হয় যে 
বৌদ্ধধর্মের অন্তভূক্ত হবার পর শেষপর্যস্ত বলতে গেলে তাঁরা লোপই পেয়ে যান। 
বহ্মণ্যধমের দেবদেবীদের বৌদ্ধধর্মে এইভাবে আত্মসাৎ করে নেয়ায় এই ধর্মমতাঁট 
[নঃসন্দেহে দেশের 'বাভন্ন অণুলে অন্যান্য ধর্মের চেয়ে অনেক বোঁশ জনাপ্রয় হয়ে 
ওঠে । তবে ব্রন্মণ্যধর্মের ধ্যানধারণাগুলি এইভাবে আত্মসাৎ করার ফলে বোদ্ধধর্মের 
নিজেরই বক্গণ্যধর্মের কবালিত হয়ে পড়ার একটা আশঙুকা-যে 'ছিল না এমন নয়। 
বৌদ্ধ ধর্মমতের প্রাথথীমক বিকাশের স্তরটি লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে ওই স্তরে 
বোদিক দেবদেবাদের প্রীতি শ্রদ্ধানবেদন যে-নতুন ধর্মের কাঠামোর মধ্যে তার চর্চা 
করা হোত সেই ধর্মের বৌশষ্ট্যসৃচক অন্তঃসার কিংবা তার স্বাধীনতার পক্ষে 
ক্ষীতকর হয়ে ওঠে নি। বৌদ্ধধর্মের (বস্তুত উপানষদসমূহে বিধৃত মতাদর্শেরও) 
প্রধান বৈশিষ্ট্য ছল পূজাপার্বণের স্ানার্দস্ট পদ্ধাতগ্রাঁলর প্রাতই অমনোযোগ 
প্রদর্শন। 

উপনিষদসমূহের মতাদর্শের মতো বৌদ্ধধর্মেও 'পুনজন্মবাদ' ও 'কর্মবাদ' 
স্বীকৃত। আত্মা আঁবনাশী এই তত্ৃকে প্রত্যাখ্যান করে বৌদ্ধধর্ম খোলাখুলি ঘোষণা 
করেছে যে আসলে আবনশ্বর হল আঁত্মক শাক্ত। এই শাক্তর কোনো ধরনের 
প্রকাশই নিরর্থক হতে পারে না। 'বাঁচ্ছন্নভাবে দেখলে এরকম একেকটি প্রকাশ হল 
রূপান্তরগ্রহণের এক নিরবাচ্ছন্ন ধারারই একেকটি মৃহূর্তমান্ত। যা-কিছ আঁত্বক 
গুণসম্পন্ন তার অন্তহীনতার এই ধারণা থেকে কর্মবাদের উৎপান্ত। যেহেতু কোনো 
কর্মই লোপ পায় না, সেইহেতু কোনোঁদন-না-কোনোদিন অবশ্যগ্তাবী যত-সব 


৯১৪৯ 


ফলাফল নিয়ে তা প্রকাশ পাবেই। আর যেহেতু কর্মাট প্রকাঁতিগতভাবেই আঁত্মক 
গুণসম্পন্ন, তাই দেহের জীবদ্দশার কাঠামোয় সে আবদ্ধ নয়। এইভাবে নতুন এক 
জন্ম পূবানরধারিত হয়ে যাচ্ছে অতটতের কাজকর্ম দিয়ে, অথবা অন্ততপক্ষে অতাঁত 
কর্মের আত-গর্ত্বপুর্ণ প্রভাবের অধীন হচ্ছে। 

বৌদ্ধ ধর্মমত সম্বন্ধে মন্তব্যপ্রসঙ্গে অকাদামাশিয়ন শ্চেরবাতৃজ্কয় লিখছেন : 
“সত্তা... হল মাঁনটেীমানটে জল্ম ও অবলপ্তির এক নিরবাচ্ছন্ন ধারা । এই ধারা 
আবার কার্য-কারণ সম্বন্ধের নিয়মের অধীন...। জগতে কেবল-যে চিরস্থায়শী বলে 
কছু নেই তা-ই নয়, চিরস্থায়ী কোনো সন্তা্ড নেই কোথাও । অতএব আঁত্মক বা 
বস্তুগত এমন কোনো পদার্থই নেই।%* 

বুদ্ধদেব জগতের সবাঁকছুকেই গণ্য করতেন নিয়ত পরিবর্তনশঈীল অবস্থায় 
আছে বলে। ধম” মোনুষের ইন্দ্রিয়বোধের অতাঁত সূক্ষন কণাসমূহ)--যা নানার্প 
সংযোগ-নিয়োগের ফলে বস্তুগত ও আ্মক পদার্থসমূহ গঠন করে-_-তা নিয়ত 
গতিশীল এবং এক অন্তহীন যোগ-বয়োগের 'বাভন্ন ছকমান্র। 

বৌদ্ধধর্মের মূলভিত্তি অবশ্য “চতুর্মহাসত্য' সম্বন্ধীয় শিক্ষা। লোকশ্রুতি 
অন্যায়শী এই চারটি “সত্য” বিবৃত করোছলেন স্বয়ং বুদ্ধদেব তাঁর প্রথম 
ধর্মেপদেশে। এইসব 'সত্য'এর স্বরূপনির্ণয় করতে গিয়ে বুদ্ধদেব মানব-আস্তত্বের 
স্বরুপ ও মানুষের দুঃখকস্টের কারণসমূহ নরূপণ করেছেন এবং পথানেশ 
করেছেন মানবমুক্তর। সমগ্রভাবে বিচার করলে এটা স্পম্ট হয়ে ওঠে যে বুদ্ধের এই 
প্রধান ধর্মোপদেশের অন্তঃসারই ছিল মানবমুক্তর পথ সম্বন্ধে উপরোক্ত ধারণাটি। 
লোকশ্র2াত অনুযায়ী, বৃদ্ধদেব নাকি বলেছিলেন যে সমুদ্রের জলের স্বাদ যেমন 
মানষের জীবনকে বলেছেন দুঃখময়, পার্থিব আস্তত্ব ও তার আনন্দ-সম্তোগের প্রাত 
আকুল আগ্রহ থেকে যার উৎপান্ত। এ-কারণেই তিনি মানুষের কাছে আহবান জানান 
কামনা-বাসনা তাগ করতে এবং তাদের সামনে তুলে ধরেন মাীক্তর পথের নিশানা । 
এই মুক্তপথের সন্ধান জানলে মানুষ কর্মবাদ উপেক্ষা করতে পারে এবং সত্য কী 
তা না-জানার জন্যে সে পুনর্জন্মের যে-ক্রে আবার্তত হতে থাকে তা থেকে নিজেকে 
ছিনিয়ে নিতে পারে। বোদ্ধ সঙ্ঘে যে যোগ দেবে সে শনর্বাণ' লাভেও সমর্থ হবে, 
অবশ যাঁদ সে জাগাঁতক জীবনের বন্ধন থেকে ও সকল প্রকার দুঃখকম্ট ও 
কামনা-বাসনা থেকে নিজেকে মক্ত করতে পারে, অবদমিত করতে পারে নিজের 
অহংকে এবং দেহ ও আত্মার দ্বৈতভাবের উধের্ব উঠতে সমর্থ হয়। 


* ফ. ই. শ্চের্বাত্‌স্কয় ॥ পরবতাঁ যূগের বৌদ্ধদের ধর্মীশিক্ষায় নাহত জ্ঞানতত্ব ও ধধাক্তবিদ্যা 
€রূশ ভাষায় লাখত) ॥ সেন্ট 'িটার্সবূর্গ ১৯৯০৯। দ্বিতীয় খণ্ড, ১১৭-১১৮ পৃন্তা 


৯১৫০ 


বৌদ্ধ ধর্মমত অন্হযায়শ, "নর্বাণপ্রাপ্তর অবস্থায় নিয়ত পাঁরবর্তনশধল 
ধর্মগ্লির গাঁত রুদ্ধ হয়ে যায়, ফলে নতুন-নতুন সংযোগ-বিয়োগের শ্রোতও যায় 
র্দ্ধ হয়ে। এর ফলে ঘটে 'সংসার'এর সঙ্গে সম্পূর্ণ 'বচ্ছেদ, অর্থাৎ এক শরণরণ 
সত্তা থেকে অপর সততায় সংক্রমণ যায় বন্ধ হয়ে এবং বস্তু-পদার্থের জগতের সঙ্গে 
ঘটে ছেদ। পরবতাঁ পুনজন্ম-চক্রের শৃঙ্খল অবলোপের সঙ্গে সম্পাকৃত 
নর্বাণপ্রাপ্তকে বৌদ্ধধর্মে দেখানো হয়েছে ভক্তদের কাছে পরম আকাঁতক্ষত এক 
চুড়ান্ত লক্ষ্য হসেবে। মানুষের আদর্শ হলেন “অহান্তু, বা সেই মহাপুরুষ, যান 
নিজ সৎ কর্ম ও আঁত্বক সম্পূর্ণতা অর্জনের চেষ্টার মধ্যে দিয়ে 'নর্বাণপ্রাপ্ত 
হয়েছেন। 

অতএব বৌদ্ধ ধর্মশিক্ষায় মানুষের নৌতক 'দিকটির ওপর-যে অতখান গুরুত্ব 
আরোপ করা হবে এটি কোনো আপাতিক ব্যাপার নয়। মানুষের আচার-আচরণের 
নোৌতিক দিকটি এই শিক্ষায় স্বভাবতই 'বশেষ একটি স্থান আঁধকার করতে বাধ্য। 
বুদ্ধদেব মানুষকে আহ্বান জানিয়েছিলেন 'অস্টমুখ মার্গ অনুসরণ করতে, চর্চা 
ইত্যাঁদ। উপরোক্ত এই নাতিগ্দীলই ছিল বৌদ্ধধর্মের নৌতিকতার অস্তঃসার। 
বদ্ধদেবের শিক্ষা অনুযায়ী, মানুষ এই সঠিক পথের যথাযোগ্য অনুসরণকালে 
সম্পূর্ণভাবে নিজের ওপরই নির্ভর করবে, বাইরে থেকে নিরাপত্তা, সাহায্য ও 
মক্তিলাভের প্রত্যাশী হবে না। 'ধম্মপদ' গ্রন্থে বলা হয়েছে, 'মান্ষ স্বেচ্ছায় অন্যায় 
করে. পাপকাজ করে, স্বেচ্ছায় নজের অধঃপতন ঘটায় সে। আবার স্বেচ্ছায় মানুষ 
অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকে, 'নাজেকে শোধন করাও তার ইচ্ছাধীন। একজন 
মান্ষ কখনোই অপরকে সংশোধন করতে পারে না। 

সৃন্টকর্তা ঈশ্বর, যান নাক মানুষ সহ জগতে সবাঁকছুর জন্মদাতা, মানুষের 
ভবিতব্য যাঁর ওপর নিভরশনল, সেই ঈশ্বরের আস্তত্ব অপরিহার্য বলে মনে করতেন 
না বোদ্ধরা। শোনা যায় বুদ্ধদেব নাক বলতেন, যে-সমস্ত মানুষ এমন ধরনের 
দেবদেবীতে বিশ্বাসী তাঁদের জীবনে ইচ্ছা এবং প্রয়াস বলে কোনোকিছুর আস্তত্ব 
নেই, তাঁরা কোনোকিছু করার কিংবা কোনোকিছু করা থেকে বিরত থাকার 
কোনো প্রয়োজন বোধ করেন না। অপরপক্ষে ব্রহ্মণ্যধর্ম অনুযায়ী, মানুষের জীবন 
ও তার ভবিতব্য সম্পূর্ণভাবে 'নিধ্ণারত হয় দেবদেবাীদের ইচ্ছানুসারে, দেবতারাই 
মান্ষের ইচ্ছা-আনচ্ছা ও ভাগ্য 'নয়ন্্ণ করেন। 

যাঁদও বৌদ্ধধর্ম প্রচার করেছে যে জন্মকালে পৃথবীর সকল মানুষই সমান 
এবং বৌদ্ধ সঙ্ঘের গণতান্তিক চারন্রও এই মতের পরিপোষক, তবু কোনোদিক 
থেকেই বৌদ্ধধর্মকে আমূল সংস্কারকামী সামাজিক আন্দোলন বলা যায় না। 
বৌদ্ধধর্মের উপদেশাবলীতে সকল জাগাঁতক দুঃখকস্টের বোঝা, পার্থব জবালা- 


৯১৫৬১ 


যন্ত্রণা ও সামাজিক অন্যায়ের কারণ হিসেবে 'নর্দেশ করা হয়েছে মানুষের নিজস্ব 
'অন্ধতাকে এবং পার্থব বাসনা-কামনা নির্বাপণে মানুষের অসামর্থযকে। বৌদ্ধ 
ধর্মশিক্ষা অন্যায়ী, জাগতিক দুঃখকম্টকে আতিক্রম করতে হয় সংগ্রামের মধ্যে 
দিয়ে নয়, বরং উল্টো, বহির্জগতের ব্যাপারে সকল প্রাতিক্রিয়াকে নির্বাঁপত করে, 
অহং সম্বন্ধে মান্মষের সকল সচেতনাকে 'বিনস্ট করে। 

বদ্ধ শব্দের অর্থ প্রজ্ঞাবান' বা জ্ঞানী” অথবা পযাঁন সত্যকে উপলান্ধ করেছেন:। 
লোকশ্রাতি অনুসারে, গোতম সিদ্ধার্থ গয়া শহরের কাছে এক অশ্বথবৃক্ষের নিচে 
ধ্যানমগ্র থেকে প্রজ্ঞা অজজন'এর পর বদ্ধ নামে খ্যাত হন। "সিদ্ধার্থ ছিলেন 
শক্তিশালী শাক্য উপজাতির প্রধানের পত্র, কিন্তু ধন-এশ্বর্য ও পাঁর্থব জীবন 
সভ্তোগের আনন্দ প্রত্যাখ্যান করে সন্্যাসী হয়ে যান তিনি। গোড়ার দিককার যে- 
সমস্ত বৌদ্ধ ধর্মশাস্ত্ের পুঁথ এখনও পর্যন্ত সংরাক্ষিত আছে তাতে বোদ্ধধর্মের 
এই প্রাতচ্ঠাতার জীবনকথার অনেক উল্লেখ আছে। এক্ষেত্রে বিশেষ 
কোতূহলোদ্দীপক উপাদান হল খ্ীস্টপূর্ব চতুর্থ ও তৃতনয় শতাব্দীতে পাথরে 
উৎকণীর্ণ 'লাপগ্দাীল। এগুলিতে শুধু-ষে বুদ্ধের নামোল্লেখ আছে তা-ই নয়, তাঁর 
জল্মস্থান (লুম্বিনী) পর্যন্ত উল্লেখ করা আছে। ধর্মীয় পুথিপন্রে উল্লাখত তথ্যের 
সঙ্গে এইসব তথ্য মিলে যায়। 

বৃদ্ধদেবের ইতিহাসাঁসদ্ধ তথ্যপ্রমাণ নিয়ে সমকালীন পশ্ডিতদের মধ্যে প্রবল 
পর্যন্ত চলেছে। এ-সমস্ত সমস্যার সমাধান অত্যন্ত দুরূহ, বিশেষ করে যাঁদ আমরা 
মনে রাখ যে আজকের 1দনে পাণ্ডিতদের বিচারের জন্যে যে-সমস্ত ধমাঁয় পাাথপন্্র 
পাওয়া যায় সেগ্ীল আনুমানিক খঃনস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীর, তার আগেকার নয় 
(লোকশ্রুতি অন্দষায়ী, এগ্‌লি পাথর আকারে লাখত হয়েছে আরও পরে--৮০ 
খীস্টপূর্বাব্দে, শ্রীলঙ্কায়) অর্থাৎ বৌদ্ধধর্মের প্রতিষ্ঠাতার প্রয়াণের কয়েক শো 
বছর পরে । বর্তমানে বৃদ্ধদেবের প্রয়াণের সাধারণভাবে সবচেয়ে বেশি গ্রাহ্য তারিখ 
হল খাসস্টপূর্বাব্দ ৪৮৩ সন (এবং তাঁর জন্মের তারিখ খঃস্টপূর্বাব্দ ৫৬৩ সন)। 


অজশীবকদের ধর্মশিক্ষা 


গোড়ার দিকে বৌদ্ধদের প্রধান প্রাতিপক্ষ ছিলেন অজাবকরা। খুইস্টপূর্ব 
পণ্চম থেকে তৃতীয় শতাব্দীর মধ্যে অজীবিকবাদের বিপুল জনপ্রিয়তার কারণ 
ব্যাখ্যা করা যায় সর্বোপরি বন্গণ্যবাদের বিরুদ্ধে গোসলা কর্তৃক প্রাত্ঠিত এই 
ধর্মের অবিচল ও মৌল সমালোচনা 'দয়ে। ব্রাহ্ষণদের রক্ষণাধীন সমাজ-ব্যবস্থার 
বিরদ্ধে সাধারণের অসন্তোষ বহ7ব্যাপক সামাজিক স্তরগুলির মধ্যে সংস্কার-ভাত্তক 


১৮৭ 


ধর্মান্দোলনের মর্যাদা বাঁড়য়ে তোলে। সমাজে জাতিভেদের কাঠামো ও রাহ্গণদের 
কর্মবাদ-ব্যাখ্যার বিরদ্ধে গোসলা-প্রচারত সমালোচনা কেবল-যে সমাজের নিচু 
স্তরগলির মানুষজনকেই আকর্ষণ করল তা নয়, কারুশিল্পী ও বাঁণকদের যে-সমস্ত 
ছেলেপিলে দরিদ্র-ঘরে জল্ম নেয়া সত্বেও পরে 'নিজ-ননজ চেষ্টায় অর্থসণ্চয় করে 
নতুন বিস্তবান হয়ে উঠেছিলেন আকর্ষণ করল তাঁদেরও। একেবারে গোড়া থেকেই 
গোসলা তাঁর ধর্মপ্রচার কোনো সন্যাসী-সম্প্রদায়ের সংকীর্ণ পারাধর মধ্যে আবদ্ধ 
না-রেখে বরং বোশ করে তা ছাড়িয়ে দয়েছিলেন গৃহী "শিষ্যদের মধ্যে । গোসলার 
প্রারত আপাতদৃম্টিতে সরল তাঁর ধর্মমত সেবাঁকছু ভাবনাচিন্তা ও ধ্যানধারণাকে 
শেষ পর্যন্ত সর্বব্যাপী ও পূর্বাহে-স্ছিরীকৃত নিয়াতর এবং এই পূর্বনরধারণের 
উৎস অদৃ্টবাদের অধীন করে ফেলা) বিপুল সংখ্যক জনসমান্টর মধ্যে এর 
জনপ্রিয়তা বাঁড়য়ে তুলল এবং তাঁর গৃহ শিষ্যরা (অজীবিকদের ধর্মীবশ্বাস গ্রহণ 
করার পরেও) প্রাত্যাহক জীবনে আগের মতোই প্রচলিত পূজাপার্বণ মেনে ও জগৎ, 
ইত্যাঁদ সম্বন্ধে এতিহ্যাসদ্ধ পুরনো বহু ধ্যানধারণা শনয়েই জীবনযাপন করতে 
লাগলেন। গোড়ার 'দকে খ্রিস্টপূর্ব পণ্চম শতাব্দীতে) বৌদ্ধদের চেয়ে 
অজাীবকদের শিষ্য-সংখ্যা বোৌঁশ ছিল বলে মনে হয়। সম্ভবত এর সঙ্গে সমাজ- 
সংস্কারের ক্ষেত্রে অজীবিকদের খোলাখলি গুর্ত্ব আরোপের ব্যাপারটি সম্পাকতি। 
লোকশ্র্2াত থেকে যা জানা যায় তাতে এটাও খুবই স্বাভাবক ঠেকে যে অজীবিক- 
ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে কেবল-যে ধনী বাঁণক-সম্প্রদায় ও কারুশিজ্পীদের 
প্রাতীনাধরাই ছিলেন তা নয়, সমাজের অপেক্ষাকৃত নিম্ন স্তরগ্যালতেও, বিশেষ 
করে কুম্তকারদের মধ্যে, এই ধর্মমতাঁট রীতিমতো জনাপ্রয় ছিল। এই তথ্যটির সঙ্গে 
'বায়-পুরাণ'এ (এই পদাথ্থাট শেষপর্যন্ত সংকাঁলত হয় খ:ুনস্টাব্দ তৃতীয় থেকে ষ্ঠ 
শতাব্দীব মধ্যে কোনো সময়ে, যাঁদও এতে উল্লিখিত ঘটনা ও সামাজিক প্রথাসমূহ 
অপেক্ষাকৃত পৃর্ববতর্শ কোনো এক যুগের) বিবৃত একটি তথ্যের সম্পর্ক আছে 
বলে মনে হয়। তথ্যটি এই যে অজীবিক-ধর্মের অনুসারীরা ছিলেন শুদ্র ও বিভিন্ন 
নিচু জাতের লোক, এমন কি অস্পশ্যরাও ছিলেন তাঁদের মধ্যে। নতুন-নতুন শিষ্য 
সংগ্রহের জন্যে বৌদ্ধ ও অজীবকরা 'িাজেদের মধ্যে সক্রিয়ভাবে প্রাতিযোগতা 
চালাতেন। কাজেই বৌদ্ধ সূব্রসমূহে গোসলা ও তাঁর ধর্মমতকে-যে বিশেষরকম 
কঠোর ভাষায় সমালোচনা করা হবে এটা মোটেই 'বিস্ময়জনক নয়। তাঁদের মধ্যে 
তত্বগত বিতর্ক কখনও-কখনও খোলাখুলি সংঘর্ষে পর্যন্ত পঁরণত হোত। 
সূপারচিত বৌদ্ধ গ্রন্থকার অশ্বঘোষ কোশল-রাজ্যের রাজধানী শ্রাবস্তীপদরের 
অধিবাসী িগর নামে এক ধনী কুসীদজীবী সম্বন্ধে একটি কাহিনী 'লাঁপবন্ধ 
করেছেন। কাহিনীটিতে বলা হয়েছে যে মিগর বহযাদন ধরে অজাীবকদের 
পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং ওই সম্প্রদায়কে প্রচুর পরিমাণে অর্থ 'দয়ে সাহায্য 


১৫৩ 


করতেন। পরে মিগর যখন স্থির করলেন যে বৌদ্ধধর্ম অবলম্বন করবেন তখন 
এককালে তাঁর সাহাষ্যপুষ্ট অজশীবিকরা একেবারে আক্ষরিক অর্থেই তার বাঁড় 
ঘেরাও করলেন। স্পম্টতই, তাঁদের একজন সতীর্থকে হারাতে বসেছেন বলে যে 
তাঁরা অতটা শাঁঙ্কত হয়ে পড়েছিলেন তা নয়, বরং বিনা ব্যাতিক্রমে 'নয়মিতভাবে 
মিগর তাঁদের যে বৈষয়িক সাহাধ্য দিচ্ছিলেন তা বন্ধ হয়ে যাবার সন্তাবনাতেই 
বিচালত হয়ে পড়োছিলেন তাঁরা । 

পালি ভাষায় লাখত বৌদ্ধ ধর্মশাস্তে গোসলাকে একজন জেলের সঙ্গে তুলনা 
করা হয়েছে, যান নদীর মোহানায় জাল পেতে রেখে অসংখ্য মাছ ধরে চলেছেন 
(অর্থাৎ সেই সমস্ত মান্ুষজনকে পাকড়াও করছেন যারা নাক বৌদ্ধ ধর্মাশ্রয়ীদের 
দল ভারি করতে পারভ)। এই উক্তিটি থেকে স্পম্টই বোঝা যাচ্ছে যে উপরোক্ত 
এই দুটি ধর্মমতের মধ্যে কেবল-যে প্রবল প্রাতিদ্বন্দ্বিতা ছিল তা-ই নয়, ওই সময়ে 
অজীবিক-ধর্মের জনাপ্রয়তাও ছিল প্রচুর । 

যাঁদও খ্যীস্টপূর্ব পণ্চম শতাব্দীতে অজীবিকরা যথেম্ট, এমন কি বৌদ্ধ কিংবা 
জৈনদের চেয়েও বোঁশ জনীপ্রয়তার অধিকার ছিলেন, তব পরবতর্শ কালে তাঁদের 
পরস্পরের মধ্যে প্রাতিদ্বন্দিতার পাঁরণামে জয়লাভ ঘটে বৌদ্ধদের । এর একটা কারণ 
মনে হয় অজীবকদের ধর্মমতে এক ধরনের একদেশদর্শিতার আস্তত্ব। যাঁদও 
অজাবিকরা এীতিহ্যাঁসদ্ধ ব্ন্গণ্য দৃম্টিভাঙ্গ ও মতামত প্রত্যাখ্যান করোঁছলেন, তব্‌ 
বৌদ্ধধর্মের মতো ওই যুগের মানুষের সামনে ব্রন্গণ্য মতাদর্শকে প্রাতিহত করার 
উপযোগন জীবনযাপনের প্রধান-প্রধান সমস্যার কোনো অস্ত্র্থক উত্তর তাঁরা 
উপস্থাপিত করতে পারেন নি। মন্ষ্যজীবনের তাৎপর্য জগতে ও সমাজে মানুষের 
স্যানাদ্ট স্থান, ব্যাক্তগত প্রয়াসের মূল্য এবং কোন নীতিসমূহ “সঠিক আচরণের, 
ভাত্ত হওয়া উচিত তা য়ে গোসলার ধর্মশিক্ষায় সাত্যকার কোনো আলোচনা 
ছিল না, অথচ এই সমস্ত সমস্যা ও তাদের সমাধান বৌদ্ধ ও জৈনদের কাছে ছিল 
প্রভূত আগ্রহের বিষয় । অজাীবক-ধর্মে প্রচারিত 'সর্বব্যাপ নিখিল পূর্বনির্ধারণ' 
বা "নয়ীতি'ই নীতিগতভাবে উপরোক্ত সমস্যাঁদর বিবেচনা অসম্ভব করে তুলোছিল। 


ধমশয়-দাশশীনক ভাবধারাসমূহ ও মেগাচ্ছেনিসের বিবরণী 


মগধ ও মোর্যরাজ্যগাঁলতে ধমীঁয় জীবন সম্বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের 
যোগান দিয়েছেন সেল্যকস-বংশীয়দের রাজ্যের রাষ্ট্রদূত মেগাচ্ছেনিস। মেগাস্ছোনিস 
ও তাঁর পরবতর্শ ধ্রুপদী ইউরোপীয় ইতিবৃত্তকাররা ওই সময়কার রক্ষণশীল ও 
অ-রক্ষণশশীল চিন্তাধারাগ্লির মধ্যে যথাযোগ্য ফারাক টেনেছেন এবং প্রাচীন 
ভারতীয় 'দার্শীনকদের” ভাগ করেছেন ব্রাহ্গণ ও শ্রমণ এই দই দলে। 


১৫৪ 


স্ট্রাবোর লেখা শ্রমণদের সম্বন্ধে বিবরণীর সঙ্গে তৎকালীন ভারতণয় 
পুথিপন্রের বিবরণীর ঘাঁনম্ত মিল লক্ষ্য করা যায়। মেগ্াস্ছোনসের মতো স্ট্রাবোও 
রাজাদের সঙ্গে শ্রমণদের সম্পকের ব্যাপারটির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন এবং 
বলেছেন যে চারপাশে যে-সমস্ত ব্যাপার ঘটছে তার অস্তার্নীহত কারণ ব্যাখ্যা করার 
জন্যে রাজারা শ্রমণদের শরণ নিতেন (ভারতনঁয় বিবরণীগ্লির সঙ্গে এ-ব্যাপারে 
স্ট্রাবো, ইত্যাঁদর ববরণীর ঘনিষ্ঠ মিল লক্ষণীয়)। 

স্ট্রাোবো বিশেষ ধরনের একদল শ্রমণের কথা িখেছেন যাঁরা সেকালে জ্যোতিষণী 
ও এন্দ্রজালক হিসেবে সখ্যাত ছিলেন এবং তাঁরা ভক্ষাবাত্ত অবলম্বন করে 
গ্রামে-গ্রামে ও শহরে-শহরে পরিভ্রমণ করে বেড়াতেন (এই বর্ণনা অজশীবকদের 
মধ্যে অত্যন্ত জনীপ্রয় জ্যোতিষী বলে কাঁথত ভ্রাম্যমাণ সন্যাসী-দলগ্াীলর উল্লেখ 
বলে মনে হয়)। 

স্ট্রাবো'র লেখা অপর একটি বর্ণনাও শ্রমণদের সঙ্গে সম্পাক্তি বলে মনে হয়। 
এটি হল প্রমনাই” সম্পর্কে খেব সম্ভব এট "শ্রমণ'দেরই নামান্তর) তাঁর বিবরণী । 
স্ট্রাবো লিখছেন যে প্রমনাই'রা ব্রাহ্মণদের থেকে সম্পূর্ণ বাভন্ন ধরনের ছিলেন, 
বতর্ক ও মতখণ্ডনের প্রবণতা সহ তাঁরা ছিলেন এক বিশেষ ধরনের দার্শানক। 
প্রাকৃতিক ঘটনাবলী ও জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে পর্যালোচনা-রত ব্রাহ্মণদের এই 
দার্শনকরা ব্যঙ্গ করতেন অহঙ্কারী ও হ্বীক্তর ধার ধারে না এমন মানুষ বলে। 
স্ট্রাবো'র এই কথাগুলি ওই সময়কার সামাজিক আবহাওয়ার চমৎকার যথাযথ এক 
প্রাতিফলন। কেননা ওই সময়ে তথাকথিত শ্রমণ-মতবাদসমূহ সমাজে আঁবর্ভৃত 
হচ্ছিল এবং সেগুলি ছল ব্রাহ্মণদের ও তাঁদের মতবাদ সম্পর্কে সান্দহান ও জগৎ 
ও মানুষের আস্তিত্ব-সম্পাক্ত বহু প্রশ্ন নিয়ে ব্রাহ্মণদের সঙ্গে নানাবিধ বিতর্কে 
সেগাঁল সর্বদা জাঁড়ত থাকত। শ্রমণ অথবা “বধমর্স'রা সত্যই ব্রাহ্মণদের থেকে 
ঠনাজেদের পৃথক করে তুলেছিলেন, ব্রাহ্গণদের তাঁরা ব্যঙ্গবদ্রুপে জর্জরিত 
করতেন এবং তাঁদের স্বাতন্ম্য ও বোশলম্ট্য-সম্পাকৃত তত্ুকে খন্ডনে প্রবৃত্ত 
হতেন। 

শ্রমণরা রান্গণদের দাঁন্তক আচরণের প্রাতিবাদ করতেন, গোটা সমাজকে উপদেশ 
দেবার এবং সকল মানুষকে সত্যের পথে পরিচালনার ব্যাপারে ব্রাহ্মণদের তথাকথিত 
অনন্য আঁধকারের বিরোধিতা করতেন তাঁরা। বৌদ্ধ পাঁথগীলতে ব্রাহ্গণদের এই 
ধরনের দাঁবদাওয়াকে প্রায়ই ভিত্তিহীন, বিভ্রাস্তকর, মিথ্যা, ইত্যাঁদ আখ্যা 
দেয়া হোত। 

ইউরোপাঁয় ধ্ুপদশী ইাতিবৃত্তকারদের রচনাবলীতে খুব সম্ভবত মেগাস্ছেনিসের 
'িবরণী-থেকে-পাওয়া এইমর্মে একটি বক্তব্যের সন্ধান পাওয়া যায় যে শ্রমণদের 
মধ্যে এমন িছ-কিছু সন্ন্যাসী-গোম্ঠীর আস্তত্ব ছিল যারা বস্ত্র পারত্যাগ করেছিল 


৯১৫৫ 


(এই তথ্যটির সঙ্গে খুব সম্ভব “দগম্বর-সম্প্রদায়ভুক্ত জৈন যাঁরা উলঙ্গ অবস্থায় ঘুরে 
বেড়াতেন তাঁদের সম্পর্ক আছে মনে হয়)। 

যথাযথভাবেই মেগাস্ছেনস তৎকালীন ভারতে মতাদর্শগত অবস্থার বিশেষ 
কিছু-কিছু দিকের পরিচয় তুলে ধরেছিলেন। যথা, রক্ষণশীল ও তার বিরোধী 
সংস্কারবাদী (বা শ্রমণ-) ধর্মশিক্ষার মতো মূল দুটি মতাদর্শগত ধারার আস্তত্ব 
এবং এই শেষোক্ত ধারার অন্তভুক্তি বহুবিধ সম্প্রদায়গত মতবাদের উপস্িতি। 
অবশ্য এটা স্পন্ট যে সেল্যকস-বংশীয় রাজ্যের এই রাষ্ট্রদূত যখন ভারতে বাস 
করছিলেন তখনও পযন্ত ব্রক্ষণ্যধর্ম দেশে প্রবল শ্রতাপশালী ছিল, অন্যাদকে এই 
ধর্মের বিরোধ? শ্রমণ-সম্প্রদায়গুলি তখনও যথেষ্ট গুরুত্ব অর্জনের মতো অবস্থায় 
আসে 'নি। বস্তুত সংস্কার-ীভীত্তক ধমাঁয় মতবাদগলির মধ্যে একটিও তখনও 
পর্যন্ত বিকাশের এমন স্তরে পেশছয় নন যে বিদেশীর চোখে তা যথেম্ট গুরুত্বপূর্ণ 
বা প্রভাবশালী বলে বিশেষভাবে প্রাতভাত হতে পারে। অবশ্য এটাও মনে রাখতে 
হবে যে মেগাস্ছেনিসের বিবরণীর যে-সমস্ত খণ্ডাংশ আমাদের হাতে এসে পেশছেছে 
তা থেকে মোটেই কোনো পূর্ণাঙ্গ চিন্র পাওয়া সন্ভব নয় এবং এ-ও সম্ভব যে মৌর্য 
যুগের প্রাথামক পর্যায়ে ভারতে ধম্ঁয় জীবনযান্রার বহন গুরত্বপূর্ণ দক তাঁর 
চোখ এাঁড়য়ে গিয়েছিল। 


কুশান ও গঃপ্ত-যগে ভারত 


খস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দী ও খ৭স্টগয় প্রথম শতাব্দীতে 
উত্তর-পাশ্চম ভারত 


মৌর্য-সাম্রাজ্যের আমলের শেষাঁদকে উত্তর-পাশ্চম ভারতের বহ্‌ অণ্চল তখনই 
সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় শাসনের আওতা থেকে কার্যত স্বাধীন হয়ে উঠোছিল। 
পরবতর্ঁকালে এইরকম কয়েকটি উত্তর-পশ্চিমাণুলীয় ভূখণ্ডে রাষ্ট্রক্ষমতা ছিনিয়ে 
নেন কয়েকজন ছোটখাট ইন্দো-গ্রীক রাজা। এই সমস্ত রাজার শাসনকাল সম্বন্ধে 
কেবল টুকরোটাকরা কিছ 'বিবরণমান্র পাওয়া যায়। 

উপরোক্ত এইসব ইন্দো-গ্রণক রাজাদের মধ্যে একজনের নাম সেকালেই "বাঁশন্ট 
হয়ে ওঠে। ইান হলেন মেনাণ্ডার। ভারতীয় ইতিবৃত্তে হীন পাঁরাঁচত হন 'াঁলল্দ 
নামে। বোদ্ধ পাাঁথ পমালন্দ-পহ'তে খেএীস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীতে রচিত) রাজা 
মালন্দ ও বৌদ্ধ দার্শানক ভিক্ষু নাগসেনের মধ্যে এক বিতকের উল্লেখ পাওয়া 
যায়! মেনাণ্ডারের রাজত্বকালের কিছু-কিছ মুদ্রায় চক্র বা বৌদ্ধ রাজশক্তির প্রতীক- 
চিহু মদত আছে, তা থেকে মনে হয় এই রাজা হয় নিজে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেছিলেন 
আর নয়তো বৌদ্ধদের পৃন্ঠপোষক ছিলেন। মেনাণ্ডারের রাজ্যের রাজধানী ছিল 
সাগালা (বো আধ্াানক শিয়ালকোট)। গান্ধার, আরাকোঁসিয়া ও পঞ্জাবের কিছু-ীকছ; 
অংশ ছিল এ-রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত । আগেই বলা হয়েছে যে যতদূর অন্মামত হয় 
মেনান্ডারের রাজত্বকালে গ্রীক সেনাবাহিনী পূর্ব ভারতে বহুদূর পর্যস্ত অগ্রসর 
হয় এবং সে-সময়ে মগধের রাজশক্তিতে আসীন শুঙ্গ-রাজবংশের রাজধানী 
পাটলিপুত্রের দ্বারদেশে পেশছয়। 

খস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীতে শক নামের ইরানীয় উপজাতি-গোষ্ঠীগ্লি 
(চীনা আকর-সূত্রে সাই উপজাতি-গোষ্ঠীসমূহ নামে উল্লিখিত) মধ্য-এশিয়া থেকে 
অগ্রসর হতে-হতে শেষপর্যন্ত উত্তর-পশ্চিম ভারতে প্রবেশ করে। গোড়ার দিকে 
শকরা ইন্দো-গ্রণক রাজ্যগুলির সঙ্গে সংঘর্ষে আসার পর এই শেষোক্ত রাজ/গলির 
অধননতা স্বীকার করে, কিন্তু পরে তারা প্রতিষ্ঠা করে নিজেদেরই বহয্ীবধ ইন্দো- 
শক রাম্ট্র। এই সমস্ত ইন্দো-শক রাজ্যের সবচেয়ে বিখ্যাত রাজাদের একজন রাজা 
মউয়েস খ্যাস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীর মাঝামাঝ কোনো এক সময়ে রাজত্ব করতেন 
বলে মনে হয়। হীন নিজের রাজ্য প্রাতিষ্ঠিত করেন গান্ধারে, তবে এর রাজ্য 
সোয়াত উপত্যকা এবং সম্ভবত কাশ্মীরের অংশাঁবশেষ জুড়েও প্রসারিত ছিল। এ"র 


৯৬৭ 


উত্তরাধিকারী আজেস তাঁর রাজ্যের সীমানা আরও বাড়িয়ে তোলেন এবং নিজেই 
উপাধি গ্রহণ করেন 'মহারাজাধিরাজ'। আরাকোসিয়ার অংশাবশেষও তাঁর রাজ্যের 
অন্তভূক্ত হয়। খ্্নস্টীয় প্রথম শতাব্দীতে ওই অণুলে ইন্দো-পার্থিয়ান 
রাষ্ট্রসমূহেরও আঁবিভব ঘটে এবং এই রাজ্যগ্লকে ইন্দো-গ্রনক ও ইন্দো-শক 
রাজাদের বিরুদ্ধে প্রবল সংগ্রাম চালাতে হয় প্রাধান্যাবিস্তারের জন্যে। অতঃপর 
ইন্দো-পার্থয়ান রাজা গোণ্ডোফারেস গ্ান্ধার, আরাকোঁসয়া এবং প্রায়শই যাকে 
শকস্তান, বা শকদের বাসভূমি বলে উল্লেখ করা হয়েছে সেই দ্রান্গিয়ানার (বো 
আধ্াাীনক সেইস্তানের) অংশবিশেষের ওপর আঁধপত্যাবস্তারে সমর্থ হন। 


কুশান-পান্নাজ্যের পর্তন 


কুশানদের শাসনাধীনে তীর প্রাতিদ্বান্দ্বতার ফলে খণ্ডাবখণন্ড ছোট-ছোট রান্ট্রের 
জায়গা নেয় প্রকান্ড এক সামাজ্য, যার অন্তভূক্তি হয় উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতের 
[বিভিন্ন অণ্চলগদীলই শুধু নয়, মধ্য-এঁশয়ারও নানা অণ্চল এবং বর্তমান পাকিস্তান 
ও আফগানিস্তানের ভূখন্ডও। 

গোড়ার দিকে মধ্য-এঁশিয়ার অন্তভূক্তি ব্যাকাট্রয়ার অংশবিশেষও কুশান-সাম্রাজ্যের 
অন্তর্গত ছিল। চীনা আকর সত্রগুলি অনুযায়ী খুস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে 
প্রাচ্দেশ থেকে ইউয়েহ্‌-চি নামের উপজাতি-গোম্ঠীগুলি ব্যাক্রয়া আক্রমণ ক'রে 
আধকার করে এবং সেখানে প্রাতিষ্ঞা করে পাঁচঁট রাজ্য। পরে, চীনা ইতিবৃত্তে 
কুয়েই-শুয়াং নামে উল্লিখিত কুশানরা সেখানে অন্যদের ওপর আঁধপত্যবিস্তারে 
সমর্থ হয়। ইউরোপীয় ধ্রপদী ই[তিবৃত্তকাররাও প্রাচ্দেশ থেকে আগত উপজাতিদের 
গ্রঁকদের কাছ থেকে । কুশান-উপজাতিরা যখন ব্যাকণ্রয়া আক্রমণ করে তখন দঢ়- 
প্রাতাম্ঠিত রাম্ট্রব্যবস্থা ও সু-উন্নত সংস্কৃতির এীতিহ্য সহ ব্যাকৃর্রয়া ছিল অত্যন্ত 
উন্নত একাঁট দেশ। ওখানকার লোকে তখন কথা বলত ব্যাকদ্রীয় ভাষায় (সে-ভাষা 
ছিল ইরানীয় ভাষাগ্োম্ঠীর অন্তর্ভুক্ত) এবং গ্রীক 'লাঁপ থেকে উদ্ভূত একটি লিপিও 
ছিল তাদের। সস্ছিত জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত ব্যাক্ত্রীয়দের উপরোক্ত এই সমস্ত এরীতহ) 
গ্রহণ করে নিয়েছিল কুশানরা, তবে তখনও পর্যস্ত কুশান-সংস্কাতির বিকাশে তাদের 
ানজেদের যাযাবর উপজাতিসমলভ এীতহ্যসমূহ তাৎপর্যপূর্ণ অবদান যুঁগিয়ে 
চলেছিল। এই কুশানদের উৎপাত্ত-সম্পকত প্রশ্নাট এখনও অমীমাংাসঙ য়ে 
গেছে এবং এ-নিয়ে পণ্ডিত-মহলে তুমুল 'বিতর্কও চলেছে। 


১৫৮ 


সাম্প্রাতক বছরগ্দলিতে এ-ব্যাপারে নানা ধরনের প্রমাণসাপেক্ষ মতের অবতারণা 
করা হয়েছে। যেমন বলা হচ্ছে, ইউয়েহ্‌-চি'রা অভ্যন্তরীণ এশিয়ার 'তোখারি, 
নামের উপজাতিদের সঙ্গে সম্পাক্ত এবং তারা ব্যাকট্রিয়া জয় করার পর তাদের 
নিজেদের ভাষা বর্জন করে। অপরপক্ষে এরকম মতও প্রকাশ করা হচ্ছে যে কুশান 
উপজাতির উৎপাত্ত ঘটেছিল ব্যাকাট্রয়া থেকেই (এই মত অনুসারে, কুশানদের সঙ্গে 
ইউয়েহ্নীচ'দের সম্পর্কের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা হচ্ছে)। খীস্টপূর্ব প্রথম 
শতাব্দীর শেষে জনেক কুশান-রাজা হেরায়ুস তাঁর প্রচালিত ওই যুগের কিছু-কিছু 
মুদ্রায় নিজেকে কুশান হেরায়ূস বলে আখ্যাত করেছেন। 

কুশান-রাজ কুজুলা কাদাঁফসেস'এর আমলে চৌঁনা ইতিবৃত্তে হীনি 'চ'ইউ-চিউ- 
চুচ' নামে উল্লাথখত) কুশান-রাষ্ট্রের অন্তভূক্তি হয় আরাকোসিয়া, কাশ্মীরের একটা 
অংশ এবং পার্থয়ার িছু-কিছু অণ্চল। কাদ্‌ফিসেসের রাজত্বকালের বহুসংখ্যক 
মূদ্রা কাবুলের চারপাশের অণ্চল থেকে পাওয়া গেছে। এ-থেকে বোঝা যায় এই 
এলাকাঁটও সে-সময়ে কুশান-সাম্রাজ্যের অন্তভূক্ত ছিল। গোড়ার দিকে কাদ্ফসেসকে 
মেনে নিতে হয়োছিল তৎকালীন ইন্দোণ্রীক রাজাদের কর্তৃত্ব: তাঁর আমলের 
কিছু-কছু মুদ্রার একিঠে ইন্দো-গ্রক রাজা হেরমিউসের প্রাতকৃতি ছাপা হয়েছে 
আর মুদ্রার অপরধ্পিঠে খোদাই করা আছে খরোম্ঠী লিপিতে কাদ্‌ফিসেসের নাম। 
পরে অবশ্য কাদাঁফসেস পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জনে সমর্থ হন, ফলত তাঁর সেই 
দ্বিতীয় কাদফসেস বা ভীম কাদ্‌ফিসেসের রাজত্বকালে পসিহ্ধানদের 'নম্নাঞ্চলের 
কিছ-কছু অংশাঁবশেষ তখনই কুশান-সাম্রাজ্যের অন্তভূক্ত হয়ে ছিল। এছাড়া 
কুশানরা ওই সময়ে আরও পূর্বাঞ্চলে অনুপ্রবেশেও সমর্থ হয়েছিলেন। খুব সম্ভবত 
তাঁরা তখন পুর্ব ভারতের কিছ_-কিছ ভূখণ্ডের ওপর, এমন কি বারাণসী পর্যন্তও 
আধিপত্যবিস্তারে সমর্থ হয়োছলেন। 

ভীম কাদ্ফিসেস এক গুরুত্বপূর্ণ মদদ্রা-সংস্কারও সাধন করেন। তান 
কুশান-সামাজ্যের সীমানার মধ্যে রোমান স্বর্ণমুদ্রা 'আরেইএর সমমূল্যের 
স্বর্ণমূদ্রার প্রচলন ঘটান। এই কাজটকে সম্ভবত রোমান প্রভাবের ফল বলা যেতে 
পারে । পুরোপ্নার ভারতাঁয় ভুখণ্ডসমূহ আঁধকার করার ফলে কুশান-রাজাদের পক্ষে 
প্রয়োজন হয়ে পড়ে স্থানীয় রীতি-প্রথাকে মান্য করে চলা, ফলত গোটা সাম্রাজ্য 
জুড়েই রান্ট্র-পারচালনব্যবস্থায় ওইসব রাঁতি-প্রথার প্রভাব অনুভূত হয়। এ-থেকেই 
বোঝা যায় কেন ভীম কাদ্ফসেসের রাজত্বকালে তাঁর প্রচলিত কিছ-কছ: মুদ্রায় 
দেবতা শিবের প্রাতকৃতি (কখনও-কখনও শিবের অন্যতম প্রধান অন্মচর ও তাঁর 
বাহন পাঁবন্র ষণ্ড নান্দিন্‌ সহ) মুদ্রিত আছে। 


১৫৯ 


কনিজ্ক 


প্রাচীন ভারতের সবচেয়ে শ্রুতকণীর্তি রাজাদের একজন। তাঁর আমলের মুদ্রা এবং 
অজ্প কিছু উৎকটর্ণ শিলালাপর সাক্ষ্য ছাড়া কাঁনজ্কের রাজত্বকাল সম্বন্ধে সন- 
তারিখষ্ুক্ত অথবা সমকালীন সংবাদের সূত্র পাওয়া যায় সামান্যই । তবে পরবতাঁ 
কালের বৌদ্ধ উপকথা ও কাহনীর অনেকগ্যালতে রাজা কাঁনন্ক ও তাঁর 
কীর্তকলাপের নানা উল্লেখ অবশ্য দুর্লভ নয়। কনিজ্কের আমলেই কুশানদের 
রান্ট্রক্ষমতা প্রসারিত হয় সদর বিহারের একাংশে এবং মধ্য-ভারতে নর্মদা নদীর 
তর পর্যন্ত। 

আবার ওই কাঁনচ্কের রাজত্বকালেই কুশানরা তাঁদের রাজ্যের বিস্তার ঘটান 
সৌরাম্ট্র ও কাথিয়াওয়াড়ে, তবে পশ্চিমের ক্ষত্রপরা (পশ্চিম ভারতের প্রদেশগ্লর 
শাসকরা) কুশানদের আধিপত্য পুরোপ্ার মেনে নেন নি। চীনা ইতিবৃত্তসমূহে 
বিবৃত হয়েছে পূর্ব তুকিস্তানের অংশাবশেষের দখল নিয়ে চীনের বিরুদ্ধে 
কুশানদের যুদ্ধের কথা৷ 'কিছু-কছ আকর সূত্রে এমন ইঙ্গিত আছে যা থেকে 
মনে হয় কুশানদের সেনাবাহনী উপরোক্ত ওই সমস্ত ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে বহদূর 
পর্যন্ত অনুপ্রবেশে সমর্থ হয়োছিল, তবে কুশান-রাজারা কতাঁদন পর্যস্ত ওই আঁধকৃত 
অণ্ুল শাসনাধীনে রাখতে সমর্থ হয়েছিলেন তা জানা যায় না। যাই হোক তবু 
একটা ব্যাপার পরিজ্কার। তা হল এই যে রাজা কনিম্কের আমলে কুশান-সাম্রাজ্য 
প্রাচীন জগতে সবচেয়ে শক্তিশালী রাম্ট্রগ্ীলির একটি হয়ে ওঠে, তা সমকক্ষ হয়ে 
ওঠে চীন, রোম ও পার্থয়ার সাম্রাজ্যের । ওই সময়ে কুশান-সাম্রাজ্যের সঙ্গে রোমের 
সম্পর্ক ছিল ঘাঁনন্ভ। কাজেই এটা খুবই সম্ভব যে ইউরোপীয় ধ্রুপদশ 
ইাতিবৃত্তে সম্াট দ্রাজান (খনটস্টীয় ৯৯ অব্দে)-এর রাজত্বকালে রোমে ভারতীয় 
রাষ্ট্রদূতাবাস ছিল বলে যে-উল্লেখ পাওয়া যায় তার সঙ্গে কুশান-সাম্রাজ্য 
সম্পাকৃত। 

চীনা ও ভারতীয় আকর সূত্রসমূহে কানি্ককে বৌদ্ধধর্মের যথার্থ অনুসারী 
বলে বর্ণনা করা হয়েছে এবং তাঁর নামের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে কাশ্মীরে বৌদ্ধ 
মহাসম্মেলন (তিথাকাঁথত “চতুর্থ বৌদ্ধ মহাসম্মেলন') আহ্বানের ব্যাপারটিকে। 
এটা খুবই সম্ভব যে কানিচ্ক সাত্যই হয়তো বৌদ্ধধর্মের সমর্থক ছিলেন, তবে তাঁর 
আসল রাষ্ট্রনীতি ছিল সকল ধর্মের প্রাতি সহনশীলতা । এর প্রমাণ মেলে তাঁর 
রাজত্বকালের মূদ্রাগ্গীলি থেকে, কেননা সেইসব মাদ্রায় ভারতীয়, হোলাঁনক ও 
জরথমস্ত্র-প্রবার্তত ধর্মের দেবদেবীর প্রাতকৃতি ম্াদ্রত। কনিজ্কের রাজত্বকালে 
বৌদ্ধধর্ম এমন কি রাষ্ট্রীয় ধর্মের মর্যাদাও লাভ করে 'ীন এবং তাঁর রাজত্বকালে 


১৬০ 


প্রচারিত বহ্যাবধ মুদ্রার মধ্যে মাত্র অল্প কয়েকাটতেই ব্ুদ্ধদেবের প্রাতকৃতি 
পাওয়া যায়। 

এই সময়েই ব্যাকদ্রীয় ভাষা রাজকার্ষে ভ্রমশ বেশি-বেশি গুরুত্ব পেতে থাকে 
এবং শেষপযন্ত তা গৃহীত হয় গোটা সাম্রাজ্য জুড়ে; ব্যাকত্রীয় 'লাপিও বকাঁশত 
হয়ে ওঠে এই সময়ে গ্রীক 'লাঁপর ভিত্তিতে)। এমন কি মূদ্রা থেকেও খরোষ্ঠী 
লাপিকে উৎখাত করে ব্যাকত্রীয় লিাপি। কয়েক বছর আগে ব্যাকত্রীয় িশপিতে 
লেখা কনিজ্কের রাজত্বকালের একটি উৎকাীঁর্ণ প্রকান্ড শিলালপি উত্তর 
আফগানিস্তানের সূর্খকোটালে পাওয়া যায়। এই শিলালাপতে একাঁট মঠ- 
নর্মাণের, সম্ভবত কুশান-রাজবংশের একাট সমাধিস্থান নির্মাণেরই উল্লেখ দেখা যায়। 

কুশান-সাম্রাজ্যের সঙ্গে জাঁড়ত সমস্যাঁদর মধ্যে সবচেয়ে জটিল একাঁট প্রশ্ন 
হল কাঁনচ্কের রাজত্বের সন-তারিখের হিসাব সহ এই গোটা রাজত্বকালেরই 
কালপরম্পরা নির্ণয়। পাঁণ্ডতেরা কাঁনস্কের ক্ষেত্রে বহাবাভন্ন সনের উল্লেখ 
করেছেন: যেমন, খ্াস্টাব্দ ৭৮, ১০৩, ১১০, ১৪৪, ২৪৮ ও এমন কি ২৭৮ 
সাল পর্যন্ত, অর্থাং বলতে গেলে এই আনুমানিক তারিখগুঁল ছাড়িয়ে আছে গোটা 
দু'শতাব্দীর কালপর্ধায় জুড়ে। বর্তমানে 'কনিম্ক-যূগ'এর কালানর্ণয়ের ব্যাপারে 
সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রচেষ্টা হল ওই যুগাঁটিকে খুস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রথম 
চতুর্থাংশে 'না্দন্ট করা। 


কানন্কের উত্তরাধিকারণীরা ও কুশান-সাম্রাজ্যের পতন 


কানিষ্কের সিংহাসনের উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সবচেয়ে 'বখ্যাত ছিলেন হবি্ক 
ও বাস্‌দেব। তাঁদের রাজত্বকালে কুশানরা বিশেষ নজর দিয়েছিলেন গাঙ্গেয় 
উপত্যকার ভারতীয় ভুখণ্ডগ্ালর 'দকে। কেননা উত্তর-পশ্চিমের প্রদেশগলিতে 
দখল অক্ষুগ্ন রাখা তাঁদের পক্ষে ব্লমশই কঠিন হয়ে পড়ছিল। ওই পর্যায়ে কুশানদের 
মধ্যে গভীরভাবে ভারতীয় বনে যাওয়ার একটা যুগ শুরু হয়ে গিয়োছিল, ভারতাঁয় 
আচার-আচরণ আয়ত্ত করছিলেন তাঁরা এবং স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে ঘানম্চ 
যোগাযোগ গড়ে তুলছিলেন। রাজা বাসুদেব ছিলেন শৈব সম্প্রদায়ের অনুসারী । 
বাসদেবের আমলের বহুসংখ্যক শিলালিপি মথ্যরার আশেপাশে আবিষ্কৃত হয়েছে। 
এ-থেকে বোঝা যায় এই সময়ে মথুরা কুশান-সাম্রাজ্যের রাজনোতিক ও সাংস্কৃতিক 
জীবনে বিশেষ এক ভূমিকা পালন করছিল। 

বাস্‌দেবের রাজত্বকালেই সাম্রাজ্যের অধঃপতনের সূচনা লক্ষ্য করা যাঁচ্ছল। 
তাঁর উত্তরাধিকারাদের প্রচণ্ড সংগ্রাম চালাতে হয়েছিল পারস্যের সাসানদদের 
প্রবল শীক্তশালী রাজ্য ও ভারতের 'বভন্ন অণ্টলে মাথা-তুলে-দাড়ানো স্থানীয় নানা 


11--496 ১৬৬ 


রাজ্যের বির্দ্ধে। কুশানরা বাধ্য হলেন মথুরার রাজক্ষমতায় অধিষ্ঠিত নাগ-বংশ 
ও কোশাম্বীর রাজাদের স্বাধীনতা মেনে নিতে । মধ্য-ভারতের যে-সমস্ত অণ্চল 
একদা সাম্রাজ্যের অধীন ছিল সে-সব অণ্লও তাঁদের ছেড়ে দিতে হল। তবে 
খওনস্টীয় তৃতীয় শতাব্দীর মাঝামাঁঝ সময়ে সবচেয়ে সাংঘাতিক লড়াই চালাতে 
হল কুশানদের পারস্যের সাসানিদদের বিরৃদ্ধে। এই যৃদ্ধের পর কুশান- 
পশ্চিম অণুলগ্দলি প্রথম শাহ্‌পুর খ্তীস্টাব্দ ২৪১-২৭২)-এর অধানে 
সাম্রাজ্যের অন্তভূক্ত হল। প্রথম শাহ্‌পুরের আমলের (২৬২ খনস্টাব্দের) একটি 
বিখ্যাত উৎকীর্ণ লিাপি-_যার মধ্য-পারাঁসক, পাহয়ান ও গ্রীক এই তিন ভাষার 
তিনটি ভাষ্য এখনও পর্যন্ত টিকে আছে-- তাতে ওই বিশেষ রাজাকে বলা হয়েছে 
'পারসক ও অ-পারসিকদের রাজাধরাজ' এবং জানানো হয়েছে যে ওই রাজা সুদূর 
পুর্ষপুর (পেশোয়ার) পর্যন্ত এবং একেবারে কাশ (কাশগর), সগৃদিয়ানা ও শাশ 
(তাসখন্দ)এর সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল কুশান-ভূমিরও আঁধপাতি ছিলেন। 
তবে, যতদুর মনে হয়, ওই সময়ে এই কুশান-ভূমির কোনো সাসানীয় আধপাতি 
নিষুক্ত হন নি। এর বেশাকছু পরে, একমান্র চতুর্থ শতাব্দীর শেষ চতুর্থাংশে, 
অধীনস্থ কুশান-ভূখণ্ডগ্যালর সাসানীয় রাজপ্রাতিনিধি শাসকরা বিশেষ ধরনের 
কুশান-সাসানীয় মুদ্রা তৈরি ও তার প্রচলন শুরু করেন। 

কুশান-যুগের শেষের দিকে কুশানদের অধাঁনস্থ ভূখণ্ড বলতে ছিল একমান্র 
গান্ধারের বিভিন্ন অণ্চল। পরে কুশানদের অধিকৃত ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় সবটাই 
গুপ্ত-সাম্রাজ্যের অন্তভূর্ত হয়। 


কুশান-যগের দেবদেবঈ ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতি 


প্রাচীন জগতের বহু অণ্লের এীতহাঁসক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের ক্ষেত্রে 
কুশান-যুগ তার 'বাশিম্ট ছাপ রেখে যায়। বহমাবিচিত্র জ।া৩ ও ম।ণ"'ষ কুশানদের 
এক এঁক্যবদ্ধ, অখণ্ড সাম্রাজ্যের সীমানার মধ্যে একান্ত হয়েছিল, ওই কাঠামোর 
মধ্যে গড়ে উঠোছল সর্বগ্রাহ্য নানা রীতি-প্রথা এবং কেবল যে ওই সাম্রাজ্যের 
'বাভল্লন অংশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল তা-ই নয়, যোগসূত্র গড়ে 
উঠেছিল রোম, দক্ষিণ-পূর্ব এীঁশয়ার দেশসমূহ ও দূর প্রাচ্যের সঙ্গেও । কুশান- 
সংস্কীত পারণত হয়ে ওঠে বহাবচিন্ন রাতি-প্রথা ও সংস্কৃতির সংশ্লেষণের ফলে, 
তবে তার মধ্যে সংরক্ষিত হয় নানা স্থানিক ভাবধারা ও প্রবণতাও। এমন কি সবসেরা 
ইউরোপাঁয় ধ্রুপদী এীতহ্যও যৌথ উত্তরাধিকার হিসেবে গৃহীত হয়। 

মধ্য-এশিয়ার সোভয়েত প্রক্রতত্ববিদদের সাম্প্রীতিক খননকার্যের ফলে উদ্ঘাটিত 
হয়েছে স্থানীয় স্থাপত্য ও ভাস্কর্য-শিল্পধারর আগ্ালক বিকাশ-সম্বন্ধীয় গুরত্বপূর্ণ 


৯৬২ 


নানা উপাদান। কুশান-শিল্পের ক্ষেত্রে বিশিষ্ট এক ভূমিকা পালন করে ব্যাকন্রীয় 
শিল্পধারা এবং সমগ্রভাবে কুশান-শিজ্পের ওপর তা প্রভাব বিস্তার করে। 

কুশান-সাম্রাজ্যে জনসাধারণের জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বৌঁচন্র্য প্রাতফাঁলিত 
হয়েছে কুশানদের উপাস্য দেবদেবীর মধ্যে। এই যুগের বিভিন্ন মুদ্রার দৌলতে 
এ-ব্যাপারাঁট আমাদের কাছে সুপাঁরচিত। 

বশেষ করে এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ মেলে কনিদ্ক ও হ্াাবজ্কের রাজত্বকালের 
মুদ্রাগীল থেকে । এগ্দালতে 'তিন ধরনের দেবদেবীর প্রাতিকীতি মাদ্রত -_ ইরানয়, 
হেলানক ও ভারতীয়। ইরানীয় দেবদেবীর মধ্যে আছেন মিত্র দেবতা, উর্বরতার 
দেবী আরর্ষ, চন্দ্রদেবতা (মাও), রণদেবতা ভেরেগ্রগ্ন এবং পরম দেবতা 
আহরামাজ্‌্দা। হোলানক দেবদেবীর মধ্যে আছেন হিফায়েস্টাস, সোলনে, 
হেলিওস ও হেরাক্লিস। ভারতাঁয় দেবতাদের মধ্যে সবচেয়ে জনাপ্রয় হচ্ছেন শব, 
মহাসেন ও স্কন্দকুমার। 

বহয়াবাচন্র দেবদেবীর এই সমন্বয় সমগ্র কুশান-সাম্রাজ্যের সর্ব্রাহ্য সাংস্কাতিক 
এতিহ্যের গড়নেরই প্রতিফলন এবং সেইসঙ্গে তা পরিচয় ?দচ্ছে কুশান-রাজাদের 
ধম সহনশীলতার নীতর। এমন কি সাম্রাজ্যাটর পতনের পরও প্রাক্তন 
সাম্রাজ্যের 'বাভল্ন অংশের মধ্যে এই সমস্ত সবগ্রাহ্য এীতিহ্য ও সংযোগ-সূত্রের 
অনেকগ্ীলই টিকে যায়। কুশান-যদগের সাংস্কাতিক উত্তরাধিকার প্রাচ্যের বহু 
জাতর পরবতর্শ বিকাশের ক্ষেত্রে রেখে গিয়েছিল অনপনেয় প্রভাবের স্পর্শ । 


গযপ্ত-সামাজ্যের উত্থান 


কুশান-সাম্রাজ্যের পতনের পর দীর্ঘ একটা কালপর্ব জুড়ে রাজনৈতিক 
ভাঙচুরের যূগ চলে । এই অবস্থাটা টিকে থাকে খনস্টীয় চতুর্থ শতাব্দীর সূচনা 
পর্যন্ত। অতঃপর নতুন এক পরা্রান্ত সাম্রাজ্য, গপ্ত-সামাজ্যের গড়নের কাল 
শদর॥ হয়। 

ওই সময় পর্যন্ত পশ্চিম পঞ্জাবের ছোট-ছোট এলাকা ছিল কুশান-রাজবংশের 
শাসনাধীনে; গুজরাট, রাজস্থান ও মালবে ক্ষত্রপরা রাজত্ব করছিলেন এবং গাঙ্গেয় 
উপত্যকায় কয়েকটি প্রজাতন্্রীয় রাষ্ট্র সহ বেশাকছ; ছোট রাম্ট্রের আস্তত্ব ছিল। 
মগধে পরপর কট রাজবংশের উত্থান-পতন ঘটলেও তখনও তা উত্তর ভারতের 
অর্থনৌতক ও সাংস্কৃতিক জীবনে এক তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছিল। 

যেমনটা একবার ঘটেছিল মৌর্যযগে তেমনই আরও একবার খএ৭স্টীয় চতুর্থ 
শতকের সূচনায় মগধ পরাক্রান্ত গুপ্ত-সাগ্রাজ্যের কেন্দ্রীয় ভিত্তি হিসেবে নতুন 
এক রাজনোতিক সংগঠনের কেন্দ্র হয়ে উঠল। গুপ্ত-রাজবংশের প্রথম দিককার 


১৬৩ 


রাজাদের সম্বন্ধে জানা যায় খুব অল্পই। এই রাজবংশের প্রাতিষ্ঠাতা ছিলেন 'রাজা, 
ও 'মহারাজা' উপাধিধারা শ্রী গুপ্ত, তবে গৃপ্ত-ষুগের কিছু-কিছ্‌ উৎকীর্ণ লিপি 
থেকে যতদূর জানা যায় তাতে মনে হয় রাজবংশটির আসল ইতিহাস শুরু হয়েছিল 
শ্রী গৃপ্তের পত্র রাজা ঘটোংকচের আমল থেকেই । দুঃখের বিষয়, গঃপ্তরদের আঁদ 
রাজ্য ও তার সীমানার কথা জানা যায় না। দিছ:-কিছু ইতিহাসবেত্তা মনে করেন 
যে মগধ-রাজ্যের সীমানাই ছিল ওই রাজ্যের সীমানা, আবার অন্যেরা বর্তমান 
পশ্চিমবঙ্গের অংশাবশেষকেও ওই রাজ্যের অন্তভূক্তি বলে গণ্য করে থাকেন। এ- 
সমস্যার সমাধানে উপরোক্ত এই আঁনশ্য়তা উৎতকীর্ণ লাপগত যথাযথ তথ্যের 
অভাবেরই ফল। এ-সম্বন্ধে চীনা পারব্রাজক ই তৃঁসিঙ্‌এর বিবরণী এখনও পর্য্ত 
পাওয়া প্রধান আকর সত্রগ্লির একটি। 

গুপ্ত-সাম্রাজযর ভিত্ত সংহত করার কাজ শুরু হয় প্রথম চন্দ্রগ্প্তের 
র।জত্বকালে। এই রাজা আরও জমকালো 'মহারাজাধিরাজ' উপাধি গ্রহণ করেন। 
এপ্র পত্র সমদ্রগপ্তের নিদেশে রচিত বিখ্যাত এলাহাবাদ-লিপিতে বলা হয়েছে যে 
প্রথমোক্ত রাজা ছিলেন “লিচ্ছবি-কন্যা'র পত্তন, অর্থাৎ, এ-থেকে জানা যাচ্ছে যে 
চন্দ্রগুপ্তের স্ত্রী ছিলেন লিচ্ছবি নামের ক্ষত্রিয়-জাতির কন্যা। ইতিপূর্ের সেই 
মগধ-যূগ থেকেই লিচ্ছবিরা ছিলেন প্রাচীন ভারতের রাজনৈতিক জীবনে অন্যতম 
প্রধান শক্তি। মনে হয় গোড়ার দিককার গনপ্ু-রাজাদের আমল পর্যন্তও এই 
প্রজাতন্বীয় রাষ্ট্র-জোটটির প্রতাপ অক্ষুণ্ন ছিল। তাই লিচ্ছবিদের সঙ্গে মৈত্রী-বন্ধন 
গুপ্ত-বংশীয় রাজশীক্তর ক্ষমতা সংহত করে তোলার ব্যাপারে নিশ্চয়ই বেশাকছুটা 
কাজে এসেছিল। লিচ্ছবিদের সঙ্গে পারণয়-সূত্রে মৈত্রী-বন্ধনের এই উল্লেখ কেবল- 
যে সমদ্রগুপ্তের উৎকীর্ণ 'লাঁপতেই পাওয়া যায় তা নয়, চন্দ্রগৃপ্তের আমলের 
স্বর্ণমূদ্রায়ও রাজার পাশাপাশি তাঁর 'লিচ্ছাব-বংশীয়া রানীর প্রাতিকৃতি ম্াদ্ুত 
আছে দেখা যায়। চন্দ্রগুপ্তের সঙ্গে িচ্ছবি-বংশীয়া কুমারদেবীর এই 1ববাহ-বন্ধন 
কছু-পারমাণে ভূখণ্ডগত লাভেরও সুযোগ করে দেয়: সম্ভবত উভয় রাম্ট্র একন্র 
মিলে গিয়ে গ্‌প্ত-রাজাদের অধীনে এক্যবদ্ধ এক সাম্রাজ্যগঠনে সহায়ক হয়। 

বলা হয় ৩২০ খননস্টাব্দ থেকেই চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালের ও সেইসঙ্গে গৃপ্ত- 
যুগেরও সূচনা । কিছ্‌-কিছু পণ্ডিত অবশ্য ওই বছরটিকে সমদ্রগ্প্তের সিংহাসনে 
আরোহণের বছর বলে গণ্য করেন। 


সমদদ্রগপ্ত এবং গ.প্ত-সাম্রাজ্যের সংহতি 


সম[দ্রগুপ্তের রাজত্বকাল সম্বন্ধে অবশ্য আরও বিস্তারিত খবরাখবর পাওয়া 
যায়। সমদদ্রগ-প্তের চমকপ্রদ 'দাপ্বজয়ের প্রশান্তকল্পে সভাকবি হরিষেণের রাঁচিত 


১৬৪ 


এলাহাবাদ-লিপিতে ওই রাজার হাতে পরাজিত রাজন্যবর্গ ও দেশসমূহের নামের 
একটি তালিকা লিপিবদ্ধ হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে যে সমদদ্রগ্প্ত আর্ধাবর্তের 
গোঙ্গে় উপত্যকার) নয়জন ও দাক্ষণ ভারতের একাংশ দক্ষিণাপথের বারোজন 
রাজাকে যুদ্ধে পরাস্ত ও বশীভূত করেন। আর্ধাবতের ওই পরাভূত রাজ্যসমূহের 
শাসনাধীন ভূখণ্ডগুলি গ.প্ত-সাম্রাজ্যের অন্তভূর্ত হয়। উপরোক্ত লিপিতে নাগ- 
রাজবংশের দুই রাজা বা আহচ্ছব্রের দুই নৃপতিরও উল্লেখ পাওয়া যায়। এছাড়া 
লিপিতে উল্লিখত অন্যান্য বাজত ভূখণ্ডের অবস্থানে কোথায় তা আজ 
সঠিকভাবে নিরূপণ করা অত্যন্ত কঠিন, পশ্ডিত-মহলেও এ-প্রশ্নট এখনও বিতকের 
বিষয়। সমদদ্রগৃপ্তের সামরিক অভিযানগুলি সীমাবদ্ধ ছিল তাঁর সাম্রাজ্যেরই 
সন্নিহত, বিশেষ করে গাঙ্গেয় উপত্যকার দেশগলিতে। আলোচা লাপতে গুপ্ত 
রাজার 'আরণ্য-রাজ্যসমূহ" অধিকারেরও উল্লেখ পাওয়া যায়। মনে হয় এই রাজ্যগাঁল 
নর্মদা ও মহানদীর উপত্যকায় অবাস্থুত ও উপজাতি-অধ্যষিত ছিল। 

সমুদ্রগ্ুপ্তের দক্ষিণদেশ অভিযানও একই রকম সফল হয়োছল। প্রথমে তিনি 
দক্ষিণ কোশলের রাজা মহেন্দ্রকে পরাজিত করেন, তারপর গোদাবরী নদীর 
নিকটবতরঁ বতমান ওড়িষ্যার দক্ষিণাণ্চলের রাজাদের বশ্যতাস্বীকার করানোর পর 
পরাস্ত করেন পল্লবরাজ বিষুগোপকে। বিষফুগোপের রাজধানী ছিল কাণ্টী-নগরে। 
িপিতে উল্লিখিত অপরাপর এলাকাগুল অবশ্য সনাক্ত করা এখনও সম্ভব হয় নি। 

দাক্ষণ ভারতের এই রাজ্যগুলি সাম্রাজ্যের অন্তভূক্ত হয়োছল বলে মনে হয় 
না, তবে বিজেতা রাজাকে এদের অধাীঁনতার নিদর্শনদ্বরূপ কর দিতে হোত। তা 
থেকে মনে হয় এদের গণ্য করা হোত বাঁজত করদ ভূখন্ড হিসেবে । এছাড়া পাঁশ্চম 
ও উত্তর-পশ্চিম ভারতের িছ:-কিছ প্রজাতন্নীয় রাম্্রজোটও ছিল গ:প্ত-সাম্াজ্যের 
করদ ভূখণ্ড : যেমন, যৌধেয়, মালব, মাদ্রাজ ও অজ্যনায়ন নামের রাজ্যগ্াল। 

রাজা সমদদ্রগুপ্তের সঙ্গে পশ্চিম ভারতের ক্ষত্রপদের এবং তখনও পর্যন্ত পশ্চিম 
পঞ্জাব ও আফগ্ানস্তানের কিছু-কিছু অংশের শাসনকর্তা কুশান-রাজবংশের 
পরবতাঁ রাজাদের সম্পর্ক ছিল বেশ জটিল। এলাহাবাদ-ীলাঁপতে ক্ষত্রপ ও 
কুশানদের ওপর গুপ্ত-রাজবংশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার উল্লেখ আছে। মনে হয় 
উপরোক্ত এই সমস্ত ভূখশ্ডের ওপর সমদ্রগ্শ্তের কোনো এক ধরনের কর্তৃত্ব 
প্রীতাষ্ঠিত হয়োছিল, তবে ঠিক ওই পর্যায়ে ক্ষত্রপরা ও কুশান-রাজারা তাঁদের 
স্বাধীনতা বিসর্জন দেন 1ন। 

এ-রহস্যের একটা আগ্রহোদ্দীপক চাঁবকাঠ পাওয়া যায় এই ঘটনাটি থেকে 
যে খ্াস্টাব্দ ৩৩২ থেকে ৩৪৮ এবং খএস্টাব্দ ৩৫১ থেকে ৩৬০-এর বছরগুলিতে 
ক্ষত্রপদের নামাঁঙ্কত মূদ্রা একেবারেই পাওয়া যায় না--যা থেকে মনে হয় এমন 
ই্গত মেলে যে অন্ততপক্ষে ওই সময়টায় ক্ষত্রপরা সাময়িকভাবে গুপ্তদের অধীনতা 


৯৬৫ 


স্বীকার করেছিলেন। আসলে ওই সময়ে পশ্চিম ভারতের ক্ষব্রপদের ভূখণ্ডে 
প্রচালত 'ছল গ:প্ত-রাজাদের মূদ্রা। পরে অবশ পশ্চমদেশীয় ক্ষত্রপদের সর্বাধিনায়ক 
এবং তাঁর পরবতর্ণ সিংহসেন এমন কি মহাক্ষত্রপ” উপাধি পর্যন্ত ধারণ করেন। 
শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও ঘাঁনম্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন সমদদুগনপ্ত । লোকশ্রযাত 
অনুযায়ী 'সংহলের রাজা মেঘবরণ (খশস্টাব্দ ৩৫২-৩৭৯) সমদ্রগুপ্তের কাছে 
রাজদূত পাঠিয়ে ভারতে 'সংহলা 'ভক্ষুদের জন্যে একাটি মঠ 'নর্মাণের অনুমাত 
চেয়েছিলেন। সমদূ্রগ্‌প্ত অনুমতি দিয়েছিলেন তবে তা গোপনে এবং এর ফলে 
গয়ায় পবিক্র বোধিবৃক্ষের কাছে একটি বৌদ্ধ মঠ নির্মিত হয়োছল বলে মনে হয়। 
সমূদ্রগুপ্তের রাজত্বকালে গপ্ত-সাম্রাজ্য প্রাচ্যের অন্যতম সর্ববৃহৎ সাম্রাজ্য হয়ে 
ওঠে । এ-সাম্রাজ্যের প্রভাবও ছাড়িয়ে পড়ে দিকেদকে এবং অন্য বহু রাষ্ট্রের সঙ্গে 
এর ঘাঁনম্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অতএব দেখা যাচ্ছে সভাকব হরিষেণ যে তাঁর 
রাজার পরান্রম ও শাক্ত-সামর্থের প্রশান্ত গেয়েছিলেন তা বিনা কারণে নয়। 
এলাহাবাদ-লাপর ভাষায়, রাজা সমূদ্রগৃপ্ত ছিলেন ন্রিভুবনজয়ন। প্রাচীন কালের 
সভাকাবর এই রাজ-প্রশান্ত আধ্ানক কালের বহু পাঁণ্ডিতকেও 'বপুলভাবে 
প্রভাবিত করতে ছাড়ে নি। এই শেষোক্তরা সমদ্রগুপ্তকে আদর্শ রাজা বানিয়েছেন 
এবং ভিনসেন্ট এ. স্মিথের মতো পাশ্ডিত তাঁকে আখ্যা দিয়েছেন “ভারতৃয় 
নেপোলিয়ন' অর্থাৎ চমকপ্রদ গুণাবলীর অধিকারী অসামান্য এক ব্যাক্ত বলে। 


চন্দ্রগপ্ত বিক্রমাদত্য 


শিলালিপি ইত্যাদিতে উৎকীর্ণ তথ্যের বিচারে বলতে হয় সমদদ্রগপ্ত রাজত্ব 
করেন ৩৮০ খ্যীস্টাব্দ পর্যন্ত। অতঃপর 'সিংহাসনের আধকারণ হন তাঁর প্র 
দ্বিতীয় চন্দ্রগপ্ত। দ্বিতীয় চন্দ্রগ্প্ত রাজ করেন ৪১৩ কিংব। ৪১৫ খএবস্টাব্দ 
পর্যন্ত। বিশাখদর্ত-রচিত নাটক “দেবিচন্দ্রগপ্তম' এ-নাটকের খশ্ডিত অংশাবশেষমান্র 
রক্ষিত হয়েছে) অন[ষায়ী, দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত তাঁর ভাই বামগুপ্তের সঙ্গে প্রচণ্ড 
সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে তবেই 1সংহাসন লাভ করেন। নাটকটিতে স্পম্ট করেই বলা 
হয়েছে যে ভাইয়ের বিরৃদ্ধে চন্দ্রগুপ্তের প্রাতিদ্বন্দবিতায় এই সাফল্যের মূলে ছিল 
পশ্চিমদেশীয় ক্ষত্রপদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাঁর জয়লাভ। এই তথ্যটি উৎকর্ণ লিপি 
ও মুদ্রা, পদক, ইত্যাঁদর প্রমাণ থেকেও সমার্থত হচ্ছে। উৎকীর্ণ 'লাপতে অবশ্য 
ক্ষত্রপদের বিরুদ্ধে আভযানের 'বাভন্ন স্তরের বিবরণ পাওয়া যায় না, তবে এক 
জায়গায় উল্লেখ করা আছে যে চন্দ্রগুপ্তের মল্তীঁ ও সেনাপতিরা কার্ষোপলক্ষে 
মালবদেশে সফর করেছেন। খ্যনস্টীয় পঞ্চম শতাব্দীর সচনায় দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের 


১৬৬ 


প্রচলিত মুদ্রা প্রবেশলাভ করোছিল পশ্চিমদেশীয় ক্ষত্রপদের ভূখন্ডগ্ীলিতেও। এই 
মুদ্রাগ্লি দেখতে ছিল যেন প্রাক্তন ক্ষত্রপ-শাসকদের প্রচালত মুদ্রার মতো । মনে 
হয় এটা গৃপ্ত-রাজার পশ্চিমদেশীয় ক্ষত্রপদের ভূখণ্ডগ্াল আধকার ও তা সাম্রাজ্যের 
অন্তভূক্ত করারই লক্ষণ। এছাড়া পাশ্চমদেশে আঁভযানকালে "দ্বিতীয় চন্দ্রগপ্ত 
সম.দ্রোপকৃলবতর্ঁ অণ্চল সহ পশ্চিম ভারতের আরও 'িছু-কিছ্‌ এলাকা জয় করে 
নেন। এর ফলে গুরত্বপূর্ণ বেশাকছু বাণিজ্য-কেন্দ্রও গঃপ্ত-রাজাদের অধিগত হয় 
এবং তাঁদের সংযোগ প্রসারিত হয় পাশ্চাত্যের বহ7 দেশ সহ সমদদ্রপারের 
দেশগলিতেও। 

রাজা চন্দ্রের নিদেশে দিল্লীর বিখ্যাত লৌহস্তস্তের গায়ে উৎকটর্ণ 'লিপিটিকে 
1ভাত্ত করে কিছু-কিছু ইতিহাসবেত্তা এমনও অনুমান করেন যে দ্বিতীয় চন্দ্রগণুপ্ত 
(এপরা চন্দ্র ও দ্বিতীয় চন্দ্রগপ্তকে একই ব্যা্ত বলে মনে করেন) তাঁর সাম্রাজ্যের 
সীমা নাকি সুদূর বাল্‌খ পর্যন্ত প্রসারিত করেন। তবে এই অনুমানের সপক্ষে 
এখনও পর্যন্ত যথেষ্ট প্রমাণ মেলে 'ন। "দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালে পশ্চিম 
দাক্ষিণাত্য ও মধ্য-ভারত-জোড়া এক পরা্রান্ত রাজ্য ভকতকদের সঙ্গে রাজার সম্পর্ক 
অত্যন্ত তিক্ত হয়ে ওঠে। তাই সাম্রাজ্যের দক্ষিণ ও পশ্চিম সীমানার নিরাপত্তা 
নাশ্চত করে তোলার উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত তাঁর মেয়ের সঙ্গে ভকতক-বংশীয় 
রাজার বিয়ে দিয়ে ভকতকদের সঙ্গে বৈবাহিক-সম্বন্ধ পাকা করে তোলেন। নাগ- 
বংশীয়দের রাজ্যও ওই সময়ে রাষ্ট্রক্ষমতা ও স্বাধীনতা কিছু-পারমাণে রক্ষা করতে 
সমর্থ হয়েছিল, যাঁদও তাঁর উৎকণীর্ণ 'লাঁপর ভাষ্য অনুযায়ী রাজা সম[দ্রগণপ্ত 
ইতিপূর্বেই ওই রাজ্যের রাজাকে যুদ্ধে পরাস্ত করোছলেন। প্রেসঙ্গত উল্লেখ্য যে 
দ্বিতীয় চন্দ্রগ-প্ত নাগ-বংশের প্রাতানধি কুবেরনাগের কন্যাকে বিয়ে করেছিলেন।) 
বোঝা যায় যে এই যোগাযোগের সূত্রেই দ্বিতীয় চন্দ্রগস্ত ভকতক ও নাগদের 
সমর্থনের ওপর নির্ভর করোছিলেন পশ্চিমদেশীয় ক্ষত্রপদের বির্দ্ধে তাঁর সংগ্রামকে 
অপেক্ষাকৃত সহজসাধ্য করে তোলার উদ্দেশ্যে । 

ওই যুগের মুদ্রা পরীক্ষা করে দেখা যায় যে দ্বিতীয় চন্দ্রগপ্তের আমলে মদ্রা- 
সংস্কার সাধিত হয়েছিল। তাঁর পূর্বপুরুষরা কেবলমান্র ব্যবস্থা করেছিলেন 
স্বর্ণমদ্রা প্রচলনের, আর এ-সময়ে প্রচলন ঘটে রোপ্য ও তাগ্রমদ্রারও। "দ্বিতীয় 
পাঁখর প্রতিকৃতি মুত আছে। এই গ্ররুড়ের প্রাতকৃতি দেখতে পাওয়া যায় ওই 
সময়কার তাম্মুদ্রাতেও। এ-থেকে স্পম্ট বোঝা যায় যে দ্বিতীয় চন্দ্রগবপ্ত ছিলেন 
বৈষ্বধর্মের সমর্থক । এর প্রমাণ আরও মেলে এই রাজার নামের সঙ্গে যুক্ত অপর 
একটি বিশেষণ-_পরমভাগবত (অর্থাৎ দেব ভাগবতের শ্রেম্ঠ ভক্ত) থেকে। 

ভারতের ইতিহাসে রাজা "দ্বিতীয় চন্দ্রগ্প্ত সবচেয়ে জনাপ্রিয় রাজাদের একজন 


১৬৭ 


হিসেবে আদৃত। ইতিহাসে তাঁর দ্বিতীয় এক নামকরণ হয়েছে বিক্রমাদত্য (অর্থাৎ 
সূর্ধতুল্য পরান্রমশালণী)। এীতহ্য অনুসারে বহ] প্রখ্যাত লেখক, কাব ও পণ্ডিতের 
দ্বিতীয় চন্দুগুপ্তের রাজত্বকালকে প্রায়শই গুঞ্চ-সাম্াজ্যের স্বর্ণযুগ বলে উল্লেখ 
করা হয়। 

'দ্বতীয় চন্দ্রগুপ্তের মৃত্যুর পর তাঁর পত্র কুমারগপ্ত সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
৪১৫ থেকে ৪৫৫ খশস্টাব্দব্যাপণ তাঁর রাজত্বকালে অসামান্য গ্ররত্বের কোনো 
ঘটনা ঘটতে দেখা যায় নি। কুমারগুপ্ত ছিলেন শৈব-ধর্মাবলম্বী। তাঁর রাজত্বকালের 
স্বর্ণমদ্রায় ময়্‌রবাহন দেব কাতিকেয় (শিবের পনভ্র)-র প্রাতকৃতি ম্ীদ্রত। আর 

কুমারগুপ্তের রাজত্বকালের শান্ত ভঙ্গ হল তাঁর মৃত্যুর অল্প পরেই। তাঁর 
উত্তরাঁধকারী স্কন্দগ্‌প্তকে ওই সময়ে ভারত-আক্রমণকারী হূন ও এফখ্যালাইট 
উপজাতিদের বিরুদ্ধে তুমূল সংগ্রামে লিপ্ত হতে হল। 


হূন ও এফ্যালাইট উপজাতিসমূহ এবং গ্নপ্ত-সাম্রাজ্যের পতন 


উপজাতিদের এই জোটাঁট আগে বাস করত অভ্যন্তরীণ ও মধ্য-এঁশয়ায়। 
খুইস্টীয় পণ্চম শতাব্দীতে অত্যন্ত শাক্তশালশ হয়ে উঠে এরা সাসানদ-শাসিত 
পারস্য ও কুশান-বংশের শেষ রাজাদের প্রবল প্রাতিদ্বন্দী হয়ে দাঁড়ায়। গোড়ার দিকে 
এফ্যালাইটরা একদা-পরাক্রাস্ত কুশান-সাম্রাজ্যের পশ্চিম ভূখন্ডগ্ালতে অবাস্থত 
ছোট-ছোট রাজ্যকে পরাজত করে, পরে সাসাঁনদ-পারস্যের রাজাদের পদানত করে 
চমকপ্রদ সব যুদ্ধের সাফল্যের মধ্যে দিয়ে। এরও পরে তারা আক্রমণ করে উত্তর- 
পশ্চিম ভারত এবং গান্ধার জয় করে নেয়। ওই সময়টাতেই (আনুমানিক ৪৫৭- 
৪৬০ খ্যাস্টাব্দে) গুপ্ত-রাজার সঙ্গে হৃন ও এফখ্যালাইটদের প্রথম সংঘর্ষ ঘটে। 
গুপ্ত-যুগের একটি উৎকীর্ণ 'লিপিতে উল্লেখ পাওয়া যায় হুনদের বিরুদ্ধে য্দ্ধে 
সকন্দগুপ্তের বিজয়লাভের । যদিও গ.প্ত-রাজার এই সমস্ত সাফল্য ছিল স্ব্পস্ছায়নী, 
তব্য এইসব হুদ্ধজয়ের তাৎপর্য ছিল যথেম্ট_-িবশেষ করে যাঁদ আমরা মনে 
রাঁখ এফখ্যালাইট-সেনাবাহিনী পশ্চাদপসরণের সময় ক মারাত্মক ধবংসের চিহ 
পেছনে রেখে গিয়েছিল তার কথা । অন্যাদকে হৃনদের পশ্চিমী বাহিনীগদলো 
রোমান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একটার-পর-একটা যুদ্ধে জয়ী হয়ে চলেছিল এবং 
ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে চলোছিল পশ্চিম ইউরোপের 'বাভন্ন অগ্চল। হূন ইত্যাদির 
শবরুদ্ধে এই য্দ্ধ পাঁরচালনা করতে হওয়ায় গুপ্ত-সাম্াজ্যে আর্থক টানাটান দেখ। 
গদয়োছল; গুপ্ত-রাজা বাধ্য হয়েছিলেন মদ্রাীনর্মাণে নিয়োজিত সোনার পারমাণ 


১৬৮ 


কাঁময়ে দিতে এবং প্রচাঁলত প্রাতাঁট ধরনের মুদ্রার রকমফেরের সংখ্যাও হ্রাস করতে। 

এর পরবতাঁ সময়ে স্কন্দগুপ্তের উত্তরাধিকারীদের রাজত্বকালে সামাজ্যের মধ্যে 
বিচ্ছিন্নতার ও স্বাতন্দ্যের প্রবল একটা প্রবণতা দেখা যায় এবং কেন্দ্র থেকে 
অপেক্ষাকৃত দুরবতাঁ প্রদেশগ্যালতে কেন্দ্ৰীয় শাসন থেকে স্বাধীনতা অজর্নের 
আকাঙ্ক্ষা মাথা চাড়া দিতে শুরু করে। যেমন, রাজা বুদ্ধগুপ্তের রাজত্কালে 
কাথিয়াওয়াড়ের শাসনকর্তা 'সেনাপাঁত' পদের পাঁরবর্তে (সে-সময়ে এমন কিছু 
উচ্চ পদ বলে গণ্য না-হলেও) মহারাজা” খেতাব গ্রহণ করেন এবং সরকারিভাবে 
গুপ্ত-সাম্রাজ্যের অধীনস্থ সামন্ত-রাজা হওয়া সত্তেও কার্যত তান স্বাধীন রাজা 
হয়ে দাঁড়ান। দক্ষিণ কোশল ও নর্দা-তীরবতাঁ অণ্লের রাজারাও ওই সময়ে 
নামেমাত্র সামন্ত-রাজা ছিলেন। বঙ্গদেশও স্বাধীনতা অর্জন করে ওই সময়ে। এই 
সমস্ত ঘটনা মিলেমিশে তখন এমন এক পারস্থিতির সৃম্টি করেছিল যাতে গৃপ্ত- 
সাম্রাজ্কে আর কোনোমতেই এক্যবদ্ধ বলা চলছিল না। 

এমন সময়ে সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে প্রবল এক আঘাত হানল হন ও 
এফ ্যালাইটদের নতুন-নতুন সব আক্রমণ । এফত্যালাইট-রাজ তোরমান (৪৯০- 
১৫ খ্ীস্টাব্দ)-র নেতৃত্বে হুনরা ভারতের গভীর অভ্যন্তরে অন্প্রবেশ করে 
সন্ধূদেশ এবং রাজস্থান ও পশ্চিম ভারতের 'বাভন্ন অণ্চল আঁধকার করে 'নিল। 
তোরমানের উত্তরাধিকার মিহিরকুল গোড়ায় গুপ্ত-রাজাদের বিরদ্ধে বেশ কয়েকাঁট 
যুদ্ধে জয়লাভ করলেন। কিন্তু পরে রাজা নরসিংহগ্প্ত (বা বালাদিত্য) এক 'নর্ধারক 
যদ্ধে হন-বাহনীকে বিপর্যস্ত করে দিলেন এবং মিহিরকুল ফের একবার বাধ্য 
হলেন উত্তর-পশ্চিম ভারতে পশ্চাদপসরণ করতে । একমান্র গান্ধারের কিছ-কিছ 
অংশ এবং পঞ্জাবের বিশেষ কয়েকটি এলাকা তাঁর দখলে রয়ে গেল তোঁর এই 
অধীনস্থ রাজ্যের রাজধানী হল তখন সাকালা বা আধ্মনিক শিয়ালকোট শহর)। 
৩৩ খাীস্টাব্দে মালবের রাজা যশোধর্মণ হূন ও এফত্যালাইটদের শেষপযস্ত 
যুদ্ধে পরাস্ত করলেন বটে, তবে ততাঁদনে গপ্ত-সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ এক্য ভেঙে 
চুরমার হয়ে গেছে। গপ্ত-সাম্রাজ্যের এই দূর্বল অবস্থার সুযোগ [নয়ে যশোধম্ণ 
এবার স্বাধীনতা ঘোষণা করলেন। মালবদেশ ছাড়া সাম্রাজ্যের অন্যান্য অণ্চলও 
স্বাধীন হয়ে গেল। যেমন, উদাহরণস্বরূপ, কনোৌজে প্রাতম্ঠিত হল স্বাধীন 
মৌখার-রাজবংশ। 

এর পরে আরও কিছুকাল গপ্তরা তাঁদের প্রাধান্য বজায় রাখতে পেরেছিলেন 
মগধে ও অন্যান্য কিছু-কিছু ভূখণ্ডে, তবে এ-সময়ে যা থেকে গিয়েছিল তা হল 
একদার মহৎ রাজা ও রাজবংশের দূর্বল কিছু বংশধর। এই শেষোক্ত রাজারা |. 
'পরবতর্ণকালের গপ্ত-রাজা' নামে পাঁরাঁচত হয়ে আসছেন। এইভাবে প্রাচীন জগতের 
অন্যতম সর্ববৃহৎ সাম্রাজ্যের পতন ঘটল। 


১৬৯ 


পশ্চিমদেশীয় ক্ষত্রপকূল ও সাতবাহন-সাম্রাজ্য 


খস্টীয় প্রথম শতাব্দীতে দাক্ষিণাত্যে ও সমগ্রভাবে দক্ষিণ ভারতে শ্রেণী- 
বিভাগের প্রধান সামাজক প্রক্রিয়াগ্লি কাজ করছিল এবং গড়ে উঠাঁছল বড়-বড় 
রাম্ট্র। এই সময়ে ভারতের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে যেমন যোগাযোগ বেড়ে 
চলেছিল এবং তেমনই একদিকে রোম ও অপরাদকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির 
সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছিল দক্ষিণ ভারতের রাষ্ট্রগ্ীলর। তখনও সাতবাহন- 
সাম্রাজ্য দক্ষিণ ভারতে এক প্রধান ভূমিকায় আধাচ্ঠত ছিল। কাঁলঙ্গ-রাজ্যের পতনের 
পর সাতবাহন-সাম্রাজ্যের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়ালেন ক্ষত্রপ-শাসকরা। যে-সমস্ত 
শক-উপজাতি সুদূর খস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীতে 'সহ্কুনদের নিম্ন উপত্যকায় 
ও কািয়াওয়াড়ে বসতি স্থাপন করোছিল এই ক্ষত্রপরা ছিলেন তাদেরই উত্তরপ্রূষ। 
্রমশ এই সমস্ত উপজাতিরা কিছু-কিছ স্বাধীন-প্রধান হয়ে ওঠে, যেমন খএসস্টীয় 
প্রথম শতাব্দীতে বিশেষ করে শাক্তশালী হয়ে ওঠে এদের মধ্যে ক্ষহরত ও কর্দমক 
উপজাতি-দুটি। 

খএীস্টীয় "দ্ধতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি উপরোক্ত ক্ষত্রপ-শাসকরা পশ্চিম 
দাক্ষিণাত্যের কিছু-কিছ অণ্চল যা আগে সাতবাহন-সাম্রাজ্যের অন্তভূক্তি ছিল তা 
দখল করে নিতে সমর্থ হন। পরে নহপনের শাসনকালে ক্ষত্রপ-শাঁসত এলাকা 
আরও প্রসারত হয়। নাসিক ও কার্লেতে প্রাপ্ত নহপন-লাপিগ্ীল দেখে মনে 
হয় তাঁর রাজ্যের অন্তরভক্ত ছিল এই সমস্ত অণ্টল। শিলালিপি ইত্যাদর সাক্ষ্য 
থেকেও জানা যায় যে ১১৯ থেকে ১২৫ খ্ঃশস্টাব্দের মধ্যে ক্ষত্রপরা দাক্ষণ গুজরাট 
এবং ভার্‌কচ্ছ (বর্তমানে রোচ) বন্দরের অধিপতি ছিলেন। ক্ষত্রপ এবং সাতবাহনদের 
মধ্য দীর্ঘাদনের শন্ুতার অবসান ঘটে শেষপর্যস্ত সাতবাহনদের বিজয়ের মধ্যে 
দয়ে। উৎকীর্ণ 'লাঁপগ্ীলিতে শকদের বিরুদ্ধে সাতবাহন-রাজ গোতমীপূত 
(গোতমীপুুত্) সাতকানির একাধিক যৃদ্ধজয়ের উল্লেখ পাওয়া যায়। বোঝা যায় এর 
ফলে রাজ! সাতকাঁনি পশ্চিম ভারতের িছু-কিছ অণ্চলেও প্রাধান্যবিস্তার করতে 
পেরোছলেন। 

একটি উতকীর্ণ 'িপিতে এই রাজার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে তিনি ক্ষহরত- 
বংশের বিলোপসাধন ঘটিয়ে পুনরাদ্ধার করোছলেন সাতবাহন-রাজবংশের 
পূর্বগৌরব। উপরোক্ত ওই সমস্ত লিাপতেই গোতমীপুত সাতকানর রাজত্বকালে 
সাতবাহন-রাজ্যের সীমানাও নির্দোশত হয়েছে। বলা হয়েছে যে তিনি নহপনের 
কাছ থেকে উত্তর-পশ্চিম দাক্ষিণাত্যের অংশবিশেষ ও পাঁশ্চম ভারতের ভুখশ্ড 
ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। তদুপরি তাঁর শাসনাধীন হয়োছল অশ্মক ও বদের মতো 


৯৭০ 


প্রাতিবেশ রাজ্গ্যাীলও এবং পরে তিনি জয় করে নেন সাতবাহনদের প্‌রনো 
প্রতিদ্ন্দী রাজ্য কাঁলঙ্গের অন্তভূক্ত কিছু-কিছু ভূখন্ডও। 

তবে সাতবাহনদের এই বিজয়গৌরব অবশ্য স্বজ্পচ্ছায়ী হয়েছিল। পরাক্রাস্ত 
শক ক্ষত্রপ রুদ্রদমনের রাজত্বকালে (খে্স্টীয় ১৫০ অব্দে)ট সাতবাহনরা বাধ্য 
হয়েছিলেন তাঁদের নতুন-অধিকৃত অনেক ভূখন্ডই ছেড়ে দিতে । রূদ্রদমনের 'নর্দেশে 
রচিত উৎকর্ণ 'লাঁপর একটিতে তাঁকে অবন্তী, সূরাম্ট্র ও অপরন্তের অধিপাঁতি 
বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, অনাভাবে বলতে গেলে, পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ 
অঞ্চল করায়ত্ত হয় শকদের, আর সাতবাহনদের দখলে থেকে যায় কেবল পাশ্চিমে 
নাঁসক ও পুনার সান্নকটবতারঁ অণ্লগুলি। 

গোতমীপুতের বংশধরেরা অবশ্য ক্ষত্রপদের বিরুদ্ধে তাঁদের সংগ্রাম চালিয়ে 
যান। রাজা পুলুমভি (১৩০-১৫৯ খ্স্টাব্দ)-র নেতৃত্বে সাতবাহনরা পশ্চিমের 
অণুলগুলিতে চমকপ্রদ কোনো সাফল্যলাভে অসমর্থ হবার পর তাঁদের দ্াম্ট নিবদ্ধ 
করেন পূর্বাগলের দিকে । তবে কখনও-কখনও, যেমন রাজা শ্রী যজ্ঞ শতকর্ণার 
রাজত্বকালে (এ*র আমলের উৎকটর্ণ কিছু-কিছ্‌ 'লাঁপ পাওয়া গেছে নাসিকে), 
সাতবাহনরা পশ্চিম ভারতের ছক অণ্চল জয় করে নিতে সমর্থ হন, তবে 
সাগ্নাজ্যের এঁক্য অটুট রাখার মতো ক্ষমতা তখন আর তাঁদের ছিল না। একমান্র 
পৃবণ্চিলগ্ীলতেই তাঁদের প্রাধান্য অক্ষু্ন রাখতে পেরেছিলেন সাতবাহনরা । 


ভকতক-্াজ্য 


সাতবাহন-সাম্রাজ্যের পতনের পর অনেকগ্াল ছোট-ছোট রাজ্য প্রাধান্যলাভের 
জন্যে পরস্পরের মধ্যে তীর সংগ্রাম শুর করল। আর শেষপর্যন্ত তাদের মধ্যে 
সবচেয়ে শক্তিশালী বলে প্রমাঁণত হল ভকতক-বংশীয় রাজ্য। গোড়ায় এই 
রাজবংশের ভূখণ্ডগত শাসনকেন্দ্র ছিল বর্তমানে বেরার নামে পাঁরাচত অঞ্চলে । 
এদের এই রাজ্যের উত্থানের আন্মানিক একটি তাঁরখ পাওয়া যায়, তা হল ২৫৫ 
খুসস্টাব্দ। বলা হয়, এই রাজবংশের প্রাতিষ্ঠাতা ছিলেন রাজা বি্ধ্যশাক্ত। 
পুরাণসমূহে উক্ত তথ্য অন্যায়ণ রাজা বিন্ধ্যশক্তি শক ক্ষত্রপদের বিরদ্ধে এবং 
সাতবাহন-সাম্রাজ্যের পতনের পর দাক্ষিণাত্যের যে-সমস্ত স্থানীয় ছোট-ছোট রাজ্য 
স্বাধীনতা অর্জন করেছিল তাদের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ পরিচালনা করেন। রাজা 
বিন্ধ্যশাক্তর উত্তরাধিকারী প্রথম প্রবরসেন (২৭৫-৩৩৫ খ্স্টাব্দ) তাঁর পররাম্ট্র- 
নীত পাঁরচালনার ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত বেশি সফল হয়েছিলেন। সগোরবে “সম্রাট 
(একচ্ছন্ন রাজা) উপাধি ধারণ করেছিলেন 'তানি। তাঁর রাজত্বকালে ভকতক- 
রাজবংশের অধীন হয়োছিল বিস্তীর্ণ এক ভূখন্ড । নর্মদা থেকে কৃষ্কা নদীর 


৯৭৯ 


মধ্যবতাঁ অণ্চল তাঁর রাজ্যের একাংশ হিসেবে গণ্য ছিল। মধ্য-ভারতেও কিছুটা 
স্থাপন করোছিলেন: নিজ পাত্রের সঙ্গে বিবাহ দিয়েছিলেন জনেক নাগ-রাজার 
কন্যা ভবনাগের। 

প্রবল পরাক্লান্ত গপ্ত-সাম্রাজ্যের যখন আঁবভণব ঘটল রাজনোতক রঙ্গমণ্ডে, 
ভকতকদের তখন রাজ্যের উত্তর সীমানা প্রাতরক্ষার ব্যাপারে মনোনবেশ করতে 
হল। দক্ষিণ ভারতে সমদূদ্রগপ্তের বিজয়-অভিযান আনবার্ষভাবেই ভকতক ও 
গপ্ত-রাজ্যের মধ্যে সম্পর্ক জল করে তুলল । 

সুবিখ্যাত এলাহাবাদ-ীলাঁপতে গুপ্ত-রাজার সামরিক জয়যান্রার বর্ণনা দিতে 
গিয়ে তাঁর আধকৃত রাজ্যগীলর একটি তালিকা দেয়া হয়েছে। এই তালিকায় 
গুপ্ত-রাজার হাতে পরাজিত রাজাদের নামের মধ্যে উল্লিখিত হয়েছে আর্ধাবতের 
রাজা রূদ্রদেবের নাম। বহু ইতিহাসবিদ পণ্ডিত মনে করেন এই রদ্রদেব ভকতক- 
বংশের তৎকালীন রাজা ও প্রবরসেনের পোন্র প্রথম রুদ্রসেন (৩৩৫-৩৬০ খ্যাঁস্টাব্দ) 
ছাড়া আর কেউ নন। তবে সমহদ্গ্‌প্তের দক্ষিণদেশ আভষানকালে আধকৃত সকল 
অণ্চলই গপ্ত-রাজবংশ তাঁদের সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন নি, যাঁদও ওইসব অণ্চলে 
গুপ্ত-রাজত্বের প্রভাব অতঃপর আগের চেয়ে বহুগুণ প্রবল হয়ে উঠোছল। গণপ্ত 
ও ভকতক উভয় রাজ্যই অবশ্য পরস্পরের মধ্যে বন্ধ_-সম্পর্ক স্ছাপনের গর্ব 
উপলান্ধ করেছিল তখন। ভকতকদের সাহায্যে দক্ষিণ ভারতে নানা ধরনের 
চাপসৃম্টির একটা পারকল্পনা করেছিলেন গপ্তরা, অথচ ভকতকদের তখন এমন 
অবস্থা ছিল না যে গপ্তদের বিরদ্ধে খোলাখ্যাল যুদ্ধ ঘোষণা করে তাঁরা এ-কাজে 
বড়রকমের কোনো প্রতিরোধ সৃম্ট করবেন। এই সময়ে গপ্তরা পশ্চিম ভারতের 
ক্ষত্রপদের 'িরুদ্ধে সংগ্রামেই প্রধানত তাঁদের মনোযোগ 'িবদ্ধ করেছিলেন আর তাই 
ব্স্ত হয়ে পড়োছলেন রাজ্যের দক্ষিণ সীমান্ত নিরাপদ করে তুলতে । এ-কারণেই 
গুপ্ত ও ভকতক-রাজ্যের মধ্যে বন্ধ*-সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ ঘটে গিয়োছল 
এবং ভকতক-সিংহাসনের উত্তরাধিকারী ও রাজা প্রথম রাদ্রসেনের পোন্ন দ্বিতীয় 
রুদ্রসেন বিবাহ করলেন গপ্তরাজ দ্বিতীয় চন্দ্রগ্প্ত বিক্রমাঁদত্যের কন্যা 
প্রভাবতনগপ্তকে। 

ভকতক-রাজসভায় গুপ্ত-রাজবংশের প্রভাব বিশেষ করে অনূভূত হয় তখন 
যখন প্রভাবতীগপ্ত রাজ-প্রতীনাীধিরূপে রাজ্য-পরিচালনার ভার পেলেন। ওই সময়ে 
কেবল গৃপ্ত-রাজ্যের রাম্ট্রদূতরাই নন, রাজকর্মচারিরাও পাটালপাত্র থেকে ভকতক- 
রাজ্যের রাজধানী নন্দিবর্ধনে বের্তমান নাগপরের কাছে) আসা-যাওয়া করতে 
লাগলেন। তবে এর পরে অজ্পাঁদনের মধ্যেই এঁক্যবদ্ধ ভকতক-রাজ্য ভেঙে দেখা 
দল কছু-কিছ্‌ স্থানীয় রাজ্য। এদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাতপাঁণ্ড ছিল বংসগ্দল্মের 


চি 


৯৭৭ 


(দক্ষিণ বেরার-এর) ভকতকদের। তবে ভকতকদের প্রধান ধারার এই সমস্ত শাখা- 
প্রশাখা বোৌশাঁদন ক্ষমতায় আঁধান্ঠিত থাকতে পারে নি, অল্পদিনের মধ্যেই সেগাল 
পরান্রান্ত চাল:ক্য-রাস্ট্রের সার্বভোমত্ব মেনে নিতে বাধ্য হয়। 


পল্লব-রাজবংশ ও স্যদূর দক্ষিণদেশীয় রাষ্ট্রসমূহ 


সাতবাহন-সাম্রাজ্যের পতনের পর ভকতক-রাজ্যের পাশাপাশি পল্লব ও ইক্ষবাকু- 
বংশীয় রাজ্যদুটিও দাক্ষিণাতের রাজনৈতিক জাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন 
করে। তবে দুঃখের বিষয় আকর সূত্রগূলি থেকে খুব অল্পই সংবাদ পাওয়া যায় 
এই রাম্ট্রগ্লি সম্বন্ধে। পলব-রাজ্যের রাজধানী ছিল কাণ্ঠঈঈপুরম নগরে এবং 
রাজ্যাটর উত্তর সীমান্ত 'িারুপিত ছিল কৃষ্ণানদীর গাতপথ-বরাবর। পল্লবরা 
একাধকবার গুপ্তদের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রবৃত্ত হয়েছিলেন। ওই সময়ে অন্ধঃদেশে 
ক্ষমতায় অধান্তত ছিলেন ইক্ষবাকু-রাজবংশ এবং পল্লবদের বিরুদ্ধে এই রাজবংশ 
পশ্চিমদেশীয় ক্ষত্রপদের সঙ্গে সন্ষিসূত্রে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তবু এইসব যাদ্ধাবিগ্রহে 
শেষপর্যন্ত বিজয় হন পল্পবরাই। 

খঃস্টীয় প্রথম শতকে দেশের একেবারে দক্ষিণ অণ্চলে তখনও পর্যন্ত চের, 
পাণ্ড্য ও চোল-রাজবংশের বড়-বড় রাজ্যগুলির আস্তত্ব বজায় ছিল। এই রাজাগ্ালর 
আস্তত্বের কথা উল্লিখত আছে এমন কি বহহ পূর্বের মৌর্য-সম্রাট অশোকের 
উৎকীর্ণ 'লাঁপগ্ালতেও। এই সমস্ত রাজ্য একদা রোমের সঙ্গে সরাসার যোগাযোগ 
স্থাপন করেছিল, বিনিময়ে ভারতের এই প্রত্ন্ত দক্ষিণে রোমও স্থাপন করোছল তার 
বাণিজ্য-কেন্দ্রপমূহ। দুঃখের বিষয়, যদিও খঈস্টীয় প্রথম শতকে কিছু-কিছ 
তামিল আকর-গ্রন্থের আবিভভব ঘটেছিল, তব্‌ উপরোক্ত রাম্ট্রগ্যালর রাজনৈতিক 
ইতিহাস সম্বন্ধে প্রায় কছুই জানা যায় না। খ্এস্টীয় চতুর্থ-পণ্টম শতকে শতরু 
কুরল' নামে তামিল পাঁহত্যের এক অসামান্য প্যথ লিখিত হয় এবং তার পরে- 
পরেই আঁবিভণব ঘটতে থাকে বহুতর কাব্য. ব্যাকরণ ও অন্যান্য রচনার । 

এ-পর্যস্ত উৎকীর্ণ 'লাঁপ ইত্যাঁদ যে-উপাদান পাওয়া গেছে তা থেকে 
খস্টজল্মের পরবতর্ণ গোড়ার দিকের শতাব্দীগুলিতে দাক্ষিণাত্য ও দক্ষিণ ভারতের 
রাষ্ট্রগলির শাসন-ব্যবস্থার মোটামুটি একটা চিত্র পাওয়া যায়। 

সাতবাহন ও ভকতক-রাজবংশ সুসংগঠিত এক কেন্দ্রীভূত শাসন-ব্যবস্থা গড়ে 
তোলেন। তাঁদের সাম্রাজ্যগ্যাল বিভক্ত ছিল কয়েকটি করে প্রদেশে, প্রদেশগ্যাল 
আবার বিভক্ত ছিল বহূতর জেলায়। তাঁদের ছিল নানা ধরনের রাজকর্মচারির 
এক বৃহৎ সম্প্রদায়, যেমন, খাদ্য ও সরবরাহের ভারপ্রাপ্ত কর্মচারি, প্রধান-প্রধান 
লাপকার, সেনাপতি, গ্রামাণ্লের পরিদর্শক, ইত্যাঁদ। 


১৭৩ 


সাতবাহন, ভকতক ও অন্যান্য দাক্ষণ ভারতীয় রাজবংশের অনুসৃত ধর্ম-সংক্রান্ত 
নীতি সম্বন্ধেও অ্প-ীবস্তর উল্লেখ দূর্লভ নয়। সাতবাহনরা ছিলেন বৌদ্ধদের 
পৃন্পোষক। প্রখ্যাত বৌদ্ধ দার্শানক নাগাজনের রচনাঁদর সঙ্গে সাতবাহন- 
রাজসভার সম্পকেরি আস্তত্ব অসম্ভব নয়। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন চাঙ্‌ িখেছেন 
যে নাগাজ্ন নাকি সাতবাহন-রাজসভার পাঁরষদ ছিলেন। 

বৌদ্ধ ও জৈনধর্মের পাশাপাশি হিন্দুধর্মও তখন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়োছল 
দাক্ষণ ভারতে । ভকতক-লাপগুলিতে ডীল্লাখত আছে যে প্রথম রুদ্রসেন ছিলেন 
শৈব-সম্প্রদায়ভূক্ত এবং দ্বিতীয় রুদ্রসেন বৈষব। প্রান যুগে এবং মধ্যযগের 
প্রান্তে ধর্মমতগ্যালর মধে) সমন্বয়সাধনের এই প্রয়াস দাক্ষিণাত্য ও দক্ষিণ ভারতের 
সাংস্কৃতিক বিকাশের ক্ষেত্রে অন্যতম স্ানার্ট বৈশিষ্ট্য হয়ে দেখা দিয়েছিল। 


অর্থনীতির বিকাশ ও সমাজ-কাঠামো 


কষ 


কুশান ও গ্যপ্ত-যুগদযাটি কৃষির আঁধকতর উন্নাতর কারণে 'বাশিষ্ট হয়ে আছে। 
তখন নতুন-নতুন জমি উদ্ধার করা হচ্ছিল, জলাজাঁমর জল নম্কাশন করা হচ্ছিল, 
এবং কৃষিকাজ ব্লুমশই বোৌশ-বোশ গুরুত্ব অন করছিল। রাষ্ট্রের তরফ থেকে 
কৃষকদের তখন উৎসাহিত করা হোত অনাবাদী ও জঙ্গল কেটে সাফ-করা জমিতে 
চাষআবাদ করতে । ণমিন্দ-পহ" ও মনুসংাহতায় বলা হয়েছে যে যাঁরা জঙ্গল 
আধিকার দেয়া হবে। 

ভারতের যে-সব অণুলে জলের প্রাচুর্য ছিল সেখানে পানের চাষ হোত। বিশেষ 
করে ধানচাষ হোত বঙ্গ, বিহার, আসাম, গাঁড়ব্যা ও দক্ষিণ ভারতের সমদদ্র-তীরবতাঁ 
এলাকাগুলিতে। তখনই বহ্াবাভন্ন প্রকারের ধানের কথা জানা ছিল লোকের। 
'অমরকোষ'এ ধানচাষ এবং গম, যব ও তিলের চাষের জন্যে কী-কী ধরনের মাটি 
উপযোগী বিবরণ আছে তার। এই আঁভিধানখাঁনর রচয়িতা অমরাঁসংহ সীম ও 
মসূর ডালের সঙ্গে পারচিত ছিলেন, শশা, পান, পেখ্মাজ, রসূন ও কুমড়োর কথা 
তো বাদই দেয়া গেল। আখের চাষও হোত তখন ব্যাপক আকারে। 

দক্ষিণ ভারত তখনই সুপরিচিত ছিল গোলমরিচ ও অন্যান্য মশলার জন্যে 
ধুপদী ইউরোপীয় আকর সত্রগলতে ভারতের দাক্ষিণাণ্টল এমন কি গোলমারচের 
দেশ বলেও ডীল্লখত হোত। ভারতের কৃষকরা তখন প্রতি বছর জাঁমতে দু'বার 


৯৭৪ 


কি তিনবার করে ফসল ফলাতেন। এমন কি বিদেশেও তখন চালান যেত নানা 
ধরনের দানাশস্য। 'পেরিপ্লুস মারস এরাগ্রই'তে (খ্স্ট্রীয় "দ্বিতীয় শতকে রাঁচত) 
ভারত থেকে চাল ও গম রপ্তানর উল্লেখ আছে। পরবতর্ট কালের ভারতীয় 
পথিগদলিতে বিশেষ জোর 'দিয়ে বলা হয়েছে যে যারা পাঁতিত জমি চাষ করত ও 
জমিতে সেচের ব্যবস্থা করত তারা ওইসব জমিতে গোড়ায় যে-মূল্ধন 'বানয়োগ 
করত যতাঁদন-না তার দ্িগ্ণ পারমাণ অর্থ লাভ হিসেবে উঠে আসত তাদের, ততাঁদন 
রাজকর দেয়ার হাত থেকে অব্যাহাত পেত তারা । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে গৃপ্তযগের 
উৎকীর্ণ 'লাপগালতে প্রায়শই পাঁতিত জমি কেনার উল্লেখ পাওয়া যায়, যা থেকে 
মনে হয় নিশ্চয়ই তখন এই ব্যাপারটা বিশেষ লাভজনক ছিল এবং রাস্ট্রের তরফ 
থেকেও উৎসাহ যোগানো হোত এ-ব্যাপারে। 

ওই সময়ে বদেশ থেকে আমদান-করা নতুন-নতুন ফসলের চাষ দেখা 
দিয়েছিল ভারতে । চাষের যন্বপাতি ও পদ্ধীতরও উন্নাত ঘটেছিল। চাষের জন্যে 
₹ষকদের ব্যবহারের প্রধান যন্্র ছিল লাঙল। 'বৃহস্পতি-স্মৃতি'তে বিশেষ একটি 
নার্দন্ট ওজনের লাঙলের ফলা তৈরি করার 'নর্দেশ আছে, তাছাড়া অমরসিংহ তাঁর 
আঁভধানে লিপিবদ্ধ করেছেন লাঙলের 'বাভন্ন অংশের বিস্তৃত বর্ণনা । লোহার 
তৈরি কীঁষ-যল্্পাতির ব্যাপক প্রচলন শুর্‌ হয় তখন এবং নতুন-নতুন ধরনের 
কাঁধ-যন্ও দেখা দিতে থাকে । তক্ষাশলায় পাওয়া খনীস্টীয় প্রথম শতাব্দীর 
প্রত্রতাত্তক নিদর্শনসমূহের মধ্যে আছে নতুন ও আরও উন্নত ধরনের কিছ; কুঠার। 
এটা সম্ভব যে এ-ব্যাপারটি 'ছল বিদেশী প্রভাবের ফল, কেননা এই একই ধরনের 
কুঠার সাধারণভাবে পাওয়া গেছে সেই সমস্ত দেশেও যে-সব দেশ একদা রোমান 
সংস্কীতির এীতিহোর প্রভাবে এসেছিল। কুঠার ও কোদাল ছাড়াও তক্ষাঁশলায় 
পাওয়া অন্যান্য পুরাবস্তুর মধ্যে আছে নতুন আকারের কাস্তে ও নিড়ানি। 

ভারতীয় আকর সনত্রগূলিতে চাষের কাজের বর্ণনাও পাওয়া যায়। সেই 
কৃষককেই উপযুক্ত বলা হোত যান নাকি জামতে বীজ বোনার আগে দূশতিন বার 
মাঁট খচিয়ে তোলাপাড়া করতেন। মাঠ থেকে ফসল কেটে আনার পর বিশেষ 
খামারবাঁড়তে ফসল ঝাড়াই বা দানা থেকে খড়ীবচাল আলাদা করা হোত। 
অতঃপর ঢেশকতে ফেলে ওই দানা-ফসল ভানা হোত আর কুলোয় ঝেড়ে দানা থেকে 
সম্পূর্ণ আলাদা করা হোত তুষ বা খোসা। পরে ওই দানা-ফসল রোদ্রে শুকিয়ে 
গোলাজাত করা হোত। 

আমরা-যে-সময়ের কথা বলাছি তখন উদ্যানপালন-বিদ্যারও অগ্রগাতি ঘটেছিল 
যথেন্ট। তখনই ভারতে দেখা দিয়েছিল নতুন-নতুন ধরনের শাকসবৃঁজ এবং পচ 
ও নাসপাঁতর মতো ফল । এছাড়া প্রাচীনকালের ভারতীয়রা আম, কমলালেব্, আঙুর 
ও কলার সঙ্গে তো পারাচিত ছিলেনই। সবর, বিশেষ করে সমুদ্র-তীরবতর্ঁ অঞ্চলে, 


১৯৪৭ 


ডাব-নারকেলও ফলত যথেম্ট। খস্টীয় দ্বিতীয় শতকের উৎকীর্ণ লিপিগুলির 
সাক্ষ্য অন্দযায়ী, ওই সময়ে প্রথম সবত্র-রক্ষিত নারকেল-বাগান গড়ে তোলা হয়। 
তখনকার আকর সং্রগ্যালতে কেমন করে ফলের গাছ রক্ষা করতে হয় ও লালন 
করতে হয় বিশেষ ধরনের তেল ও সার-জল 'দিয়ে সে-সম্বন্ধেও উপদেশ দেয়া হয়েছে। 
শাস্ব্গ্ীলতে বিশদ তথ্য পারবোশত হয়েছে মাঁটর গুণাগুণ, উদ্ভিদের নানা রোগ, 
ফলের বাগানে প্রত্যেক দুটি গাছের মধ্যে কতখানি করে জায়গা ছাড়তে হবে, 
ইত্যাদি নানা বিষয়ে। 

জমিতে সেচের ব্যবস্থাও তখন দ্ুত বিকাঁশত হয়ে উঠছিল বলে মনে হয়। 
মৌর্য-সাম্রাজ্যের আমলে খনিত সুদর্শন হৃদের বাঁধাট আরও সদদৃঢ় করে তোলেন 
রাজা রূদ্রদমন। জল সণ্চয় করে রাখার জন্যে বিশেষীবশেষ জলাধারও শনার্মত হয় 
তখন। যেমন, খ্নস্টীয় "দ্বিতীয় শতকের একখান শলাঁপতে উজ্জয়িনী থেকে বোঁশ 
দূরে নয় এমন একটি গ্রামে প্রকান্ড এক জলাধার নির্মাণের একটি উল্লেখ পাওয়া 
যায়। হাতিগুম্ফায় স্থাপিত এক 'িলালিাপিতে কলিঙ্গের রাজা খারবেলও সগর্কে 
ঘোষণা করছেন যে তাঁর রাজ্যে বহূতর খাল ও জলাধার 'নর্মাণ করিয়েছেন 
তানি। 

গুপ্ত-যুগের বহ; আকর সূন্নেই কৃষির গুরদত্বের ওপর [বশেষ জোর দেয়া 
হয়েছে। কাব কালিদাস পর্যন্ত তাঁর নাটকে জমিতে চাষ-আবাদ ও পশুপালনকে 
এশ্বর্ষের গুরুত্বপূর্ণ উৎস বলে উল্লেখ করেছেন। 

পশ-খামার গড়ে তোলা ছাড়াও মাছধরা ও অরণ্য-পালনও তখন প্রধান হয়ে 
ওঠে । বন-জঙ্গলের দেখাশোনা করার জন্যে রাস্ট্রেরে তরফ থেকে বশেষ অরণ্য- 
পাঁরদর্শক পর্যন্ত নিষ্‌ক্ত হতেন। 


জমির মালিকানা । ব্যক্তিগত ভূ-সম্পাত্তর বিস্তার 


খশস্টজন্মের পরবতাঁ গোড়ার দিককার শতাব্দীগুলিতে জমিতে ব্যাক্তগত 
মাঁলকানার মাত্রা আরও বাদ্ধি পায়। শাস্নসমূহে যথেম্ট মনোযোগ দেয়া হয় 
ভূদ্বামীদের আধকারসমূহ ও তার সংরক্ষণের ব্যাপারে । অন্যের জাঁম-জায়গা বে- 
আইনভাবে হস্তগত করার অপরাধের শাস্তি হিসেবে নির্দিষ্ট হয় অত্যন্ত 
মোটারকমের অর্থদণ্ডের। বহ-বহ দশক ধরেই জামির মালিক জশ্শিতে তাঁর আধকার 
কায়েম রাখতে পারতেন তখন, তা সে তিনি 'নজে জাম চাষ করুন কিংবা ঠিকা 
প্রজা দয়ে চাষ করান, যা-ই হোক-না কেন। গ.প্ত-যুগে বিশেষ ধরনের রাজকাঁয় 
খাঁতয়ান বা হিসাবের বই চাল করা হয়, যাতে জমির কেনাবেচার খবর নিভুক্ত 
করা হোত। গুপ্ত-যুগের উত্কটর্ণ 'লাপগুলিতে জাম বিক্রির বহু ঘটনার উল্লেখ 


১৭৬ 


পাই আমরা, অথচ ক্ষত্রপ ও কুশান-যুগের 'লাপিতে এ-ধরনের ঘটনার উল্লেখ 
পাওয়া যায় নিতান্তই কদাচিৎ । 

আগের মতোই রাষ্ট্রের তরফ থেকে তখনও চেম্টা হোত ভূ-সম্পান্ত ও ভূমিগত 
সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার, আর গ্রামীণ সমাজগ্যাল চেষ্টা করত জাঁমতে 
ব্যক্তিগত মালিকানার বিস্তারে বাধাসৃঁন্ট করতে । তবু ব্যাক্তর মাঁলকানাধশনে 
ক্রমশ জমির কেন্দ্রীভবনের ধারাটি অব্যাহত থেকে যায় আগাগোড়াই। 

উদাহরণস্বরূপ, প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে পশ্চিম ভারতীয় ক্ষত্রপদের রাজত্বকালের 
এক কে'তূহলোদ্দীপক তথ্য পাওয়া যায় নাসিকে পাওয়া উৎকটর্ণ শলাপগ্যালর 
একটি থেকে৷ তাতে এই ঘটনাটি উল্লেখ করা হয়েছে যে রাজা নহপনের জামাতা 
উষাবদতকে প্রথমে এক ব্যক্তিবশেষের কাছ থেকে একখন্ড জমি কিনতে হয় 
কোনো-এক বৌদ্ধ সঙ্ঘকে সে-জাম দান করার জন্যে। সম্ভবত এ-ঘটনাঁট রাজার 
নিজস্ব ভূ-সম্পান্ত ক্রমশ বিভিন্ন ব্যাক্তির মালিকানাধননে হস্তান্তুরত হয়ে যাওয়ার 
যে-নতুন প্রক্রিয়াটি শুরু হয়ে গিয়োছল তারই হীঙ্গতবহ। মনে হয়, উষাবদতের 
হাতে কোনো মালকহশীন খাল জম ছিল না, আর তাই "তানি বাধ্য হয়োছলেন 
অন্য এক ভূস্বামীর কাছ থেকে জমি কিনতে । 

খস্টজন্মের পরবতাঁ গোড়ার 'দককার শতকগ্দলিতে ব্যক্তীবিশেষকে 
ভাীঁমদানের সংখ্যা বেড়ে গিয়োছল এবং সবচেয়ে যা গর্ুত্বপূর্ণ ব্যাপার তা হল 
এই ভূঁমিদানের প্রকীতিও ক্রমশ বদলে যেতে শুরু করেছিল। এর পূর্কে ভীমদান 
কেবল প্রযোজ্য ছিল জমির ব্যবহারের ক্ষেত্রেই, জাঁমতে কর্ষণরত কৃষকদের ওপর 
তার ফলে কোনো আঁধকার জল্মাত না। তাছাড়া আগে অনেক ক্ষেত্রেই ভূমিদানের 
মেয়াদ ছিল সাময়ক, অর্থাৎ ভুমর গ্রহীতা যতাঁদন বিশেষে সরকারি কাজে লিপ্ত 
থাকতেন শুধুমাত্র ততদিনের জন্যেই, কিন্তু আলোচ্য সময়ে তা ক্রমশ বেশি-বোশ 
করে বংশানক্রামক হয়ে উঠতে শুরু করল। 

এর ফলে ব্যাক্তগত মালিকদের অধিকার, ইত্যাদি পাকাপোক্ত ও কায়েম হয়ে 
উঠল এবং এই মালিকরা মোটামুটি স্বাধীন হয়ে উঠলেন কেন্দ্রীয় শাসন-কর্তৃপক্ষের 
নয়ল্নণ এঁড়য়ে। কয়েক ধরনের ভূমিদান-ব্যবস্থা হয়ে উঠল প্রায় চিরস্থায়ীই, কেননা 
এইসব দানকর্মের পাট্রায় সুস্পম্টভাবেই লেখা হতে লাগল যে জাম দান করা হল 
চিরকালের মতো, “তাঁদন চন্দ্রসূর্য ও নক্ষত্ররাজ মরত্যে আলোক বিতরণ 
করবে ততাঁদন?। 

এই যূগে রাজা খন সাময়িক ভোগদখলের জন্যে জমি বাল করতেন, এমন 
কি তখনও ক্রমে-্রমে তিনি ভূস্বামীদের 'দতে লাগলেন কিছু-কিছু বিশেষ 
সুযোগ-সাবিধা, অর্থাৎ তথাকথিত দায়মাক্ত বা রেহাইয়ের আঁধকার। 

এক্ষেত্রে এর পরের পদক্ষেপ হল এই সমস্ত ভূস্বামীর অধীনস্থ জাম ও সেই 


12--488 ১৭এ' 


জমিতে কার্ধত যাঁরা চাষবাস করতেন তাঁদের ওপর 'কিছু-কিছ; শাসন-পরিচালনগত 
ক্ষমতা অর্জন করা। কিছু-কিছ? আইন-সংক্রান্ত কাজও তাঁরা 'নিম্পন্ন করতে শুরু 
করলেন; রাজা তাঁদের মুক্ত করে দিলেন তাঁদের জমিতে রাজকায় কর্মচারিদের 
পারদর্শন ও তদারকি মেনে নেয়ার পূর্বতন সমস্ত বাধ্যবাধকতা থেকে । এই ধরনের 
আঁধকারদানের প্রাচীনতম উল্লেখ পাওয়া যায় খ৭স্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীর একখানি 
সাতবাহন-লাঁপতে (এই রাজকীয় নিদেশাটি সামন্ততান্ত্িক ভূমি-ব্যবস্থার উদ্তবের 
এক নর্ভল লক্ষণ-_- এবং তা শুধু উত্তর ভারতেই নয়, দাক্ষিণাত্যেও)। সাতবাহন- 
রাজ গোতমীঁপত শতকনর্দ বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ভূমিদান করেন এবং সেইসঙ্গে গ্রামীণ 
তাদের জাঁমিতে রাজার সেনাবাহিনীর উপস্ছিতির ও রাজকর্মচারিদের 
পের পৃর্তন বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত করে দেন। এই রাঁতিটি বিশেষ 
ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে খুস্টীয় পণ্চম শতকের পর থেকে যখন থেকে রাজারা 
আইনগত দায়দায়িত্বগ্ীল ওইসব জমির মালিকদের হাতেই ছেড়ে দিতে থাকেন। 
এমন কি খাঁনর মালিকানার অধিকারসমূহও হস্তান্তরিত করা হতে থাকে. যদিও 
এগ্যালকে ইতিপূর্বে বরাবর এীতহ্যাঁসদ্ধ রাজকীয় একচেটিয়া অধিকার বলে গণ্য 
করা হয়ে আসাঁছল। 
রাষ্ট্রের কিছু-কিছ সরকারি দায়দায়িত্ব ব্যক্তবিশেষদের কাছে হস্তান্তরের এই 
সমস্ত নিশি লিপিবদ্ধ করা হোত এক বিশেষ ধরনের সনদ বা নির্দেশনামায় আর 
সনদগ্লি তামার ফলকের ওপর খোদাই করে তা নতুন ভূঁস্বামীদের দেয়া হোত। 
এই রাম্দ্রীয় রীতি অনুসরণের ফলে সামায়ক ভূস্বামীদের পদমর্যাদা বংশানূক্রীমক 
সাম্ততান্তিক প্রভুদের পদমর্যাদার আরও সমীপবতর্শ হয়ে উঠল এবং এমন একটা 
পাঁরাস্ছিতর সৃন্টি হল যে কৃষকরা ব্রমশ ওই প্রথমোক্ত ভূস্বামদের কর্তৃত্বের অধীন 
হয়ে পড়তে লাগলেন। অবশ্য মনে রাখতে হবে যে এই প্রক্রিয়াট রূপ নিয়েছে 
দীর্ঘাদন ধরে ও ব্রুমে-্রমে এবং এর পরেও বেশকিছ কাল ধরে গ্রামাণুলে শাসন- 
পরিচালন সংক্রান্ত দায়দায়িত্বের অনেকগ্যঘলিই ন্যস্ত ছিল খোদ রাম্ট্রের ওপর। 
গ্রামাণ্টলে সমাজ-সম্পকেরিও তখন পরিবর্তন ঘটতে থাকে ণিকা প্রজার সাহায্যে 
চাষবাসের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে। প্রায়শই উৎপাদনের উপায়, অর্থাৎ জাম ও চাষের 
সাজ-সরঞ্জাম হারিয়ে ঠিকা কৃষকরা সম্পূর্ণভাবে ভূস্বামীদের ওপর নিরভরশনল 
হয়ে পড়তে থাকেন। 
এই সময়কার প্রাচীন ভারতীয় আকর-সন্রগ্িতে ক্রমশ বোঁশ-বোশ 
'গ্রামদানের উল্লেখ পাওয়া যায়। এর অর্থ রাজা এই সমস্ত গ্রাম থেকে রাজকর 
আদায়ের অধিকার হস্তান্তরিত করছেন। গ্রামের সমস্ত জমিজমা যে এর ফলে 
গ্রহীতার কাছে হস্তাস্তরত হয়ে যাচ্ছিল তা নয়, তবে যে-ব্যক্তকে অতঃপর 


৯৭৬ 


কৃষকদের রাজকর দিতে হাচ্ছল তাঁর পদমর্ধাদা-ষে মোটেই আর আগের মতো 
থাকাছল না তা বলাই বাহ্‌ল্য। ফলত গ্রামীণ সমাজের মুক্ত সদস্যরাও ক্রমশ 
ব্যক্ত-মালিকদের অধীন হয়ে পড়তে লাগলেন, কেননা ব্যক্ত-মালকরা মনোযোগী 
হয়ে পড়তে লাগলেন জাঁমর ওপর তাঁদের অধিকার সম্প্রসারণে । উপরোক্ত এই 
সমস্ত 'গ্রামদান'-যে প্রকীতিতে তখনই সামন্ততাল্পিক ছিল তা নয়, তবে তখনই টের 
পাওয়া যাচ্ছিল যে এর স্মানা্ট প্রবণতা সামন্ততান্তিক সমাজ-সম্পর্ক গড়ে 
তোলার দিকেই। এর পূর্ববতাঁ যুগের মতো এই সমস্ত 'দানকার্য বেতনের পারবর্তে 
নম্পন্ন করা হোত রাষ্ট্রীয় কর্মচারদের মধ্যেও। 


প্রত্যক্ষ উৎপাদকদের অবস্থার পরিবর্তন । 
সামন্ততান্তিক সমাজ-সম্পকেরি উদ্ভব 


উৎপাদনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জাঁড়ত মানুষদের ক্রীতদাস, গ্রামীণ সমাজের 
অপরাপর মুক্ত সদস্য ও ঠিকা মজুরদের -- সামাজিক অবস্থান ও অবস্থায় এই 
যুগে মৌল নানা পাঁরবর্তন লক্ষ্য করা যায়। পরবভর্ শাস্ত্সমূহে ক্রাতদাস- 
সম্পকিতি নানা নিয়মকানুন 'বাধবদ্ধ আছে বিস্তারিতভাবে. ব্রীতদাসদের ভাগ্ুও 
করা হয়েছে নানাবিধ গোম্ঠীতে। সাময়ক ভ্রনতদাসদের আজাবন ব্রীতদাসে 
পরিণত করার বিরুদ্ধে লক্ষণীয় একট প্রয়াস দেখা যায় এইসব গ্রন্থে, ক্রীতদাস- 
মালিকদের কর্তব্যগ্লিও বিধিবদ্ধ করা আছে এবং এই "বাধানিষেধ অমান্য করলে 
দাস-প্রভুদের এমন কি অর্থদণ্ডেরও ব্যবস্থা আছে। পরবতাঁ শাস্তসমূহে বিশেষ 
গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ভ্রীতদাসেরা কোন বর্ণসন্তুত তার ওপর । গৃপ্ত-যুগের আকর 
সত্রগ্লিতে এই বর্ণানরধধারণের নীতি কড়াকাঁড়ভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেয়া 
হয়েছে। সেখানে সবচেয়ে বৌশ করে রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে ব্রাহ্মণদের, আর 
তারপর যাঁরা নাকি "দ্বজ”, তাঁদের অধিকারসমৃহ। কাত্যারন এমন কি সরাসরি 
ঘোষণাই করেছেন যে ভ্রতদাসত্ব ব্রাহ্মণদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। যাজ্ঞবল্ক্যের মতে, 
নিম্নতর কোনো বর্ণের মানুষকে ভ্রীতদাস করা চলতে পারে, অর্থাৎ ব্রাহ্মণেরা 
ক্ষান্্য় কিংবা বৈশ্য বর্ণসন্ভৃত মানুষকে ব্রঈতদাস নিয্ক্ত করতে পারেন এবং তা 
শাস্ত্রগ্রাহ্যও । 

ওই যুগে ব্লীতদাসদের মুক্ত করে দেয়া উচিত কিংবা উচিত নয় এই প্রশ্নট 
তুমূল বিতকের সৃটি করে এবং পরবতর্শ শাস্মসমূহ এই ব্যাপারটি নিয়ে-ষে 
বিস্তারত আলোচনা করেছে তা-ও আপাঁতক নয়। ভ্রীতদাসদের, বিশেষ করে 
সাময়িক ব্লীতদাসদের, মুক্ত করার শর্তাবলী বহুপাঁরমাণে শাথিল করার বিধানও 
দেয়া হয়। ন্রীতদাসদের মুক্তিদানের এক অন্দজ্ঠানের বিশদ বর্ণনা পাওয়া যায় 


৯৭৯) 


'নারদ-স্মৃতি'তে।